আম-আঁটির ভেঁপু বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর আম-আঁটির ভেঁপু অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১৬

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

উদ্দীপক-১: "সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কঠোর কাজে স্বল্প আয়ে ফিরে যাই ছোট্ট ঘরে সন্ধ্যা যখন নামে দুপুর বেলা হয়নি খাওয়া স্বল্প আয়ের ভয়ে।" উদ্দীপক-২: "কখনো বা পুকুর পাড়ে লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া মাঝে মধ্যে মায়ের বকা সেই সব দিন ছিল মোড়া।"

Sylhet · 2026

হরিহর তাগাদার জন্য কোথায় গিয়েছিল?

উত্তর

হরিহর তাগাদার জন্য দশঘরায় গিয়েছিল।
"তোমার তো আবার গল্প করে বেড়ানো স্বভাব"- একথা হরিহর কেন বলেছিল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

"তোমার তো আবার গল্প করে বেড়ানো স্বভাব।"- এ কথাটি হরিহর তার স্ত্রী সর্বজয়াকে বলেছিল তাকে সতর্ক করার জন্য। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে দরিদ্র ব্রাহ্মণ হরিহর রায় বাড়িতে মাসিক আট টাকা বেতনে চাকরি করে সংসার চালায়। অভাবের কারণে ছেলে-মেয়ে অপু-দুর্গার ঠিকমতো যত্ন নিতে পারে না। এমন টানাপোড়েনের সংসারে হরিহর সঙ্গোপদের মন্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব পায়। দশঘরায় একজন মাতব্বর গোছের সঙ্গোপ হরিহরকে তাদের ব্রাহ্মণ হিসেবে মন্ত্র দিতে এবং তার গ্রামে গিয়ে বসবাস করার প্রস্তাব করে। হরিহর সঙ্গে সঙ্গে রাজি না হয়ে ঘরে ফিরে স্ত্রী সর্বজয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করে। এ সময় সর্বজয়াকে তার স্বভাব বৈশিষ্ট্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হরিহর প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে। কারণ যারা মন্ত্র চেয়েছে তারা নিচু জাতের সদগোপ
উদ্দীপক-১ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করে? বর্ণনা করো।

উত্তর

উদ্দীপক-১ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া ও হরিহরের পরিবারের দারিদ্র্যের বিষয়টিকে নির্দেশ করে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে হরিহর গোমস্তার কাজ করে অত্যন্ত স্বল্প আয়ে সংসার চালায়। অভাবের কারণে ছেলে-মেয়ে দুটোর যত্ন নিতে পারে না। দেনা শোধ করতে না পারায় সর্বজয়াকে পাওনাদারদের কটু কথা শুনতে হয়। অভাবের কারণে নিচু জাত সঙ্গোপদের মন্ত্র দিতে সে স্বামী হরিহরকে রাজি হতে বলে। উদ্দীপক-১-এ এক দরিদ্র পরিবারের শোচনীয় অবস্থার বর্ণনা করা - হয়েছে। দেখা যায়, এখানে স্বল্প আয়ের কারণে দুপুরের খাওয়া হয়নি। এ বর্ণনা যেন হরিহর-সর্বজয়ার দৈনন্দিন জীবনের আয়না। গল্পেও অভাবের কারণে অপু চাল ভাজার জন্য মিনতি করে, দুই-তিন জায়গায় সেলাই করা কাপড় পরে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-১ পুরোপুরিভাবে গল্পের কঠোর দারিদ্র্য ও টানাপোড়েনের বিষয়টিকে নির্দেশ করে।
"উদ্দীপক-১-কে ছাপিয়ে উদ্দীপক-২-এর ভাবার্থ যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে লেখক অপু-দুর্গার শৈশবের নির্মল আনন্দের যে পরিচয় দিয়েছেন সেদিক থেকে "উদ্দীপক-১-কে ছাপিয়ে উদ্দীপক-২-এর ভাবার্থ যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে" মন্তব্যটি যথার্থ। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু-দুর্গা দারিদ্র্যের কঠোরতা উপলব্ধি করার সুযোগ পায় না বললেই চলে। তাদের দিন কাটে প্রকৃতির সাথে- কাঁঠালপাতায় আমের কুশি জারানোয়, রড়া ফলের বিচি সংগ্রহ করায়, খাপড়া দিয়ে গঙ্গা-যমুনা খেলায়। তাদের শৈশবের চিরন্তন রূপ হরিহরের সংসারের দারিদ্র্যকে ছাপিয়ে উঠেছে। উদ্দীপক-১-এ যেমন কঠোর দারিদ্র্যের বাস্তবতা, তেমনই গল্পেও সেই দারিদ্র্যের বাস্তবতা আছে। কিন্তু গল্প এখানেই থেমে যায় না, পাঠক অপু-দুর্গার চোখ দিয়ে দেখে প্রকৃতি ও শিশুর উল্লাস। উদ্দীপক- ২-এ দুরন্ত শৈশবে পুকুরে লাফিয়ে পড়া, প্রকৃতির সাথে একাত্মতার ছবি তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপক-২-এর 'সেই সব দিন ছিল মোড়া' কথাটি গল্পের সেই অধ্যায়কে নির্দেশ করে, যেখানে দারিদ্র্য থাকলেও শৈশব তার সব রং নিয়েই বেঁচে থাকে। ফলে গল্পের মূল আবহ ও মনন গড়ে ওঠে উদ্দীপক-২-এর নির্মল আনন্দকে কেন্দ্র করে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের মূল সুর হলো দারিদ্র্যের ভেতরেও শৈশবের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দকে তুলে ধরা। লেখক অপু-দুর্গাকে প্রকৃতির খেলার সাথি হিসেবে এঁকেছেন। উদ্দীপক-২-এও শৈশবের দুরন্তপনার চিত্র এসেছে। উদ্দীপক-১ হরিহরের দারিদ্র্যের চিত্র নির্দেশ করলেও তা গল্পের মূল হয়ে ওঠেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-১-কে ছাপিয়ে উদ্দীপক-২-এর ভাবার্থই গল্পে প্রাধান্য পেয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

উদ্দীপক-১: "সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কঠোর কাজে স্বল্প আয়ে ফিরে যাই ছোট্ট ঘরে সন্ধ্যা যখন নামে দুপুর বেলা হয়নি খাওয়া স্বল্প আয়ের ভয়ে।" উদ্দীপক-২: "কখনো বা পুকুর পাড়ে লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া মাঝে মধ্যে মায়ের বকা সেই সব দিন ছিল মোড়া।"

Sylhet · 2026

হরিহর তাগাদার জন্য কোথায় গিয়েছিল?

উত্তর

হরিহর তাগাদার জন্য দশঘরায় গিয়েছিল।
"তোমার তো আবার গল্প করে বেড়ানো স্বভাব"- একথা হরিহর কেন বলেছিল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

"তোমার তো আবার গল্প করে বেড়ানো স্বভাব।"- এ কথাটি হরিহর তার স্ত্রী সর্বজয়াকে বলেছিল তাকে সতর্ক করার জন্য। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে দরিদ্র ব্রাহ্মণ হরিহর রায় বাড়িতে মাসিক আট টাকা বেতনে চাকরি করে সংসার চালায়। অভাবের কারণে ছেলে-মেয়ে অপু-দুর্গার ঠিকমতো যত্ন নিতে পারে না। এমন টানাপোড়েনের সংসারে হরিহর সঙ্গোপদের মন্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব পায়। দশঘরায় একজন মাতব্বর গোছের সঙ্গোপ হরিহরকে তাদের ব্রাহ্মণ হিসেবে মন্ত্র দিতে এবং তার গ্রামে গিয়ে বসবাস করার প্রস্তাব করে। হরিহর সঙ্গে সঙ্গে রাজি না হয়ে ঘরে ফিরে স্ত্রী সর্বজয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করে। এ সময় সর্বজয়াকে তার স্বভাব বৈশিষ্ট্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হরিহর প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে। কারণ যারা মন্ত্র চেয়েছে তারা নিচু জাতের সদগোপ
উদ্দীপক-১ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করে? বর্ণনা করো।

উত্তর

উদ্দীপক-১ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া ও হরিহরের পরিবারের দারিদ্র্যের বিষয়টিকে নির্দেশ করে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে হরিহর গোমস্তার কাজ করে অত্যন্ত স্বল্প আয়ে সংসার চালায়। অভাবের কারণে ছেলে-মেয়ে দুটোর যত্ন নিতে পারে না। দেনা শোধ করতে না পারায় সর্বজয়াকে পাওনাদারদের কটু কথা শুনতে হয়। অভাবের কারণে নিচু জাত সঙ্গোপদের মন্ত্র দিতে সে স্বামী হরিহরকে রাজি হতে বলে। উদ্দীপক-১-এ এক দরিদ্র পরিবারের শোচনীয় অবস্থার বর্ণনা করা - হয়েছে। দেখা যায়, এখানে স্বল্প আয়ের কারণে দুপুরের খাওয়া হয়নি। এ বর্ণনা যেন হরিহর-সর্বজয়ার দৈনন্দিন জীবনের আয়না। গল্পেও অভাবের কারণে অপু চাল ভাজার জন্য মিনতি করে, দুই-তিন জায়গায় সেলাই করা কাপড় পরে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-১ পুরোপুরিভাবে গল্পের কঠোর দারিদ্র্য ও টানাপোড়েনের বিষয়টিকে নির্দেশ করে।
"উদ্দীপক-১-কে ছাপিয়ে উদ্দীপক-২-এর ভাবার্থ যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে লেখক অপু-দুর্গার শৈশবের নির্মল আনন্দের যে পরিচয় দিয়েছেন সেদিক থেকে "উদ্দীপক-১-কে ছাপিয়ে উদ্দীপক-২-এর ভাবার্থ যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে" মন্তব্যটি যথার্থ। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু-দুর্গা দারিদ্র্যের কঠোরতা উপলব্ধি করার সুযোগ পায় না বললেই চলে। তাদের দিন কাটে প্রকৃতির সাথে- কাঁঠালপাতায় আমের কুশি জারানোয়, রড়া ফলের বিচি সংগ্রহ করায়, খাপড়া দিয়ে গঙ্গা-যমুনা খেলায়। তাদের শৈশবের চিরন্তন রূপ হরিহরের সংসারের দারিদ্র্যকে ছাপিয়ে উঠেছে। উদ্দীপক-১-এ যেমন কঠোর দারিদ্র্যের বাস্তবতা, তেমনই গল্পেও সেই দারিদ্র্যের বাস্তবতা আছে। কিন্তু গল্প এখানেই থেমে যায় না, পাঠক অপু-দুর্গার চোখ দিয়ে দেখে প্রকৃতি ও শিশুর উল্লাস। উদ্দীপক- ২-এ দুরন্ত শৈশবে পুকুরে লাফিয়ে পড়া, প্রকৃতির সাথে একাত্মতার ছবি তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপক-২-এর 'সেই সব দিন ছিল মোড়া' কথাটি গল্পের সেই অধ্যায়কে নির্দেশ করে, যেখানে দারিদ্র্য থাকলেও শৈশব তার সব রং নিয়েই বেঁচে থাকে। ফলে গল্পের মূল আবহ ও মনন গড়ে ওঠে উদ্দীপক-২-এর নির্মল আনন্দকে কেন্দ্র করে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের মূল সুর হলো দারিদ্র্যের ভেতরেও শৈশবের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দকে তুলে ধরা। লেখক অপু-দুর্গাকে প্রকৃতির খেলার সাথি হিসেবে এঁকেছেন। উদ্দীপক-২-এও শৈশবের দুরন্তপনার চিত্র এসেছে। উদ্দীপক-১ হরিহরের দারিদ্র্যের চিত্র নির্দেশ করলেও তা গল্পের মূল হয়ে ওঠেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-১-কে ছাপিয়ে উদ্দীপক-২-এর ভাবার্থই গল্পে প্রাধান্য পেয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

উদ্দীপক-১: হে সূর্য, তুমি তো জানো, আমাদের গরম কাপড়ের কত অভাব। সারারাত খড়কুটো জ্বালিয়ে এক টুকরো কাপড়ে কান ঢেকে কত কষ্টে আমরা শীত আটকাই। উদ্দীপক-২: নুরু, পুশি, আয়শা, শফি সবাই এসেছে আমবাগিচার তলায় যেন তারা হেসেছে। রাঁধুনিদের শখের রাঁধার পড়ে গেছে ধুম বোশেখ মাসের এই দুপুরে নেইকো কারো ঘুম।

Chittagong · 2026

দুর্গার বয়স কত?

উত্তর

দুর্গার বয়স দশ-এগারো বছর।
বামুন হিসেবে বাস করার প্রস্তাবে হরিহর তাৎক্ষণিক রাজি হলো না কেন?

উত্তর

বামুন হিসেবে বাস করার প্রস্তাবে হরিহর তখনই রাজি হয়নি, কারণ তাতে প্রস্তাবকারী তাকে খুব অভাবী ও উপবাসী মনে করতে পারে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে হরিহর রায়বাড়িতে গোমস্তার কাজ করে মাসে আট টাকা পায়। তাতে তাদের চারজনের সংসার ঠিকমতো চলে না। ছেলে-মেয়েকে তারা প্রয়োজন মতো খাবার ও পোশাক দিতে পারে না। সে দশঘরায় তাগাদার জন্য গেলে সেখানে একজন মাতব্বর গোছের লোক তাকে তাদের ব্রাহ্মণ হিসেবে মন্ত্র দিতে এবং সেখানে বাস করার প্রস্তাব করে। হরিহর তখনই তার প্রস্তাবে রাজি হয় না। কারণ সে নিজের এত হীন অবস্থা ও দীনতা প্রকাশ করতে চায়নি।
উদ্দীপক-১-এ 'আম-আঁটির ভেপুঁ' গল্পের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপক-১-এ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহর-সর্বজয়ার পরিবারের দারিদ্র্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে হরিহর-সর্বজয়ার অভাবের সংসার। অভাবের কারণে তারা তাদের দুই সন্তান অপু-দুর্গার তেমন যত্ন নিতে পারে না। এমনকি কাপড় না থাকায় ছেঁড়া কাপড় পরেই তপুকে ঘুরতে দেখা যায়। চরম অভাব ও দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে তাদের জীবন অতিবাহিত হয়। উদ্দীপক-১-এ অভাব-দারিদ্র্যের চিত্র লক্ষণীয়। দারিদ্র্যক্লিষ্ট পরিবারের ছেলে-মেয়েরা শীতে অনেক কষ্ট পায়। তাদের শীত নিবারণের জন্য তেমন গরম কাপড় পরার ভাগ্য হয় না। এক টুকরো কাপড়ে কান ঢেকে বহু কষ্টে তারা শীত নিবারণ করে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের দারিদ্র্যের নির্মম চিত্রই যেন উদ্দীপক-১-এ প্রতিফলিত হয়েছে। অভাব-অনটনের কারণে গল্পের অপু ছেঁড়া কাপড়ে কাটিয়েছে। তেমনই উদ্দীপকেও সামান্য কাপড়ে অতি কষ্টে শীত নিবারণের চিত্র দেখা যায়। এভাবে উদ্দীপক-১-এ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহর-সর্বজয়ার দারিদ্রদ্র্য পীড়িত সংসারের চিত্র ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপক-২-এর মর্মার্থই যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে"- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর

দুটি শিশুর শৈশবের দুরন্তপনার দিক থেকে "উদ্দীপক-২-এর মর্মার্থই যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে" মন্তব্যটি যথার্থ। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে গ্রাম্য প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা দুটি শিশুর শৈশবের চিত্র ফুটে উঠেছে। পরিবারের অভাব-অনটন তাদের দুরন্তপনায় কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। মনের আনন্দে দুই ভাই-বোন বনবাদাড়ে, পথে-ঘাটে ঘুরে বেড়ায়। তারা ফলফলাদি কুড়িয়ে এনে ভাগাভাগি 'করে খায়। তাদের মধ্য দিয়ে শৈশবের দুরন্তপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। উদ্দীপক-২-এ শৈশবের দুরন্তপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। কয়েকজন দুরন্ত শিশু আমবাগানের নিচে মিলিত হয়েছে। বৈশাখ মাসের দুপুরে তারা শখের বশে রান্নার আয়োজনে মেতেছে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু-দুর্গার মধ্যেও উদ্দীপকের শিশুদের মতো শৈশবের দুরন্তপনার চিত্রটিরই প্রতিফলন ঘটতে দেখা যায়। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু-দুর্গা সারা দিন প্রকৃতির সান্নিধ্যে হেসে-খেলে কাটায়। দুর্গা বনে-জঙ্গলে ঘুরে বুনোফুল এনে ভাইকে দেয়। আবার লক্ষ্মীপূজার চুপড়ি থেকে কড়ি এনে সেগুলো দিয়ে দুই ভাই-বোন খেলায় মেতে থাকে। গ্রাম্য প্রকৃতিতে তারা হেসে-খেলে বেড়ে ওঠে। উদ্দীপকের শিশুগুলোর ক্ষেত্রেও ওই বিষয়টিই পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-২-এর মর্মার্থই যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

উদ্দীপক-১: হে সূর্য, তুমি তো জানো, আমাদের গরম কাপড়ের কত অভাব। সারারাত খড়কুটো জ্বালিয়ে এক টুকরো কাপড়ে কান ঢেকে কত কষ্টে আমরা শীত আটকাই। উদ্দীপক-২: নুরু, পুশি, আয়শা, শফি সবাই এসেছে আমবাগিচার তলায় যেন তারা হেসেছে। রাঁধুনিদের শখের রাঁধার পড়ে গেছে ধুম বোশেখ মাসের এই দুপুরে নেইকো কারো ঘুম।

Chittagong · 2026

দুর্গার বয়স কত?

উত্তর

দুর্গার বয়স দশ-এগারো বছর।
বামুন হিসেবে বাস করার প্রস্তাবে হরিহর তাৎক্ষণিক রাজি হলো না কেন?

উত্তর

বামুন হিসেবে বাস করার প্রস্তাবে হরিহর তখনই রাজি হয়নি, কারণ তাতে প্রস্তাবকারী তাকে খুব অভাবী ও উপবাসী মনে করতে পারে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে হরিহর রায়বাড়িতে গোমস্তার কাজ করে মাসে আট টাকা পায়। তাতে তাদের চারজনের সংসার ঠিকমতো চলে না। ছেলে-মেয়েকে তারা প্রয়োজন মতো খাবার ও পোশাক দিতে পারে না। সে দশঘরায় তাগাদার জন্য গেলে সেখানে একজন মাতব্বর গোছের লোক তাকে তাদের ব্রাহ্মণ হিসেবে মন্ত্র দিতে এবং সেখানে বাস করার প্রস্তাব করে। হরিহর তখনই তার প্রস্তাবে রাজি হয় না। কারণ সে নিজের এত হীন অবস্থা ও দীনতা প্রকাশ করতে চায়নি।
উদ্দীপক-১-এ 'আম-আঁটির ভেপুঁ' গল্পের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপক-১-এ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহর-সর্বজয়ার পরিবারের দারিদ্র্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে হরিহর-সর্বজয়ার অভাবের সংসার। অভাবের কারণে তারা তাদের দুই সন্তান অপু-দুর্গার তেমন যত্ন নিতে পারে না। এমনকি কাপড় না থাকায় ছেঁড়া কাপড় পরেই তপুকে ঘুরতে দেখা যায়। চরম অভাব ও দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে তাদের জীবন অতিবাহিত হয়। উদ্দীপক-১-এ অভাব-দারিদ্র্যের চিত্র লক্ষণীয়। দারিদ্র্যক্লিষ্ট পরিবারের ছেলে-মেয়েরা শীতে অনেক কষ্ট পায়। তাদের শীত নিবারণের জন্য তেমন গরম কাপড় পরার ভাগ্য হয় না। এক টুকরো কাপড়ে কান ঢেকে বহু কষ্টে তারা শীত নিবারণ করে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের দারিদ্র্যের নির্মম চিত্রই যেন উদ্দীপক-১-এ প্রতিফলিত হয়েছে। অভাব-অনটনের কারণে গল্পের অপু ছেঁড়া কাপড়ে কাটিয়েছে। তেমনই উদ্দীপকেও সামান্য কাপড়ে অতি কষ্টে শীত নিবারণের চিত্র দেখা যায়। এভাবে উদ্দীপক-১-এ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহর-সর্বজয়ার দারিদ্রদ্র্য পীড়িত সংসারের চিত্র ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপক-২-এর মর্মার্থই যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে"- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর

দুটি শিশুর শৈশবের দুরন্তপনার দিক থেকে "উদ্দীপক-২-এর মর্মার্থই যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে" মন্তব্যটি যথার্থ। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে গ্রাম্য প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা দুটি শিশুর শৈশবের চিত্র ফুটে উঠেছে। পরিবারের অভাব-অনটন তাদের দুরন্তপনায় কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। মনের আনন্দে দুই ভাই-বোন বনবাদাড়ে, পথে-ঘাটে ঘুরে বেড়ায়। তারা ফলফলাদি কুড়িয়ে এনে ভাগাভাগি 'করে খায়। তাদের মধ্য দিয়ে শৈশবের দুরন্তপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। উদ্দীপক-২-এ শৈশবের দুরন্তপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। কয়েকজন দুরন্ত শিশু আমবাগানের নিচে মিলিত হয়েছে। বৈশাখ মাসের দুপুরে তারা শখের বশে রান্নার আয়োজনে মেতেছে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু-দুর্গার মধ্যেও উদ্দীপকের শিশুদের মতো শৈশবের দুরন্তপনার চিত্রটিরই প্রতিফলন ঘটতে দেখা যায়। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু-দুর্গা সারা দিন প্রকৃতির সান্নিধ্যে হেসে-খেলে কাটায়। দুর্গা বনে-জঙ্গলে ঘুরে বুনোফুল এনে ভাইকে দেয়। আবার লক্ষ্মীপূজার চুপড়ি থেকে কড়ি এনে সেগুলো দিয়ে দুই ভাই-বোন খেলায় মেতে থাকে। গ্রাম্য প্রকৃতিতে তারা হেসে-খেলে বেড়ে ওঠে। উদ্দীপকের শিশুগুলোর ক্ষেত্রেও ওই বিষয়টিই পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-২-এর মর্মার্থই যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

করিম ও রহিমা দুই ভাই-বোন। সারাদিন তারা রৌদ্রে দৌড়াদৌড়ি, পুকুরে মাছ ধরা, গাছে চড়ে বেড়ানো, গাছগাছালি থেকে ফল সংগ্রহ করে বেড়ায়। তারা মায়ের কথা শোনে না বললেই চলে। প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, তাদের সহজ-সরল জীবন-যাপন যেন গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি।

Jessore · 2026

হরিহর তাগাদার জন্য কোথায় গিয়েছিল?

উত্তর

হরিহর তাগাদার জন্য দশঘরায় গিয়েছিল।
'আমার কাপড় যে বাসি' কে বলেছিল এবং কেন?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথাটি অপু বলেছিল তার দিদি দুর্গাকে, কারণ তার মা বিভিন্ন সংস্কারে বিশ্বাস করে এবং এগুলোর একটি হলো বাসি কাপড়ে কোনো কিছু ছোঁয়া নিষেধ। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে উল্লিখিত গ্রাম সমাজের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা ধরনের আচার-সংস্কার প্রচলিত ছিল। সকালে স্নান না করে আগের দিনের পরা কাপড়কে বাসি কাপড় বলা হতো এবং তা পরা থাকলে কোনোকিছুতে হাত দেওয়া নিষেধ ছিল। দুর্গা কতক গুলো কচি আম কাটা নিয়ে এসেছে। সেগুলো তেল-লবণ দিয়ে মাখিয়ে খাবে। তাই দুর্গা অপুকে তেল-লবণ নিয়ে আসতে বলে। কিন্তু অপু তখনও আগের দিনের বাসি কাপড় পরা ছিল। তাই সে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল।
উদ্দীপকের করিম ও রহিমার সাথে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের যে দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের করিম ও রহিমার সঙ্গে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু ও দুর্গার আনন্দপূর্ণ শৈশবে প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে গ্রামীণ প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা অপু ও দুর্গার দুরন্তপনার পরিচয় পাওয়া যায়। গ্রামের সর্বত্র তারা ছুটে বেড়ায়। তারা বনবাদাড়ে ঘুরে নানা ফল কুড়িয়ে এনে দুজনে মিলে খায়। মায়ের শাসনের সময় তারা চুপ থাকে, পরক্ষণেই তা ভুলে যায়। শিশুদের দুরন্তপনার চিরন্তন রূপটি আমরা অপু ও দুর্গার মধ্যে দেখতে পাই। উদ্দীপকের করিম ও রহিমা গ্রামীণ দুরন্ত চরিত্রের প্রতীক। তারা রৌদ্রে দৌড়াদৌড়ি, পুকুরে মাছ ধরা, গাছে চড়ে বেড়ানো, গাছগাছালি থেকে ফল সংগ্রহ করা সবই করে। মায়ের বকুনিতেও তারা স্থির থাকে না। প্রকৃতির প্রতি তাদের রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু ও দুর্গা চরিত্র দুটিও দুরন্ত। তারাও প্রকৃতির সান্নিধ্য ভালোবাসে। সারা দিন প্রকৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে তারা ব্যস্ত সময় কাটায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের করিম ও রহিমার সঙ্গে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু ও দুর্গার আনন্দপূর্ণ শৈশবে প্রকৃতির ! সঙ্গে সম্পর্কের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকের মা চরিত্রটি 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া নয়”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর

সর্বজয়ার মতো শাশ্বত বাঙালি মায়ের রূপ উদ্দীপকে ফুটে না ওঠায় "উদ্দীপকের মা চরিত্রটি 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া নয়" মন্তব্যটি যথার্থ। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে দারিদ্র্য সত্ত্বেও সন্তান স্নেহে সর্বজয়া এক শাশ্বত জননী। স্বামী হরিহরের আট টাকা মাসিক আয়ে সে সংসার চালাতে গিয়ে ধার-দেনা করে। সংসার চালাতে তাকে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হয়। তা সত্ত্বেও সে তার সন্তান অপু ও দুর্গাকে পরম মমতায় আগলে রাখে। তার মধ্যে বাঙালি মাতৃহৃদয়ের শাশ্বত রূপটি প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে আমরা করিম ও রহিমার মায়ের কথা জানতে পারি। সে গ্রামীণ মায়ের রূপ। করিম ও রহিমা এতই দুরন্ত যে তারা মায়ের কথা শোনে না বললেই চলে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে সর্বজয়াকে আমরা শাশ্বত বাঙালি মায়ের রূপে দেখি। সে দারিদ্র্য উপেক্ষা করে সন্তানস্নেহে প্রবল। সংসার সচল রাখতে সে সদা সচেষ্ট। সংসারের সব বিষয়ে খেয়াল রেখেও সে অপু ও দুর্গাকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহরের মাসিক আট টাকা বেতনে সংসার চলে না। তাই সর্বজয়া ধার-কর্জ করে সংসার কোনোভাবে সচল রাখার চেষ্টা করে। দারিদ্র্যের মধ্যেও অপু-দুর্গাকে সে যেভাবে আগলে রেখেছে তাতে তাকে চিরন্তন মাতৃত্বের প্রতিচ্ছবি হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। সে অপু ও দুর্গার ছোটোখাটো ভুলে অতিমাত্রায় কঠোর হয় না, তাদেরকে আদরের সঙ্গে শাসন করে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, দৈনন্দিন সংগ্রামের পরেও সর্বজয়ার মাতৃরূপ যত্নশীল, | দায়িত্বশীল, ধৈর্যশীল ও সন্তানের প্রতি সহমর্মী। এগলো উদ্দীপকের মায়ের মধ্যে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের মা চরিত্রটি 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া নয়" মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

করিম ও রহিমা দুই ভাই-বোন। সারাদিন তারা রৌদ্রে দৌড়াদৌড়ি, পুকুরে মাছ ধরা, গাছে চড়ে বেড়ানো, গাছগাছালি থেকে ফল সংগ্রহ করে বেড়ায়। তারা মায়ের কথা শোনে না বললেই চলে। প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, তাদের সহজ-সরল জীবন-যাপন যেন গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি।

Jessore · 2026

হরিহর তাগাদার জন্য কোথায় গিয়েছিল?

উত্তর

হরিহর তাগাদার জন্য দশঘরায় গিয়েছিল।
'আমার কাপড় যে বাসি' কে বলেছিল এবং কেন?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথাটি অপু বলেছিল তার দিদি দুর্গাকে, কারণ তার মা বিভিন্ন সংস্কারে বিশ্বাস করে এবং এগুলোর একটি হলো বাসি কাপড়ে কোনো কিছু ছোঁয়া নিষেধ। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে উল্লিখিত গ্রাম সমাজের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা ধরনের আচার-সংস্কার প্রচলিত ছিল। সকালে স্নান না করে আগের দিনের পরা কাপড়কে বাসি কাপড় বলা হতো এবং তা পরা থাকলে কোনোকিছুতে হাত দেওয়া নিষেধ ছিল। দুর্গা কতক গুলো কচি আম কাটা নিয়ে এসেছে। সেগুলো তেল-লবণ দিয়ে মাখিয়ে খাবে। তাই দুর্গা অপুকে তেল-লবণ নিয়ে আসতে বলে। কিন্তু অপু তখনও আগের দিনের বাসি কাপড় পরা ছিল। তাই সে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল।
উদ্দীপকের করিম ও রহিমার সাথে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের যে দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের করিম ও রহিমার সঙ্গে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু ও দুর্গার আনন্দপূর্ণ শৈশবে প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে গ্রামীণ প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা অপু ও দুর্গার দুরন্তপনার পরিচয় পাওয়া যায়। গ্রামের সর্বত্র তারা ছুটে বেড়ায়। তারা বনবাদাড়ে ঘুরে নানা ফল কুড়িয়ে এনে দুজনে মিলে খায়। মায়ের শাসনের সময় তারা চুপ থাকে, পরক্ষণেই তা ভুলে যায়। শিশুদের দুরন্তপনার চিরন্তন রূপটি আমরা অপু ও দুর্গার মধ্যে দেখতে পাই। উদ্দীপকের করিম ও রহিমা গ্রামীণ দুরন্ত চরিত্রের প্রতীক। তারা রৌদ্রে দৌড়াদৌড়ি, পুকুরে মাছ ধরা, গাছে চড়ে বেড়ানো, গাছগাছালি থেকে ফল সংগ্রহ করা সবই করে। মায়ের বকুনিতেও তারা স্থির থাকে না। প্রকৃতির প্রতি তাদের রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু ও দুর্গা চরিত্র দুটিও দুরন্ত। তারাও প্রকৃতির সান্নিধ্য ভালোবাসে। সারা দিন প্রকৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে তারা ব্যস্ত সময় কাটায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের করিম ও রহিমার সঙ্গে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু ও দুর্গার আনন্দপূর্ণ শৈশবে প্রকৃতির ! সঙ্গে সম্পর্কের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকের মা চরিত্রটি 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া নয়”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর

সর্বজয়ার মতো শাশ্বত বাঙালি মায়ের রূপ উদ্দীপকে ফুটে না ওঠায় "উদ্দীপকের মা চরিত্রটি 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া নয়" মন্তব্যটি যথার্থ। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে দারিদ্র্য সত্ত্বেও সন্তান স্নেহে সর্বজয়া এক শাশ্বত জননী। স্বামী হরিহরের আট টাকা মাসিক আয়ে সে সংসার চালাতে গিয়ে ধার-দেনা করে। সংসার চালাতে তাকে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হয়। তা সত্ত্বেও সে তার সন্তান অপু ও দুর্গাকে পরম মমতায় আগলে রাখে। তার মধ্যে বাঙালি মাতৃহৃদয়ের শাশ্বত রূপটি প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে আমরা করিম ও রহিমার মায়ের কথা জানতে পারি। সে গ্রামীণ মায়ের রূপ। করিম ও রহিমা এতই দুরন্ত যে তারা মায়ের কথা শোনে না বললেই চলে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে সর্বজয়াকে আমরা শাশ্বত বাঙালি মায়ের রূপে দেখি। সে দারিদ্র্য উপেক্ষা করে সন্তানস্নেহে প্রবল। সংসার সচল রাখতে সে সদা সচেষ্ট। সংসারের সব বিষয়ে খেয়াল রেখেও সে অপু ও দুর্গাকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহরের মাসিক আট টাকা বেতনে সংসার চলে না। তাই সর্বজয়া ধার-কর্জ করে সংসার কোনোভাবে সচল রাখার চেষ্টা করে। দারিদ্র্যের মধ্যেও অপু-দুর্গাকে সে যেভাবে আগলে রেখেছে তাতে তাকে চিরন্তন মাতৃত্বের প্রতিচ্ছবি হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। সে অপু ও দুর্গার ছোটোখাটো ভুলে অতিমাত্রায় কঠোর হয় না, তাদেরকে আদরের সঙ্গে শাসন করে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, দৈনন্দিন সংগ্রামের পরেও সর্বজয়ার মাতৃরূপ যত্নশীল, | দায়িত্বশীল, ধৈর্যশীল ও সন্তানের প্রতি সহমর্মী। এগলো উদ্দীপকের মায়ের মধ্যে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের মা চরিত্রটি 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া নয়" মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো