SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল
উদ্দীপক
এবারের কাল বৈশাখির ঝড়ে জান-মালের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। মধুপুর গ্রামে ঝড়ে বাড়ি-ঘর উড়ে যায়, গাছপালা ও টেলিফোন-বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যায়। কাল বৈশাখির সাথে হওয়া শিলা বৃষ্টিতে চাষিদের ফল-ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। গ্রামের চাষি মকবুল অসহায় ভাবে হাহাকার করে বলেন- গরিবের উপরই সব সময় কেন ঝড়ের এই তাণ্ডব!
Mymensingh · 2026
ক
'বোশেখ' কবিতায় কবি মহাবীর হনুমানের কথা কোথায় পড়েছেন?
উত্তর
'বোশেখ' কবিতায় কবি মহাবীর হনুমানের কথা রামায়ণে পড়েছেন।
খ
কবি বাতাসকে তার অতীত ইতিবাচক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কেন?
উত্তর
কবি তাঁর প্রত্যাশিত বিভেদ-বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের জন্য বাতাসকে তার অতীত ইতিবাচক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
'বোশেখ' কবিতায় বাতাসের অনেক ইতিবাচক দিক কবি অতীতের দৃষ্টান্ত থেকে দেখতে পেয়েছে। বাতাস মহাবীর হনুমানের পিতা। কালিদাসের মেঘদূতে বর্ণিত বাতাস দয়ালু মেঘের সাথি। সাম্যবাদী রাজা সোলেমানের বাহন বাতাস তার মহৎ কাজের অংশীদার ছিল। কবি বাতাসের এমন অতীত ইতিবাচক কর্মকাণ্ড স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিভেদ-বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।
গ
উদ্দীপকে 'বোশেখ' কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকে 'বোশেখ' কবিতায় বর্ণিত বৈশাখের বিধ্বংসী দিকটি ফুটে উঠেছে।
'বোশেখ' কবিতায় কবি বাংলাদেশের পরাক্রমশালী মাস বৈশাখের ধ্বংসাত্মক রূপটি ফুটিয়ে তুলেছেন। ঋতু পরিক্রমায় এই মাস রুদ্র সংহারক রূপে আবির্ভূত হয়। বৈশাখের নিষ্ঠুর করাল আগ্রাসী থাবায় কখনো কখনো লন্ডভন্ড হয়ে যায় এক একটা জনপদ।
উদ্দীপকে কালবৈশাখি ঝড়ের নিষ্ঠুর, করাল ও বিধ্বংসী রূপটি প্রকাশ পেয়েছে। মধুপুর গ্রামের প্রকৃতি ও জনপদ এই ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ঘর-বাড়ি, গাছপালা, ফসল ও বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। 'বোশেখ' কবিতায়ও কবি কালবৈশাখি ঝড়ের রুদ্র সংহারক রূপটি ফুটিয়ে তুলেছেন। এ ঝড় গরিব মাঝির পালের দড়ি, দরিদ্র চাষির ঘরের চালা উড়িয়ে নেয়। ছোটো টুনটুনির বাসা, টেলিগ্রাফের থামগুলোও এটার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায় না। বৈশাখী ঝড়ের এমন বিধ্বংসী রূপের দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
“উদ্দীপকের মকবুলের কথায় কবিতার মূল সুরটি ফুটে উঠেছে।”- এ মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
উদ্দীপকের মকবুলের কথায় 'বোশেখ' কবিতার বৈশাখী ঝড়ের বিরুদ্ধে কবির আক্ষেপ প্রকাশ পাওয়ায়, “উদ্দীপকের মকবুলের কথায় কবিতার মূল সুরটি ফুটে উঠেছে" মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।
'বোশেখ' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন প্রকৃতির যত নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা- সবই গরিব ও হতদরিদ্রের বিরুদ্ধে। তাই তিনি বৈশাখী ঝড়ের বিরুদ্ধে আক্ষেপ করেছেন। তিনি বৈশাখী ঝড়ের কাছে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেন।
উদ্দীপকের মকবুল চাষি দেখেছেন বৈশাখী ঝড়ের কবলে কেবল হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষই সর্বস্বান্ত হয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই তিনি এই ঝড়ের বিরুদ্ধে আক্ষেপ করেছেন। 'বোশেখ' কবিতায়ও কবি দেখিয়েছেন বৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষতি হয় কেবল হতদরিদ্র মানুষ ও অসহায় প্রাণীদের। এই ঝড় গরিবদের শোষণ করে গড়ে তোলা ধনীদের কিছু করতে পারে না। তাই কবি আক্ষেপ করেছেন।
'বোশেখ' কবিতায় কবির সাম্যবাদী দর্শনের প্রকাশ ঘটেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গরিব ও হতদরিদ্র মানুষের ক্ষতি করে। দরিদ্র মাঝি, চাষি, অসহায় প্রাণী এই ঝড়ের ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তাই কবি আক্ষেপ করে কালবৈশাখি ঝড়ের কাছে মিনতি করেছেন- ধ্বংস করতে হলে গরিবকে শোষণের মাধ্যমে গড়ে তোলা ধনীর অট্টালিকা ধ্বংস করুক। উদ্দীপকের মকবুলও কালবৈশাখি ঝড়ের বিরুদ্ধে আক্ষেপ করেছেন। তাই আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো