Chapter 4 : সমাজবিজ্ঞানের মৌল প্রত্যয় Sociology 1st Paper

HSC Sociology 1st Paper এর Chapter 4 : সমাজবিজ্ঞানের মৌল প্রত্যয় অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৪৬১

প্রশ্ন

Sociology 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সীমু তার বাবা-মার সাথে বিদেশে বসবাস করে। সে দেশে এসে ঢাকার মহিলা সমিতির নাট্যমঞ্চে বাবা-মার সাথে নাটক উপভোগ করার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কর্তৃপক্ষ জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

Rajshahi · 2017

ক
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কী?

উত্তর

বিজ্ঞানসম্মত অনুসন্ধানের যুক্তিসংগত উপায়কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (Scientific Method) বলা হয়।
খ
আত্মহত্যা কী? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

কোনো ব্যক্তি যদি নিজেই নিজেকে হত্যা করে তখন তাকে আত্মহত্যা বলে। ফরাসি সমাজবিজ্ঞানের জনক এমিল ডুর্খেইম-এর মতে, আত্মহত্যা হলো ব্যক্তিগত ঘটনা কিন্তু আত্মহত্যার হার সামাজিক ঘটনা। তিনি বলেন, প্রতিটি মৃত্যু যিনি মারা গেলেন তার দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পাদিত কাজ, যা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক হতে পারে। এরকম কাজের ফলশ্রুতিতে কেউ মারা গেলে সে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে।
গ
উদ্দীপকের সীমা ও তার বাবা-মার নাটক উপভোগ করা কোন সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সীমু ও তার বাবা-মার নাটক উপভোগ করা অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি। আবার যখন সংস্কৃতিকে সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করা হয় তখন তাকে মূলত অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। অবস্তুগত সংস্কৃতি বিশেষত মানুষের সহজাত প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটায়। যেমন-মানুষের বিশ্বাস, ভাষা, মূল্যবোধ, গুণাবলি, অভ্যাস, আচার-আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি। আমরা কি করছি, কি অনুভব করছি, কি চিন্তা করছি- সবই অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও ধর্ম, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠনও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ। অবস্তুগত সংস্কৃতি অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে চলে এবং সহজে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না। অবস্তুগত সংস্কৃতির অবদান সাধারণ মানুষ সহজে উপলব্ধি করতে পারে না এবং সংস্কৃতির এই উপাদানটিকে অর্জন করে নিতে হয়। এ ছাড়াও অবস্তুগত সংস্কৃতি বলতে মানুষের সব বিমূর্ত সৃষ্টিকে বোঝায়। উদ্দীপকের সীমু তার বাবা-মার সাথে ঢাকা মহিলা সমিতির নাট্যমঞ্চে নাটক উপভোগ করে। নাটক উপভোগ করা বিমূর্ত বিষয়। তাই সীমু ও তার বাবা- মায়ের নাটক উপভোগ করাকে অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
ঘ
উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা সভ্যতার উৎকর্ষতাই প্রমাণ করে- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা সভ্যতার উৎকর্ষতাই প্রমাণ করে- উক্তিটি যথার্থ। সভ্যতা বলতে মানব সমাজের উন্নততর অবস্থাকে বোঝায়। এটি হলো সমাজ-সংস্কৃতির অপেক্ষাকৃত উন্নত অবস্থার প্রতীক বা অগ্রগতির ফল। সভ্যতার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Civilization যা ল্যাটিন শব্দ Civilies (অর্থ-নাগরিক) থেকে এসেছে। ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে সভ্যতা বলতে মানব সংস্কৃতির উন্নত পর্যায়কে বোঝায়, যে পর্যায়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে। অর্থাৎ, সভ্যতা একটি নগরকেন্দ্রিক প্রপঞ্চ (Urbanised Phenomenon) I নগরজীবনের উদ্ভবের সাথে সাথে সভ্যতার উন্মেষ ঘটে। সুপ্রাচীনকালে মানুষ কৃষিকাজ জানত না। ধীরে ধীরে কৃষিকাজ শুরু করল। উদ্ভব হলো নবোপলীয় অর্থনীতির (Neolithic Economy)। তারপর মানুষ নতুন নতুন হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করতে সক্ষম হলো। তারা মৃৎশিল্প, ধাতুবিদ্যা, কৃষি যন্ত্রপাতি, লাঙ্গল, ভার বহনে পশুশক্তির ব্যবহার, ইট, গাড়ির চাকা ইত্যাদি তৈরি করতে শিখল। ফলে সমাজ কাঠামোতে পরিবর্তন সাধিত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দির পর থেকে উড়োজাহাজ, স্যাটেলাইট, কম্পিউটার, জেনারেটর, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির আবিষ্কার মানব সমাজকে সভ্যতার চূড়ায় পৌছে দিয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সীমু তার বাব-মার সাথে নাটক উপভোগ করতে ঢাকা মহিলা সমিতির নাট্যমঞ্চে যায়। নাটক উপভোগ করার সময়ে বিদ্যুৎ চলে গেলেও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নাটক চালিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আগে এরূপ কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বিদ্যুৎ চলে গেলে না আসা পর্যন্ত নাটক বন্ধ থাকত। শুধু প্রযুক্তির কল্যাণে ও সভ্যতার উৎকর্ষতা সাধনের মাধ্যমেই এরূপ বিকল্প ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা অর্থাৎ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সভ্যতার উৎকর্ষতাই প্রমাণ করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সীমু তার বাবা-মার সাথে বিদেশে বসবাস করে। সে দেশে এসে ঢাকার মহিলা সমিতির নাট্যমঞ্চে বাবা-মার সাথে নাটক উপভোগ করার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কর্তৃপক্ষ জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

Rajshahi · 2017

ক
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কী?

উত্তর

বিজ্ঞানসম্মত অনুসন্ধানের যুক্তিসংগত উপায়কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (Scientific Method) বলা হয়।
খ
আত্মহত্যা কী? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

কোনো ব্যক্তি যদি নিজেই নিজেকে হত্যা করে তখন তাকে আত্মহত্যা বলে। ফরাসি সমাজবিজ্ঞানের জনক এমিল ডুর্খেইম-এর মতে, আত্মহত্যা হলো ব্যক্তিগত ঘটনা কিন্তু আত্মহত্যার হার সামাজিক ঘটনা। তিনি বলেন, প্রতিটি মৃত্যু যিনি মারা গেলেন তার দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পাদিত কাজ, যা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক হতে পারে। এরকম কাজের ফলশ্রুতিতে কেউ মারা গেলে সে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে।
গ
উদ্দীপকের সীমা ও তার বাবা-মার নাটক উপভোগ করা কোন সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সীমু ও তার বাবা-মার নাটক উপভোগ করা অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি। আবার যখন সংস্কৃতিকে সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করা হয় তখন তাকে মূলত অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। অবস্তুগত সংস্কৃতি বিশেষত মানুষের সহজাত প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটায়। যেমন-মানুষের বিশ্বাস, ভাষা, মূল্যবোধ, গুণাবলি, অভ্যাস, আচার-আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি। আমরা কি করছি, কি অনুভব করছি, কি চিন্তা করছি- সবই অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও ধর্ম, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠনও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ। অবস্তুগত সংস্কৃতি অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে চলে এবং সহজে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না। অবস্তুগত সংস্কৃতির অবদান সাধারণ মানুষ সহজে উপলব্ধি করতে পারে না এবং সংস্কৃতির এই উপাদানটিকে অর্জন করে নিতে হয়। এ ছাড়াও অবস্তুগত সংস্কৃতি বলতে মানুষের সব বিমূর্ত সৃষ্টিকে বোঝায়। উদ্দীপকের সীমু তার বাবা-মার সাথে ঢাকা মহিলা সমিতির নাট্যমঞ্চে নাটক উপভোগ করে। নাটক উপভোগ করা বিমূর্ত বিষয়। তাই সীমু ও তার বাবা- মায়ের নাটক উপভোগ করাকে অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
ঘ
উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা সভ্যতার উৎকর্ষতাই প্রমাণ করে- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা সভ্যতার উৎকর্ষতাই প্রমাণ করে- উক্তিটি যথার্থ। সভ্যতা বলতে মানব সমাজের উন্নততর অবস্থাকে বোঝায়। এটি হলো সমাজ-সংস্কৃতির অপেক্ষাকৃত উন্নত অবস্থার প্রতীক বা অগ্রগতির ফল। সভ্যতার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Civilization যা ল্যাটিন শব্দ Civilies (অর্থ-নাগরিক) থেকে এসেছে। ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে সভ্যতা বলতে মানব সংস্কৃতির উন্নত পর্যায়কে বোঝায়, যে পর্যায়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে। অর্থাৎ, সভ্যতা একটি নগরকেন্দ্রিক প্রপঞ্চ (Urbanised Phenomenon) I নগরজীবনের উদ্ভবের সাথে সাথে সভ্যতার উন্মেষ ঘটে। সুপ্রাচীনকালে মানুষ কৃষিকাজ জানত না। ধীরে ধীরে কৃষিকাজ শুরু করল। উদ্ভব হলো নবোপলীয় অর্থনীতির (Neolithic Economy)। তারপর মানুষ নতুন নতুন হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করতে সক্ষম হলো। তারা মৃৎশিল্প, ধাতুবিদ্যা, কৃষি যন্ত্রপাতি, লাঙ্গল, ভার বহনে পশুশক্তির ব্যবহার, ইট, গাড়ির চাকা ইত্যাদি তৈরি করতে শিখল। ফলে সমাজ কাঠামোতে পরিবর্তন সাধিত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দির পর থেকে উড়োজাহাজ, স্যাটেলাইট, কম্পিউটার, জেনারেটর, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির আবিষ্কার মানব সমাজকে সভ্যতার চূড়ায় পৌছে দিয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সীমু তার বাব-মার সাথে নাটক উপভোগ করতে ঢাকা মহিলা সমিতির নাট্যমঞ্চে যায়। নাটক উপভোগ করার সময়ে বিদ্যুৎ চলে গেলেও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নাটক চালিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আগে এরূপ কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বিদ্যুৎ চলে গেলে না আসা পর্যন্ত নাটক বন্ধ থাকত। শুধু প্রযুক্তির কল্যাণে ও সভ্যতার উৎকর্ষতা সাধনের মাধ্যমেই এরূপ বিকল্প ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা অর্থাৎ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সভ্যতার উৎকর্ষতাই প্রমাণ করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dhaka · 2017

ক
সামাজিক গতিশীলতাকে কতটি ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তর

সামাজিক গতিশীলতাকে দু'টি ভাগে ভাগ করা যায়।
খ
সংঘ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সংঘ (Association) হচ্ছে এমন একটি জনগোষ্ঠী যারা কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কোনো সীমিত সংখ্যক উদ্দেশ্যের জন্য একত্রিত হয়। মানুষ যখন এক বা একাধিক নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সংগঠিত হয় এবং সমবেত প্রচেষ্টাকে সফল করার জন্য কিছু বিধিবিধান মেনে চলে তখন তারা সংঘ গড়ে তুলেছে বলা যায়। মূলত সংঘ বলতে সমাজের সদস্যবৃন্দের স্বেচ্ছায় একত্রিত হয়ে সমষ্টিগত উদ্দেশ্য সাধনের সম্মিলিত প্রয়াসকে বোঝায়। এ প্রসঙ্গে আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজ বলেন, সংঘ এমন একটি দল যা একটি সাধারণ স্বার্থ বা স্বার্থসমূহ অর্জনে সংগঠিত হয়।
গ
উদ্দীপকে চিত্র 'ক' ও চিত্র 'খ'-এ কোন কোন মৌল প্রত্যয়ের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে? তার প্রকৃত রূপ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র 'ক' তে সমাজ এবং চিত্র 'খ' তে সম্প্রদায় নামক মৌল প্রত্যয়ের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। সমাজ হলো সমাজবিজ্ঞানের সবচেয়ে পরিচিত প্রত্যয়। সাধারণত সমাজ বলতে একত্রে বসবাস করাকে বোঝায়। আবার মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের সমগ্রতাকেও সমাজ বলা হয়। সমাজের প্রকৃত রূপ কিছু কিছু সমাজবিজ্ঞানীদের ভাষায় ফুটে উঠেছে। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার সমাজের প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, সমাজ অর্থ হলো সহযোগিতা। সমাজ হলো যুদ্ধের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা। সমাজবিজ্ঞানী মরিস জিন্সবার্গ সমাজের প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, মানুষের সাথে মানুষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, সংগঠিত বা অসংগঠিত, সচেতন বা অসচেতন, সহযোগিতা বা বৈরিতামূলক সমস্ত সম্পর্কই সমাজের অন্তর্ভুক্ত। মোটকথা মানুষ তথা জনগোষ্ঠী এবং তাদের মধ্যকার সামাজিক সম্পর্কসমূহ উভয়ই সমাজ গঠনের জন্য জরুরি। সমাজবিজ্ঞানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো সম্প্রদায়। মূলত নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে একটি জনগোষ্ঠীর সুসংহত জীবনযাপন সূত্রে সৃষ্টি হয় সম্প্রদায়। যখন কোনো গোষ্ঠীর সদস্যরা এমনভাবে একত্রে বসবাস করে যে তারা কতিপয় বিশেষ স্বার্থের অংশীদার না হয়ে বরং একটি সাধারণ জীবনযাত্রার অংশীদার হয়, তখন তাকে সম্প্রদায় হিসেবে অভিহিত করা চলে। এটিই হচ্ছে সম্প্রদায়ের প্রকৃত রূপ। সম্প্রদায়ের ভিত্তি হিসেবে দুটি বিষয় কাজ করে। বসবাসের অঞ্চল এবং সম্প্রদায়গত মানসিকতা। এ দু'টি বিষয়ই সম্প্রদায় গঠনের জন্য অপরিহার্য। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্র 'ক' ও 'খ'-তে যথাক্রমে সমাজ ও সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে এবং এর প্রকৃত রূপ উল্লিখিত আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলোর মধ্যকার বৈসাদৃশ্যমূলক সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো অর্থাৎ, সমাজ এবং সম্প্রদায় সমাজবিজ্ঞানের দু'টি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয়। উভয় প্রত্যয়ের মধ্যেই কিছু বৈসাদৃশ্য বা পার্থক্য রয়েছে। যা নিম্নরূপ- সমাজ হলো সামাজিক সম্পর্কের জটিল জাল। পক্ষান্তরে, সম্প্রদায় নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ জীবনযাত্রার অংশীদারী জনগোষ্ঠী। সমাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এলাকা অপরিহার্য নয়। সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বসবাসের নির্দিষ্ট অঞ্চল থাকা জরুরি। সমাজ হলো বিমূর্ত। সম্প্রদায় অনেকখানি মূর্ত। সমাজের ক্ষেত্রে 'সম্প্রদায়গত চেতনা' অথবা 'আমরা বোধ' বিদ্যমান থাকতেও পারে, আবার নাও পারে। সম্প্রদায়গত চেতনা ছাড়া সম্প্রদায় সম্ভব নয়। সমাজ অপেক্ষাকৃত বৃহৎ। সম্প্রদায় সমাজের চেয়ে আকারে ছোট। সমাজে অভিন্নতা ও বিভিন্নতা দুই বিদ্যমান। সম্প্রদায়ে বিভিন্নতার চেয়ে অভিন্নতা গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ হলো সম্প্রদায়ের পূর্ববর্তী ধাপ। সম্প্রদায় হলো সমাজের পরবর্তী ধাপ। সমাজ হলো একটি সামগ্রিক বিষয়। সম্প্রদায় হলো তার অংশ বিশেষ। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সমাজ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে উল্লিখিত বৈসাদৃশ্যমূলক সম্পর্কগুলো রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dhaka · 2017

ক
সামাজিক গতিশীলতাকে কতটি ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তর

সামাজিক গতিশীলতাকে দু'টি ভাগে ভাগ করা যায়।
খ
সংঘ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সংঘ (Association) হচ্ছে এমন একটি জনগোষ্ঠী যারা কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কোনো সীমিত সংখ্যক উদ্দেশ্যের জন্য একত্রিত হয়। মানুষ যখন এক বা একাধিক নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সংগঠিত হয় এবং সমবেত প্রচেষ্টাকে সফল করার জন্য কিছু বিধিবিধান মেনে চলে তখন তারা সংঘ গড়ে তুলেছে বলা যায়। মূলত সংঘ বলতে সমাজের সদস্যবৃন্দের স্বেচ্ছায় একত্রিত হয়ে সমষ্টিগত উদ্দেশ্য সাধনের সম্মিলিত প্রয়াসকে বোঝায়। এ প্রসঙ্গে আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজ বলেন, সংঘ এমন একটি দল যা একটি সাধারণ স্বার্থ বা স্বার্থসমূহ অর্জনে সংগঠিত হয়।
গ
উদ্দীপকে চিত্র 'ক' ও চিত্র 'খ'-এ কোন কোন মৌল প্রত্যয়ের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে? তার প্রকৃত রূপ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র 'ক' তে সমাজ এবং চিত্র 'খ' তে সম্প্রদায় নামক মৌল প্রত্যয়ের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। সমাজ হলো সমাজবিজ্ঞানের সবচেয়ে পরিচিত প্রত্যয়। সাধারণত সমাজ বলতে একত্রে বসবাস করাকে বোঝায়। আবার মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের সমগ্রতাকেও সমাজ বলা হয়। সমাজের প্রকৃত রূপ কিছু কিছু সমাজবিজ্ঞানীদের ভাষায় ফুটে উঠেছে। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার সমাজের প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, সমাজ অর্থ হলো সহযোগিতা। সমাজ হলো যুদ্ধের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা। সমাজবিজ্ঞানী মরিস জিন্সবার্গ সমাজের প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, মানুষের সাথে মানুষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, সংগঠিত বা অসংগঠিত, সচেতন বা অসচেতন, সহযোগিতা বা বৈরিতামূলক সমস্ত সম্পর্কই সমাজের অন্তর্ভুক্ত। মোটকথা মানুষ তথা জনগোষ্ঠী এবং তাদের মধ্যকার সামাজিক সম্পর্কসমূহ উভয়ই সমাজ গঠনের জন্য জরুরি। সমাজবিজ্ঞানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো সম্প্রদায়। মূলত নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে একটি জনগোষ্ঠীর সুসংহত জীবনযাপন সূত্রে সৃষ্টি হয় সম্প্রদায়। যখন কোনো গোষ্ঠীর সদস্যরা এমনভাবে একত্রে বসবাস করে যে তারা কতিপয় বিশেষ স্বার্থের অংশীদার না হয়ে বরং একটি সাধারণ জীবনযাত্রার অংশীদার হয়, তখন তাকে সম্প্রদায় হিসেবে অভিহিত করা চলে। এটিই হচ্ছে সম্প্রদায়ের প্রকৃত রূপ। সম্প্রদায়ের ভিত্তি হিসেবে দুটি বিষয় কাজ করে। বসবাসের অঞ্চল এবং সম্প্রদায়গত মানসিকতা। এ দু'টি বিষয়ই সম্প্রদায় গঠনের জন্য অপরিহার্য। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্র 'ক' ও 'খ'-তে যথাক্রমে সমাজ ও সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে এবং এর প্রকৃত রূপ উল্লিখিত আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলোর মধ্যকার বৈসাদৃশ্যমূলক সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো অর্থাৎ, সমাজ এবং সম্প্রদায় সমাজবিজ্ঞানের দু'টি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয়। উভয় প্রত্যয়ের মধ্যেই কিছু বৈসাদৃশ্য বা পার্থক্য রয়েছে। যা নিম্নরূপ- সমাজ হলো সামাজিক সম্পর্কের জটিল জাল। পক্ষান্তরে, সম্প্রদায় নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ জীবনযাত্রার অংশীদারী জনগোষ্ঠী। সমাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এলাকা অপরিহার্য নয়। সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বসবাসের নির্দিষ্ট অঞ্চল থাকা জরুরি। সমাজ হলো বিমূর্ত। সম্প্রদায় অনেকখানি মূর্ত। সমাজের ক্ষেত্রে 'সম্প্রদায়গত চেতনা' অথবা 'আমরা বোধ' বিদ্যমান থাকতেও পারে, আবার নাও পারে। সম্প্রদায়গত চেতনা ছাড়া সম্প্রদায় সম্ভব নয়। সমাজ অপেক্ষাকৃত বৃহৎ। সম্প্রদায় সমাজের চেয়ে আকারে ছোট। সমাজে অভিন্নতা ও বিভিন্নতা দুই বিদ্যমান। সম্প্রদায়ে বিভিন্নতার চেয়ে অভিন্নতা গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ হলো সম্প্রদায়ের পূর্ববর্তী ধাপ। সম্প্রদায় হলো সমাজের পরবর্তী ধাপ। সমাজ হলো একটি সামগ্রিক বিষয়। সম্প্রদায় হলো তার অংশ বিশেষ। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সমাজ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে উল্লিখিত বৈসাদৃশ্যমূলক সম্পর্কগুলো রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মোহন মিয়া রসুলপুর গ্রামের একজন কৃষক। তিনি সনাতন পদ্ধতি তথা গরুর লাঙল দ্বারা চাষাবাদ করেন। গ্রামের অনেকেই লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়। মোহন মিয়ার বড় ছেলে দুলাল পিতাকে ট্রাক্টরসহ অনেক কৃষি যন্ত্রপাতি কিনে দিলেও তিনি লাঙল দ্বারাই চাষাবাদ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। এমনকি অন্যান্য যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করতে চান না।

Dhaka · 2017

ক
সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক গতিশীলতার বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন কে?

উত্তর

সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক গতিশীলতার বিজ্ঞান বলেছেন সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁৎ (Auguste Comte) |
খ
অবস্তুগত সংস্কৃতি বলতে কী বোঝ?

উত্তর

সংস্কৃতির যে উপাদান ধরাছোঁয়ার বাইরে, বাহ্যিক অস্তিত্বহীন এবং পরিমাপযোগ্য নয় তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি (Non-Material Culture) বলে। অবস্তুগত সংস্কৃতির উপস্থিতি ও এর প্রভাব ব্যক্তিজীবনে ব্যাপক। মানুষের ধ্যানধারণা, চিন্তাভাবনা, চলন-বলন, কথন, রীতিনীতি, মূল্যবোধ, আবেগ উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অবস্তুগত সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে। অবস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ হলো- ভাষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, আইন, ধর্ম ইত্যাদি।
গ
উদ্দীপকে মোহন মিয়ার সনাতন পদ্ধতিতে এবং গ্রামবাসীর আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ সমাজবিজ্ঞানের কোন তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মোহন মিয়ার সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং গ্রামবাসীর আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ সমাজবিজ্ঞানের সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বের (Theory of Cultural Lag) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সমাজবিজ্ঞানী ডব্লিউ. এফ, অগবার্ন (W.F. Ogburn) প্রদত্ত সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বটির মূলকথা হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির ফলে বস্তুগত সংস্কৃতি দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে যার সঙ্গে অবস্তুগত সংস্কৃতি খাপ খাইয়ে বা তাল মিলিয়ে ঐ একই গতিতে চলতে পারছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে সাংস্কৃতিক পশ্চাৎপদতা বা পিছিয়ে পড়া। সংস্কৃতির সহযোগী দুটি অংশের মধ্যে একটি কোনো এক সময়ে অন্যটি থেকে দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে পড়ার ফলে অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া অংশটিকে অগ্রসর অংশটির সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। সংস্কৃতির এক অংশের এই পিছিয়ে পড়া এবং সেই অংশের তা কাটিয়ে ওঠার প্রবণতাই হচ্ছে সাংস্কৃতিক ব্যবধান। উদ্দীপকে দেখা যায়, রসুলপুর গ্রামের গ্রামবাসীরা অনেকেই লাঙলের পরিবর্তে চাষাবাদে ট্রাক্টর ব্যবহার করেন। কিন্তু সেই গ্রামেরই মোহন মিয়া এখনও লাঙল দিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেন। এমনকি তার ছেলে তাকে আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনে দিলেও তিনি তা ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এখানে বস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তন হলেও অবস্তুগত সংস্কৃতি অর্থাৎ মোহন মিয়ার মানসিকতার ক্ষেত্রে তেমন উৎকর্ষতা সাধিত হয়নি। ফলে প্রযুক্তিগত ব্যাপক উন্নয়ন হলেও তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত উন্নয়ন হয়নি। সুতরাং এ বিষয়টি সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত তত্ত্বটি সমাজবিজ্ঞানের সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
'আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে'- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে- বক্তব্যটি যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে কৃষিতে অনেক উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে যেমন- পাওয়ার টিলার, সেচযন্ত্র, নিড়ানি যন্ত্র, মাড়াই মেশিন ইত্যাদি। ফলে কৃষির উন্নয়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এক সময় গ্রামীণ অর্থনীতি বলতে আমরা প্রধানত কৃষিকাজ, বিশেষ করে ফসল উৎপাদনকেই বুঝতাম। কিন্তু, এখন গ্রামীণ অর্থনীতি অনেক বেশি সম্প্রসারিত হয়েছে। কৃষি বহির্ভূত ছোট ছোট নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্থান করে নিয়েছে। আর এর পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আধুনিক প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন ও ব্যবহার। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে মানুষ এখন অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর ফসল ফলাতে সক্ষম হয়েছে। মানুষ এক ফসলি ভূমিকে দ্বি-ফসলি করতে সক্ষম হয়েছে। বিভিন্ন উন্নতমানের কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ফসল বিনষ্ট থেকে রক্ষা পাচ্ছে। লাঙলের পরিবর্তে মানুষ ট্রাক্টর ব্যবহার করছে। মানুষ এখন আর প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল নয়। তারা জমিতে সেচযন্ত্র ব্যবহার করছে। আর এ সবই সম্ভব হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে- একথা অনস্বীকার্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মোহন মিয়া রসুলপুর গ্রামের একজন কৃষক। তিনি সনাতন পদ্ধতি তথা গরুর লাঙল দ্বারা চাষাবাদ করেন। গ্রামের অনেকেই লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়। মোহন মিয়ার বড় ছেলে দুলাল পিতাকে ট্রাক্টরসহ অনেক কৃষি যন্ত্রপাতি কিনে দিলেও তিনি লাঙল দ্বারাই চাষাবাদ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। এমনকি অন্যান্য যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করতে চান না।

Dhaka · 2017

ক
সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক গতিশীলতার বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন কে?

উত্তর

সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক গতিশীলতার বিজ্ঞান বলেছেন সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁৎ (Auguste Comte) |
খ
অবস্তুগত সংস্কৃতি বলতে কী বোঝ?

উত্তর

সংস্কৃতির যে উপাদান ধরাছোঁয়ার বাইরে, বাহ্যিক অস্তিত্বহীন এবং পরিমাপযোগ্য নয় তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি (Non-Material Culture) বলে। অবস্তুগত সংস্কৃতির উপস্থিতি ও এর প্রভাব ব্যক্তিজীবনে ব্যাপক। মানুষের ধ্যানধারণা, চিন্তাভাবনা, চলন-বলন, কথন, রীতিনীতি, মূল্যবোধ, আবেগ উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অবস্তুগত সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে। অবস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ হলো- ভাষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, আইন, ধর্ম ইত্যাদি।
গ
উদ্দীপকে মোহন মিয়ার সনাতন পদ্ধতিতে এবং গ্রামবাসীর আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ সমাজবিজ্ঞানের কোন তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মোহন মিয়ার সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং গ্রামবাসীর আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ সমাজবিজ্ঞানের সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বের (Theory of Cultural Lag) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সমাজবিজ্ঞানী ডব্লিউ. এফ, অগবার্ন (W.F. Ogburn) প্রদত্ত সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বটির মূলকথা হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির ফলে বস্তুগত সংস্কৃতি দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে যার সঙ্গে অবস্তুগত সংস্কৃতি খাপ খাইয়ে বা তাল মিলিয়ে ঐ একই গতিতে চলতে পারছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে সাংস্কৃতিক পশ্চাৎপদতা বা পিছিয়ে পড়া। সংস্কৃতির সহযোগী দুটি অংশের মধ্যে একটি কোনো এক সময়ে অন্যটি থেকে দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে পড়ার ফলে অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া অংশটিকে অগ্রসর অংশটির সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। সংস্কৃতির এক অংশের এই পিছিয়ে পড়া এবং সেই অংশের তা কাটিয়ে ওঠার প্রবণতাই হচ্ছে সাংস্কৃতিক ব্যবধান। উদ্দীপকে দেখা যায়, রসুলপুর গ্রামের গ্রামবাসীরা অনেকেই লাঙলের পরিবর্তে চাষাবাদে ট্রাক্টর ব্যবহার করেন। কিন্তু সেই গ্রামেরই মোহন মিয়া এখনও লাঙল দিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেন। এমনকি তার ছেলে তাকে আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনে দিলেও তিনি তা ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এখানে বস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তন হলেও অবস্তুগত সংস্কৃতি অর্থাৎ মোহন মিয়ার মানসিকতার ক্ষেত্রে তেমন উৎকর্ষতা সাধিত হয়নি। ফলে প্রযুক্তিগত ব্যাপক উন্নয়ন হলেও তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত উন্নয়ন হয়নি। সুতরাং এ বিষয়টি সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত তত্ত্বটি সমাজবিজ্ঞানের সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
'আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে'- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে- বক্তব্যটি যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে কৃষিতে অনেক উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে যেমন- পাওয়ার টিলার, সেচযন্ত্র, নিড়ানি যন্ত্র, মাড়াই মেশিন ইত্যাদি। ফলে কৃষির উন্নয়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এক সময় গ্রামীণ অর্থনীতি বলতে আমরা প্রধানত কৃষিকাজ, বিশেষ করে ফসল উৎপাদনকেই বুঝতাম। কিন্তু, এখন গ্রামীণ অর্থনীতি অনেক বেশি সম্প্রসারিত হয়েছে। কৃষি বহির্ভূত ছোট ছোট নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্থান করে নিয়েছে। আর এর পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আধুনিক প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন ও ব্যবহার। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে মানুষ এখন অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর ফসল ফলাতে সক্ষম হয়েছে। মানুষ এক ফসলি ভূমিকে দ্বি-ফসলি করতে সক্ষম হয়েছে। বিভিন্ন উন্নতমানের কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ফসল বিনষ্ট থেকে রক্ষা পাচ্ছে। লাঙলের পরিবর্তে মানুষ ট্রাক্টর ব্যবহার করছে। মানুষ এখন আর প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল নয়। তারা জমিতে সেচযন্ত্র ব্যবহার করছে। আর এ সবই সম্ভব হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে- একথা অনস্বীকার্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো