SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল
উদ্দীপক
(i) ঝড়ের রাত্রে, বৈশাখী দিনে, বর্ষার দুর্দিনে
অভিযাত্রিক। নির্ভীক তারা পথ লয় ঠিক চিনে।
(ii) ভেবো না গো মা, তোমার ছেলেরা হারিয়ে গিয়েছে পথে
ওরা আছে মাগো হাজার মনের বিপ্লবী চেতনাতে।
Dinajpur · 2026
ক
'একুশের গল্প' রচনায় গল্পকথক তপুকে শেষবারের মতো কোথায় দেখেছিলেন?
উত্তর
'একুশের গল্প' রচনায় গল্পকথক তপুকে শেষবারের মতো হাইকোর্টের মোড়ে দেখেছিলেন।
খ
“স্বপ্নালু চোখে স্বপ্ন নাবতো তার।”- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
“স্বপ্নালু চোখে স্বপ্ন নাবতো তাঁর” কথাটির মাধ্যমে তপুর স্বপ্নের আবেশে আচ্ছন্ন মানসিকতার দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
'একুশের গল্প' নামক ছোটোগল্পে তপু ছিল অত্যন্ত মুখর ও স্বপ্নবান এক তরুণ। মাঝে মাঝেই নিজেকে নিয়ে সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখত সে। এরই অংশ হিসেবে ডাক্তারি শেষ করে গ্রামে যাওয়ার স্বপ্ন দেখত সে। মূলত “স্বপ্নালু চোখে স্বপ্ন নাবতো তার” কথাটির মাধ্যমে তপুর স্বপ্নময় মানসিকতার দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
গ
উদ্দীপক (i)-এর অভিযাত্রিক 'একুশের গল্প' রচনার কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপক (i)-এর অভিযাত্রিক 'একুশের গল্প' রচনার তপু চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'একুশের গল্প' ছোটোগল্পটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত। গল্পের প্রধান চরিত্র তপু ছিল সাহসী এক তরুণ। সে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে গিয়ে গুলি লেগে শহিদ হয়। তার মধ্যে ছিল অপরাজেয় সাহসিকতা।
উদ্দীপক (i)-এর কবিতাংশে দুঃসাহসী অভিযাত্রীর কথা বলা হয়েছে। সে ঝড়ের রাত্রে, বৈশাখী দিনে, বর্ষার দুর্দিনে নির্ভাবনায় পথ চলে। সে তার ঠিকানা ঠিকই খুঁজে নেয়। উদ্দীপকের অভিযাত্রীর মতো এরূপ সাহসিকতার প্রমাণ পাওয়া যায় 'একুশের গল্প' ছোটোগল্পের তপুর মধ্যে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সে পরিবারের পিছুটান উপেক্ষা করে অদম্য সাহসিকতায় মিছিলে এগিয়ে যায়। কোনো বাধাবিপত্তি তাকে আটকাতে পারেনি। তার এই সাহসিকতা উদ্দীপকের অভিযাত্রীর সাহসিকতার শামিল। এভাবে উদ্দীপক (i)-এর অভিযাত্রিক 'একুশের গল্প' রচনার তপু চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
“উদ্দীপক (ii)-এর ভার গল্পের মূল চেতনাকে ধারণ করে।”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর
বীরদের অমর হওয়ার ইঙ্গিত থাকায় “উদ্দীপক (ii)-এর ভাব গল্পের মূল চেতনাকে ধারণ করে” মন্তব্যটি যথার্থ।
'একুশের গল্প' ছোটোগল্পে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মিছিলে গিয়ে গল্পের প্রধান চরিত্র তপু শহিদ হয়। কিন্তু সে কঙ্কালরূপে পুনরায় ফিরে আসে।
উদ্দীপক (ii)-এর কবিতাংশে ইতিহাসে বীর সন্তানদের অমর হওয়ার বিয়টি বলা হয়েছে। বীরেরা কখনো মারা যায় না। তাঁরা বেঁচে থাকেন হাজারো বিপ্লবীর চেতনাতে। ইতিহাসে বীরদের যে কোনো মরণ নেই এ বিষয়টি 'একুশের গল্প' ছোটোগল্পে ইঙ্গিতবহ হয়ে উঠেছে।
'একুশের গল্প' ছোটোগল্পে এক বীর হলো গল্পে প্রধান চরিত্র তপু। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মিছিলে গিয়ে তপু শহিদ হয়। কিন্তু এর চার বছর পর তপু কঙ্কালরূপে পুনরায় ফিরে আসে। তপুর কঙ্কালরূপে ফিরে আসাটা হলো প্রতীকী। এর দ্বারা আসলে বোঝানো হয়েছে বীরদের কখনো মৃত্যু হয় না। তাঁরা দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপে ফিরে আসেন। সে বিষয়টি উদ্দীপক (ii)-এর বিপ্লবী চেতনার মধ্য দিয়ে ইঙ্গিতবহ হয়ে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক (ii)-এর ভাব গল্পের মূল চেতনাকে ধারণ করে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো