SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল
উদ্দীপক
(i) "একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়
যেথায় কোকিল ডাকে কুহু, দোয়েল ডাকে মুহু মুহু
নদী যেথায় ছুটে চলে আপন ঠিকানায়,"
(ii) "ভূতের মতন চেহারা যেমন, নির্বোধ অতি ঘোর
যা-কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, "কেষ্টা বেটাই চোর।"
বড়ো প্রয়োজন, ডাকি প্রাণপণ, চিৎকার করি 'কেষ্টা'-
যত করি তাড়া, নাহি পাই সাড়া, খুঁজে ফিরি সারা দেশটা।"
Mymensingh · 2026
ক
'প্রবাস বন্ধু' ভ্রমণকাহিনিতে কাবুলের লোকেরা কোথা থেকে বরফ সংগ্রহ করেন?
উত্তর
'প্রবাস বন্ধু' ভ্রমণকাহিনিতে কাবুলের লোকেরা পাগমানের পাহাড় থেকে বরফ সংগ্রহ করে।
খ
আবদুর রহমান লেখকের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকাল কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
লেখক বেরসিকের মতো কথা বলায় আবদুর রহমান তার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকাল।
'প্রবাস বন্ধু' ভ্রমণকাহিনেতে আবদুর রহমান তার দেশ উত্তর আফগানিস্তানের পানশিরের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলছিল। তার মতে পানশিরের আবহাওয়া পৃথিবীর যেকোনো জায়গার চেয়ে বিশুদ্ধ। শীতকালে সেখানে বরফ পড়ে। কখনো কখনো সাত-আটদিন ধরে অনবরত বরফ পড়তে থাকে। ওই সময় কোনো কাজ থাকে না। ওখানকার লোকেরা জানালায় বসে প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য দেখে। লেখক একটানা সাতদিন জানালায় বসে থাকার কথায় বাধা দেওয়ায় আবদুর রহমান তার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকাল।
গ
উদ্দীপকের অংশ (i)-এ 'প্রবাস বন্ধু' রচনার কোন দিকটির প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর
উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ 'প্রবাস বন্ধু' রচনার আবদুর রহমানের স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।
'প্রবাস বন্ধু' রচনায় আফগান আবদুর রহমানের স্বদেশের প্রতি আবেগ ও অনুরাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। সে লেখককে জানায়, তার দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলনারহিত। সেখানকার জলবায়ু পৃথিবীর যেকোনো জায়গার চেয়ে বিশুদ্ধ।
উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ কবিকণ্ঠে স্বদেশে ফেরার আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে। স্বদেশের প্রকৃতি তথা পাখির ডাক, নদীর ছুটে চলা কবির অস্তিত্বে মিশে আছে। জন্মভূমির প্রতি তাই তিনি গভীরভাবে অনুরক্ত। এখানে কবির মাঝে স্বদেশপ্রেমের দিকটি ফুটে উঠেছে। 'প্রবাস বন্ধু' রচনায় আবদুর রহমানও স্বদেশের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত। তার দেশ উত্তর আফগানিস্তানের পানশির পৃথিবীর যেকোনো জায়গার থেকে শ্রেষ্ঠ। সেখানকার ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু তার অস্তিত্বে মিশে আছে। উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ আলোচ্য রচনার এ দিকটির প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকের অংশ (ii)-এর কেষ্টাকে 'প্রবাস বন্ধু' রচনার আবদুর রহমানের যথার্থ প্রতিনিধি বলা যায় কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরো।
উত্তর
উদ্দীপকের অংশ-(ii)-এর কেষ্টার উদাসীনতার বিপরীতে 'প্রবাস বন্ধু' রচনার ভৃত্য আবদুর রহমানের আনুগত্য ফুটে ওঠায় উদ্দীপকের অংশ (ii)-এর কেষ্টাকে আবদুর রহমানের যথার্থ প্রতিনিধি বলা যায় না।
'প্রবাস বন্ধু' রচনায় লেখক তাঁর আফগানিস্তানে থাকাকালীন ঘটনা বর্ণনা করেছেন রসাত্মকভাবে। সেই প্রসঙ্গেই তাঁর দেখভালে নিয়োজিত আফগান আবদুর রহমান সম্পর্কে বলেছেন। সে ছিল অত্যন্ত সরল, অতিথিপরায়ণ, অনুগত ও স্বদেশপ্রেমিক।
উদ্দীপকের অংশ (ii)-এর কবি তাঁর ভৃত্য কেষ্টা সম্পর্কে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রয়োজনের সময় যখন কেষ্টাকে প্রাণপণে ডাকেন সে তাঁর ডাকে সাড়া দেয় না। তাকে কিছু রাখতে দিলে সে মনোযোগের সঙ্গে কাজ করে না। আবার কোনোকিছু আনতে দিলে অনেক দেরি করে। অর্থাৎ ভৃত্য হলেও সে মনিবের প্রতি অনুগত নয়। সে এলোমেলো চরিত্রের বা ভুলো-মনা স্বভাবের। 'প্রবাস বন্ধু' রচনার আবদুর রহমান কেষ্টার বিপরীত চরিত্র।
'প্রবাস বন্ধু' গল্পের আবদুর রহমান লেখকের প্রতি অনেক বেশি অনুগত। সে আগে থেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খাবার গামলার মধ্যে সাজিয়ে রাখে। লেখকের খাওয়া শেষ হওয়ার পরও আরও খাবার খাওয়ানোর জন্য জোরাজুরি করতে থাকে। সে ছিল অত্যন্ত প্রভুভক্ত। লেখক তার সম্পর্কে তাঁর লেখায় ইতিবাচক বর্ণনাই দিয়েছেন; আর উদ্দীপকের অংশ (ii)-এর ভৃত্য সম্পর্কে কবির অভিজ্ঞতা নেতিবাচক। দুজনের ভৃত্য পুরোই বিপরীতধর্মী। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অংশ (ii)-এর কেষ্টাকে 'প্রবাস বন্ধু' রচনার আবদুর রহমানের যথার্থ প্রতিনিধি বলা যায় না।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো