SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল
উদ্দীপক
উদ্দীপক-১:
"সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে
কঠোর কাজে স্বল্প আয়ে
ফিরে যাই ছোট্ট ঘরে সন্ধ্যা যখন নামে
দুপুর বেলা হয়নি খাওয়া
স্বল্প আয়ের ভয়ে।"
উদ্দীপক-২:
"কখনো বা পুকুর পাড়ে
লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া
মাঝে মধ্যে মায়ের বকা
সেই সব দিন ছিল মোড়া।"
Sylhet · 2026
ক
হরিহর তাগাদার জন্য কোথায় গিয়েছিল?
উত্তর
হরিহর তাগাদার জন্য দশঘরায় গিয়েছিল।
খ
"তোমার তো আবার গল্প করে বেড়ানো স্বভাব"- একথা হরিহর কেন বলেছিল? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
"তোমার তো আবার গল্প করে বেড়ানো স্বভাব।"- এ কথাটি হরিহর তার স্ত্রী সর্বজয়াকে বলেছিল তাকে সতর্ক করার জন্য।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে দরিদ্র ব্রাহ্মণ হরিহর রায় বাড়িতে মাসিক আট টাকা বেতনে চাকরি করে সংসার চালায়। অভাবের কারণে ছেলে-মেয়ে অপু-দুর্গার ঠিকমতো যত্ন নিতে পারে না। এমন টানাপোড়েনের সংসারে হরিহর সঙ্গোপদের মন্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব পায়। দশঘরায় একজন মাতব্বর গোছের সঙ্গোপ হরিহরকে তাদের ব্রাহ্মণ হিসেবে মন্ত্র দিতে এবং তার গ্রামে গিয়ে বসবাস করার প্রস্তাব করে। হরিহর সঙ্গে সঙ্গে রাজি না হয়ে ঘরে ফিরে স্ত্রী সর্বজয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করে। এ সময় সর্বজয়াকে তার স্বভাব বৈশিষ্ট্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হরিহর প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে। কারণ যারা মন্ত্র চেয়েছে তারা নিচু জাতের সদগোপ
গ
উদ্দীপক-১ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করে? বর্ণনা করো।
উত্তর
উদ্দীপক-১ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া ও হরিহরের পরিবারের দারিদ্র্যের বিষয়টিকে নির্দেশ করে।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে হরিহর গোমস্তার কাজ করে অত্যন্ত স্বল্প আয়ে সংসার চালায়। অভাবের কারণে ছেলে-মেয়ে দুটোর যত্ন নিতে পারে না। দেনা শোধ করতে না পারায় সর্বজয়াকে পাওনাদারদের কটু কথা শুনতে হয়। অভাবের কারণে নিচু জাত সঙ্গোপদের মন্ত্র দিতে সে স্বামী হরিহরকে রাজি হতে বলে।
উদ্দীপক-১-এ এক দরিদ্র পরিবারের শোচনীয় অবস্থার বর্ণনা করা - হয়েছে। দেখা যায়, এখানে স্বল্প আয়ের কারণে দুপুরের খাওয়া হয়নি। এ বর্ণনা যেন হরিহর-সর্বজয়ার দৈনন্দিন জীবনের আয়না। গল্পেও অভাবের কারণে অপু চাল ভাজার জন্য মিনতি করে, দুই-তিন জায়গায় সেলাই করা কাপড় পরে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-১ পুরোপুরিভাবে গল্পের কঠোর দারিদ্র্য ও টানাপোড়েনের বিষয়টিকে নির্দেশ করে।
ঘ
"উদ্দীপক-১-কে ছাপিয়ে উদ্দীপক-২-এর ভাবার্থ যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে লেখক অপু-দুর্গার শৈশবের নির্মল আনন্দের যে পরিচয় দিয়েছেন সেদিক থেকে "উদ্দীপক-১-কে ছাপিয়ে উদ্দীপক-২-এর ভাবার্থ যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে" মন্তব্যটি যথার্থ।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু-দুর্গা দারিদ্র্যের কঠোরতা উপলব্ধি করার সুযোগ পায় না বললেই চলে। তাদের দিন কাটে প্রকৃতির সাথে- কাঁঠালপাতায় আমের কুশি জারানোয়, রড়া ফলের বিচি সংগ্রহ করায়, খাপড়া দিয়ে গঙ্গা-যমুনা খেলায়। তাদের শৈশবের চিরন্তন রূপ হরিহরের সংসারের দারিদ্র্যকে ছাপিয়ে উঠেছে।
উদ্দীপক-১-এ যেমন কঠোর দারিদ্র্যের বাস্তবতা, তেমনই গল্পেও সেই দারিদ্র্যের বাস্তবতা আছে। কিন্তু গল্প এখানেই থেমে যায় না, পাঠক অপু-দুর্গার চোখ দিয়ে দেখে প্রকৃতি ও শিশুর উল্লাস। উদ্দীপক- ২-এ দুরন্ত শৈশবে পুকুরে লাফিয়ে পড়া, প্রকৃতির সাথে একাত্মতার ছবি তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপক-২-এর 'সেই সব দিন ছিল মোড়া' কথাটি গল্পের সেই অধ্যায়কে নির্দেশ করে, যেখানে দারিদ্র্য থাকলেও শৈশব তার সব রং নিয়েই বেঁচে থাকে। ফলে গল্পের মূল আবহ ও মনন গড়ে ওঠে উদ্দীপক-২-এর নির্মল আনন্দকে কেন্দ্র করে।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের মূল সুর হলো দারিদ্র্যের ভেতরেও শৈশবের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দকে তুলে ধরা। লেখক অপু-দুর্গাকে প্রকৃতির খেলার সাথি হিসেবে এঁকেছেন। উদ্দীপক-২-এও শৈশবের দুরন্তপনার চিত্র এসেছে। উদ্দীপক-১ হরিহরের দারিদ্র্যের চিত্র নির্দেশ করলেও তা গল্পের মূল হয়ে ওঠেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-১-কে ছাপিয়ে উদ্দীপক-২-এর ভাবার্থই গল্পে প্রাধান্য পেয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো