Chapter 3: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লীগ অভ নেশনস History 2nd Paper

HSC History 2nd Paper এর Chapter 3: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লীগ অভ নেশনস অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৪৪৪

প্রশ্ন

History 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

উনিশ শতকের গোড়ার দিকে উপনিবেশ ও সাম্রাজ্যবাদ ভয়ংকর আকার ধারণ করে। এমনি এক সময়ে একটি দেশে এক দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীতে এক ভয়ংকর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

Comilla · 2017

ক
বসনিয়ার রাজধানীর নাম কী?

উত্তর

বসনিয়ার রাজধানীর নাম সারায়েভ।
খ
ত্রি-শক্তি আঁতাত বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ত্রিশক্তি আঁতাত ছিল ত্রিশক্তি জোট-এর হুমকি মোকাবিলায় গড়ে ওঠা ইউরোপীয় সামরিক জোট। ত্রিশক্তি আঁতাতের প্রেক্ষিতে ১৯০৭ সালে ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার মধ্যে এক মিত্রতাচুক্তি স্থাপিত হলে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়া পরস্পর মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ হয় যা 'ত্রিশক্তি আঁতাত' (Triple Entente) নামে পরিচিত। মূলত ত্রিশক্তি আঁতাত ছিল ত্রিশক্তি জোট এর প্রত্যুত্তর।
গ
উদ্দীপকে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন দ্বন্দ্বের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত ১ম বিশ্বযুদ্ধের ব্যপ্তি, ধ্বংসযজ্ঞ ও হতাহতের সংখ্যা অতীতের সকল যুদ্ধকে হার মানিয়েছিল। পুঁজিবাদের বিকাশ, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের উত্থান সামরিক যুদ্ধ শিবিরে বিভক্ত বিশ্ব পরিস্থিতি প্রভৃতি ছিল এ যুদ্ধের অন্যতম কারণ। তবে যুবরাজ ফ্যান্সিস ফার্ডিন্যান্ড ও তার স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডে এ যুদ্ধের সূচনা হয়। ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফ্রান্সিস ফার্ডিন্যান্ড বসনিয়ার রাজধানী সারাজেভোতে স্ত্রী সোফিয়াসহ ভ্রমণকালে সার্ব আততায়ী দ্বারা নিহত হন। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অস্ট্রিয়া সার্বিয়াকে সম্পূর্ণ দায়ী করে ২৮ জুলাই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। পূর্বোক্ত চুক্তি অনুযায়ী জার্মানি এতে সমর্থন জানায়। এদিকে ফ্রান্স ও রাশিয়া সার্বিয়াকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসলে ইউরোপের অপরাপর রাষ্ট্রগুলোও এ যুদে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ভয়াবহ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে একটি দেশে এক দম্পত্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীতে এক ভয়ানক যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত যুদ্ধই হলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
ঘ
সাম্রাজ্যবাদ-ই ছিল উক্ত দ্বন্দ্বের কারণ- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

সাম্রাজ্যবাদ-ই ছিল উক্ত দ্বন্দ্ব তথ্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ- উক্তিটি যথার্থ। ইউরোপীয় শক্তিবর্গের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ। উনিশ শতকে বিজ্ঞানের উন্নতিতে বিশ্বের বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোতে নানা ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। বিভিন্ন দেশে শিল্প বিপ্লবের ফলে একদিকে যেমন শিল্পোৎপাদিত দ্রব্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, অপরদিকে তেমনি কাঁচামালের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। শিল্পৎপাদিত এ সকল দ্রব্য বিক্রয়ের বাজার ও কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য শিল্পোন্নত মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোকে গ্রাস করার এক নগ্ন প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বিশ শতকের পূর্বেই বিশ্বের সাম্রাজ্য বিস্তারের উপযুক্ত ভূখণ্ডগুলোর বেশির ভাগই ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে বণ্টন হয়ে গিয়েছিল। জার্মান একটু দেরিতে হলেও এ প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়। ফলে স্বভাবতই প্রথমোক্ত রাষ্ট্রগুলো অর্থাৎ ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়ার সাথে জার্মানির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৃষ্টি হয়, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সাম্রাজ্যবাদই ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

উনিশ শতকের গোড়ার দিকে উপনিবেশ ও সাম্রাজ্যবাদ ভয়ংকর আকার ধারণ করে। এমনি এক সময়ে একটি দেশে এক দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীতে এক ভয়ংকর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

Comilla · 2017

ক
বসনিয়ার রাজধানীর নাম কী?

উত্তর

বসনিয়ার রাজধানীর নাম সারায়েভ।
খ
ত্রি-শক্তি আঁতাত বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ত্রিশক্তি আঁতাত ছিল ত্রিশক্তি জোট-এর হুমকি মোকাবিলায় গড়ে ওঠা ইউরোপীয় সামরিক জোট। ত্রিশক্তি আঁতাতের প্রেক্ষিতে ১৯০৭ সালে ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার মধ্যে এক মিত্রতাচুক্তি স্থাপিত হলে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়া পরস্পর মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ হয় যা 'ত্রিশক্তি আঁতাত' (Triple Entente) নামে পরিচিত। মূলত ত্রিশক্তি আঁতাত ছিল ত্রিশক্তি জোট এর প্রত্যুত্তর।
গ
উদ্দীপকে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন দ্বন্দ্বের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত ১ম বিশ্বযুদ্ধের ব্যপ্তি, ধ্বংসযজ্ঞ ও হতাহতের সংখ্যা অতীতের সকল যুদ্ধকে হার মানিয়েছিল। পুঁজিবাদের বিকাশ, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের উত্থান সামরিক যুদ্ধ শিবিরে বিভক্ত বিশ্ব পরিস্থিতি প্রভৃতি ছিল এ যুদ্ধের অন্যতম কারণ। তবে যুবরাজ ফ্যান্সিস ফার্ডিন্যান্ড ও তার স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডে এ যুদ্ধের সূচনা হয়। ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফ্রান্সিস ফার্ডিন্যান্ড বসনিয়ার রাজধানী সারাজেভোতে স্ত্রী সোফিয়াসহ ভ্রমণকালে সার্ব আততায়ী দ্বারা নিহত হন। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অস্ট্রিয়া সার্বিয়াকে সম্পূর্ণ দায়ী করে ২৮ জুলাই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। পূর্বোক্ত চুক্তি অনুযায়ী জার্মানি এতে সমর্থন জানায়। এদিকে ফ্রান্স ও রাশিয়া সার্বিয়াকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসলে ইউরোপের অপরাপর রাষ্ট্রগুলোও এ যুদে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ভয়াবহ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে একটি দেশে এক দম্পত্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীতে এক ভয়ানক যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত যুদ্ধই হলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
ঘ
সাম্রাজ্যবাদ-ই ছিল উক্ত দ্বন্দ্বের কারণ- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

সাম্রাজ্যবাদ-ই ছিল উক্ত দ্বন্দ্ব তথ্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ- উক্তিটি যথার্থ। ইউরোপীয় শক্তিবর্গের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ। উনিশ শতকে বিজ্ঞানের উন্নতিতে বিশ্বের বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোতে নানা ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। বিভিন্ন দেশে শিল্প বিপ্লবের ফলে একদিকে যেমন শিল্পোৎপাদিত দ্রব্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, অপরদিকে তেমনি কাঁচামালের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। শিল্পৎপাদিত এ সকল দ্রব্য বিক্রয়ের বাজার ও কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য শিল্পোন্নত মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোকে গ্রাস করার এক নগ্ন প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বিশ শতকের পূর্বেই বিশ্বের সাম্রাজ্য বিস্তারের উপযুক্ত ভূখণ্ডগুলোর বেশির ভাগই ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে বণ্টন হয়ে গিয়েছিল। জার্মান একটু দেরিতে হলেও এ প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়। ফলে স্বভাবতই প্রথমোক্ত রাষ্ট্রগুলো অর্থাৎ ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়ার সাথে জার্মানির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৃষ্টি হয়, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সাম্রাজ্যবাদই ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইউরোপের ইতিহাসে বিশ শতকের প্রথম দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। ভয়াবহ এক যুদ্ধ শেষে বিজয়ী জোট পরাজিত জোটকে সন্ধি করতে বাধ্য করে। কিন্তু বিজয়ী জোট পরাজিত জোটের প্রতি যে অমানবিক আচরণ করেছিল, তাতে সন্ধিটি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যায়। এই পক্ষপাতদুষ্ট সন্ধির খেসারত বিশ্বের মানুষকে পুনরায় দিতে হয়েছিল।

Dhaka · 2017

ক
লীগ অব নেশনস কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়েছিল?

উত্তর

১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জানুয়ারি লীগ অব নেশনস (League of Nations) গঠিত হয়েছিল।
খ
ত্রি-শক্তি আঁতাত কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ত্রিশক্তি আঁতাত ছিল ত্রিশক্তি জোট-এর হুমকি মোকাবিলায় গড়ে ওঠা ইউরোপীয় সামরিক জোট। ত্রিশক্তি আঁতাতের প্রেক্ষিতে ১৯০৭ সালে ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার মধ্যে এক মিত্রতাচুক্তি স্থাপিত হলে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়া পরস্পর মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ হয় যা 'ত্রিশক্তি আঁতাত' (Triple Entente) নামে পরিচিত। মূলত ত্রিশক্তি আঁতাত ছিল ত্রিশক্তি জোট এর প্রত্যুত্তর।
গ
উদ্দীপকে যে সন্ধির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ভাসাই সন্ধির (The Treaty of Versailles, 1919) প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হলে বিজয়ী জোট জার্মানিকে (১৯১৯ সালে) যে সন্ধি করতে বাধ্য করে, তাই ভার্সাই সন্ধি নামে পরিচিত। আর উদ্দীপকে এ সন্ধিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপীয় শক্তিবর্গের এবং জনসাধারণের মধ্যে জার্মানির বিরুদ্ধে যে তীব্র ঘৃণার সৃষ্টি হয় তার প্রেক্ষাপটে ভার্সাই সন্ধি হয়। এছাড়া পরাজিত শত্রুর প্রতি মর্যাদা প্রদর্শনের বিবেচনা ইউরোপের বিজয়ী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ছিল না। ভবিষ্যতে যাতে জার্মানি শক্তিশালী হয়ে ইউরোপের শান্তি ভঙ্গ করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই ভার্সাই সন্ধির ধারা রচিত হয়। ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে শত্রুতা ছিল বহু পুরনো। প্যারিস শান্তি সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রতিনিধি জার্মানির ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পঙ্গু করে দেওয়ার আবহ সৃষ্টি করে। ব্রিটেন চেয়েছিল একটি | আগ্রাসী সামরিক রাষ্ট্র হিসেবে জার্মানির পুনরুত্থানকে অক্ষম করে তোলা এবং ইউরোপে ব্রিটেনের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা। অন্যদিকে, ইতালি জার্মানির উপনিবেশ লাভ করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে তার দেশের স্বার্থ আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। যার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে ভার্সাই সন্ধিতে। এছাড়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে জার্মানি অর্থনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্র ছিল। সেসময় খনিজ সম্পদেও জার্মানি অনেক সমৃদ্ধ ছিল। মিত্রশক্তি ক্ষতিপূরণ আদায়ের নামে জার্মানির খনিজ অঞ্চলগুলো দখল করা ছিল ভার্সাই সন্ধির অন্যতম কারণ। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বিভিন্ন কারণে জার্মানিকে দমিয়ে রেখে এর সম্পদ হস্তগত করার উদ্দেশ্যে ভার্সাই সন্ধি সাক্ষরিত হয়
ঘ
তুমি কি মনে কর, উক্ত সন্ধির ব্যর্থতাই পরবর্তীকালে বিশ্বকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল? মতামত দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত সন্ধি তথা ভার্সাই সন্ধির ব্যর্থতাই পরবর্তীকালে বিশ্বকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। ভাসাই সন্ধি ছিল একটি ত্রুটিপূর্ণ সন্ধি। এ সন্ধির মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মূল কারণ নিহিত ছিল। ভার্সাই সন্ধির অপমানজনক শর্তাদি জার্মানির জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ওপর চরম আঘাত হানে। এ সন্ধির মাধ্যমে মিত্রপক্ষ জার্মানির সকল উপনিবেশ কেড়ে নেয় এবং এর ওপর এক বিশাল ক্ষতিপূরণের বোঝা চাপিয়ে আর্থিক দৈন্যের মধ্যে ঠেলে দেয়। এছাড়া এ চুক্তির মাধ্যমে সকল দিক দিয়ে জার্মানিকে দুর্বল ও পঙ্গু করে দেওয়া হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের গ্লানি জার্মান জাতির মনে এক অভূতপূর্ব আত্মচেতনা ও জাতীয়তাবোধের জন্ম দেয়। তাই জার্মানিরা কখনই ভাসাই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চুক্তি মেনে নিতে পারেনি। তারা এরূপ অবস্থায় পরিবর্তনের জন্য ভবিষ্যৎ সুযোগের প্রতীক্ষায় ছিল। এমতাবস্থায় জার্মানিতে নাৎসি দলের নেতৃত্বে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সমরবাদের সৃষ্টি হলে নাৎসি আন্দোলন জার্মান জাতির মনে এক নতুন আশার সঞ্চার করে এবং এক নতুন পথের সন্ধান দেয়। অতঃপর নাৎসি দলের নেতা হিটলার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে জার্মানির আত্মনিয়ন্ত্রণের ও জাতীয়তাবাদের দাবির কথা ঘোষণা করলে জার্মানদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব প্রবল আকার ধারণ করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মত ভয়াবহ যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। পরিশেষে বলা যায়, ভার্সাই সন্ধির ব্যর্থতা বা ত্রুটিই পরবর্তীতে বিশ্বকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মত মহা বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইউরোপের ইতিহাসে বিশ শতকের প্রথম দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। ভয়াবহ এক যুদ্ধ শেষে বিজয়ী জোট পরাজিত জোটকে সন্ধি করতে বাধ্য করে। কিন্তু বিজয়ী জোট পরাজিত জোটের প্রতি যে অমানবিক আচরণ করেছিল, তাতে সন্ধিটি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যায়। এই পক্ষপাতদুষ্ট সন্ধির খেসারত বিশ্বের মানুষকে পুনরায় দিতে হয়েছিল।

Dhaka · 2017

ক
লীগ অব নেশনস কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়েছিল?

উত্তর

১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জানুয়ারি লীগ অব নেশনস (League of Nations) গঠিত হয়েছিল।
খ
ত্রি-শক্তি আঁতাত কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ত্রিশক্তি আঁতাত ছিল ত্রিশক্তি জোট-এর হুমকি মোকাবিলায় গড়ে ওঠা ইউরোপীয় সামরিক জোট। ত্রিশক্তি আঁতাতের প্রেক্ষিতে ১৯০৭ সালে ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার মধ্যে এক মিত্রতাচুক্তি স্থাপিত হলে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়া পরস্পর মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ হয় যা 'ত্রিশক্তি আঁতাত' (Triple Entente) নামে পরিচিত। মূলত ত্রিশক্তি আঁতাত ছিল ত্রিশক্তি জোট এর প্রত্যুত্তর।
গ
উদ্দীপকে যে সন্ধির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ভাসাই সন্ধির (The Treaty of Versailles, 1919) প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হলে বিজয়ী জোট জার্মানিকে (১৯১৯ সালে) যে সন্ধি করতে বাধ্য করে, তাই ভার্সাই সন্ধি নামে পরিচিত। আর উদ্দীপকে এ সন্ধিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপীয় শক্তিবর্গের এবং জনসাধারণের মধ্যে জার্মানির বিরুদ্ধে যে তীব্র ঘৃণার সৃষ্টি হয় তার প্রেক্ষাপটে ভার্সাই সন্ধি হয়। এছাড়া পরাজিত শত্রুর প্রতি মর্যাদা প্রদর্শনের বিবেচনা ইউরোপের বিজয়ী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ছিল না। ভবিষ্যতে যাতে জার্মানি শক্তিশালী হয়ে ইউরোপের শান্তি ভঙ্গ করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই ভার্সাই সন্ধির ধারা রচিত হয়। ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে শত্রুতা ছিল বহু পুরনো। প্যারিস শান্তি সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রতিনিধি জার্মানির ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পঙ্গু করে দেওয়ার আবহ সৃষ্টি করে। ব্রিটেন চেয়েছিল একটি | আগ্রাসী সামরিক রাষ্ট্র হিসেবে জার্মানির পুনরুত্থানকে অক্ষম করে তোলা এবং ইউরোপে ব্রিটেনের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা। অন্যদিকে, ইতালি জার্মানির উপনিবেশ লাভ করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে তার দেশের স্বার্থ আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। যার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে ভার্সাই সন্ধিতে। এছাড়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে জার্মানি অর্থনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্র ছিল। সেসময় খনিজ সম্পদেও জার্মানি অনেক সমৃদ্ধ ছিল। মিত্রশক্তি ক্ষতিপূরণ আদায়ের নামে জার্মানির খনিজ অঞ্চলগুলো দখল করা ছিল ভার্সাই সন্ধির অন্যতম কারণ। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বিভিন্ন কারণে জার্মানিকে দমিয়ে রেখে এর সম্পদ হস্তগত করার উদ্দেশ্যে ভার্সাই সন্ধি সাক্ষরিত হয়
ঘ
তুমি কি মনে কর, উক্ত সন্ধির ব্যর্থতাই পরবর্তীকালে বিশ্বকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল? মতামত দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত সন্ধি তথা ভার্সাই সন্ধির ব্যর্থতাই পরবর্তীকালে বিশ্বকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। ভাসাই সন্ধি ছিল একটি ত্রুটিপূর্ণ সন্ধি। এ সন্ধির মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মূল কারণ নিহিত ছিল। ভার্সাই সন্ধির অপমানজনক শর্তাদি জার্মানির জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ওপর চরম আঘাত হানে। এ সন্ধির মাধ্যমে মিত্রপক্ষ জার্মানির সকল উপনিবেশ কেড়ে নেয় এবং এর ওপর এক বিশাল ক্ষতিপূরণের বোঝা চাপিয়ে আর্থিক দৈন্যের মধ্যে ঠেলে দেয়। এছাড়া এ চুক্তির মাধ্যমে সকল দিক দিয়ে জার্মানিকে দুর্বল ও পঙ্গু করে দেওয়া হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের গ্লানি জার্মান জাতির মনে এক অভূতপূর্ব আত্মচেতনা ও জাতীয়তাবোধের জন্ম দেয়। তাই জার্মানিরা কখনই ভাসাই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চুক্তি মেনে নিতে পারেনি। তারা এরূপ অবস্থায় পরিবর্তনের জন্য ভবিষ্যৎ সুযোগের প্রতীক্ষায় ছিল। এমতাবস্থায় জার্মানিতে নাৎসি দলের নেতৃত্বে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সমরবাদের সৃষ্টি হলে নাৎসি আন্দোলন জার্মান জাতির মনে এক নতুন আশার সঞ্চার করে এবং এক নতুন পথের সন্ধান দেয়। অতঃপর নাৎসি দলের নেতা হিটলার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে জার্মানির আত্মনিয়ন্ত্রণের ও জাতীয়তাবাদের দাবির কথা ঘোষণা করলে জার্মানদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব প্রবল আকার ধারণ করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মত ভয়াবহ যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। পরিশেষে বলা যায়, ভার্সাই সন্ধির ব্যর্থতা বা ত্রুটিই পরবর্তীতে বিশ্বকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মত মহা বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dhaka · 2017

ক
লীগ অব নেশনস এর সদর দপ্তর কোথায় স্থাপিত হয়েছিল?

উত্তর

লীগ অব নেশনস এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্থাপিত হয়েছিল।
খ
উড্রো উইলসনের চৌদ্দ দফা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তার বিখ্যাত চৌদ্দ দফা মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপন করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানে উইলসনের চৌদ্দ দফা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই জার্মানি যুদ্ধ বিরতির আবেদন করলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। এ কারণে এ চৌদ্দ দফাকে শান্তির একমাত্র উপায় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়াও এ দফার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিপুঞ্জ গঠন।
গ
উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থান দ্বারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইতালির মধ্যে 'ত্রিশক্তি চুক্তি' (Triple Alliance) হয়। এর প্রত্যুত্তরে ফ্রান্স, রাশিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ত্রিশক্তি আঁতাত (Triple Entente) গড়ে ওঠে। আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তিতে যে সন্ধি করা হয়, তা হলো ভাসাই সন্ধি। এর থেকে বোঝা যায় যে, উদ্দীপকের '?' স্থান দ্বারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকেই বোঝানো হয়েছে। নানাবিধ কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হলেও এর পরোক্ষ কারণ ছিলো উগ্র জাতীয়তাবাদ। উনিশ শতকের শেষে এবং বিশ শতকের শুরুর দিকে জার্মানদের উগ্র জাতীয়তাবাদী চেতনা ক্রমে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়া প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ইতালি, জাপান, জার্মানি এসব দেশ জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগ করে। ফলে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার জাতিগত বিদ্বেষ বৃদ্ধি পায়, যা তাদেরকে যুদ্ধের দিকে ধাবিত করে। এছাড়া আঠারো শতকে ইউরোপে শুরু হওয়া শিল্প বিপ্লব উনিশ শতকে চরম উৎকর্ষ লাভ করে। এর ফলে শিল্প সমৃদ্ধ ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের বাণিজ্য সম্প্রসারণের নিমিত্তে উপনিবেশ বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। যার দরুন বিভিন্ন দেশের মধ্যে শত্রুতা বৃদ্ধি পায়, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে। উগ্র জাতীয়তাবাদের পাশাপাশি ইউরোপীয় শক্তিবর্গের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এছাড়া উনিশ শতকে পাশ্চাত্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এরূপ ধারণা বন্ধমূল হয় যে, যুদ্ধ ছাড়া জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষা পরিতৃপ্ত হতে পারে না। সুতরাং বলা যায়, উগ্র জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ, বাণিজ্য ও উপনিবেশ বিস্তারের প্রতিযোগিতা, সমরবাদ, পুঁজিবাদের বিকাশ এসব কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
ঘ
এক রাজদম্পতির হত্যাকাণ্ডই ঐ বিষয়টির উদ্ভবের মূল কারণ- সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

'এক রাজদম্পতির হত্যাকাণ্ডই ঐ বিষয়টি তথ্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মূল কারণ'- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক। উদ্দীপকে আলোচিত যুদ্ধ অর্থাৎ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয় অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফার্ডিনান্ড (Archduke Franz Ferdinand) ও তার স্ত্রী সোফিয়ার হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে। ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফার্ডিনান্ড বসনিয়ার রাজধানী সারাজেভোতে স্ত্রী সোফিয়াসহ ভ্রমণকালে সার্ব আততায়ী দ্বারা নিহত হন। এ হত্যাকান্ড অস্ট্রিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অস্ট্রিয়া সার্বিয়া সরকারকে এ জন্য দায়ী করে এবং এর প্রতিবাদে কয়েকটি দাবি সংবলিত একটি চরমপত্র প্রদানের সিম্প্যন্ত গ্রহণ করে। ১৯১৪ সালের ২৩ জুলাই উক্ত চরমপত্রটি সার্বিয়া সরকারের নিকট প্রেরণ করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য অস্ট্রিয়া চাপ দেয়। সার্বিয়া এর কয়েকটি দাবি পূরণ করে এবং বাকি কয়েকটি দাবির সাথে তার সার্বভৌমত্বের বিষয়টি জড়িত থাকায় এর জন্য একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তাব দেয়। এদিকে জার্মানি অস্ট্রিয়াকে সমর্থন দিলে অস্ট্রিয়া সার্বিয়ার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে এবং উক্ত বছরের ২৮ জুলাই সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড আক্রমণ করে দখল করে নেয়। এদিকে ফ্রান্স ও রাশিয়া সার্বিয়াকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসে। ক্রমে ইউরোপের অপরাপর রাষ্ট্রগুলো এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তা বিশ্বযুদ্ধের রূপ নেয়। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পেছনে অন্যান্য কারণ বিদ্যমান থাকলেও এর প্রত্যক্ষ বা মূল কারণ ছিল যুবরাজ ফার্ডিনান্ড ও তার স্ত্রী সোফিয়ার হত্যাকান্ড।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dhaka · 2017

ক
লীগ অব নেশনস এর সদর দপ্তর কোথায় স্থাপিত হয়েছিল?

উত্তর

লীগ অব নেশনস এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্থাপিত হয়েছিল।
খ
উড্রো উইলসনের চৌদ্দ দফা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তার বিখ্যাত চৌদ্দ দফা মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপন করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানে উইলসনের চৌদ্দ দফা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই জার্মানি যুদ্ধ বিরতির আবেদন করলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। এ কারণে এ চৌদ্দ দফাকে শান্তির একমাত্র উপায় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়াও এ দফার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিপুঞ্জ গঠন।
গ
উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থান দ্বারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইতালির মধ্যে 'ত্রিশক্তি চুক্তি' (Triple Alliance) হয়। এর প্রত্যুত্তরে ফ্রান্স, রাশিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ত্রিশক্তি আঁতাত (Triple Entente) গড়ে ওঠে। আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তিতে যে সন্ধি করা হয়, তা হলো ভাসাই সন্ধি। এর থেকে বোঝা যায় যে, উদ্দীপকের '?' স্থান দ্বারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকেই বোঝানো হয়েছে। নানাবিধ কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হলেও এর পরোক্ষ কারণ ছিলো উগ্র জাতীয়তাবাদ। উনিশ শতকের শেষে এবং বিশ শতকের শুরুর দিকে জার্মানদের উগ্র জাতীয়তাবাদী চেতনা ক্রমে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়া প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ইতালি, জাপান, জার্মানি এসব দেশ জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগ করে। ফলে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার জাতিগত বিদ্বেষ বৃদ্ধি পায়, যা তাদেরকে যুদ্ধের দিকে ধাবিত করে। এছাড়া আঠারো শতকে ইউরোপে শুরু হওয়া শিল্প বিপ্লব উনিশ শতকে চরম উৎকর্ষ লাভ করে। এর ফলে শিল্প সমৃদ্ধ ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের বাণিজ্য সম্প্রসারণের নিমিত্তে উপনিবেশ বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। যার দরুন বিভিন্ন দেশের মধ্যে শত্রুতা বৃদ্ধি পায়, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে। উগ্র জাতীয়তাবাদের পাশাপাশি ইউরোপীয় শক্তিবর্গের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এছাড়া উনিশ শতকে পাশ্চাত্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এরূপ ধারণা বন্ধমূল হয় যে, যুদ্ধ ছাড়া জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষা পরিতৃপ্ত হতে পারে না। সুতরাং বলা যায়, উগ্র জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ, বাণিজ্য ও উপনিবেশ বিস্তারের প্রতিযোগিতা, সমরবাদ, পুঁজিবাদের বিকাশ এসব কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
ঘ
এক রাজদম্পতির হত্যাকাণ্ডই ঐ বিষয়টির উদ্ভবের মূল কারণ- সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

'এক রাজদম্পতির হত্যাকাণ্ডই ঐ বিষয়টি তথ্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মূল কারণ'- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক। উদ্দীপকে আলোচিত যুদ্ধ অর্থাৎ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয় অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফার্ডিনান্ড (Archduke Franz Ferdinand) ও তার স্ত্রী সোফিয়ার হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে। ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফার্ডিনান্ড বসনিয়ার রাজধানী সারাজেভোতে স্ত্রী সোফিয়াসহ ভ্রমণকালে সার্ব আততায়ী দ্বারা নিহত হন। এ হত্যাকান্ড অস্ট্রিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অস্ট্রিয়া সার্বিয়া সরকারকে এ জন্য দায়ী করে এবং এর প্রতিবাদে কয়েকটি দাবি সংবলিত একটি চরমপত্র প্রদানের সিম্প্যন্ত গ্রহণ করে। ১৯১৪ সালের ২৩ জুলাই উক্ত চরমপত্রটি সার্বিয়া সরকারের নিকট প্রেরণ করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য অস্ট্রিয়া চাপ দেয়। সার্বিয়া এর কয়েকটি দাবি পূরণ করে এবং বাকি কয়েকটি দাবির সাথে তার সার্বভৌমত্বের বিষয়টি জড়িত থাকায় এর জন্য একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তাব দেয়। এদিকে জার্মানি অস্ট্রিয়াকে সমর্থন দিলে অস্ট্রিয়া সার্বিয়ার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে এবং উক্ত বছরের ২৮ জুলাই সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড আক্রমণ করে দখল করে নেয়। এদিকে ফ্রান্স ও রাশিয়া সার্বিয়াকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসে। ক্রমে ইউরোপের অপরাপর রাষ্ট্রগুলো এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তা বিশ্বযুদ্ধের রূপ নেয়। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পেছনে অন্যান্য কারণ বিদ্যমান থাকলেও এর প্রত্যক্ষ বা মূল কারণ ছিল যুবরাজ ফার্ডিনান্ড ও তার স্ত্রী সোফিয়ার হত্যাকান্ড।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো