HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
শিক্ষিত বেকার মামুন দিনরাত তার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে একসময় নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। তার দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পিতা মামুনকে নিরস্ত করতে না পেরে ইমাম সাহেবের শরণাপন্ন হন। ইমাম সাহেব মাদকাসক্তির পরিণাম, পরকালে এর শাস্তি এবং নৈতিকতার বিষয়ে শিক্ষা দেন এবং বেশ কিছুদিন তাকে সাথে সাথে রাখেন। মামুন এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে এবং ব্যবসা করছে।
Rajshahi · 2017
ক
মানবজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী প্রধান উপাদান কী?
উত্তর
মানব জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী প্রধান উপাদান হচ্ছে ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক উপাদান (Geographical or Natural Factor) ।
খ
"পরিবার হলো একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান"- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
পরিবার হলো সবচেয়ে প্রাচীন সামাজিক প্রতিষ্ঠান যার অস্তিত্ব আদিম সমাজ থেকে বর্তমান সকল সমাজেই বিদ্যমান।
সমাজ কাঠামোয় বিদ্যমান সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে পরিবার হলো সংঘবদ্ধ জীবনের সবচেয়ে সর্বজনীন ও বিশ্বজনীন প্রতিষ্ঠান। পরিবারেই মানুষ জন্মগ্রহণ করে, বেড়ে ওঠে এবং বৃহত্তর সমাজে প্রবেশের শিক্ষা লাভ করে। সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি সাধিত হলেও পরিবার নামক ক্ষুদ্র সামাজিক প্রতিষ্ঠান কখনো বিলুপ্ত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। কারণ সমাজ বিকাশের প্রতিটি পর্যায়েই পরিবারের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত। আর এ জন্যই পরিবারকে একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করা হয়।
গ
মামুনের নেশাগ্রস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিকীকরণের কোন বাহন দায়ী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
মামুনের নেশাগ্রস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিকীকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ 'সঙ্গীদল' বাহনটি দায়ী।
পরিবারের পরে সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে সমবয়সী বা সঙ্গীদলের ভূমিকা অপরিসীম। শিশু যখন বড় হতে থাকে তখন তার সঙ্গী-সাথীরা নানাভাবে তাকে প্রভাবিত করে। পড়াশোনার সময় বাদ দিয়ে অবসর সময় সে খেলার মাঠে অথবা গল্পগুজব করে বন্ধুদের সাথে সময় কাটায়। বন্ধুদের আকর্ষণ তার কাছে অপ্রতিরোধ্য। সমবয়সী দলের প্রভাবে মাদকাসক্তির মতো বিষয়ে কিশোর বয়সীরা সহজেই জড়িয়ে পড়ে। পূর্বে গ্রামীণ সমাজে শিশু- কিশোররা সমবয়সীদের সাথে নানারকম খেলায় মেতে উঠত। ইদানিং খেলার মাঠের স্বল্পতা, আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব ইত্যাদি কারণে কিশোর বয়সীরা অলস সময় কাটাতে কাটাতে নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। নগর জীবনেও কিশোররা সমবয়সী দলের সাথে মিশে মাদকাসক্তিসহ নানা রকম অপরাধমূলক কাজে জড়িত হচ্ছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন দিনরাত বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে একসময় নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। তার এ মাদকাসক্তির পেছনে উপরে আলোচিত সামাজিকীকরণের সমবয়সী বা সঙ্গীদল প্রত্যয়টি দায়ী। সুতরাং বলা যায় যে, মামুনের নেশাগ্রস্ত হওয়ার পেছনে সামাজিকীকরণের সঙ্গীদল বাহনটি দায়ী।
ঘ
মামুনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে যে বাহনটি ভূমিকা রেখেছে সামাজিকীকরণে তার যথেষ্ঠ গুরুত্ব রয়েছে- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
মামুনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে যে বাহনটি ভূমিকা রেখেছে তা হলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে ধর্ম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জন্মের পর থেকেই একজন মানুষ নিজ ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়। শিশু পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই প্রথম নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাথে পরিচিত হয়। শিশু পিতামাতা ও দাদা-দাদিকে মসজিদ, মন্দির কিংবা প্যাগোডায় যেতে ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলো পালন করতে দেখে। এতে শিশু ধীরে ধীরে নিজ ধর্মীয় রীতিনীতিগুলো শিখে নেয়। আর ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সত্যবাদিতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকারিতা, মাদকমুক্ত জীবনযাপন ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলি অর্জিত হয়। আবার সমাজে ব্যক্তির নৈতিকতার মানদণ্ড কী হবে তা ধর্ম নির্দেশ করে। ধর্ম মানুষকে মন্দ পথ বা মন্দ অভ্যাস পরিহার করে সৎপথে চলার নির্দেশ দেয়। ধর্ম ব্যক্তিকে আচরণে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হতেও শিক্ষা দেয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার পিতা তাকে নিয়ে ইমাম সাহেবের শরণাপন্ন হন। ইমাম সাহেব মাদকাসক্তির পরিণাম, পরকালে এর শাস্তি এবং নৈতিকতার বিষয়ে শিক্ষা দেন এবং বেশকিছু দিন মামুনকে তার সাথে রাখেন। ফলশ্রুতিতে মামুন এখন মাদকাসক্ত থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। মূলত ইমাম সাহেব কর্তৃক ধর্মীয় উপদেশ ও দিকনির্দেশনা প্রদানই মামুনকে নেশাগ্রস্ত জীবন থেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছে।
সুতরাং বলা যায় যে, মামুনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বাহনটি ভূমিকা রেখেছে। আর সামাজিকীকরণে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো