HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
মি. সাকিব চৌধুরী একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক। মালামাল ক্রয়ে তিনি প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেন। অপরদিকে বস্তিতে বসবাসরত স্বামীহারা হাজেরা খাতুন নিজের সন্তানদের জন্য খাদ্যের জোগাড় না করতে পেরে মালিকের বাসা থেকে চাল-ডাল চুরির অপরাধে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হন।
Rajshahi · 2017
ক
সামাজিক প্রগতি কী?
উত্তর
কাঙ্ক্ষিত বা বাঞ্চিত পরিবর্তনই হলো সামাজিক প্রগতি।
খ
"সকল সমাজই ছিল স্তরায়িত"- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো চিরন্তন ও সর্বজনীন। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন কোনো সমাজ খুঁজে পাওয়া যায় না যা পরিপূর্ণভাবে সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।
আদিম অধিবাসীদের গোষ্ঠীজীবনেও দলপতির প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। এসব প্রভাব-প্রতিপত্তিকে কেন্দ্র করে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি অধিকতর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। কালের বিবর্তনের ধারায় সামাজিক স্তর বিন্যাসের আকৃতি-প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু স্তরবিন্যাস কখনও বিলুপ্ত হয়নি। সকল সমাজেই এটি বিদ্যমান।
গ
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর অপরাধ কী ধরনের? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে মি. সাকিব চৌধুরীর অপরাধটি হলো 'ভদ্রবেশী অপরাধ'।
ভদ্রবেশী অপরাধ হচ্ছে এমন অপরাধকে বোঝায় যেগুলো সমাজের উচ্চপদস্থ ও মর্যাদাসম্পন্ন লোকজন নিজের পোশাককে ব্যবহার করে সংঘটিত করে থাকে। এর উদাহরণ হচ্ছে ট্রেডমার্ক নকল করা, আয়কর ফাঁকি দেওয়া, জালিয়াতি করা, কপিরাইট ইত্যাদি। মোটকথা সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি তাদের পেশাগত কাজের প্রক্রিয়ায় আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে যেসব অপরাধ করে থাকে, সেসব অপরাধকেই ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর তার কর্মরত প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রয়কৃত দ্রব্যসামগ্রীর প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য দেখিয়ে প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেন। যা একটি শাস্তিমূলক অপরাধ। অথচ অফিসের কাগজপত্র এমনভাবে তৈরি করেন যা থেকে মি. সাকিব চৌধুরীর এ প্রতারণা প্রমাণের কোনো উপায় নেই। তাই এটি একটি ভদ্রবেশী অপরাধ। পরিশেষে বলা যায়, মি. সাকিব চৌধুরীর অপরাধ হলো ভদ্রবেশী অপরাধ।
ঘ
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর এবং হাজেরা খাতুনের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন- উক্তিটির মূল্যায়ন করো।
উত্তর
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর এবং হাজেরা খাতুনের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।
উদ্দীপকের উল্লিখিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মি. সাকিব চৌধুরী এবং বস্তিবাসী হাজেরা খাতুন উভয়েই আইনের চোখে অপরাধী। কিন্তু উভয়ের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরী এর অপরাধে লিপ্ত হওয়ার কোনো প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও তিনি ভদ্রবেশি অপরাধে লিপ্ত। এর পিছনের কারণ হিসেবে তার সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও উচ্চাভিলাষী জীবনের স্বপ্নকেই দায়ী করা যায়। একটা সময় ছিল যখন একজন ধনীর চেয়ে একজন সৎ ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা বেশি ছিল। কিন্তু এখন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদেরকে শ্রদ্ধা করলেও তাদেরকে সবাই বোকা ভাবে। আর নিজেদেরকে বোকা হিসেবে চিহ্নিত না করার জন্যই প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও মি. সাকিব চৌধুরী-এর মতো ব্যক্তিরা অপরাধে লিপ্ত হন। আবার অনেকেই রাতারাতি নিজেকে সমাজের উচ্চ ও মর্যাদাবান শ্রেণিতে উন্নীত করতে চায়। ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বিভিন্ন অসৎ উপায়ে টাকা রোজগারের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। যেমনটা উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরী করেছেন।
অন্যদিকে হাজেরা খাতুন-এর অপরাধের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণই ভিন্ন। সে মূলত চরম দারিদ্র্যের কারণেই অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। হাজেরা খাতুন তার সন্তানের জন্য খাবার যোগাড় করতে না পেরে খাদ্য চুরি করেছে। যদিও কোনো অপরাধকেই সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়, তারপরও এতটুকু বলা যায় যে, হাজেরা খাতুন-এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা যদি ভালো হতো তাহলে হয়তো সে চুরি করতো না। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায়, মি. সাকিব চৌধুরী এবং হাজেরা খাতুন উভয়েই অপরাধী, কিন্তু উভয়ের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। অতএব প্রশ্নের উক্তিটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো