HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
মানুষ আয় বুঝে ব্যয় করে। কিন্তু যেকোনো দেশের সরকার ব্যয় অনুসারে আয় করে। সরকার আয়কর, সম্পদ কর, ফি, মুনাফা কর, রেলওয়ে, তার ও টেলিফোন, VAT, আবগারি শুল্ক, লাইসেন্স ফি, উত্তরাধিকার কর, জরিমানা, ডাক, রাষ্ট্রীয় কারখানা ইত্যাদি উৎস হতে আয় করে থাকে। যদি এসব উৎসের আয় দ্বারা ব্যয় সংকুলান না হয় তবে ঘাটতি অর্থায়নের অংশ হিসেবে সরকার অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক উৎস হতে ঋণ নেয়। যদিও এ দুটি উৎসের সুবিধা এবং অসুবিধা উভয়ই রয়েছে।
Dhaka · 2017
ক
সরকারি ব্যয় কী?
উত্তর
দেশের ভেতরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক কল্যাণ সাধন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি কাজের জন্য সরকার যে অর্থ ব্যয় করে তাকেই সরকারি ব্যয় বলে।
খ
'প্রত্যক্ষ কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বেশি।'- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
প্রত্যক্ষ করের ভার অন্যের ওপর চাপানো যায় না বলে এ কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বেশি।
যে ব্যক্তির ওপর কর আরোপ করা হয় তাকেই যদি করের বোঝা বহন করতে হয় তাহলে উক্ত করকে প্রত্যক্ষ কর বলে। অর্থাৎ, এ করের করঘাত ও করপাত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়ে। যেমন-আয়কর, ভূমিকর, সম্পদকর ইত্যাদি। এ সকল করের ভার সরাসরি করদাতাকেই বহন করতে হয়। এজন্যই এ সকল কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
গ
উদ্দীপকের আলোকে সরকারের আয়ের উৎসগুলোর কর ও কর বহির্ভূত রাজস্ব চিহ্নিত করো।
উত্তর
জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ করে। নিচে উদ্দীপকে উল্লিখিত উৎসগুলোর কর ও কর-বহির্ভূত (অ-কর) রাজস্ব চিহ্নিত করা হলো-
সাধারণত সরকারি আয়ের উৎসগুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. কর রাজস্ব এবং ২. কর-বহির্ভূত রাজস্ব।
কোনো প্রকার সুবিধা প্রাপ্তির প্রত্যাশা না করে সাধারণ স্বার্থে সরকারকে সরকারি ব্যয় মেটানোর জন্য জনগণ বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ প্রদান করে তাকে কর বলে। এই কর থেকে যে আয় হয়, তাকে কর রাজস্ব বলে। আবার, সরকার কর ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে যে আয় করে তাকে কর- বহির্ভূত রাজস্ব বলে।
উদ্দীপকে কর রাজস্বের উৎসগুলো হলো- আয়কর, সম্পদ কর, মুনাফা কর, মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক ও উত্তরাধিকার কর। অন্যদিকে, কর-বহির্ভূত রাজস্বের উৎসগুলো হলো- ফি, রেলওয়ে, তার ও টেলিফোন, লাইসেন্স ফি, জরিমানা, ডাক ও রাষ্ট্রীয় কারখানা।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘাটতি অর্থায়নের উৎস দুটির তুলনাপূর্বক, কোনটি অধিকতর কার্যকর তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত অর্থ দ্বারা সরকারি ব্যয় নির্বাহ করা না গেলে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস হতে ঋণ গ্রহণ করে।
সরকার দেশের জনগণ বা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যে ঋণ গ্রহণ করে, তাকে অভ্যন্তরীণ ঋণ বলে। অন্যদিকে, সরকার যদি বিদেশি সরকার, সংস্থা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ সংগ্রহ করে, তাকে বৈদেশিক ঋণ বলে।
সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণ সংগ্রহে জনগণকে স্বেচ্ছায় ঋণ প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে পারে অথবা বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ স্বেচ্ছামূলক। তাছাড়া, অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধে সরকার নতুন কর আরোপ বা নতুন মুদ্রা ছাপাতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা বা স্বর্ণ আবশ্যক।
অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্ষেত্রে দেশের এক শ্রেণির হাত থেকে অন্য শ্রেণির হাতে অর্থ বা সম্পদ স্থানান্তরিত হয়। তাই এ ঋণের কোনো আর্থিক ভার নেই; শুধু প্রকৃত ভার আছে। অপরদিকে, বৈদেশিক ঋণের আর্থিক ও প্রকৃত উভয় ভারই রয়েছে। উপরে উল্লিখিত কারণগুলো ছাড়াও ঋণের শর্ত, ঋণ পরিশোধের সময় ও অর্থনৈতিক কল্যাণ বিবেচনা করে দেখা যায়, বৈদেশিক ঋণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ ঋণ তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো