HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
সীমু তার বাবা-মার সাথে বিদেশে বসবাস করে। সে দেশে এসে ঢাকার মহিলা সমিতির নাট্যমঞ্চে বাবা-মার সাথে নাটক উপভোগ করার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কর্তৃপক্ষ জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
Rajshahi · 2017
ক
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কী?
উত্তর
বিজ্ঞানসম্মত অনুসন্ধানের যুক্তিসংগত উপায়কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (Scientific Method) বলা হয়।
খ
আত্মহত্যা কী? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর
কোনো ব্যক্তি যদি নিজেই নিজেকে হত্যা করে তখন তাকে আত্মহত্যা বলে।
ফরাসি সমাজবিজ্ঞানের জনক এমিল ডুর্খেইম-এর মতে, আত্মহত্যা হলো ব্যক্তিগত ঘটনা কিন্তু আত্মহত্যার হার সামাজিক ঘটনা। তিনি বলেন, প্রতিটি মৃত্যু যিনি মারা গেলেন তার দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পাদিত কাজ, যা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক হতে পারে। এরকম কাজের ফলশ্রুতিতে কেউ মারা গেলে সে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে।
গ
উদ্দীপকের সীমা ও তার বাবা-মার নাটক উপভোগ করা কোন সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
সীমু ও তার বাবা-মার নাটক উপভোগ করা অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত।
সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি। আবার যখন সংস্কৃতিকে সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করা হয় তখন তাকে মূলত অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। অবস্তুগত সংস্কৃতি বিশেষত মানুষের সহজাত প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটায়। যেমন-মানুষের বিশ্বাস, ভাষা, মূল্যবোধ, গুণাবলি, অভ্যাস, আচার-আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি। আমরা কি করছি, কি অনুভব করছি, কি চিন্তা করছি- সবই অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও ধর্ম, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠনও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ। অবস্তুগত সংস্কৃতি অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে চলে এবং সহজে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না। অবস্তুগত সংস্কৃতির অবদান সাধারণ মানুষ সহজে উপলব্ধি করতে পারে না এবং সংস্কৃতির এই উপাদানটিকে অর্জন করে নিতে হয়। এ ছাড়াও অবস্তুগত সংস্কৃতি বলতে মানুষের সব বিমূর্ত সৃষ্টিকে বোঝায়।
উদ্দীপকের সীমু তার বাবা-মার সাথে ঢাকা মহিলা সমিতির নাট্যমঞ্চে নাটক উপভোগ করে। নাটক উপভোগ করা বিমূর্ত বিষয়। তাই সীমু ও তার বাবা- মায়ের নাটক উপভোগ করাকে অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
ঘ
উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা সভ্যতার উৎকর্ষতাই প্রমাণ করে- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা সভ্যতার উৎকর্ষতাই প্রমাণ করে- উক্তিটি যথার্থ।
সভ্যতা বলতে মানব সমাজের উন্নততর অবস্থাকে বোঝায়। এটি হলো সমাজ-সংস্কৃতির অপেক্ষাকৃত উন্নত অবস্থার প্রতীক বা অগ্রগতির ফল। সভ্যতার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Civilization যা ল্যাটিন শব্দ Civilies (অর্থ-নাগরিক) থেকে এসেছে। ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে সভ্যতা বলতে মানব সংস্কৃতির উন্নত পর্যায়কে বোঝায়, যে পর্যায়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে। অর্থাৎ, সভ্যতা একটি নগরকেন্দ্রিক প্রপঞ্চ (Urbanised Phenomenon) I
নগরজীবনের উদ্ভবের সাথে সাথে সভ্যতার উন্মেষ ঘটে। সুপ্রাচীনকালে মানুষ কৃষিকাজ জানত না। ধীরে ধীরে কৃষিকাজ শুরু করল। উদ্ভব হলো নবোপলীয় অর্থনীতির (Neolithic Economy)। তারপর মানুষ নতুন নতুন হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করতে সক্ষম হলো। তারা মৃৎশিল্প, ধাতুবিদ্যা, কৃষি যন্ত্রপাতি, লাঙ্গল, ভার বহনে পশুশক্তির ব্যবহার, ইট, গাড়ির চাকা ইত্যাদি তৈরি করতে শিখল। ফলে সমাজ কাঠামোতে পরিবর্তন সাধিত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দির পর থেকে উড়োজাহাজ, স্যাটেলাইট, কম্পিউটার, জেনারেটর, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির আবিষ্কার মানব সমাজকে সভ্যতার চূড়ায় পৌছে দিয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সীমু তার বাব-মার সাথে নাটক উপভোগ করতে ঢাকা মহিলা সমিতির নাট্যমঞ্চে যায়। নাটক উপভোগ করার সময়ে বিদ্যুৎ চলে গেলেও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নাটক চালিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আগে এরূপ কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বিদ্যুৎ চলে গেলে না আসা পর্যন্ত নাটক বন্ধ থাকত। শুধু প্রযুক্তির কল্যাণে ও সভ্যতার উৎকর্ষতা সাধনের মাধ্যমেই এরূপ বিকল্প ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা অর্থাৎ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সভ্যতার উৎকর্ষতাই প্রমাণ করে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো
