HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
শাকিল ও শাওন দুই বন্ধু। আজ কলেজে তারা রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত কিছু মতবাদ সম্পর্কে জেনেছে। এ মতবাদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন মতবাদকে শাকিলের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়। কিন্তু শাওন এটিকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে বলে রাষ্ট্রের উৎপত্তির মূলে রয়েছে পাশবিক শক্তি বা শক্তির বিশেষ ভূমিকা।
ক
নৈতিকতা কী?
উত্তর
ভালো কাজ ও মন্দ কাজের পার্থক্য অনুধাবন করে করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার মানসিকতা হলো নৈতিকতা।
খ
শিক্ষা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর
শিক্ষা একটি সামাজিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তির আচরণের কাঙ্ক্ষিত ও স্থায়ী পরিবর্তন সাধিত হয়। ব্যক্তির এ আচরণিক পরিবর্তন ঘটে অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে, যা ব্যক্তি ও সমাজের নিকট গ্রহণযোগ্য, কল্যাণকর এবং অপেক্ষাকৃত স্থায়ী। শিক্ষা একটি ধারাবাহিক, পরিবর্তনশীল-ও সামাজিক ব্যবস্থা।
গ
রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত যে মতবাদটি শাকিলের কাছে গ্রহণযোগ্য, সেটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রাচীন যে মতবাদের কথা বলা হয়েছে তা হলো ঐশ্বরিক মতবাদ এবং শাকিলের কাছে এটিই গ্রহণযোগ্য।
রাষ্ট্রের উৎপত্তিসংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে ঐশ্বরিক মতবাদ সবচেয়ে প্রাচীন একটি মতবাদ। এ মতবাদ অনুসারে, রাষ্ট্র ঈশ্বরের সৃষ্ট। ঈশ্বর এ পৃথিবীর কয়েকজন নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে তার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ প্রতিনিধিরাই জনসাধারণের কাছে ঈশ্বরের ইচ্ছাকে প্রকাশ করেন এবং জনসাধারণের রাজা হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। এ মতবাদ অনুসারে রাজা যেহেতু ঈশ্বরের প্রতিনিধি, তাই জনগণের উচিত রাজার নির্দেশ মানা এবং তার অনুগত থাকা। রাজার অবাধ্য হওয়া মানে ঈশ্বরের অবাধ্য হওয়া।
অন্যদিকে রাজা যেহেতু ঈশ্বরের প্রতিনিধি, তাই তিনি জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। তবে আধুনিক নৃবিজ্ঞানীদের নিকট এ মতবাদটি স্বৈরতান্ত্রিক মতবাদ হিসেবে পরিচিত।
ঘ
তুমি কি শাওনের সমর্থনকৃত মতবাদকে যথার্থ মনে কর? এ বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন কর।
উত্তর
, শাওনের সমর্থনকৃত মতবাদকে আমি যথার্থ মনে করি। উদ্দীপকের শাওন রাষ্ট্রের উৎপত্তিসংক্রান্ত বলপ্রয়োগ মতবাদের সমর্থক।
পাশবিক শক্তি বা শক্তির ভূমিকাসংক্রান্ত এ মতবাদটি রাষ্ট্রের উৎপত্তিসংক্রান্ত একটি শক্তিশালী মতবাদ। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো ক্ষমতালিপ্সা এবং অন্যের ওপর কর্তৃত্ব আরোপের চেষ্টা। এ কারণে অন্যের ওপর কর্তৃত্ব আরোপ করে বা অন্যকে বশীভূত করে স্থায়ী ক্ষমতাবলে সমাজ তথা রাষ্ট্র পরিচালনার ইচ্ছাও মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তির অংশ। এ মতবাদে রাষ্ট্রবিহীন আদিম সমাজে বলপ্রয়োগের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। যেমন- সবল কর্তৃক দুর্বলের ওপর অত্যাচার, দুর্বলকে' অনুগত ও বশীভূত করে রাখার প্রয়াস, গোত্রপ্রধান কর্তৃক গোত্রের সবাইকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রবণতা, গোত্রপ্রধানের নেতৃত্বে আন্তঃগোত্র দ্বন্দ্ব-কলহ এবং এক গোত্র কর্তৃক অন্য গোত্রকে পদানত ও নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা ইত্যাদি। এভাবেই উপ-জাতির সৃষ্টি হয় এবং এদের মধ্যে সংঘাত দেখা দেয়। সংঘাতে বিজয়ী উপজাতি বিজিত উপজাতিদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। ক্রমান্বয়ে উপজাতিগুলো বিস্তৃতি লাভ করে রাজ্য গঠন করে। রাজ্যগুলো ক্রমশ বিকাশ লাভ করে সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। বলপ্রয়োগ 'মতবাদের মূলকথা হলো বলপ্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে, বলপ্রয়োগের দ্বারাই রাষ্ট্র শাসিত হয় এবং রাষ্ট্রের শান্তি শৃঙ্খলার জন্য বলপ্রয়োগ অপরিহার্য। কিন্তু রাষ্ট্রের উৎপত্তিতে বল কমবেশি ভূমিকা পালন করলেও একমাত্র উপাদান এটি নয়।
শুধু বলপ্রয়োগ সব মানুষকে একটি রাষ্ট্রের অধীনে আনতে পারে না। এজন্য জনসমর্থন অপরিহার্য।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো