HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
যুদ্ধের ফলে 'ক' দেশ ও তার মিত্রদের পরাজয় ঘটে। বিভিন্ন দল নিষিদ্ধ হয়। বিচার করা হয় বহু ব্যক্তির। বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার বিকশিত হয়।
Comilla · 2017
ক
NATO-এর পূর্ণরূপ লিখ।
উত্তর
NATO-এর পূর্ণরূপ হলো North Atlantic Treaty Organization.
খ
প্যারিস শান্তি চুক্তি কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালের ১০ ফ্রেবুয়ারি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ইতিহাসে প্যারিস শান্তিচুক্তি হিসেবে পরিচিত।
মূলত যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্স দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালি, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ডের মতো ছোট রাষ্ট্রগুলোর সাথে শান্তি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করে। প্যারিস শান্তি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের অবসানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সমন্বয় সাধনের প্রতিশ্রুতি।
গ
উদ্দীপকের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলের সাদৃশ্যসমূহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সংঘটিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান সফলতা হচ্ছে জার্মানি ও ইতালির ফ্যাসিবাদ এবং জাপানি সমরবাদের পরাজয়। এসব দেশের সামরিক শক্তির চেয়েও তাদের রাষ্ট্রীয় আদর্শের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। ফ্যাসিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট নেতাদের বিচারালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে, অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি এবং উপযুক্ত শাস্তিও লাভ করেছে। ফ্যাসিবাদ এই যুদ্ধের মধ্যদিয়ে নিজের স্বরূপ উন্মোচন করেছে জনগণের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মুক্তি সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদী দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার ভাবধারা নতুনভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের ফলে 'ক' দেশ ও মিত্রদের সমরবাদের পরাজয় ঘটে। যুদ্ধ শেষে উক্ত দেশসমূহের বিভিন্ন দলকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং নেতাদের বিচার করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার ভাবধারা বিকশিত হতে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, ১ম বিশ্বযুদ্ধের ফলে জার্মানিসহ তার মিত্রদেশগুলোর সামরিক শক্তি ও রাষ্ট্রীয় আদর্শের পরাজয় পরিলক্ষিত হয়।
ঘ
উক্ত ফলাফল কি গণতন্ত্রমুখী? মতামত দাও।
উত্তর
হ্যাঁ, উক্ত ফলাফল তথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল গণতন্ত্রমুখী।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে এশিয়া-আফ্রিকার দেশগুলোতে স্বাধীনতা আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। এর ফলে ইন্দোচীন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকার উপনিবেশগুলো ক্রমান্বয়ে ছাধীন হয়ে যায়। একই সাথে শুরু হয় পৃথিবীতে গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান। সর্বাগ্রে কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ভারত, বার্মা, মালয়, সিরিয়া ও লেবাননের জাতিসমূহ দ্বিতীয় যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের মুক্তির পথ দেখতে পায়। তাই তারা দখলদার হানাদারদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রাম জোরদার করে তোলে। কেবল যুদ্ধোত্তর ১৫ বছরের মধ্যে ২২টি নব্য স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অতঃপর ১৫ বছরে অর্থাৎ ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়ে গঠিত হয় আরো ৬২টি স্বাধীন রাষ্ট্র। ৭০-এর দশকে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যগুলো ইতিহাসের বস্তুতে পরিণত হয় এবং ফিরে আসে নির্যাতিত জাতিসমূহের মুক্তির যুগ।
মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে পৃথিবীতে গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান নতুনভাবে ঘটতে শুরু করে।
তাই বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল গণতন্ত্রমুখী।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো