SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল
উদ্দীপক
(i) আপনাকে বড়ো বলে বড়ো সেই নয়
লোকে যারে বড়ো বলে বড়ো সে-ই হয়।
(ii) এক রাতে হাজি মুহম্মদ মহসীনের ঘরে চোর প্রবেশ করে। চোরকে তিনি হাতেনাতে ধরে ফেলেন। চোর সম্ভাব্য শাস্তির ভয়ে কাঁপছিল আর কাঁদছিল। কিন্তু হাজি মুহম্মদ মহসীন তাকে কোনো শাস্তি তো দিলেনই না, উল্টো তাকে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে বিদায় দিলেন
Mymensingh · 2026
ক
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে কে শেষ পর্যন্ত হজরতের মৃত্যুশয্যার পাশে ছিলেন?
উত্তর
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মহামতি আবু বকর (রা.) শেষ পর্যন্ত হজরতের মৃত্যুশয্যার পাশে ছিলেন।
খ
মানুষের একজন হয়েও হজরত মুহম্মদ (স.) দুর্লভ কেন?
উত্তর
মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রমী আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না।
হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স.) ছিলেন অসাধারণ চরিত্র। তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ।
গ
উদ্দীপকের অংশ (i) 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর কোন গুণটির দিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকের অংশ-(ⅰ) 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানুষ হিসেবে নিজের ক্ষুদ্রতাবোধ গুণটির দিকে ইঙ্গিত করে।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে লেখক হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি বিশ্লেষণ করেছেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি গুণ হলো মানুষ হিসেবে নিজের ক্ষুদ্রতাবোধ। বিপুল ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার মধ্যে থেকেও তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেছেন।
উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ বলা হয়েছে নিজেই নিজেকে বড়ো দাবি করা শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক নয়। বরং নিজের ক্ষুদ্রতাবোধ মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে তোলে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধেও লেখক মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানুষ হিসেবে নিজের ক্ষুদ্রতাবোধ গুণটিকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছেন। বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হয়েও তিনি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। এজন্য মানুষ তাঁকে আপন করে নিয়েছে, তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কথা অকপটে প্রকাশ করেছে। এদিক থেকে উদ্দীপকের অংশ-(i)-এর সঙ্গে আলোচ্য প্রবন্ধের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ
“উদ্দীপকের অংশ-(ii) 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর সমগ্র চরিত্রকে ধারণ করে না”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
উদ্দীপকের অংশ-(ii) হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার গুণটি প্রকাশ করলেও অন্যান্য গুণ প্রকাশ না করায় “উদ্দীপকের অংশ-(ii) 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর সমগ্র চরিত্রকে ধারণ করে না" মন্তব্যটি যথার্থ।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর গুণাবলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিপুল ঐশ্বর্য ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। তাঁর চরিত্রে ক্ষমা ও মহত্ত্ব, প্রেম ও দয়া অজস্র চারিত্রিক গুণের সমন্বয় ঘটেছিল।
উদ্দীপকের হাজি মুহম্মদ মুহসীন গভীর রাতে তাঁর ঘরে একজন চোরকে দেখেও তার প্রতি দয়া দেখান। লোকটিকে তিনি টাকা দিয়ে বিদায় করে দিলেন। এখানে তাঁর চরিত্রে ক্ষমাশীলতা ও সহমর্মিতার দিকটি ফুটে উঠেছে। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)ও তাঁর শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়ে বুকে টেনে নিয়েছিলেন। তবে প্রবন্ধে ক্ষমাশীলতা ও সহমর্মিতা ছাড়াও তাঁর চরিত্রের সত্যবাদিতা, ধৈর্যশীলতা, আমানত রক্ষা প্রভৃতি মহৎ গুণের উল্লেখ আছে যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর সত্য প্রচার করতে গিয়ে নির্মম নির্যাতন ভোগ করা, সুমহান ব্যক্তিত্ব, মানবিক চেতনা, মানুষকে সঠিক ও সত্যের পথে চলার দিকনির্দেশনা চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। তাঁর সাধনা, ত্যাগ, কল্যাণচিন্তা ছিল বিশ্বের সমগ্র মানুষের জন্য অনুকরণীয়। এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নে প্রদত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো