Chapter 10 : বিচুতিমূলক আচরণ ও অপরাধ Sociology 1st Paper

HSC Sociology 1st Paper এর Chapter 10 : বিচুতিমূলক আচরণ ও অপরাধ অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩০১

প্রশ্ন

Sociology 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মি. সাকিব চৌধুরী একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক। মালামাল ক্রয়ে তিনি প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেন। অপরদিকে বস্তিতে বসবাসরত স্বামীহারা হাজেরা খাতুন নিজের সন্তানদের জন্য খাদ্যের জোগাড় না করতে পেরে মালিকের বাসা থেকে চাল-ডাল চুরির অপরাধে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হন।

Rajshahi · 2017

ক
সামাজিক প্রগতি কী?

উত্তর

কাঙ্ক্ষিত বা বাঞ্চিত পরিবর্তনই হলো সামাজিক প্রগতি।
খ
"সকল সমাজই ছিল স্তরায়িত"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো চিরন্তন ও সর্বজনীন। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন কোনো সমাজ খুঁজে পাওয়া যায় না যা পরিপূর্ণভাবে সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আদিম অধিবাসীদের গোষ্ঠীজীবনেও দলপতির প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। এসব প্রভাব-প্রতিপত্তিকে কেন্দ্র করে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি অধিকতর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। কালের বিবর্তনের ধারায় সামাজিক স্তর বিন্যাসের আকৃতি-প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু স্তরবিন্যাস কখনও বিলুপ্ত হয়নি। সকল সমাজেই এটি বিদ্যমান।
গ
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর অপরাধ কী ধরনের? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে মি. সাকিব চৌধুরীর অপরাধটি হলো 'ভদ্রবেশী অপরাধ'। ভদ্রবেশী অপরাধ হচ্ছে এমন অপরাধকে বোঝায় যেগুলো সমাজের উচ্চপদস্থ ও মর্যাদাসম্পন্ন লোকজন নিজের পোশাককে ব্যবহার করে সংঘটিত করে থাকে। এর উদাহরণ হচ্ছে ট্রেডমার্ক নকল করা, আয়কর ফাঁকি দেওয়া, জালিয়াতি করা, কপিরাইট ইত্যাদি। মোটকথা সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি তাদের পেশাগত কাজের প্রক্রিয়ায় আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে যেসব অপরাধ করে থাকে, সেসব অপরাধকেই ভদ্রবেশী অপরাধ বলে। উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর তার কর্মরত প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রয়কৃত দ্রব্যসামগ্রীর প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য দেখিয়ে প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেন। যা একটি শাস্তিমূলক অপরাধ। অথচ অফিসের কাগজপত্র এমনভাবে তৈরি করেন যা থেকে মি. সাকিব চৌধুরীর এ প্রতারণা প্রমাণের কোনো উপায় নেই। তাই এটি একটি ভদ্রবেশী অপরাধ। পরিশেষে বলা যায়, মি. সাকিব চৌধুরীর অপরাধ হলো ভদ্রবেশী অপরাধ।
ঘ
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর এবং হাজেরা খাতুনের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন- উক্তিটির মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর এবং হাজেরা খাতুনের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক। উদ্দীপকের উল্লিখিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মি. সাকিব চৌধুরী এবং বস্তিবাসী হাজেরা খাতুন উভয়েই আইনের চোখে অপরাধী। কিন্তু উভয়ের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন। উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরী এর অপরাধে লিপ্ত হওয়ার কোনো প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও তিনি ভদ্রবেশি অপরাধে লিপ্ত। এর পিছনের কারণ হিসেবে তার সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও উচ্চাভিলাষী জীবনের স্বপ্নকেই দায়ী করা যায়। একটা সময় ছিল যখন একজন ধনীর চেয়ে একজন সৎ ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা বেশি ছিল। কিন্তু এখন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদেরকে শ্রদ্ধা করলেও তাদেরকে সবাই বোকা ভাবে। আর নিজেদেরকে বোকা হিসেবে চিহ্নিত না করার জন্যই প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও মি. সাকিব চৌধুরী-এর মতো ব্যক্তিরা অপরাধে লিপ্ত হন। আবার অনেকেই রাতারাতি নিজেকে সমাজের উচ্চ ও মর্যাদাবান শ্রেণিতে উন্নীত করতে চায়। ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বিভিন্ন অসৎ উপায়ে টাকা রোজগারের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। যেমনটা উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরী করেছেন। অন্যদিকে হাজেরা খাতুন-এর অপরাধের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণই ভিন্ন। সে মূলত চরম দারিদ্র্যের কারণেই অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। হাজেরা খাতুন তার সন্তানের জন্য খাবার যোগাড় করতে না পেরে খাদ্য চুরি করেছে। যদিও কোনো অপরাধকেই সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়, তারপরও এতটুকু বলা যায় যে, হাজেরা খাতুন-এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা যদি ভালো হতো তাহলে হয়তো সে চুরি করতো না। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায়, মি. সাকিব চৌধুরী এবং হাজেরা খাতুন উভয়েই অপরাধী, কিন্তু উভয়ের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। অতএব প্রশ্নের উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মি. সাকিব চৌধুরী একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক। মালামাল ক্রয়ে তিনি প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেন। অপরদিকে বস্তিতে বসবাসরত স্বামীহারা হাজেরা খাতুন নিজের সন্তানদের জন্য খাদ্যের জোগাড় না করতে পেরে মালিকের বাসা থেকে চাল-ডাল চুরির অপরাধে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হন।

Rajshahi · 2017

ক
সামাজিক প্রগতি কী?

উত্তর

কাঙ্ক্ষিত বা বাঞ্চিত পরিবর্তনই হলো সামাজিক প্রগতি।
খ
"সকল সমাজই ছিল স্তরায়িত"- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো চিরন্তন ও সর্বজনীন। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন কোনো সমাজ খুঁজে পাওয়া যায় না যা পরিপূর্ণভাবে সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আদিম অধিবাসীদের গোষ্ঠীজীবনেও দলপতির প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। এসব প্রভাব-প্রতিপত্তিকে কেন্দ্র করে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি অধিকতর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। কালের বিবর্তনের ধারায় সামাজিক স্তর বিন্যাসের আকৃতি-প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু স্তরবিন্যাস কখনও বিলুপ্ত হয়নি। সকল সমাজেই এটি বিদ্যমান।
গ
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর অপরাধ কী ধরনের? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে মি. সাকিব চৌধুরীর অপরাধটি হলো 'ভদ্রবেশী অপরাধ'। ভদ্রবেশী অপরাধ হচ্ছে এমন অপরাধকে বোঝায় যেগুলো সমাজের উচ্চপদস্থ ও মর্যাদাসম্পন্ন লোকজন নিজের পোশাককে ব্যবহার করে সংঘটিত করে থাকে। এর উদাহরণ হচ্ছে ট্রেডমার্ক নকল করা, আয়কর ফাঁকি দেওয়া, জালিয়াতি করা, কপিরাইট ইত্যাদি। মোটকথা সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি তাদের পেশাগত কাজের প্রক্রিয়ায় আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে যেসব অপরাধ করে থাকে, সেসব অপরাধকেই ভদ্রবেশী অপরাধ বলে। উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর তার কর্মরত প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রয়কৃত দ্রব্যসামগ্রীর প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য দেখিয়ে প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেন। যা একটি শাস্তিমূলক অপরাধ। অথচ অফিসের কাগজপত্র এমনভাবে তৈরি করেন যা থেকে মি. সাকিব চৌধুরীর এ প্রতারণা প্রমাণের কোনো উপায় নেই। তাই এটি একটি ভদ্রবেশী অপরাধ। পরিশেষে বলা যায়, মি. সাকিব চৌধুরীর অপরাধ হলো ভদ্রবেশী অপরাধ।
ঘ
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর এবং হাজেরা খাতুনের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন- উক্তিটির মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর এবং হাজেরা খাতুনের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক। উদ্দীপকের উল্লিখিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মি. সাকিব চৌধুরী এবং বস্তিবাসী হাজেরা খাতুন উভয়েই আইনের চোখে অপরাধী। কিন্তু উভয়ের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন। উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরী এর অপরাধে লিপ্ত হওয়ার কোনো প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও তিনি ভদ্রবেশি অপরাধে লিপ্ত। এর পিছনের কারণ হিসেবে তার সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও উচ্চাভিলাষী জীবনের স্বপ্নকেই দায়ী করা যায়। একটা সময় ছিল যখন একজন ধনীর চেয়ে একজন সৎ ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা বেশি ছিল। কিন্তু এখন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদেরকে শ্রদ্ধা করলেও তাদেরকে সবাই বোকা ভাবে। আর নিজেদেরকে বোকা হিসেবে চিহ্নিত না করার জন্যই প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও মি. সাকিব চৌধুরী-এর মতো ব্যক্তিরা অপরাধে লিপ্ত হন। আবার অনেকেই রাতারাতি নিজেকে সমাজের উচ্চ ও মর্যাদাবান শ্রেণিতে উন্নীত করতে চায়। ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বিভিন্ন অসৎ উপায়ে টাকা রোজগারের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। যেমনটা উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরী করেছেন। অন্যদিকে হাজেরা খাতুন-এর অপরাধের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণই ভিন্ন। সে মূলত চরম দারিদ্র্যের কারণেই অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। হাজেরা খাতুন তার সন্তানের জন্য খাবার যোগাড় করতে না পেরে খাদ্য চুরি করেছে। যদিও কোনো অপরাধকেই সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়, তারপরও এতটুকু বলা যায় যে, হাজেরা খাতুন-এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা যদি ভালো হতো তাহলে হয়তো সে চুরি করতো না। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায়, মি. সাকিব চৌধুরী এবং হাজেরা খাতুন উভয়েই অপরাধী, কিন্তু উভয়ের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। অতএব প্রশ্নের উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান আবীর অল্পসময়ে ধন-সম্পদের মালিক হতে গিয়ে বিভিন্ন সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ে। আইনের চোখ কিছুকাল ফাঁকি দিতে পারলেও একসময় সে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। অল্পবয়সে তার অপরাধের বিবরণ শুনে বিচারক অবাক হয়ে যান। এসব বয়সী ছেলেমেয়েদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হতে বিরত রাখতে সংশোধনমূলক প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়া পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনে সচেতনতামূলক প্রচারণার উপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

Rajshahi · 2018

ক
অপরাধ কাকে বলে?

উত্তর

আইন ও সমাজকর্তৃক স্বীকৃত নয় এমন কাজ, যার জন্য আইন শাস্তির বিধান করে তা-ই অপরাধ।
খ
মূল্যবোধ বিরোধী আচরণ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

মূল্যবোধ বিরোধী আচরণ বলতে বিচ্যুত আচরণকে বোঝায়। প্রতিটি সমাজে কতকগুলো নিজস্ব আচার-আচরণ, রীতিনীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধ থাকে। সে অনুসারে সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে যে আচরণ প্রত্যাশা করে তাকে বলা হয় কাঙ্ক্ষিত বা প্রত্যাশিত আচরণ। আর যখনই এই প্রত্যাশিত আচরণগুলো সমাজ স্বীকৃত না হয়ে সমাজ পরিপন্থি হয় তখনই তাকে বিচ্যুত আচরণ বা মূল্যবোধ বিরোধী আচরণ বলে। যেমন- মদ্যপান করে রাস্তায় মাতলামি করা।
গ
উদ্দীপকে অপরাধের কোন কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে অপরাধের অর্থনৈতিক কারণের কথা বলা হয়েছে। অপরাধের অন্যতম কারণ হলো অর্থনীতি। সমাজে আর্থিক অনটন দেখা দিলে, বেকারত্ব বৃদ্ধি পেলে যেমন অপরাধ সংঘটিত হয়, তেমনি আর্থিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেও অপরাধ সংঘটিত হয়। অবশ্য এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা বেশি পরিলক্ষিত হয় আমলাদের মধ্যে। তারা অনেকেই আর্থিকভাবে সচ্ছলতার জন্য পেশাগত কাজের মধ্য দিয়ে অপরাধ করেন। যা ভদ্রবেশী অপরাধ হিসেবে পরিচিত। যেমন- ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি। এছাড়াও দারিদ্র্য ও পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে অপরাধের আর্থিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস বলেন, "পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক শোষণের ফলশ্রুতিই হলো অপরাধ।" উদ্দীপকের আবীর অল্প সময়ের মধ্যে ধন-সম্পদের মালিক হতে গিয়ে বিভিন্ন সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। আবীরের এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে যেহেতু সম্পদ লাভের আকাঙ্ক্ষা নিহিত সেহেতু তার এ অপরাধের জন্য অর্থনৈতিক কারণকে দায়ী করা যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে অপরাধের অর্থনৈতিক কারণ আলোচিত হয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে গৃহীত ব্যবস্থাই অপরাধ প্রতিরোধের উত্তম পন্থা- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের অপরাধ প্রতিরোধে গৃহীত ব্যবস্থা অর্থাৎ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা একটি উত্তম পন্থা। কারণ এ ব্যবস্থায় কতগুলো মানবিক দিক বজায় রেখে অপরাধ সংশোধন করা হয়। সংশোধনমূলক পদ্ধতির মূলকথা হলো অপরাধীর চারিত্রিক সংশোধন। এ পদ্ধতি অপরাধীকে স্বাভাবিক সমাজজীবনে পুনর্বাসন করতে চায়। এ পদ্ধতির ক্ষেত্রে কিছু যুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়। যেমন- যে কারণেই হোক অপরাধী ভুলবশত অপরাধ সংঘটন করেছে কিন্তু সে মূলত সমাজেরই একজন মানুষ। তাই তার ভুল ভেঙে দিতে এবং চারিত্রিক সংশোধনের জন্য তাকে সংশোধনমূলক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো প্রয়োজন। আবার এই পদ্ধতিতে অপরাধীকে একজন অসুস্থ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করাই এ পদ্ধতির অন্যতম লক্ষ্য। সংশোধনমূলক পদ্ধতিতে ব্যক্তিকে অপরাধ জগৎ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। অপরাধ প্রতিরোধের আরও যে ব্যবস্থা রয়েছে যেমন- প্রতিরোধমূলক, প্রতিকারমূলক, নিবারণমূলক এগুলো অপরাধ প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ হলেও কখনও কখনও অমানবিক হয়ে যায়। আবার এমনও দেখা গেছে অপরাধীকে মারাত্মক শাস্তি দেওয়ার কারণে সে অপরাধ জগৎ থেকে তো ফিরে আসেইনি বরং আরো বেশি মাত্রায় জড়িয়ে পড়েছে। তাই বলা যায়, অপরাধ দমনে সংশোধনমূলক পদ্ধতি একটি উত্তম পদ্ধতি। কারণ এর মাধ্যমে অপরাধীকে অপরাধ জগৎ থেকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা করা হয়। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, অপরাধ প্রতিরোধে উদ্দীপকে গৃহীত ব্যবস্থা অর্থাৎ সংশোধনমূলক পদ্ধতিই উত্তম পন্থা।.

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান আবীর অল্পসময়ে ধন-সম্পদের মালিক হতে গিয়ে বিভিন্ন সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ে। আইনের চোখ কিছুকাল ফাঁকি দিতে পারলেও একসময় সে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। অল্পবয়সে তার অপরাধের বিবরণ শুনে বিচারক অবাক হয়ে যান। এসব বয়সী ছেলেমেয়েদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হতে বিরত রাখতে সংশোধনমূলক প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়া পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনে সচেতনতামূলক প্রচারণার উপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

Rajshahi · 2018

ক
অপরাধ কাকে বলে?

উত্তর

আইন ও সমাজকর্তৃক স্বীকৃত নয় এমন কাজ, যার জন্য আইন শাস্তির বিধান করে তা-ই অপরাধ।
খ
মূল্যবোধ বিরোধী আচরণ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

মূল্যবোধ বিরোধী আচরণ বলতে বিচ্যুত আচরণকে বোঝায়। প্রতিটি সমাজে কতকগুলো নিজস্ব আচার-আচরণ, রীতিনীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধ থাকে। সে অনুসারে সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে যে আচরণ প্রত্যাশা করে তাকে বলা হয় কাঙ্ক্ষিত বা প্রত্যাশিত আচরণ। আর যখনই এই প্রত্যাশিত আচরণগুলো সমাজ স্বীকৃত না হয়ে সমাজ পরিপন্থি হয় তখনই তাকে বিচ্যুত আচরণ বা মূল্যবোধ বিরোধী আচরণ বলে। যেমন- মদ্যপান করে রাস্তায় মাতলামি করা।
গ
উদ্দীপকে অপরাধের কোন কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে অপরাধের অর্থনৈতিক কারণের কথা বলা হয়েছে। অপরাধের অন্যতম কারণ হলো অর্থনীতি। সমাজে আর্থিক অনটন দেখা দিলে, বেকারত্ব বৃদ্ধি পেলে যেমন অপরাধ সংঘটিত হয়, তেমনি আর্থিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেও অপরাধ সংঘটিত হয়। অবশ্য এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা বেশি পরিলক্ষিত হয় আমলাদের মধ্যে। তারা অনেকেই আর্থিকভাবে সচ্ছলতার জন্য পেশাগত কাজের মধ্য দিয়ে অপরাধ করেন। যা ভদ্রবেশী অপরাধ হিসেবে পরিচিত। যেমন- ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি। এছাড়াও দারিদ্র্য ও পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে অপরাধের আর্থিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস বলেন, "পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক শোষণের ফলশ্রুতিই হলো অপরাধ।" উদ্দীপকের আবীর অল্প সময়ের মধ্যে ধন-সম্পদের মালিক হতে গিয়ে বিভিন্ন সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। আবীরের এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে যেহেতু সম্পদ লাভের আকাঙ্ক্ষা নিহিত সেহেতু তার এ অপরাধের জন্য অর্থনৈতিক কারণকে দায়ী করা যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে অপরাধের অর্থনৈতিক কারণ আলোচিত হয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে গৃহীত ব্যবস্থাই অপরাধ প্রতিরোধের উত্তম পন্থা- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের অপরাধ প্রতিরোধে গৃহীত ব্যবস্থা অর্থাৎ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা একটি উত্তম পন্থা। কারণ এ ব্যবস্থায় কতগুলো মানবিক দিক বজায় রেখে অপরাধ সংশোধন করা হয়। সংশোধনমূলক পদ্ধতির মূলকথা হলো অপরাধীর চারিত্রিক সংশোধন। এ পদ্ধতি অপরাধীকে স্বাভাবিক সমাজজীবনে পুনর্বাসন করতে চায়। এ পদ্ধতির ক্ষেত্রে কিছু যুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়। যেমন- যে কারণেই হোক অপরাধী ভুলবশত অপরাধ সংঘটন করেছে কিন্তু সে মূলত সমাজেরই একজন মানুষ। তাই তার ভুল ভেঙে দিতে এবং চারিত্রিক সংশোধনের জন্য তাকে সংশোধনমূলক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো প্রয়োজন। আবার এই পদ্ধতিতে অপরাধীকে একজন অসুস্থ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করাই এ পদ্ধতির অন্যতম লক্ষ্য। সংশোধনমূলক পদ্ধতিতে ব্যক্তিকে অপরাধ জগৎ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। অপরাধ প্রতিরোধের আরও যে ব্যবস্থা রয়েছে যেমন- প্রতিরোধমূলক, প্রতিকারমূলক, নিবারণমূলক এগুলো অপরাধ প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ হলেও কখনও কখনও অমানবিক হয়ে যায়। আবার এমনও দেখা গেছে অপরাধীকে মারাত্মক শাস্তি দেওয়ার কারণে সে অপরাধ জগৎ থেকে তো ফিরে আসেইনি বরং আরো বেশি মাত্রায় জড়িয়ে পড়েছে। তাই বলা যায়, অপরাধ দমনে সংশোধনমূলক পদ্ধতি একটি উত্তম পদ্ধতি। কারণ এর মাধ্যমে অপরাধীকে অপরাধ জগৎ থেকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা করা হয়। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, অপরাধ প্রতিরোধে উদ্দীপকে গৃহীত ব্যবস্থা অর্থাৎ সংশোধনমূলক পদ্ধতিই উত্তম পন্থা।.

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

গরীব সংসারের মেধাবী ছাত্র শান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করে কয়েক বছর চাকুরীর চেষ্টা করেও চাকুরীর দেখা পেল না। নিজের জীবনের চাহিদা ঠিকমতো মেটানোসহ বাবা-মার সংসারেও কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা করতে পারছে না। তাই শান্ত দীর্ঘদিন হতাশায় ভোগে ছিনতাই চক্রের সাথে যোগ দিয়ে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, খুনসহ নানাবিধ অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।

Dhaka · 2018

ক
বিচ্যুত আচরণ কী?

উত্তর

সমাজে প্রচলিত আইন-কানুন, মূল্যবোধ ও রীতি-নীতির পরিপন্থি আচরণকে বিচ্যুত আচরণ বলে।
খ
কিশোর অপরাধ কী?

উত্তর

কিশোর অপরাধ হচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধ। কিশোর-কিশোরী কর্তৃক সংঘটিত সামাজিক মূল্যবোধ, রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের সাথে সাংঘর্ষিক এবং আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি যেকোনো কাজকেই কিশোর অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলে। জাপানে এ বয়সসীমা ১৪ থেকে ২০ বছর।
গ
উদ্দীপকের শান্তর অপরাধী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শান্তর অপরাধী হওয়ার কারণ আর্থিক অনটন বা দুরবস্থা। অপরাধের অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক দুরবস্থা। এ প্রসঙ্গে জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস বলেন, "পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের ফলশ্রুতিই হলো অপরাধ।” অপরাধের অর্থনৈতিক কারণের পেছনে যে দুটি বিষয় মুখ্য ভূমিকা পালন করে তা হলো- দারিদ্র্য এবং বেকারত্ব। দারিদ্র্যের কারণে সাধারণত ছোটখাটো চুরি, ছিনতাই ইত্যাদি ঘটে। আবার বেকারত্ব অনেকের জীবনে হতাশা এনে দেয়। এই হতাশাগ্রস্ত মানুষগুলো ছিনতাই, খুন, রাহাজানি ইত্যাদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। যেমনটি উদ্দীপকের শান্তর বেলায় ঘটেছে। উদ্দীপকের শান্ত পড়াশোনা শেষ করে চাকরি না পেয়ে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই হতাশা থেকে সে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ- তার অপরাধের পেছনে বেকারত্ব দায়ী। তাই বলা যায়, শান্তর অপরাধী হওয়ার পেছনে অর্থনৈতিক কারণ দায়ী।
ঘ
উদ্দীপকের শান্তর মতো অনেকেই অপরাধী হওয়ার জন্য উক্ত কারণটির ভূমিকা রয়েছে- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শান্তর মতো অনেকের অপরাধী হওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক অনটন সক্রিয় ভূমিকা রাখে। প্রবাদ আছে, 'অভাবে স্বভাব নষ্ট।' সমাজের সিংহভাগ অপরাধীর জন্ম দরিদ্র পরিবারে। অভাব-অনটন দূর করতে অনেকে চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি অপরাধে লিপ্ত হয়। আবার অভাবের কারণে মানুষ বদমেজাজি হয়ে ওঠে এবং সহজেই দাঙ্গা, হাঙ্গামা, খুন প্রভৃতি সংঘটনে উদ্যত হয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যেসব মেয়েরা পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত তাদের সিংহভাগ অভাবগ্রস্ত ও দরিদ্র পরিবারের সদস্য। বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক ড. নাজমুল করিম বলেন, "গরিবদের ভেতরই বেশিরভাগ অপরাধী পাওয়া যায়।" অপরাধের অর্থনৈতিক কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস বলেন, "পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের ফলশ্রুতিই অপরাধ।" অন্য এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সমাজে আর্থিক অনটন দেখা দিলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়। উপরের আলোচনা ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, উদ্দীপকের শান্তর মতো অপরাধী হওয়ার জন্য অর্থনৈতিক কারণ সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

গরীব সংসারের মেধাবী ছাত্র শান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করে কয়েক বছর চাকুরীর চেষ্টা করেও চাকুরীর দেখা পেল না। নিজের জীবনের চাহিদা ঠিকমতো মেটানোসহ বাবা-মার সংসারেও কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা করতে পারছে না। তাই শান্ত দীর্ঘদিন হতাশায় ভোগে ছিনতাই চক্রের সাথে যোগ দিয়ে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, খুনসহ নানাবিধ অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।

Dhaka · 2018

ক
বিচ্যুত আচরণ কী?

উত্তর

সমাজে প্রচলিত আইন-কানুন, মূল্যবোধ ও রীতি-নীতির পরিপন্থি আচরণকে বিচ্যুত আচরণ বলে।
খ
কিশোর অপরাধ কী?

উত্তর

কিশোর অপরাধ হচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধ। কিশোর-কিশোরী কর্তৃক সংঘটিত সামাজিক মূল্যবোধ, রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের সাথে সাংঘর্ষিক এবং আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি যেকোনো কাজকেই কিশোর অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলে। জাপানে এ বয়সসীমা ১৪ থেকে ২০ বছর।
গ
উদ্দীপকের শান্তর অপরাধী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শান্তর অপরাধী হওয়ার কারণ আর্থিক অনটন বা দুরবস্থা। অপরাধের অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক দুরবস্থা। এ প্রসঙ্গে জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস বলেন, "পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের ফলশ্রুতিই হলো অপরাধ।” অপরাধের অর্থনৈতিক কারণের পেছনে যে দুটি বিষয় মুখ্য ভূমিকা পালন করে তা হলো- দারিদ্র্য এবং বেকারত্ব। দারিদ্র্যের কারণে সাধারণত ছোটখাটো চুরি, ছিনতাই ইত্যাদি ঘটে। আবার বেকারত্ব অনেকের জীবনে হতাশা এনে দেয়। এই হতাশাগ্রস্ত মানুষগুলো ছিনতাই, খুন, রাহাজানি ইত্যাদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। যেমনটি উদ্দীপকের শান্তর বেলায় ঘটেছে। উদ্দীপকের শান্ত পড়াশোনা শেষ করে চাকরি না পেয়ে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই হতাশা থেকে সে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ- তার অপরাধের পেছনে বেকারত্ব দায়ী। তাই বলা যায়, শান্তর অপরাধী হওয়ার পেছনে অর্থনৈতিক কারণ দায়ী।
ঘ
উদ্দীপকের শান্তর মতো অনেকেই অপরাধী হওয়ার জন্য উক্ত কারণটির ভূমিকা রয়েছে- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের শান্তর মতো অনেকের অপরাধী হওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক অনটন সক্রিয় ভূমিকা রাখে। প্রবাদ আছে, 'অভাবে স্বভাব নষ্ট।' সমাজের সিংহভাগ অপরাধীর জন্ম দরিদ্র পরিবারে। অভাব-অনটন দূর করতে অনেকে চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি অপরাধে লিপ্ত হয়। আবার অভাবের কারণে মানুষ বদমেজাজি হয়ে ওঠে এবং সহজেই দাঙ্গা, হাঙ্গামা, খুন প্রভৃতি সংঘটনে উদ্যত হয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যেসব মেয়েরা পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত তাদের সিংহভাগ অভাবগ্রস্ত ও দরিদ্র পরিবারের সদস্য। বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক ড. নাজমুল করিম বলেন, "গরিবদের ভেতরই বেশিরভাগ অপরাধী পাওয়া যায়।" অপরাধের অর্থনৈতিক কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস বলেন, "পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের ফলশ্রুতিই অপরাধ।" অন্য এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সমাজে আর্থিক অনটন দেখা দিলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়। উপরের আলোচনা ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, উদ্দীপকের শান্তর মতো অপরাধী হওয়ার জন্য অর্থনৈতিক কারণ সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো