মানুষ মুহম্মদ (স.) বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর মানুষ মুহম্মদ (স.) অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১২

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

(i) আপনাকে বড়ো বলে বড়ো সেই নয় লোকে যারে বড়ো বলে বড়ো সে-ই হয়। (ii) এক রাতে হাজি মুহম্মদ মহসীনের ঘরে চোর প্রবেশ করে। চোরকে তিনি হাতেনাতে ধরে ফেলেন। চোর সম্ভাব্য শাস্তির ভয়ে কাঁপছিল আর কাঁদছিল। কিন্তু হাজি মুহম্মদ মহসীন তাকে কোনো শাস্তি তো দিলেনই না, উল্টো তাকে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে বিদায় দিলেন

Mymensingh · 2026

'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে কে শেষ পর্যন্ত হজরতের মৃত্যুশয্যার পাশে ছিলেন?

উত্তর

'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মহামতি আবু বকর (রা.) শেষ পর্যন্ত হজরতের মৃত্যুশয্যার পাশে ছিলেন।
মানুষের একজন হয়েও হজরত মুহম্মদ (স.) দুর্লভ কেন?

উত্তর

মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রমী আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স.) ছিলেন অসাধারণ চরিত্র। তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ।
উদ্দীপকের অংশ (i) 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর কোন গুণটির দিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের অংশ-(ⅰ) 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানুষ হিসেবে নিজের ক্ষুদ্রতাবোধ গুণটির দিকে ইঙ্গিত করে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে লেখক হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি বিশ্লেষণ করেছেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি গুণ হলো মানুষ হিসেবে নিজের ক্ষুদ্রতাবোধ। বিপুল ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার মধ্যে থেকেও তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেছেন। উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ বলা হয়েছে নিজেই নিজেকে বড়ো দাবি করা শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক নয়। বরং নিজের ক্ষুদ্রতাবোধ মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে তোলে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধেও লেখক মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানুষ হিসেবে নিজের ক্ষুদ্রতাবোধ গুণটিকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছেন। বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হয়েও তিনি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। এজন্য মানুষ তাঁকে আপন করে নিয়েছে, তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কথা অকপটে প্রকাশ করেছে। এদিক থেকে উদ্দীপকের অংশ-(i)-এর সঙ্গে আলোচ্য প্রবন্ধের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
“উদ্দীপকের অংশ-(ii) 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর সমগ্র চরিত্রকে ধারণ করে না”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের অংশ-(ii) হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার গুণটি প্রকাশ করলেও অন্যান্য গুণ প্রকাশ না করায় “উদ্দীপকের অংশ-(ii) 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর সমগ্র চরিত্রকে ধারণ করে না" মন্তব্যটি যথার্থ। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর গুণাবলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিপুল ঐশ্বর্য ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। তাঁর চরিত্রে ক্ষমা ও মহত্ত্ব, প্রেম ও দয়া অজস্র চারিত্রিক গুণের সমন্বয় ঘটেছিল। উদ্দীপকের হাজি মুহম্মদ মুহসীন গভীর রাতে তাঁর ঘরে একজন চোরকে দেখেও তার প্রতি দয়া দেখান। লোকটিকে তিনি টাকা দিয়ে বিদায় করে দিলেন। এখানে তাঁর চরিত্রে ক্ষমাশীলতা ও সহমর্মিতার দিকটি ফুটে উঠেছে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)ও তাঁর শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়ে বুকে টেনে নিয়েছিলেন। তবে প্রবন্ধে ক্ষমাশীলতা ও সহমর্মিতা ছাড়াও তাঁর চরিত্রের সত্যবাদিতা, ধৈর্যশীলতা, আমানত রক্ষা প্রভৃতি মহৎ গুণের উল্লেখ আছে যেগুলো উদ্দীপকে নেই। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর সত্য প্রচার করতে গিয়ে নির্মম নির্যাতন ভোগ করা, সুমহান ব্যক্তিত্ব, মানবিক চেতনা, মানুষকে সঠিক ও সত্যের পথে চলার দিকনির্দেশনা চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। তাঁর সাধনা, ত্যাগ, কল্যাণচিন্তা ছিল বিশ্বের সমগ্র মানুষের জন্য অনুকরণীয়। এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নে প্রদত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

(i) আপনাকে বড়ো বলে বড়ো সেই নয় লোকে যারে বড়ো বলে বড়ো সে-ই হয়। (ii) এক রাতে হাজি মুহম্মদ মহসীনের ঘরে চোর প্রবেশ করে। চোরকে তিনি হাতেনাতে ধরে ফেলেন। চোর সম্ভাব্য শাস্তির ভয়ে কাঁপছিল আর কাঁদছিল। কিন্তু হাজি মুহম্মদ মহসীন তাকে কোনো শাস্তি তো দিলেনই না, উল্টো তাকে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে বিদায় দিলেন

Mymensingh · 2026

'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে কে শেষ পর্যন্ত হজরতের মৃত্যুশয্যার পাশে ছিলেন?

উত্তর

'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মহামতি আবু বকর (রা.) শেষ পর্যন্ত হজরতের মৃত্যুশয্যার পাশে ছিলেন।
মানুষের একজন হয়েও হজরত মুহম্মদ (স.) দুর্লভ কেন?

উত্তর

মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রমী আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স.) ছিলেন অসাধারণ চরিত্র। তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ।
উদ্দীপকের অংশ (i) 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর কোন গুণটির দিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের অংশ-(ⅰ) 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানুষ হিসেবে নিজের ক্ষুদ্রতাবোধ গুণটির দিকে ইঙ্গিত করে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে লেখক হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি বিশ্লেষণ করেছেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি গুণ হলো মানুষ হিসেবে নিজের ক্ষুদ্রতাবোধ। বিপুল ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার মধ্যে থেকেও তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেছেন। উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ বলা হয়েছে নিজেই নিজেকে বড়ো দাবি করা শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক নয়। বরং নিজের ক্ষুদ্রতাবোধ মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে তোলে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধেও লেখক মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানুষ হিসেবে নিজের ক্ষুদ্রতাবোধ গুণটিকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছেন। বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হয়েও তিনি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। এজন্য মানুষ তাঁকে আপন করে নিয়েছে, তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কথা অকপটে প্রকাশ করেছে। এদিক থেকে উদ্দীপকের অংশ-(i)-এর সঙ্গে আলোচ্য প্রবন্ধের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
“উদ্দীপকের অংশ-(ii) 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর সমগ্র চরিত্রকে ধারণ করে না”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের অংশ-(ii) হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার গুণটি প্রকাশ করলেও অন্যান্য গুণ প্রকাশ না করায় “উদ্দীপকের অংশ-(ii) 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর সমগ্র চরিত্রকে ধারণ করে না" মন্তব্যটি যথার্থ। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর গুণাবলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিপুল ঐশ্বর্য ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। তাঁর চরিত্রে ক্ষমা ও মহত্ত্ব, প্রেম ও দয়া অজস্র চারিত্রিক গুণের সমন্বয় ঘটেছিল। উদ্দীপকের হাজি মুহম্মদ মুহসীন গভীর রাতে তাঁর ঘরে একজন চোরকে দেখেও তার প্রতি দয়া দেখান। লোকটিকে তিনি টাকা দিয়ে বিদায় করে দিলেন। এখানে তাঁর চরিত্রে ক্ষমাশীলতা ও সহমর্মিতার দিকটি ফুটে উঠেছে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)ও তাঁর শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়ে বুকে টেনে নিয়েছিলেন। তবে প্রবন্ধে ক্ষমাশীলতা ও সহমর্মিতা ছাড়াও তাঁর চরিত্রের সত্যবাদিতা, ধৈর্যশীলতা, আমানত রক্ষা প্রভৃতি মহৎ গুণের উল্লেখ আছে যেগুলো উদ্দীপকে নেই। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর সত্য প্রচার করতে গিয়ে নির্মম নির্যাতন ভোগ করা, সুমহান ব্যক্তিত্ব, মানবিক চেতনা, মানুষকে সঠিক ও সত্যের পথে চলার দিকনির্দেশনা চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। তাঁর সাধনা, ত্যাগ, কল্যাণচিন্তা ছিল বিশ্বের সমগ্র মানুষের জন্য অনুকরণীয়। এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নে প্রদত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

অংশ-১ : মৃত্যুপথযাত্রী ইমাম হাসান তাঁর বিষদাতার পরিচয় জানতে পেরেও প্রতিশোধ নেননি, বরং তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "তোমাকে বড়ই ভালোবাসিতাম, বড়ই স্নেহ করিতাম, তাহার উপযুক্ত কার্যই তুমি করিয়াছ। তোমার চক্ষু হইতে হাসান বিদায় হইতেছে। সুখে থাকো, তোমাকে আমি ক্ষমা করিলাম।” অংশ-২ : সম্রাট আওরঙ্গজেব নিজ জীবনে বিলাসিতা পরিহার করে চলতেন। রাজকোষ থেকে অর্থ না নিয়ে নিজ হাতে কুরআন শরিফের প্রতিলিপি তৈরি করতেন এবং তার বিক্রয়ালব্ধ অর্থ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

Dinajpur · 2026

মক্কা বিজয়ের পর হজরত মুহম্মদ (স.) কোথায় বসে মানুষকে দীক্ষা দান করতেন?

উত্তর

মক্কা বিজয়ের পর হজরত মুহম্মদ (স.) সাফা পর্বতের পাশে বসে মানুষকে দীক্ষা দান করতেন।
"তাহারই দিকে সকলের মহাযাত্রা।”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

“তাঁহারই দিকে সকলের মহাযাত্রা” বলতে হজরত আবু বকর (রা.) হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে সবাইকে শান্ত করতে চেয়েছেন। মৃত্যু চিরন্তন সত্য। শুধু মানুষ নয়, পৃথিবীর কোনো প্রাণীই মৃত্যুকে এড়াতে পারে না। জীবনের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রষ্টার দিকে সব মানুষকে ফিরে যেতে হয় মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। সেই মহাযাত্রার যাত্রী হয়েছেন স্বয়ং মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)। কারণ তিনিও একজন মানুষ। মৃত্যু সম্পর্কে আল্লাহ যে সত্য প্রকাশ করেছেন, তা বিশ্বমানবের ত্রাণকর্তা মহান আল্লাহর প্রেরিত মহামানব হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাঁর মৃত্যুতে ভেঙে না পড়ে সবাইকে তা মেনে নেওয়ার জন্যই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের অংশ-১-এ ইমাম হাসান (রা.)-এর চরিত্রে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর কোন মহৎগুণ প্রকাশ পেয়েছে? 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের আলোকে বর্ণনা দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের অংশ-১-এ ইমাম হাসান (রা.)-এর চরিত্রে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার মহৎ গুণটি প্রকাশ পেয়েছে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার দিকটি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি তাঁর অনিষ্টকারীদের কখনো অভিসম্পাত করেননি। যারা তাঁকে বারবার আঘাত করেছে, তিনি তাদেরকে বিনা শর্তে ক্ষমা করে দিয়েছেন। উদ্দীপকের অংশ-১-এ ইমাম হাসান তাঁর বিষদাতার পরিচয় জানতে পেরেও প্রতিশোধ নেননি, বরং তাকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। ইমাম হাসানের এই আচরণ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার সদৃশ। মক্কাবাসী মহানবির ওপর নির্মম অত্যাচার চালালে তিনি তাতে কোনো দ্বেষ প্রকাশ করেননি। বরং তিনি তাদের ক্ষমা করেছেন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন। তাঁর এই ক্ষমাশীলতার ইঙ্গিত উদ্দীপকের ইমাম হাসানের মধ্যেও রয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের অংশ-১-এ ইমাম হাসান (রা.)-এর চরিত্রে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতা গুণের প্রকাশ ঘটেছে।
উদ্দীপকের অংশ-২ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক ধারণ করে কি? উত্তরের পক্ষে তোমার মতামত দাও।

উত্তর

না, উদ্দীপকের অংশ-২ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক ধারণ করে না। কেননা এখানে শুধু হজরত মুহম্মদ (স.)-এর অনাড়ম্বর জীবনের ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যান্য বিষয় নেই। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবীয় গুণাবলি তুলে ধরা হয়েছে। একজন মানুষ হিসেবে তাঁর চরিত্রে অজস্র গুণের সমন্বয় ঘটেছে। তাই তো মানুষ একজন হয়েও তিনি ছিলেন দুর্লভ। উদ্দীপকের অংশ-২-এ সম্রাট আওরঙ্গজেবের বিলাসিতাহীন জীবন-যাপনের কথা বলা হয়েছে। একজন সম্রাট হয়েও তিনি কুরআন শরিফের প্রতিলিপি তৈরি করে তা বিক্রি করে যা উপার্জন করতেন তাই দিয়ে জীবনযাপন করতেন। সম্রাট আওরঙ্গজেবের এই আড়ম্বরহীন জীবনযাপন 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর অনাড়ম্বর জীবন ব্যবস্থার দিকটির ইঙ্গিত করে। তিনিও খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর নানা গুণের কথা উল্লেখ আছে। তিনি ছিলেন ক্ষমাশীল ও ন্যায়পরায়ণ। শত্রুকে তিনি অবলীলায় ক্ষমা করে গেছেন। ক্ষমতা ও মহত্ত্ব, প্রেম ও দয়া তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। মানুষের পক্ষে যা আচরণীয় তার সব গুণের সমাবেশ ঘটেছিল তাঁর চরিত্রে। বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও তিনি সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেছেন। উদ্দীপকের অংশ-২-এ কেবল অনাড়ম্বর জীবনব্যবস্থার ইঙ্গিত রয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অংশ-২ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক ধারণ করে না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

অংশ-১ : মৃত্যুপথযাত্রী ইমাম হাসান তাঁর বিষদাতার পরিচয় জানতে পেরেও প্রতিশোধ নেননি, বরং তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "তোমাকে বড়ই ভালোবাসিতাম, বড়ই স্নেহ করিতাম, তাহার উপযুক্ত কার্যই তুমি করিয়াছ। তোমার চক্ষু হইতে হাসান বিদায় হইতেছে। সুখে থাকো, তোমাকে আমি ক্ষমা করিলাম।” অংশ-২ : সম্রাট আওরঙ্গজেব নিজ জীবনে বিলাসিতা পরিহার করে চলতেন। রাজকোষ থেকে অর্থ না নিয়ে নিজ হাতে কুরআন শরিফের প্রতিলিপি তৈরি করতেন এবং তার বিক্রয়ালব্ধ অর্থ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

Dinajpur · 2026

মক্কা বিজয়ের পর হজরত মুহম্মদ (স.) কোথায় বসে মানুষকে দীক্ষা দান করতেন?

উত্তর

মক্কা বিজয়ের পর হজরত মুহম্মদ (স.) সাফা পর্বতের পাশে বসে মানুষকে দীক্ষা দান করতেন।
"তাহারই দিকে সকলের মহাযাত্রা।”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

“তাঁহারই দিকে সকলের মহাযাত্রা” বলতে হজরত আবু বকর (রা.) হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে সবাইকে শান্ত করতে চেয়েছেন। মৃত্যু চিরন্তন সত্য। শুধু মানুষ নয়, পৃথিবীর কোনো প্রাণীই মৃত্যুকে এড়াতে পারে না। জীবনের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রষ্টার দিকে সব মানুষকে ফিরে যেতে হয় মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। সেই মহাযাত্রার যাত্রী হয়েছেন স্বয়ং মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)। কারণ তিনিও একজন মানুষ। মৃত্যু সম্পর্কে আল্লাহ যে সত্য প্রকাশ করেছেন, তা বিশ্বমানবের ত্রাণকর্তা মহান আল্লাহর প্রেরিত মহামানব হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাঁর মৃত্যুতে ভেঙে না পড়ে সবাইকে তা মেনে নেওয়ার জন্যই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের অংশ-১-এ ইমাম হাসান (রা.)-এর চরিত্রে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর কোন মহৎগুণ প্রকাশ পেয়েছে? 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের আলোকে বর্ণনা দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের অংশ-১-এ ইমাম হাসান (রা.)-এর চরিত্রে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার মহৎ গুণটি প্রকাশ পেয়েছে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার দিকটি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি তাঁর অনিষ্টকারীদের কখনো অভিসম্পাত করেননি। যারা তাঁকে বারবার আঘাত করেছে, তিনি তাদেরকে বিনা শর্তে ক্ষমা করে দিয়েছেন। উদ্দীপকের অংশ-১-এ ইমাম হাসান তাঁর বিষদাতার পরিচয় জানতে পেরেও প্রতিশোধ নেননি, বরং তাকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। ইমাম হাসানের এই আচরণ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার সদৃশ। মক্কাবাসী মহানবির ওপর নির্মম অত্যাচার চালালে তিনি তাতে কোনো দ্বেষ প্রকাশ করেননি। বরং তিনি তাদের ক্ষমা করেছেন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন। তাঁর এই ক্ষমাশীলতার ইঙ্গিত উদ্দীপকের ইমাম হাসানের মধ্যেও রয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের অংশ-১-এ ইমাম হাসান (রা.)-এর চরিত্রে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতা গুণের প্রকাশ ঘটেছে।
উদ্দীপকের অংশ-২ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক ধারণ করে কি? উত্তরের পক্ষে তোমার মতামত দাও।

উত্তর

না, উদ্দীপকের অংশ-২ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক ধারণ করে না। কেননা এখানে শুধু হজরত মুহম্মদ (স.)-এর অনাড়ম্বর জীবনের ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যান্য বিষয় নেই। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবীয় গুণাবলি তুলে ধরা হয়েছে। একজন মানুষ হিসেবে তাঁর চরিত্রে অজস্র গুণের সমন্বয় ঘটেছে। তাই তো মানুষ একজন হয়েও তিনি ছিলেন দুর্লভ। উদ্দীপকের অংশ-২-এ সম্রাট আওরঙ্গজেবের বিলাসিতাহীন জীবন-যাপনের কথা বলা হয়েছে। একজন সম্রাট হয়েও তিনি কুরআন শরিফের প্রতিলিপি তৈরি করে তা বিক্রি করে যা উপার্জন করতেন তাই দিয়ে জীবনযাপন করতেন। সম্রাট আওরঙ্গজেবের এই আড়ম্বরহীন জীবনযাপন 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর অনাড়ম্বর জীবন ব্যবস্থার দিকটির ইঙ্গিত করে। তিনিও খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর নানা গুণের কথা উল্লেখ আছে। তিনি ছিলেন ক্ষমাশীল ও ন্যায়পরায়ণ। শত্রুকে তিনি অবলীলায় ক্ষমা করে গেছেন। ক্ষমতা ও মহত্ত্ব, প্রেম ও দয়া তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। মানুষের পক্ষে যা আচরণীয় তার সব গুণের সমাবেশ ঘটেছিল তাঁর চরিত্রে। বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও তিনি সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেছেন। উদ্দীপকের অংশ-২-এ কেবল অনাড়ম্বর জীবনব্যবস্থার ইঙ্গিত রয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অংশ-২ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক ধারণ করে না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

স্তবক-১: "কখনো কখনো কালো আঁধার নেমে আসে জীবন পথে, তবুও এগিয়ে যেতেই হবে স্বপ্ন বিনির্মাণে।” স্তবক-২: "মরুর বুকে ফুটিয়ে দিলে মানবতার ফুল, ক্ষমার বাণী শুনিয়ে দিলে ভেঙে অন্ধকারের কুল।"

Comilla · 2026

হজরত মুহম্মদ (স.) কী দ্বারা মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন?

উত্তর

হজরত মুহম্মদ (স.) মানবীয় গুণাবলি দ্বারা মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন।
"বড়ো সুন্দর, বড়ো মনোহর সেই অপরূপ রূপের অধিকারী।"- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

“বড় সুন্দর, বড় মনোহর সেই অপরূপ রূপের অধিকারী"-উক্তিটি দ্বারা মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর আকর্ষণীয় বাহ্যিক সৌন্দর্যকে বোঝানো হয়েছে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর মানবিক গুণাবলির সঙ্গে তাঁর বাহ্যিক গড়ন ও আকর্ষণীয় চেহারার কথা বলা হয়েছে। দেহসৌন্দর্য ও চরিত্র মাধুরীর জন্য তিনি সবার প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ছিলেন সুন্দর, সুদর্শন পুরুষ। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পথে তিনি আবু মা'বদের গৃহে আশ্রয় নেন। সেখানে তার স্ত্রী মহানবি (স.)-এর সৌন্দর্যের বর্ণনা করেন। তিনি বলেন মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর সুদীর্ঘ কুঞ্চিত কেশপাশ, আয়তকৃষ্ণ চোখ, কাজল-রেখার মতো যুক্ত ভ্রুযুগল, সুউচ্চ গ্রীবা, বিনীত নম্র প্রকৃতি, এক অপূর্ব পুলক দীপ্তি ছিল তাঁর চোখে মুখে। এসব বাহ্যিক সৌন্দর্য প্রকাশের জন্যই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
স্তবক-১-এ 'মানুষ' মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

স্তবক-১-এ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের মহানবি (স.)-এর অমানুষিক অত্যাচারের মধ্যেও অবিচল ধৈর্যের সঙ্গে সত্য প্রচারের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সত্য প্রচারে তাঁর সাধনা, ত্যাগ, কল্যাণচিন্তা ছিল বিশ্বের সমগ্র মানুষের জন্য অনুকরণীয়। তিনি সত্য প্রচার করতে গিয়ে ভীষণ পরীক্ষার সম্মুখীন হন, শত অত্যাচার ও লাঞ্ছনায় জর্জরিত হন। তবু তিনি হাল ছেড়ে দেননি। উদ্দীপকে বলা হয়েছে জীবনপথে কখনো কখনো কালো আঁধার নেমে এলেও স্বপ্ন বিনির্মাণে এগিয়ে যেতে হবে। এই অবিচল ধৈর্যের সঙ্গে সাধনার পথে এগিয়ে যাওয়ার দিকটি 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধেও পরিস্ফুট হয়েছে। মহানবি (স.) মক্কার পথে-প্রান্তরে পৌত্তলিকদের প্রস্তরঘায়ে আহত হয়েছেন, উপহাসিত হয়েছেন। তায়েফে সত্য প্রচার করতে গিয়ে তিনি প্রস্তরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন। তথাপিও তিনি ইসলামের বাহন ও সত্যের প্রচারক হিসেবে ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে স্থির থেকেছেন। মক্কাবাসীর নির্মম অমানুষিক অত্যাচার সহনাতীত হলে তিনি মদিনায় চলে গেলেন। অবশেষে তিনি মদিনা থেকে মক্কায় বিজয়ীর বেশে ফিরলেন। এভাবে স্তবক-১-এ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের মহানবি (ন.)-এর অবিচল ধৈর্যের সঙ্গে সত্য প্রচারে এগিয়ে যাওয়ার দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
"স্তবক-২-এর মূলভাব 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের খন্ডাংশ মাত্র।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

মহানবি (স.)-এর মানবীয় গুণাবলির বিভিন্ন দিক অনুপস্থিত থাকায় "স্তবক-২-এর মূলভাব 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের খণ্ডাংশ মাত্র" মন্তব্যটি যথার্থ। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর মানবিক গুণাবলিসহ শারীরিক সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে। মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে তিনি তাঁর জীবন রূপায়িত করে তুলেছিলেন। মানুষের নবি হিসেবে মানুষের পক্ষে যা আচরণীয় তিনি তারই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন। তাঁর ধৈর্য, ত্যাগ, ক্ষমা, সাধনা ও কল্যাণ চিন্তাসহ অসংখ্য মানবিক গুণ এ প্রবন্ধে ভাস্বর হয়ে উঠেছে। উদ্দীপকে মহানবি (স.) যে মরুর বুকে মানবতার ফুল ফুটিয়েছিলেন এবং ক্ষমার মাধ্যমে আরব সমাজের অন্ধকার দূর করেছিলেন সেই কথাটি ব্যক্ত হয়েছে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধেও মহানবি (স.)-এর ক্ষমার মহত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে। তিনি যে আদর্শ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তাও উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়টি প্রবন্ধের খন্ডাংশ প্রকাশ করেছে মাত্র। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে দেখা যায়, হজরত মুহম্মদ-এর মৃত্যুর পর তাঁর অনুসারীদের মধ্যে যে বেদনা ও হতাশা দেখা দিয়েছিল তা প্রশমন করার জন্য হজরত আবুবকর (রা.) মহানবি (স.)-এর জীবনের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে প্রচণ্ড শোককে শান্ত করেন। তাঁর সব মানবিক গুণ, তাঁর ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, তিতিক্ষা, সাহস, শৌর্য, অনুগ্রহ, আত্মবিশ্বাস, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনার পাশাপাশি এ প্রবন্ধে তাঁর দৈহিক সৌন্দর্যের বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। সত্য প্রচার করতে গিয়ে মক্কার পৌত্তলিকদের প্রস্তরাঘাত, ব্যঙ্গবিদুপ, উপহাস সহ্য করার প্রসঙ্গ এসেছে। তায়েফে সত্য প্রচার করতে গিয়ে তিনি প্রস্তরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন। এত অত্যাচারের পরও তিনি তাদের ঘৃণা করেননি, অভিশাপ দেননি। নির্যাতন সহনাতীত হলে মক্কা থেকে মদিনায় চলে যান। পরে বিজয়ীর বেশে মক্কায় ফিরে মক্কাবাসীকে ক্ষমা করে দেন। প্রবন্ধের এসব দিক উদ্দীপকে পরিস্ফুট হয়নি। সেখানে শুধু মহানবি (স.)-এর ক্ষমার ও মানবতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

স্তবক-১: "কখনো কখনো কালো আঁধার নেমে আসে জীবন পথে, তবুও এগিয়ে যেতেই হবে স্বপ্ন বিনির্মাণে।” স্তবক-২: "মরুর বুকে ফুটিয়ে দিলে মানবতার ফুল, ক্ষমার বাণী শুনিয়ে দিলে ভেঙে অন্ধকারের কুল।"

Comilla · 2026

হজরত মুহম্মদ (স.) কী দ্বারা মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন?

উত্তর

হজরত মুহম্মদ (স.) মানবীয় গুণাবলি দ্বারা মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন।
"বড়ো সুন্দর, বড়ো মনোহর সেই অপরূপ রূপের অধিকারী।"- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

“বড় সুন্দর, বড় মনোহর সেই অপরূপ রূপের অধিকারী"-উক্তিটি দ্বারা মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর আকর্ষণীয় বাহ্যিক সৌন্দর্যকে বোঝানো হয়েছে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর মানবিক গুণাবলির সঙ্গে তাঁর বাহ্যিক গড়ন ও আকর্ষণীয় চেহারার কথা বলা হয়েছে। দেহসৌন্দর্য ও চরিত্র মাধুরীর জন্য তিনি সবার প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ছিলেন সুন্দর, সুদর্শন পুরুষ। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পথে তিনি আবু মা'বদের গৃহে আশ্রয় নেন। সেখানে তার স্ত্রী মহানবি (স.)-এর সৌন্দর্যের বর্ণনা করেন। তিনি বলেন মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর সুদীর্ঘ কুঞ্চিত কেশপাশ, আয়তকৃষ্ণ চোখ, কাজল-রেখার মতো যুক্ত ভ্রুযুগল, সুউচ্চ গ্রীবা, বিনীত নম্র প্রকৃতি, এক অপূর্ব পুলক দীপ্তি ছিল তাঁর চোখে মুখে। এসব বাহ্যিক সৌন্দর্য প্রকাশের জন্যই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
স্তবক-১-এ 'মানুষ' মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

স্তবক-১-এ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের মহানবি (স.)-এর অমানুষিক অত্যাচারের মধ্যেও অবিচল ধৈর্যের সঙ্গে সত্য প্রচারের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সত্য প্রচারে তাঁর সাধনা, ত্যাগ, কল্যাণচিন্তা ছিল বিশ্বের সমগ্র মানুষের জন্য অনুকরণীয়। তিনি সত্য প্রচার করতে গিয়ে ভীষণ পরীক্ষার সম্মুখীন হন, শত অত্যাচার ও লাঞ্ছনায় জর্জরিত হন। তবু তিনি হাল ছেড়ে দেননি। উদ্দীপকে বলা হয়েছে জীবনপথে কখনো কখনো কালো আঁধার নেমে এলেও স্বপ্ন বিনির্মাণে এগিয়ে যেতে হবে। এই অবিচল ধৈর্যের সঙ্গে সাধনার পথে এগিয়ে যাওয়ার দিকটি 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধেও পরিস্ফুট হয়েছে। মহানবি (স.) মক্কার পথে-প্রান্তরে পৌত্তলিকদের প্রস্তরঘায়ে আহত হয়েছেন, উপহাসিত হয়েছেন। তায়েফে সত্য প্রচার করতে গিয়ে তিনি প্রস্তরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন। তথাপিও তিনি ইসলামের বাহন ও সত্যের প্রচারক হিসেবে ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে স্থির থেকেছেন। মক্কাবাসীর নির্মম অমানুষিক অত্যাচার সহনাতীত হলে তিনি মদিনায় চলে গেলেন। অবশেষে তিনি মদিনা থেকে মক্কায় বিজয়ীর বেশে ফিরলেন। এভাবে স্তবক-১-এ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের মহানবি (ন.)-এর অবিচল ধৈর্যের সঙ্গে সত্য প্রচারে এগিয়ে যাওয়ার দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
"স্তবক-২-এর মূলভাব 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের খন্ডাংশ মাত্র।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

মহানবি (স.)-এর মানবীয় গুণাবলির বিভিন্ন দিক অনুপস্থিত থাকায় "স্তবক-২-এর মূলভাব 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের খণ্ডাংশ মাত্র" মন্তব্যটি যথার্থ। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর মানবিক গুণাবলিসহ শারীরিক সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে। মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে তিনি তাঁর জীবন রূপায়িত করে তুলেছিলেন। মানুষের নবি হিসেবে মানুষের পক্ষে যা আচরণীয় তিনি তারই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন। তাঁর ধৈর্য, ত্যাগ, ক্ষমা, সাধনা ও কল্যাণ চিন্তাসহ অসংখ্য মানবিক গুণ এ প্রবন্ধে ভাস্বর হয়ে উঠেছে। উদ্দীপকে মহানবি (স.) যে মরুর বুকে মানবতার ফুল ফুটিয়েছিলেন এবং ক্ষমার মাধ্যমে আরব সমাজের অন্ধকার দূর করেছিলেন সেই কথাটি ব্যক্ত হয়েছে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধেও মহানবি (স.)-এর ক্ষমার মহত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে। তিনি যে আদর্শ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তাও উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়টি প্রবন্ধের খন্ডাংশ প্রকাশ করেছে মাত্র। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে দেখা যায়, হজরত মুহম্মদ-এর মৃত্যুর পর তাঁর অনুসারীদের মধ্যে যে বেদনা ও হতাশা দেখা দিয়েছিল তা প্রশমন করার জন্য হজরত আবুবকর (রা.) মহানবি (স.)-এর জীবনের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে প্রচণ্ড শোককে শান্ত করেন। তাঁর সব মানবিক গুণ, তাঁর ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, তিতিক্ষা, সাহস, শৌর্য, অনুগ্রহ, আত্মবিশ্বাস, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনার পাশাপাশি এ প্রবন্ধে তাঁর দৈহিক সৌন্দর্যের বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। সত্য প্রচার করতে গিয়ে মক্কার পৌত্তলিকদের প্রস্তরাঘাত, ব্যঙ্গবিদুপ, উপহাস সহ্য করার প্রসঙ্গ এসেছে। তায়েফে সত্য প্রচার করতে গিয়ে তিনি প্রস্তরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন। এত অত্যাচারের পরও তিনি তাদের ঘৃণা করেননি, অভিশাপ দেননি। নির্যাতন সহনাতীত হলে মক্কা থেকে মদিনায় চলে যান। পরে বিজয়ীর বেশে মক্কায় ফিরে মক্কাবাসীকে ক্ষমা করে দেন। প্রবন্ধের এসব দিক উদ্দীপকে পরিস্ফুট হয়নি। সেখানে শুধু মহানবি (স.)-এর ক্ষমার ও মানবতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো