Chapter 5: হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ History 2nd Paper

HSC History 2nd Paper এর Chapter 5: হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৪৭৭

প্রশ্ন

History 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

যুদ্ধের ফলে 'ক' দেশ ও তার মিত্রদের পরাজয় ঘটে। বিভিন্ন দল নিষিদ্ধ হয়। বিচার করা হয় বহু ব্যক্তির। বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার বিকশিত হয়।

Comilla · 2017

ক
NATO-এর পূর্ণরূপ লিখ।

উত্তর

NATO-এর পূর্ণরূপ হলো North Atlantic Treaty Organization.
খ
প্যারিস শান্তি চুক্তি কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালের ১০ ফ্রেবুয়ারি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ইতিহাসে প্যারিস শান্তিচুক্তি হিসেবে পরিচিত। মূলত যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্স দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালি, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ডের মতো ছোট রাষ্ট্রগুলোর সাথে শান্তি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করে। প্যারিস শান্তি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের অবসানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সমন্বয় সাধনের প্রতিশ্রুতি।
গ
উদ্দীপকের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলের সাদৃশ্যসমূহ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সংঘটিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান সফলতা হচ্ছে জার্মানি ও ইতালির ফ্যাসিবাদ এবং জাপানি সমরবাদের পরাজয়। এসব দেশের সামরিক শক্তির চেয়েও তাদের রাষ্ট্রীয় আদর্শের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। ফ্যাসিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট নেতাদের বিচারালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে, অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি এবং উপযুক্ত শাস্তিও লাভ করেছে। ফ্যাসিবাদ এই যুদ্ধের মধ্যদিয়ে নিজের স্বরূপ উন্মোচন করেছে জনগণের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মুক্তি সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদী দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার ভাবধারা নতুনভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে। উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের ফলে 'ক' দেশ ও মিত্রদের সমরবাদের পরাজয় ঘটে। যুদ্ধ শেষে উক্ত দেশসমূহের বিভিন্ন দলকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং নেতাদের বিচার করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার ভাবধারা বিকশিত হতে থাকে। পরিশেষে বলা যায়, ১ম বিশ্বযুদ্ধের ফলে জার্মানিসহ তার মিত্রদেশগুলোর সামরিক শক্তি ও রাষ্ট্রীয় আদর্শের পরাজয় পরিলক্ষিত হয়।
ঘ
উক্ত ফলাফল কি গণতন্ত্রমুখী? মতামত দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, উক্ত ফলাফল তথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল গণতন্ত্রমুখী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে এশিয়া-আফ্রিকার দেশগুলোতে স্বাধীনতা আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। এর ফলে ইন্দোচীন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকার উপনিবেশগুলো ক্রমান্বয়ে ছাধীন হয়ে যায়। একই সাথে শুরু হয় পৃথিবীতে গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান। সর্বাগ্রে কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ভারত, বার্মা, মালয়, সিরিয়া ও লেবাননের জাতিসমূহ দ্বিতীয় যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের মুক্তির পথ দেখতে পায়। তাই তারা দখলদার হানাদারদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রাম জোরদার করে তোলে। কেবল যুদ্ধোত্তর ১৫ বছরের মধ্যে ২২টি নব্য স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অতঃপর ১৫ বছরে অর্থাৎ ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়ে গঠিত হয় আরো ৬২টি স্বাধীন রাষ্ট্র। ৭০-এর দশকে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যগুলো ইতিহাসের বস্তুতে পরিণত হয় এবং ফিরে আসে নির্যাতিত জাতিসমূহের মুক্তির যুগ। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে পৃথিবীতে গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান নতুনভাবে ঘটতে শুরু করে। তাই বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল গণতন্ত্রমুখী।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

যুদ্ধের ফলে 'ক' দেশ ও তার মিত্রদের পরাজয় ঘটে। বিভিন্ন দল নিষিদ্ধ হয়। বিচার করা হয় বহু ব্যক্তির। বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার বিকশিত হয়।

Comilla · 2017

ক
NATO-এর পূর্ণরূপ লিখ।

উত্তর

NATO-এর পূর্ণরূপ হলো North Atlantic Treaty Organization.
খ
প্যারিস শান্তি চুক্তি কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালের ১০ ফ্রেবুয়ারি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ইতিহাসে প্যারিস শান্তিচুক্তি হিসেবে পরিচিত। মূলত যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্স দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালি, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ডের মতো ছোট রাষ্ট্রগুলোর সাথে শান্তি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করে। প্যারিস শান্তি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের অবসানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সমন্বয় সাধনের প্রতিশ্রুতি।
গ
উদ্দীপকের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলের সাদৃশ্যসমূহ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সংঘটিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান সফলতা হচ্ছে জার্মানি ও ইতালির ফ্যাসিবাদ এবং জাপানি সমরবাদের পরাজয়। এসব দেশের সামরিক শক্তির চেয়েও তাদের রাষ্ট্রীয় আদর্শের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। ফ্যাসিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট নেতাদের বিচারালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে, অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি এবং উপযুক্ত শাস্তিও লাভ করেছে। ফ্যাসিবাদ এই যুদ্ধের মধ্যদিয়ে নিজের স্বরূপ উন্মোচন করেছে জনগণের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মুক্তি সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদী দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার ভাবধারা নতুনভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে। উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের ফলে 'ক' দেশ ও মিত্রদের সমরবাদের পরাজয় ঘটে। যুদ্ধ শেষে উক্ত দেশসমূহের বিভিন্ন দলকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং নেতাদের বিচার করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার ভাবধারা বিকশিত হতে থাকে। পরিশেষে বলা যায়, ১ম বিশ্বযুদ্ধের ফলে জার্মানিসহ তার মিত্রদেশগুলোর সামরিক শক্তি ও রাষ্ট্রীয় আদর্শের পরাজয় পরিলক্ষিত হয়।
ঘ
উক্ত ফলাফল কি গণতন্ত্রমুখী? মতামত দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, উক্ত ফলাফল তথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল গণতন্ত্রমুখী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে এশিয়া-আফ্রিকার দেশগুলোতে স্বাধীনতা আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। এর ফলে ইন্দোচীন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকার উপনিবেশগুলো ক্রমান্বয়ে ছাধীন হয়ে যায়। একই সাথে শুরু হয় পৃথিবীতে গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান। সর্বাগ্রে কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ভারত, বার্মা, মালয়, সিরিয়া ও লেবাননের জাতিসমূহ দ্বিতীয় যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের মুক্তির পথ দেখতে পায়। তাই তারা দখলদার হানাদারদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রাম জোরদার করে তোলে। কেবল যুদ্ধোত্তর ১৫ বছরের মধ্যে ২২টি নব্য স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অতঃপর ১৫ বছরে অর্থাৎ ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়ে গঠিত হয় আরো ৬২টি স্বাধীন রাষ্ট্র। ৭০-এর দশকে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যগুলো ইতিহাসের বস্তুতে পরিণত হয় এবং ফিরে আসে নির্যাতিত জাতিসমূহের মুক্তির যুগ। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে পৃথিবীতে গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান নতুনভাবে ঘটতে শুরু করে। তাই বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল গণতন্ত্রমুখী।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'ক' অঞ্চলের রাজা ছিলেন দুর্বল প্রকৃতির। সেখানে বুর্জোয়া ও পুঁজিপতিরা নতুন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করেনি। ফলে তারা এক বিদ্রোহী নেতার সাহায্য কামনা করে। তারা সফল হয়। রাজাও সমর্থন করেন। ফলে ঐ নেতার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যায় ও নির্যাতনের জন্য তার পতন দ্রুত হয়।

Comilla · 2017

ক
'Mein Kampf′Kampf^{\prime} কার লেখা?

উত্তর

Mein Kampf গ্রন্থটি এডলফ হিটলারের লেখা।
খ
অক্ষশক্তি চুক্তি কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানি ও ইতালির মধ্যে পরস্পর সহযোগিতাভিত্তিক যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তা অক্ষচুক্তি নামে খ্যাত। অক্ষচুক্তির ফলে ইতালি জার্মান জোট জাপানকে নিয়ে একটি চুক্তি (Anti- Comintern Treaty) সম্পাদন করলে রোম-বার্লিন-টোকিও ঐক্য জোট গড়ে ওঠে। ইতিহাসে এ জোটই অক্ষশক্তি হিসেবে পরিচিত।
গ
উদ্দীপকের নেতার ন্যায় তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নেতার মিল রয়েছে? পরিচয় দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের নেতার সাথে ইতালির একনায়ক মুসোলিনীর মিল রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর অভাব-অনটন, বেকারত্ব ও আর্থিক দুরবস্থা সমগ্র ইতালিতে এক অরাজকতা ডেকে আনে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘট লেগেই থাকত। এরূপ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ন্যায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দ্বারা ইতালীয়রা মুক্তি পাবে এরূপ ধারণা তাদের মনে ঠাঁই নেয়। তারা 'লেনিন দীর্ঘজীবী হোন', 'রাজার পতন হোক' এসব স্লোগান দিতে থাকে। বিপ্লবী পন্থায় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সমাজতন্ত্র স্থাপনের আগ্রহ সবার দৃষ্টিগোচর হতে থাকে। তবে এর কিছুদিন পরেই তারা বুঝতে পারে, প্রচলিত সংসদীয় শাসনব্যবস্থার মতো কৃষক-মজদুরের পরিচালিত সরকার ব্যবস্থাও শাসনকার্যে সক্ষম হবে না। এ উপলব্ধি থেকেই ইতালিয়রা পুনরায় একটি কার্যকর শাসনব্যবস্থার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। এরূপ পরিস্থিতিতে ফ্যাসিস্ট দলের উত্থান অতি সহজ হয়। ইতালিয়রা তাদের জাতীয় জীবনকে পুনরজ্জীবিত ও শাসনব্যবস্থায় সংহতি আনার প্রত্যয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে ফ্যাসিবাদের উদ্যেক্তা মুসোলিনীর সাহায্য কামনা করে। এদিকে একটি ফ্যাসিবাদ প্রতিনিধি দল রাজাকে বোঝাতে সক্ষম হয় তৎকালীন পরিস্থিতিতে মুসোলিনীই একমাত্র বিকল্প। তাই রাজা তৃতীয় ভিক্টর ইমানুয়েল মুসোলিনীকে প্রধানমন্ত্রী করতে সম্মত হন। এভাবেই ইতালিতে মুসোলিনির উত্থান হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাজ্যের বুর্জোয়া ও পুঁজিপতিরা নতুন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে মেনে না নিয়ে এক নেতার সাহায্য কামনা করে। রাজাও উত্ত নেতাকে সমর্থন করেন। ফলে ঐ নেতার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, 'ক' অঞ্চলের উক্ত নেতার নেতৃত্ব লাভের সাথে ইতালির মুসোলিনীর নেতৃত্ব লাভের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ
উল্লিখিত নেতার পতনের জন্য কোন কারণগুলি দায়ী ছিল বলে তুমি মনে কর?

উত্তর

উল্লিখিত নেতা অর্থাৎ মুসোলিনীর পতনের পেছনে ফ্যাসিস্টদের নিপীড়ন-নির্যাতন, গণতন্ত্রকে হত্যা, একনায়কতন্ত্র প্রভৃতি কারণ দায়ী ছিল বলে আমি মনে করি। রাষ্ট্রীয় জীবনের বহু ক্ষেত্রে মুসোলিনী চমকপ্রদ উন্নতি প্রদর্শন করতে সক্ষম হলেও তার নীতি ত্রুটিমুক্ত ছিল না। তার নিরঙ্কুশ একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ফলে প্রশাসনের সর্বস্তরে দুর্নীতি প্রবেশ করে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা আন্দোলন করার কোনো সুযোগই ছিল না। সাংবিধানিকভাবে মুসোলিনী প্রধানমন্ত্রী হলেও কার্যত তিনি ছিলেন একনায়ক বা ডিক্টেটর (Dictator)। রাজা হতে শুরু করে মন্ত্রী, সমরনায়ক, শিল্পপতি কেউই তার বিরুদ্ধে বলার সাহসই পেত না যা ছিল তার পতনের অন্যতম কারণ। মুসোলিনীর শাসনব্যবস্থায় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নতি হলেও মৌলিক সংস্কারের অভাবে দেশে আশানুরূপ উন্নতি সাধিত হয়নি। ফলে ইতালির দরিদ্রতা পূর্বের ন্যায় বজায় থাকে। এদিকে ইতালি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দিলে যুদ্ধের চাপে ইতালির অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। একনায়কতন্ত্র ও একদলীয় শাসনের ফলে জনসাধারণের দুর্দশা চরম সীমায় পৌঁছায়। সংবাদপত্রের কন্ঠরোধ করা এবং বিরোধী দল না থাকায় জনগণের প্রতিবাদ করার কোনো উপায় ছিলনা। এ সকল কারণে ইতালিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী জনমত তীব্র আকার ধারণ করে। ফ্যাসিস্টদের নিপীড়ন নির্যাতনের ভার ইতালীয়রা আর সইতে পারছিল না। আফ্রিকায় ইতালীয় বাহিনীর শোচনীয় পরাজয়ে মুসোলিনীর জনপ্রিয়তায় ধস নামে। যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক সংকট, বেকার সমস্যা, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবীদের অসন্তোষ মুসোলিনী সরকারকে পতনের দিকে ধাবিত করে। সর্বশেষ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৩ সালে ইতালিতে এক গণঅভ্যুত্থান হলে মুসোলিনী পদচ্যুত ও বন্দি হন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'ক' অঞ্চলের রাজা ছিলেন দুর্বল প্রকৃতির। সেখানে বুর্জোয়া ও পুঁজিপতিরা নতুন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করেনি। ফলে তারা এক বিদ্রোহী নেতার সাহায্য কামনা করে। তারা সফল হয়। রাজাও সমর্থন করেন। ফলে ঐ নেতার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যায় ও নির্যাতনের জন্য তার পতন দ্রুত হয়।

Comilla · 2017

ক
'Mein Kampf′Kampf^{\prime} কার লেখা?

উত্তর

Mein Kampf গ্রন্থটি এডলফ হিটলারের লেখা।
খ
অক্ষশক্তি চুক্তি কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানি ও ইতালির মধ্যে পরস্পর সহযোগিতাভিত্তিক যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তা অক্ষচুক্তি নামে খ্যাত। অক্ষচুক্তির ফলে ইতালি জার্মান জোট জাপানকে নিয়ে একটি চুক্তি (Anti- Comintern Treaty) সম্পাদন করলে রোম-বার্লিন-টোকিও ঐক্য জোট গড়ে ওঠে। ইতিহাসে এ জোটই অক্ষশক্তি হিসেবে পরিচিত।
গ
উদ্দীপকের নেতার ন্যায় তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নেতার মিল রয়েছে? পরিচয় দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের নেতার সাথে ইতালির একনায়ক মুসোলিনীর মিল রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর অভাব-অনটন, বেকারত্ব ও আর্থিক দুরবস্থা সমগ্র ইতালিতে এক অরাজকতা ডেকে আনে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘট লেগেই থাকত। এরূপ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ন্যায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দ্বারা ইতালীয়রা মুক্তি পাবে এরূপ ধারণা তাদের মনে ঠাঁই নেয়। তারা 'লেনিন দীর্ঘজীবী হোন', 'রাজার পতন হোক' এসব স্লোগান দিতে থাকে। বিপ্লবী পন্থায় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সমাজতন্ত্র স্থাপনের আগ্রহ সবার দৃষ্টিগোচর হতে থাকে। তবে এর কিছুদিন পরেই তারা বুঝতে পারে, প্রচলিত সংসদীয় শাসনব্যবস্থার মতো কৃষক-মজদুরের পরিচালিত সরকার ব্যবস্থাও শাসনকার্যে সক্ষম হবে না। এ উপলব্ধি থেকেই ইতালিয়রা পুনরায় একটি কার্যকর শাসনব্যবস্থার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। এরূপ পরিস্থিতিতে ফ্যাসিস্ট দলের উত্থান অতি সহজ হয়। ইতালিয়রা তাদের জাতীয় জীবনকে পুনরজ্জীবিত ও শাসনব্যবস্থায় সংহতি আনার প্রত্যয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে ফ্যাসিবাদের উদ্যেক্তা মুসোলিনীর সাহায্য কামনা করে। এদিকে একটি ফ্যাসিবাদ প্রতিনিধি দল রাজাকে বোঝাতে সক্ষম হয় তৎকালীন পরিস্থিতিতে মুসোলিনীই একমাত্র বিকল্প। তাই রাজা তৃতীয় ভিক্টর ইমানুয়েল মুসোলিনীকে প্রধানমন্ত্রী করতে সম্মত হন। এভাবেই ইতালিতে মুসোলিনির উত্থান হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাজ্যের বুর্জোয়া ও পুঁজিপতিরা নতুন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে মেনে না নিয়ে এক নেতার সাহায্য কামনা করে। রাজাও উত্ত নেতাকে সমর্থন করেন। ফলে ঐ নেতার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, 'ক' অঞ্চলের উক্ত নেতার নেতৃত্ব লাভের সাথে ইতালির মুসোলিনীর নেতৃত্ব লাভের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ
উল্লিখিত নেতার পতনের জন্য কোন কারণগুলি দায়ী ছিল বলে তুমি মনে কর?

উত্তর

উল্লিখিত নেতা অর্থাৎ মুসোলিনীর পতনের পেছনে ফ্যাসিস্টদের নিপীড়ন-নির্যাতন, গণতন্ত্রকে হত্যা, একনায়কতন্ত্র প্রভৃতি কারণ দায়ী ছিল বলে আমি মনে করি। রাষ্ট্রীয় জীবনের বহু ক্ষেত্রে মুসোলিনী চমকপ্রদ উন্নতি প্রদর্শন করতে সক্ষম হলেও তার নীতি ত্রুটিমুক্ত ছিল না। তার নিরঙ্কুশ একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ফলে প্রশাসনের সর্বস্তরে দুর্নীতি প্রবেশ করে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা আন্দোলন করার কোনো সুযোগই ছিল না। সাংবিধানিকভাবে মুসোলিনী প্রধানমন্ত্রী হলেও কার্যত তিনি ছিলেন একনায়ক বা ডিক্টেটর (Dictator)। রাজা হতে শুরু করে মন্ত্রী, সমরনায়ক, শিল্পপতি কেউই তার বিরুদ্ধে বলার সাহসই পেত না যা ছিল তার পতনের অন্যতম কারণ। মুসোলিনীর শাসনব্যবস্থায় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নতি হলেও মৌলিক সংস্কারের অভাবে দেশে আশানুরূপ উন্নতি সাধিত হয়নি। ফলে ইতালির দরিদ্রতা পূর্বের ন্যায় বজায় থাকে। এদিকে ইতালি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দিলে যুদ্ধের চাপে ইতালির অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। একনায়কতন্ত্র ও একদলীয় শাসনের ফলে জনসাধারণের দুর্দশা চরম সীমায় পৌঁছায়। সংবাদপত্রের কন্ঠরোধ করা এবং বিরোধী দল না থাকায় জনগণের প্রতিবাদ করার কোনো উপায় ছিলনা। এ সকল কারণে ইতালিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী জনমত তীব্র আকার ধারণ করে। ফ্যাসিস্টদের নিপীড়ন নির্যাতনের ভার ইতালীয়রা আর সইতে পারছিল না। আফ্রিকায় ইতালীয় বাহিনীর শোচনীয় পরাজয়ে মুসোলিনীর জনপ্রিয়তায় ধস নামে। যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক সংকট, বেকার সমস্যা, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবীদের অসন্তোষ মুসোলিনী সরকারকে পতনের দিকে ধাবিত করে। সর্বশেষ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৩ সালে ইতালিতে এক গণঅভ্যুত্থান হলে মুসোলিনী পদচ্যুত ও বন্দি হন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

উগ্র জাতীয়তাবাদ ও স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে ইউরোপের একটি রাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের দাবানল সৃষ্টি করে। এক সময় রাষ্ট্রটি পরাজিত শক্তি হিসেবে শাস্তিপ্রাপ্ত হয় এবং শাস্তি হিসেবে রাষ্ট্রটিকে দু'ভাগে ভাগ করে শক্তি খর্ব করা হয়।

Dhaka · 2017

ক
নাৎসিদের পোশাকের রং কীরূপ ছিল?

উত্তর

নাৎসিদের পোশাকের রং ছিল বাদামি।
খ
ফ্যাটম্যান কী? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

ফ্যাটম্যান একটি পারমাণবিক বোমার নাম, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট জাপানের নাগাসাকিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে, যার নামই হলো ফ্যাটম্যান (Fat Man)। এ বোমার আঘাতে নাগাসাকির প্রায় উনচল্লিশ হাজার মানুষ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এছাড়াও প্রায় পঁচিশ হাজার লোক আঘাত প্রাপ্ত হয়। বিস্ফোরণ ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে পরে হাজারো লোক মারা যায়। তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে শত শত লোক আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
গ
উদ্দীপকে যে যুদ্ধের দাবানলের কথা বলা হয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দাবানলের কথা বলা হয়েছে। কেননা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে (১৯৩৯-১৯৪৫ সাল) বিশ্বে যে ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আর এ যুদ্ধে উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রের ন্যায় জার্মানি পরাজিত শক্তি হিসেবে শান্তিপ্রাপ্ত হয় এবং শাস্তি হিসেবে একে দু'ভাগে ভাগ করে এর শক্তি খর্ব করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটনের পেছনে অনেক কারণ দায়ী ছিল। তবে এর মূল কারণ ভার্সাই সন্ধির মধ্যে নিহিত ছিল। ভার্সাই সন্ধির অপমানজনক শর্তাদি জার্মানির জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ওপর চরম আঘাত এনেছিল। ফলে জার্মানিতে জাতীয়তাবাদ তীব্রভাবে প্রকাশিত হয় যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অপর গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো তথা জার্মানি, ইতালি, জাপান ও সোভিয়েত ইউনিয়নের (রাশিয়া) সাম্রাজ্যবাদী নীতি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই এ সকল রাষ্ট্রগুলো বিভিন্ন অঞ্চল বা রাষ্ট্র দখল করে তাদের উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাবের পরিচয় দেয়। এর ফলশ্রুতিতে বিশ্ব এক অনিবার্য যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এছাড়া ১৯২৯-১৯৩০ সালে বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী দেশগুলো অর্থনৈতিক মহামন্দায় নিপতিত হলে ইতালির ফ্যাসিবাদ ও জার্মানির নাৎসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এসব উগ্র জাতীয়তাবাদী মতবাদ ইতালি ও জার্মানির জনগণকে যুদ্ধোন্মাদ করে তোলে। আর হিটলারের সকল কূটনীতি এবং ইংল্যান্ডের জার্মান শোষণনীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে গতিময় করে তোলে। সর্বোপরি জাপান-জার্মানি-ইতালি অক্ষশক্তি জোট গঠন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও জার্মানির চুক্তিভঙ্গ, লীগ অব নেশনসের ব্যর্থতা, একনায়কত্ব ও গণতন্ত্রের দ্বন্দ্ব প্রভৃতি কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
ঘ
'যুদ্ধে পরাজয়ের পরিণতি উক্ত রাষ্ট্রটিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল'- উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

'যুদ্ধে পরাজয়ের পরিণতি উক্ত রাষ্ট্রটিতে অর্থাৎ জার্মানিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল'- উক্তিটি আমি যথার্থ বলে মনে করি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। যুদ্ধে সামরিক ক্ষেত্রে জার্মানির অপূরণীয় ক্ষতি হওয়াতে এ শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি ইউরোপের তৃতীয় সারির দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। এতদসত্ত্বেও জার্মানরা যাতে ভবিষ্যতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে লক্ষ্যে জার্মানিকে মিত্রশক্তির অধীনে চারটি অংশে বিভক্ত করা হয়। এ চারটি অংশের শাসনভার ন্যস্ত হয় মিত্রশক্তির চার পরাশক্তি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর। দখলদার রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশ্য জার্মানি শাসন হলেও স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অধিকৃত তিনটি অংশ নিয়ে গঠন করা হয় ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি তথা পশ্চিম জার্মানি। এর বিপরীতে সোভিয়েত অধিকৃত একটি অংশ নিয়ে গঠিত হয় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব জার্মানি তথা পূর্ব জার্মানি। জার্মানির ঐতিহাসিক রাজধানী বার্লিন পূর্ব জার্মানির অভ্যন্তরে অবস্থিত থাকলেও এটিকেও দুই জার্মানির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। পশ্চিম জার্মানি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ায় পূর্ব জার্মানির অনেকে পশ্চিম জার্মানির অর্থনৈতিক উন্নতি ও সমৃদ্ধিতে আকৃষ্ট হয়ে পশ্চিম জার্মানিতে যেতে শুরু করলে ১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানি সরকার দুই জার্মানির মাঝে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পরিণতি হিসেবে জার্মানিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

উগ্র জাতীয়তাবাদ ও স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে ইউরোপের একটি রাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের দাবানল সৃষ্টি করে। এক সময় রাষ্ট্রটি পরাজিত শক্তি হিসেবে শাস্তিপ্রাপ্ত হয় এবং শাস্তি হিসেবে রাষ্ট্রটিকে দু'ভাগে ভাগ করে শক্তি খর্ব করা হয়।

Dhaka · 2017

ক
নাৎসিদের পোশাকের রং কীরূপ ছিল?

উত্তর

নাৎসিদের পোশাকের রং ছিল বাদামি।
খ
ফ্যাটম্যান কী? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

ফ্যাটম্যান একটি পারমাণবিক বোমার নাম, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট জাপানের নাগাসাকিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে, যার নামই হলো ফ্যাটম্যান (Fat Man)। এ বোমার আঘাতে নাগাসাকির প্রায় উনচল্লিশ হাজার মানুষ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এছাড়াও প্রায় পঁচিশ হাজার লোক আঘাত প্রাপ্ত হয়। বিস্ফোরণ ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে পরে হাজারো লোক মারা যায়। তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে শত শত লোক আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
গ
উদ্দীপকে যে যুদ্ধের দাবানলের কথা বলা হয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দাবানলের কথা বলা হয়েছে। কেননা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে (১৯৩৯-১৯৪৫ সাল) বিশ্বে যে ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আর এ যুদ্ধে উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রের ন্যায় জার্মানি পরাজিত শক্তি হিসেবে শান্তিপ্রাপ্ত হয় এবং শাস্তি হিসেবে একে দু'ভাগে ভাগ করে এর শক্তি খর্ব করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটনের পেছনে অনেক কারণ দায়ী ছিল। তবে এর মূল কারণ ভার্সাই সন্ধির মধ্যে নিহিত ছিল। ভার্সাই সন্ধির অপমানজনক শর্তাদি জার্মানির জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ওপর চরম আঘাত এনেছিল। ফলে জার্মানিতে জাতীয়তাবাদ তীব্রভাবে প্রকাশিত হয় যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অপর গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো তথা জার্মানি, ইতালি, জাপান ও সোভিয়েত ইউনিয়নের (রাশিয়া) সাম্রাজ্যবাদী নীতি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই এ সকল রাষ্ট্রগুলো বিভিন্ন অঞ্চল বা রাষ্ট্র দখল করে তাদের উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাবের পরিচয় দেয়। এর ফলশ্রুতিতে বিশ্ব এক অনিবার্য যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এছাড়া ১৯২৯-১৯৩০ সালে বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী দেশগুলো অর্থনৈতিক মহামন্দায় নিপতিত হলে ইতালির ফ্যাসিবাদ ও জার্মানির নাৎসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এসব উগ্র জাতীয়তাবাদী মতবাদ ইতালি ও জার্মানির জনগণকে যুদ্ধোন্মাদ করে তোলে। আর হিটলারের সকল কূটনীতি এবং ইংল্যান্ডের জার্মান শোষণনীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে গতিময় করে তোলে। সর্বোপরি জাপান-জার্মানি-ইতালি অক্ষশক্তি জোট গঠন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও জার্মানির চুক্তিভঙ্গ, লীগ অব নেশনসের ব্যর্থতা, একনায়কত্ব ও গণতন্ত্রের দ্বন্দ্ব প্রভৃতি কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
ঘ
'যুদ্ধে পরাজয়ের পরিণতি উক্ত রাষ্ট্রটিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল'- উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

'যুদ্ধে পরাজয়ের পরিণতি উক্ত রাষ্ট্রটিতে অর্থাৎ জার্মানিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল'- উক্তিটি আমি যথার্থ বলে মনে করি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। যুদ্ধে সামরিক ক্ষেত্রে জার্মানির অপূরণীয় ক্ষতি হওয়াতে এ শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি ইউরোপের তৃতীয় সারির দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। এতদসত্ত্বেও জার্মানরা যাতে ভবিষ্যতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে লক্ষ্যে জার্মানিকে মিত্রশক্তির অধীনে চারটি অংশে বিভক্ত করা হয়। এ চারটি অংশের শাসনভার ন্যস্ত হয় মিত্রশক্তির চার পরাশক্তি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর। দখলদার রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশ্য জার্মানি শাসন হলেও স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অধিকৃত তিনটি অংশ নিয়ে গঠন করা হয় ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি তথা পশ্চিম জার্মানি। এর বিপরীতে সোভিয়েত অধিকৃত একটি অংশ নিয়ে গঠিত হয় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব জার্মানি তথা পূর্ব জার্মানি। জার্মানির ঐতিহাসিক রাজধানী বার্লিন পূর্ব জার্মানির অভ্যন্তরে অবস্থিত থাকলেও এটিকেও দুই জার্মানির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। পশ্চিম জার্মানি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ায় পূর্ব জার্মানির অনেকে পশ্চিম জার্মানির অর্থনৈতিক উন্নতি ও সমৃদ্ধিতে আকৃষ্ট হয়ে পশ্চিম জার্মানিতে যেতে শুরু করলে ১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানি সরকার দুই জার্মানির মাঝে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পরিণতি হিসেবে জার্মানিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো