HSCSocial Work 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
সীমান্তের জীবনের লক্ষ্য সমাজ উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত করা। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে তিনি বিষয় নির্বাচনে ভুল করেননি। তিনি সমাজকর্ম বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। নিজ এলাকার হতদরিদ্রের উন্নয়ন করতে সীমান্ত বন্ধপরিকর। এ এলাকার উন্নয়ন প্রতিবন্ধকতার মূলে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নারী উন্নয়ন- এ কথা তিনি ভালোভাবে উপলব্ধি করেছেন। পাস করে ফিরে এলেন গ্রামে।। অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগাতে চান। সমাজকর্ম পেশার জ্ঞান অনুশীলনের সম্ভাব্য ক্ষেত্র খুঁজে বের করলেন। কাজ শুরু করলেন। এবং পদে পদে নানামুখী বাধার সম্মুখীন হলেন।
ক
সমাজকর্ম পেশা অনুশীলনের একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত কর
উত্তর
সমাজকর্ম পেশা অনুশীলনের একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র হচ্ছে ক্ষুদ্রঋণ এবং আত্মকর্মসংস্থান কার্যক্রম।
খ
সমাজকর্মের চিহ্নিত ক্ষেত্রটি কেন এদেশের সমাজকর্ম অনুশীলনের জন্য সম্ভাবনাময় ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
ক্ষুদ্রঋণ এবং আত্মকর্মসংস্থান ক্ষেত্রটি এদেশের সমাজকর্ম অনুশীলনের জন্য সম্ভাবনাময় সমাজকর্ম। আমাদের দেশের জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা অর্থনৈতিক কোনো কাজে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। সেক্ষেত্রে তাদেরকে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে। এতে করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুত ঘটানো সম্ভব হবে।
গ
সীমান্ত নিজ এলাকায় সমাজকর্ম পেশার জ্ঞান অনুশীলন করা যায় এমন কোন কোন ক্ষেত্র নির্বাচন করতে পারেন- ব্যাখ্যা কর
উত্তর
সীমান্ত নিজ এলাকায় সমাজকর্ম পেশার জ্ঞান অনুশীলন করার জন্য যেসব ক্ষেত্র নির্বাচন করতে পারেন নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
১. বিদ্যালয় সমাজকর্ম এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, ঝরেপড়া প্রতিরোধ, উপস্থিতির হার বৃদ্ধি করা, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা যেতে পারে।
২. চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সীমান্ত তার নিজ এলাকায় চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালু করতে পারে। যেহেতু তার এলাকায় স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে তাই এ ক্ষেত্রটি সীমান্ত নির্বাচন করতে পারে।
৩. মহিলা প্রশিক্ষণ সীমান্তের এলাকায় নারী উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত রয়েছে। তাই নারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে। ৪. পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ: পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনতা গড়ে তোলা যেতে পারে। এটি সীমান্তের এলাকায় নারী উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবে।
৫. স্থানীয় সমাজ উন্নয়নে উদ্বুদ্ধকরণ: সীমান্ত তার সমাজকর্ম অনুশীলনের জন্য তার এলাকার সমাজ উন্নয়নের লক্ষ্যে এলাকার সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
ঘ
সমাজকর্ম অনুশীলনে সীমান্ত যেসব বাধার সম্মুখীন হয়েছেন এবং এ বাধাসমূহ দূরীকরণে আর কী কী পদক্ষেপ নিতে পারত তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
সমাজকর্ম অনুশীলনে সীমান্ত যেসব বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, সেই বাধাসমূহ দূরীকরণে তিনি যেসব পদক্ষেপ নিতে পারতেন সেগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. পেশাগত সংগঠনের অভাব: সীমান্ত পেশাগত সংগঠনের অভাবে তার সমাজকর্ম অনুশীলনে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। সেক্ষেত্রে তার প্রথমেই একটি পেশাগত সংগঠন গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগী হতে পারতেন।
২. সমাজকর্মের পেশাগত স্বীকৃতির অভাব সমাজকর্ম পেশার পেশাগত স্বীকৃতি এখনও সরকারি বা সামাজিকভাবে গড়ে ওঠেনি। তাই সীমান্ত তার কাজে বাধা প্রাপ্ত হয়। সমাজের স্বীকৃতি পেলে সীমান্তের কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যেত।
৩. সমাজকর্ম সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব: পেশা হিসেবে সমাজকর্ম জ্ঞান সাধারণ মানুষের খুব কম আছে। অজ্ঞ, নিরক্ষর, অসচেতন জনগোষ্ঠীকে সীমান্ত প্রথমে সমাজকর্ম সম্পর্কে জ্ঞানদান করতে পারতেন।
৪ সমাজকর্ম পেশার পত্রপত্রিকার অভাব বাংলাদেশে সমাজকর্ম পেশার পত্রপত্রিকা, বই ইত্যাদি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এদেশে এসব পত্রিকা বই ছাপা হলে এবং তা সরবরাহ করা হলে এদেশের সাধারণ মানুষ সচেতন হতে পারত। এতে করে সমাজকর্মীদের কাজে বাধার সম্মুখীন হতে হতো না।
৫. সমাজকর্মের তাত্ত্বিক কাঠামোর অভাব: সমাজকর্মের স্বতন্ত্র বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বা স্বতন্ত্র তাত্ত্বিক কাঠামো নির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন ও অনুশীলনের অভাবে পেশা হিসেবে সমাজকর্মের বাস্তব অনুশীলনের ফল ও প্রভাব মূল্যায়ন করা যাচ্ছে না। এ সমস্যা দূর করতে পারলে সীমান্তের কাজের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হতে হতো না।
৬. বেসরকারি উদ্যোগের অভাব: বেসরকারি উদ্যোগ যদি পর্যাপ্ত থাকত তবে সীমান্তের এলাকার মতো কোনো এলাকায় সমস্যা থাকত না। বেসরকারিভাবে সমাজের ব্যক্তিবর্গকে উদ্যোগী করে নিলে সমাজকর্মীকে কাজে বাধার মুখে পড়তে হবে না।
৭. সামাজিক মূল্যবোধের অবস্থা দূরীকরণ: সামাজিক মূল্যবোধের অভাবে সমাজে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। যেমন- শিক্ষার অভাব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার, নারী উন্নয়নে বাধা ইত্যাদি। তাই সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে পারলে সীমান্তের কাজে সফলতা পেত।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো