Chapter 9 : সরকারী অর্থব্যবস্থা Economics 2nd Paper

HSC Economics 2nd Paper এর Chapter 9 : সরকারী অর্থব্যবস্থা অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৮৯৭

প্রশ্ন

Economics 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মানুষ আয় বুঝে ব্যয় করে। কিন্তু যেকোনো দেশের সরকার ব্যয় অনুসারে আয় করে। সরকার আয়কর, সম্পদ কর, ফি, মুনাফা কর, রেলওয়ে, তার ও টেলিফোন, VAT, আবগারি শুল্ক, লাইসেন্স ফি, উত্তরাধিকার কর, জরিমানা, ডাক, রাষ্ট্রীয় কারখানা ইত্যাদি উৎস হতে আয় করে থাকে। যদি এসব উৎসের আয় দ্বারা ব্যয় সংকুলান না হয় তবে ঘাটতি অর্থায়নের অংশ হিসেবে সরকার অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক উৎস হতে ঋণ নেয়। যদিও এ দুটি উৎসের সুবিধা এবং অসুবিধা উভয়ই রয়েছে।

Dhaka · 2017

ক
সরকারি ব্যয় কী?

উত্তর

দেশের ভেতরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক কল্যাণ সাধন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি কাজের জন্য সরকার যে অর্থ ব্যয় করে তাকেই সরকারি ব্যয় বলে।
খ
'প্রত্যক্ষ কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বেশি।'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

প্রত্যক্ষ করের ভার অন্যের ওপর চাপানো যায় না বলে এ কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বেশি। যে ব্যক্তির ওপর কর আরোপ করা হয় তাকেই যদি করের বোঝা বহন করতে হয় তাহলে উক্ত করকে প্রত্যক্ষ কর বলে। অর্থাৎ, এ করের করঘাত ও করপাত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়ে। যেমন-আয়কর, ভূমিকর, সম্পদকর ইত্যাদি। এ সকল করের ভার সরাসরি করদাতাকেই বহন করতে হয়। এজন্যই এ সকল কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
গ
উদ্দীপকের আলোকে সরকারের আয়ের উৎসগুলোর কর ও কর বহির্ভূত রাজস্ব চিহ্নিত করো।

উত্তর

জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ করে। নিচে উদ্দীপকে উল্লিখিত উৎসগুলোর কর ও কর-বহির্ভূত (অ-কর) রাজস্ব চিহ্নিত করা হলো- সাধারণত সরকারি আয়ের উৎসগুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. কর রাজস্ব এবং ২. কর-বহির্ভূত রাজস্ব। কোনো প্রকার সুবিধা প্রাপ্তির প্রত্যাশা না করে সাধারণ স্বার্থে সরকারকে সরকারি ব্যয় মেটানোর জন্য জনগণ বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ প্রদান করে তাকে কর বলে। এই কর থেকে যে আয় হয়, তাকে কর রাজস্ব বলে। আবার, সরকার কর ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে যে আয় করে তাকে কর- বহির্ভূত রাজস্ব বলে। উদ্দীপকে কর রাজস্বের উৎসগুলো হলো- আয়কর, সম্পদ কর, মুনাফা কর, মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক ও উত্তরাধিকার কর। অন্যদিকে, কর-বহির্ভূত রাজস্বের উৎসগুলো হলো- ফি, রেলওয়ে, তার ও টেলিফোন, লাইসেন্স ফি, জরিমানা, ডাক ও রাষ্ট্রীয় কারখানা।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘাটতি অর্থায়নের উৎস দুটির তুলনাপূর্বক, কোনটি অধিকতর কার্যকর তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত অর্থ দ্বারা সরকারি ব্যয় নির্বাহ করা না গেলে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস হতে ঋণ গ্রহণ করে। সরকার দেশের জনগণ বা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যে ঋণ গ্রহণ করে, তাকে অভ্যন্তরীণ ঋণ বলে। অন্যদিকে, সরকার যদি বিদেশি সরকার, সংস্থা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ সংগ্রহ করে, তাকে বৈদেশিক ঋণ বলে। সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণ সংগ্রহে জনগণকে স্বেচ্ছায় ঋণ প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে পারে অথবা বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ স্বেচ্ছামূলক। তাছাড়া, অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধে সরকার নতুন কর আরোপ বা নতুন মুদ্রা ছাপাতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা বা স্বর্ণ আবশ্যক। অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্ষেত্রে দেশের এক শ্রেণির হাত থেকে অন্য শ্রেণির হাতে অর্থ বা সম্পদ স্থানান্তরিত হয়। তাই এ ঋণের কোনো আর্থিক ভার নেই; শুধু প্রকৃত ভার আছে। অপরদিকে, বৈদেশিক ঋণের আর্থিক ও প্রকৃত উভয় ভারই রয়েছে। উপরে উল্লিখিত কারণগুলো ছাড়াও ঋণের শর্ত, ঋণ পরিশোধের সময় ও অর্থনৈতিক কল্যাণ বিবেচনা করে দেখা যায়, বৈদেশিক ঋণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ ঋণ তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মানুষ আয় বুঝে ব্যয় করে। কিন্তু যেকোনো দেশের সরকার ব্যয় অনুসারে আয় করে। সরকার আয়কর, সম্পদ কর, ফি, মুনাফা কর, রেলওয়ে, তার ও টেলিফোন, VAT, আবগারি শুল্ক, লাইসেন্স ফি, উত্তরাধিকার কর, জরিমানা, ডাক, রাষ্ট্রীয় কারখানা ইত্যাদি উৎস হতে আয় করে থাকে। যদি এসব উৎসের আয় দ্বারা ব্যয় সংকুলান না হয় তবে ঘাটতি অর্থায়নের অংশ হিসেবে সরকার অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক উৎস হতে ঋণ নেয়। যদিও এ দুটি উৎসের সুবিধা এবং অসুবিধা উভয়ই রয়েছে।

Dhaka · 2017

ক
সরকারি ব্যয় কী?

উত্তর

দেশের ভেতরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক কল্যাণ সাধন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি কাজের জন্য সরকার যে অর্থ ব্যয় করে তাকেই সরকারি ব্যয় বলে।
খ
'প্রত্যক্ষ কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বেশি।'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

প্রত্যক্ষ করের ভার অন্যের ওপর চাপানো যায় না বলে এ কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বেশি। যে ব্যক্তির ওপর কর আরোপ করা হয় তাকেই যদি করের বোঝা বহন করতে হয় তাহলে উক্ত করকে প্রত্যক্ষ কর বলে। অর্থাৎ, এ করের করঘাত ও করপাত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়ে। যেমন-আয়কর, ভূমিকর, সম্পদকর ইত্যাদি। এ সকল করের ভার সরাসরি করদাতাকেই বহন করতে হয়। এজন্যই এ সকল কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
গ
উদ্দীপকের আলোকে সরকারের আয়ের উৎসগুলোর কর ও কর বহির্ভূত রাজস্ব চিহ্নিত করো।

উত্তর

জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ করে। নিচে উদ্দীপকে উল্লিখিত উৎসগুলোর কর ও কর-বহির্ভূত (অ-কর) রাজস্ব চিহ্নিত করা হলো- সাধারণত সরকারি আয়ের উৎসগুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. কর রাজস্ব এবং ২. কর-বহির্ভূত রাজস্ব। কোনো প্রকার সুবিধা প্রাপ্তির প্রত্যাশা না করে সাধারণ স্বার্থে সরকারকে সরকারি ব্যয় মেটানোর জন্য জনগণ বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ প্রদান করে তাকে কর বলে। এই কর থেকে যে আয় হয়, তাকে কর রাজস্ব বলে। আবার, সরকার কর ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে যে আয় করে তাকে কর- বহির্ভূত রাজস্ব বলে। উদ্দীপকে কর রাজস্বের উৎসগুলো হলো- আয়কর, সম্পদ কর, মুনাফা কর, মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক ও উত্তরাধিকার কর। অন্যদিকে, কর-বহির্ভূত রাজস্বের উৎসগুলো হলো- ফি, রেলওয়ে, তার ও টেলিফোন, লাইসেন্স ফি, জরিমানা, ডাক ও রাষ্ট্রীয় কারখানা।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘাটতি অর্থায়নের উৎস দুটির তুলনাপূর্বক, কোনটি অধিকতর কার্যকর তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত অর্থ দ্বারা সরকারি ব্যয় নির্বাহ করা না গেলে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস হতে ঋণ গ্রহণ করে। সরকার দেশের জনগণ বা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যে ঋণ গ্রহণ করে, তাকে অভ্যন্তরীণ ঋণ বলে। অন্যদিকে, সরকার যদি বিদেশি সরকার, সংস্থা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ সংগ্রহ করে, তাকে বৈদেশিক ঋণ বলে। সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণ সংগ্রহে জনগণকে স্বেচ্ছায় ঋণ প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে পারে অথবা বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ স্বেচ্ছামূলক। তাছাড়া, অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধে সরকার নতুন কর আরোপ বা নতুন মুদ্রা ছাপাতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা বা স্বর্ণ আবশ্যক। অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্ষেত্রে দেশের এক শ্রেণির হাত থেকে অন্য শ্রেণির হাতে অর্থ বা সম্পদ স্থানান্তরিত হয়। তাই এ ঋণের কোনো আর্থিক ভার নেই; শুধু প্রকৃত ভার আছে। অপরদিকে, বৈদেশিক ঋণের আর্থিক ও প্রকৃত উভয় ভারই রয়েছে। উপরে উল্লিখিত কারণগুলো ছাড়াও ঋণের শর্ত, ঋণ পরিশোধের সময় ও অর্থনৈতিক কল্যাণ বিবেচনা করে দেখা যায়, বৈদেশিক ঋণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ ঋণ তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সাম্প্রতিককালে সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সে জন্য এসব খাতের বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। এসব ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার অনেক সময় দেশের জনগণ, আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে। তাছাড়া সরকার বৈদেশিক সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও ঋণ নেয়।

Barisal · 2017

ক
সরকারি অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?

উত্তর

অর্থনৈতিক বিষয়ের যে শাখা সরকারের আয়-ব্যয় ও ঋণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে।
খ
মূল্য সংযোজন করকে পরোক্ষ কর বলা হয় কেন?

উত্তর

পরোক্ষ কর বলতে ঐ করকে বোঝায় যে করের করঘাত ও করপাত ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ওপর পড়ে। অন্যকথায়, পরোক্ষ করের ক্ষেত্রে যার ওপর কর ধার্য করা হয় সে প্রাথমিকভাবে তা প্রদান করলেও পরে বর্ধিত দামের মাধ্যমে তা ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করে নিতে পারে। মূল্য সংযোজন করের ক্ষেত্রে করদাতা তার ওপর আরোপিত কর প্রদান করলেও পরে বর্ধিত দামের মাধ্যমে তা ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করে। এ জন্য এ করকে পরোক্ষ কর বলা হয়।
গ
উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

অতীতের তুলনায় বর্তমানে সরকারের অর্থনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড যথেষ্ট বেড়ে যাওয়ায় সরকারি ব্যয়ও অতীতের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আজকাল সরকার বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন, দেশ পরিচালনা ইত্যাদি কাজের জন্য অর্থ ব্যয় করে। নিচে উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ব্যাখ্যা করা হলো। ১. শিক্ষা: শিক্ষা মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটিয়ে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে সহায়তা করে বলে এ খাতে সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। সরকারি উদ্যোগে সময়ের প্রয়োজনানুযায়ী বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও সেগুলো পরিচালনা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদান, শিক্ষা খাতে অনুদান প্রভৃতি বাবদ সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। সাম্প্রতিক সময়ে সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীর বৃত্তি প্রদান, শিক্ষা উপকরণ ক্রয় বাবদ অনুদান, স্কুল ঝরে-পড়া রোধে মাসিক ভাতা প্রদান ইত্যাদির দরুন এ খাতে সরকারি ব্যয় বেড়েই চলেছে। ২. প্রতিরক্ষা: চিরাচরিতভাবেই সরকারি ব্যয়ের অন্যতম প্রধান খাত হলো প্রতিরক্ষা। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা প্রত্যেক দেশেরই সরকারের দায়িত্ব। দেশ-রক্ষার জন্য আধুনিক যুদ্ধের উপযোগী সাজ- সরঞ্জাম ক্রয়, একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলা ও তা পরিচালনা করা প্রভৃতি বাবদ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো এ দেশের সরকার একটি বিরাট অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে। ৩. সামাজিক নিরাপত্তা: সামাজিক নিরাপত্তা বিধান বর্তমানকালের সরকারি ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত, কর্মরত চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ব্যবস্থা, কর্মহীনদের জন্য বেকার ভাতা, দুর্ঘটনার শিকার এমন লোকদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান ইত্যাদির জন্য সরকারকে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়। বর্তমান সময়ে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রসারিত করায় এ খাতের ব্যয় উত্তরোত্তর বাড়ছে।
ঘ
উদ্দীপকে যে দুই ধরনের সরকারি ঋণের কথা বলা হয়েছে তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো। বাংলাদেশের জন্য কোন ধরনের ঋণ উত্তম বলে তুমি মনে কর?

উত্তর

উদ্দীপকে যে দুধরনের সরকারি ঋণের কথা বলা হয়েছে তা হলো: অভ্যন্তরীণ ঋণ ও বৈদেশিক ঋণ। এ দু ধরনের ঋণের কিছু সুবিধা- অসুবিধা রয়েছে। নিচে এ উৎস দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো: সরকারের পক্ষে অভ্যন্তরীণ উৎসগুলো থেকে ঋণ গ্রহণ করা সহজ; কারণ সরকার জনগণকে বিভিন্ন প্রবোচনা দানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করে বা বাধ্য করে খান গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু ঋণের বৈদেশিক উৎসগুলোকে ঋণ প্রদানের জন্য প্ররোচিত বা বাধ্য করা যায় না। এ দৃষ্টিকোণ থেকে অভ্যন্তরীণ বৈদেশিক ঋণের চেয়ে সুবিধাজনক। অভ্যন্তরীণ ঋণ নিতে গেলে সরকারকে কোনো শর্তের মোকাবিলা করতে হয় না। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করলে তা বিদেশিদের বেঁধে দেওয়া শর্ত পূরণ করেই ব্যবহার করা যায়। ঋণের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগৃহীত ঋণ পরিশোধে সরকার নতুন নোট ছাপিয়ে বা অধিক হারে কর ধার্য করে তা পরিশোধ করতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে স্বর্ণ ও রৌপ্য আবশ্যক হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, অভ্যন্তরীণ উৎস ঋণ গ্রহণ সুবিধাজনক। উপরিউল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে দেখা দরকার বাংলাদেশের জন্য কোন শ্রেণির ঋণ উত্তম। অভ্যন্তরীণ সরকারি ঋণ দেশে বিনিয়োগ, নিয়োগ, উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি করে। এ বর্দ্ধিত আয় দ্বারাই পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ করা যেতে পারে। কিন্তু বিদেশি ঋণ সুদা-আসলসহ পরিশোধ করতে হয় যা দেশের বাইরে চলে যায় ও আয় সৃষ্টিতে অবদান রাখে না। এটি আসলে জাতীয় আয় হ্রাস করে। তাই বাংলাদেশের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ করাই উত্তম বলে মত দেওয়া যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সাম্প্রতিককালে সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সে জন্য এসব খাতের বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। এসব ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার অনেক সময় দেশের জনগণ, আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে। তাছাড়া সরকার বৈদেশিক সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও ঋণ নেয়।

Barisal · 2017

ক
সরকারি অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?

উত্তর

অর্থনৈতিক বিষয়ের যে শাখা সরকারের আয়-ব্যয় ও ঋণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে।
খ
মূল্য সংযোজন করকে পরোক্ষ কর বলা হয় কেন?

উত্তর

পরোক্ষ কর বলতে ঐ করকে বোঝায় যে করের করঘাত ও করপাত ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ওপর পড়ে। অন্যকথায়, পরোক্ষ করের ক্ষেত্রে যার ওপর কর ধার্য করা হয় সে প্রাথমিকভাবে তা প্রদান করলেও পরে বর্ধিত দামের মাধ্যমে তা ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করে নিতে পারে। মূল্য সংযোজন করের ক্ষেত্রে করদাতা তার ওপর আরোপিত কর প্রদান করলেও পরে বর্ধিত দামের মাধ্যমে তা ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করে। এ জন্য এ করকে পরোক্ষ কর বলা হয়।
গ
উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

অতীতের তুলনায় বর্তমানে সরকারের অর্থনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড যথেষ্ট বেড়ে যাওয়ায় সরকারি ব্যয়ও অতীতের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আজকাল সরকার বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন, দেশ পরিচালনা ইত্যাদি কাজের জন্য অর্থ ব্যয় করে। নিচে উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ব্যাখ্যা করা হলো। ১. শিক্ষা: শিক্ষা মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটিয়ে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে সহায়তা করে বলে এ খাতে সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। সরকারি উদ্যোগে সময়ের প্রয়োজনানুযায়ী বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও সেগুলো পরিচালনা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদান, শিক্ষা খাতে অনুদান প্রভৃতি বাবদ সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। সাম্প্রতিক সময়ে সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীর বৃত্তি প্রদান, শিক্ষা উপকরণ ক্রয় বাবদ অনুদান, স্কুল ঝরে-পড়া রোধে মাসিক ভাতা প্রদান ইত্যাদির দরুন এ খাতে সরকারি ব্যয় বেড়েই চলেছে। ২. প্রতিরক্ষা: চিরাচরিতভাবেই সরকারি ব্যয়ের অন্যতম প্রধান খাত হলো প্রতিরক্ষা। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা প্রত্যেক দেশেরই সরকারের দায়িত্ব। দেশ-রক্ষার জন্য আধুনিক যুদ্ধের উপযোগী সাজ- সরঞ্জাম ক্রয়, একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলা ও তা পরিচালনা করা প্রভৃতি বাবদ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো এ দেশের সরকার একটি বিরাট অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে। ৩. সামাজিক নিরাপত্তা: সামাজিক নিরাপত্তা বিধান বর্তমানকালের সরকারি ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত, কর্মরত চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ব্যবস্থা, কর্মহীনদের জন্য বেকার ভাতা, দুর্ঘটনার শিকার এমন লোকদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান ইত্যাদির জন্য সরকারকে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়। বর্তমান সময়ে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রসারিত করায় এ খাতের ব্যয় উত্তরোত্তর বাড়ছে।
ঘ
উদ্দীপকে যে দুই ধরনের সরকারি ঋণের কথা বলা হয়েছে তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো। বাংলাদেশের জন্য কোন ধরনের ঋণ উত্তম বলে তুমি মনে কর?

উত্তর

উদ্দীপকে যে দুধরনের সরকারি ঋণের কথা বলা হয়েছে তা হলো: অভ্যন্তরীণ ঋণ ও বৈদেশিক ঋণ। এ দু ধরনের ঋণের কিছু সুবিধা- অসুবিধা রয়েছে। নিচে এ উৎস দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো: সরকারের পক্ষে অভ্যন্তরীণ উৎসগুলো থেকে ঋণ গ্রহণ করা সহজ; কারণ সরকার জনগণকে বিভিন্ন প্রবোচনা দানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করে বা বাধ্য করে খান গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু ঋণের বৈদেশিক উৎসগুলোকে ঋণ প্রদানের জন্য প্ররোচিত বা বাধ্য করা যায় না। এ দৃষ্টিকোণ থেকে অভ্যন্তরীণ বৈদেশিক ঋণের চেয়ে সুবিধাজনক। অভ্যন্তরীণ ঋণ নিতে গেলে সরকারকে কোনো শর্তের মোকাবিলা করতে হয় না। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করলে তা বিদেশিদের বেঁধে দেওয়া শর্ত পূরণ করেই ব্যবহার করা যায়। ঋণের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগৃহীত ঋণ পরিশোধে সরকার নতুন নোট ছাপিয়ে বা অধিক হারে কর ধার্য করে তা পরিশোধ করতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে স্বর্ণ ও রৌপ্য আবশ্যক হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, অভ্যন্তরীণ উৎস ঋণ গ্রহণ সুবিধাজনক। উপরিউল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে দেখা দরকার বাংলাদেশের জন্য কোন শ্রেণির ঋণ উত্তম। অভ্যন্তরীণ সরকারি ঋণ দেশে বিনিয়োগ, নিয়োগ, উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি করে। এ বর্দ্ধিত আয় দ্বারাই পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ করা যেতে পারে। কিন্তু বিদেশি ঋণ সুদা-আসলসহ পরিশোধ করতে হয় যা দেশের বাইরে চলে যায় ও আয় সৃষ্টিতে অবদান রাখে না। এটি আসলে জাতীয় আয় হ্রাস করে। তাই বাংলাদেশের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ করাই উত্তম বলে মত দেওয়া যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শিপলু বিদেশে বসবাস করে। সে দেশের সরকার জনগণের নিকট থেকে উচ্চ হারে কর আদায় করে এবং সেই দেশের আয়ের প্রধান খাত কর। দেশটি উন্নত না হওয়ায় প্রতি বছর অন্য দেশ থেকে অনুদান ও ঋণ গ্রহণ করে। দেশটি সামান্য-পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী অন্য দেশে রপ্তানিও করে।

Jessore · 2017

ক
কর কত প্রকার ও কী কী?

উত্তর

কর দুই প্রকার। যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর।
খ
সরকারি আয়ের উল্লেখযোগ্য উৎসসমূহ কী কী?

উত্তর

সরকারি আয়ের উল্লেখযোগ্য উৎসসমূহকে দুইভাগে ভাগ করা যায়; যথা- কর ও কর-বহির্ভূত উৎস। কর প্রধানত দুই প্রকার; যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর। আয়কর, সম্পতি কর, দান কর ইত্যাদি হলো প্রত্যক্ষ কর; অন্যদিকে মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক ইত্যাদি হলো পরোক্ষ কর। কর-বহির্ভূত আয়ের উৎসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উৎসগুলো হলো: ফি, বাণিজ্যিক আয়, সরকারি সম্পদ থেকে আয়, জরিমানা, সরকারি ঋণ, নতুন নোট ছাপানো, বিশেষ ধরনের আদায়, বাজেয়াপ্তকরণ, দান ও অনুদান ইত্যাদি।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সরকারের আয়ের খাতসমূহ কী কী?

উত্তর

কোনো দেশে সরকারি আয়ের বিভিন্ন উৎস রয়েছে। তবে উদ্দীপকে দেখা যায়, শিপলু বর্তমান যে দেশে গিয়ে বাস করছে সেখানে সরকারি আয়ের কতগুলো সুনির্দিষ্ট উৎস রয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটিতে সরকারি আয়ের উৎসমূহের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো- ১. কর: কোনো প্রকার প্রত্যক্ষ প্রাপ্তি বা উপকারের আশা না করে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কিছু শর্তাধীনে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারকে যে অর্থ প্রদান করে তাই হলো কর। এ কর দুই শ্রেণিতে বিভক্ত, যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর। প্রত্যক্ষ করের মধ্যে রয়েছে আয়কর, সম্পত্তি কর, সম্পদ কর, দান কর, মূলধনী কর, ভূমি রাজস্ব প্রবৃতি। আর পরোক্ষ করের মধ্যে রয়েছে, মূল্য সংযোজন কর, আমদানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক, প্রমোদ কর ইত্যাদি। আর পরোক্ষ করের মধ্যে রয়েছে, মূল্য সংযোজন কর, আমদানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক, প্রমোদ কর ইত্যাদি। দেশটির সরকার উচ্চ হারে বিভিন্ন কর আদায় করে বিপুল অর্থ আয় করে। ২. অনুদান: কতগুলো নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য এক দেশের সরকার অন্য দেশের সরকারকে যে অর্থ সাহায্য করে তাই হলো অনুদান। অনুদান বাবদ উদ্দীপকের দেশটি অনেক অর্থ আয় করে। ৩. ঋণ: উদ্দীপকের দেশটির সরকার ব্যয় মেটানোর জন্য দেশের অভ্যন্তরে জনসাধারণ, ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং দেশের বাইরে আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংক ইত্যাদি থেকে ঋণ গ্রহণ করে। ৪. রপ্তানি আয়: উদ্দীপকের দেশটি থেকে যেসব দ্রব্যসামগ্রী বিদেশে রপ্তানি করা হয় তার ওপর শুল্ক আরোপ করেও সরকার কিছু অর্থ আয় করে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সাথে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের খাতের মিল আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের দেশটির সরকারের আয়ের উৎসগুলোর সাথে বাংলাদেশের সরকারের আয়ের উৎসগুলোর মিল আছে কি না তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- উদ্দীপকের দেশটির সরকারের মতো বাংলাদেশের সরকারেরও আয়ের প্রধান উৎস হলো কর। বাংলাদেশ সরকার দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর আরোপ করে তার আয়ের সিংহভাগ অর্জন করে। সরকার প্রত্যক্ষ কর হিসেবে জনগণের আয় ও কোম্পানির মুনাফার ওপর আয় কর ধার্য করে প্রচুর অর্থ আয় করে। বাংলাদেশ সরকার আর একট প্রত্যক্ষ কর থেকে আয় করে; তা হলো ভূমি রাজস্ব। উদ্দীপকের দেশটির সরকারের মতো বাংলাদেশ সরকারও দ্রব্য ও সেবাকর্মের ওপর পরোক্ষ কর আরোপ করে অর্থ আয় করে। সরকারের আরোপিত প্রধান পরোক্ষ করগুলো হলো- মূল্য সংযোজন কর, আমদানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক। এছাড়া সরকার কয়েকটি কম গুরুত্বপূর্ণ পরোক্ষ কর থেকেও আয় করে; সেগুলো হলো: নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, যানবাহন শুল্ক, আমোদ-প্রমোদ কর ভোগকৃত বিদ্যুতের ওপর কর, পেট্রোল ও গ্যাসের ওপর কর, বিদেশ ভ্রমণের ওপর কর, সেচকাজ ও যন্ত্রপাতির ওপর কর ইত্যাদি। উদ্দীপকের দেশটির মতো বাংলাদেশও উন্নত নয়। এ জন্য ঐ দেশের সরকারের মতো এদেশের সরকারও বিদেশ থেকে অনুদান গ্রহণ করে। বাংলাদেশ সরকার উদ্দীপকের দেশের সরকারের মতো দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার ব্যয় নির্বাহের জন্য ঋণ গ্রহণ করে। উদ্দীপকের দশটির মতো সরকার এ ঋণ দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে সংগ্রহ করে। এসব ছাড়াও বাংলাদেশ সরকার উদ্দীপকের দেশটির সরকারের মতো রপ্তানিকৃত দ্রব্যাদির ওপর ধার্যকৃত কর তথা রপ্তানি কর থেকে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ আয় করে। সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশ সরকার উদ্দীপকের দেশটির সরকারের মতো কর ও কর-বহির্ভূত উৎস থেকে আয় করে। তবে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের এমন সব উৎস রয়েছে যা উদ্দীপকের সরকারের নেই। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সরকারের আয়ের উৎসগুলোর সাথে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসগুলোর যথেষ্ট মিল রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

শিপলু বিদেশে বসবাস করে। সে দেশের সরকার জনগণের নিকট থেকে উচ্চ হারে কর আদায় করে এবং সেই দেশের আয়ের প্রধান খাত কর। দেশটি উন্নত না হওয়ায় প্রতি বছর অন্য দেশ থেকে অনুদান ও ঋণ গ্রহণ করে। দেশটি সামান্য-পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী অন্য দেশে রপ্তানিও করে।

Jessore · 2017

ক
কর কত প্রকার ও কী কী?

উত্তর

কর দুই প্রকার। যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর।
খ
সরকারি আয়ের উল্লেখযোগ্য উৎসসমূহ কী কী?

উত্তর

সরকারি আয়ের উল্লেখযোগ্য উৎসসমূহকে দুইভাগে ভাগ করা যায়; যথা- কর ও কর-বহির্ভূত উৎস। কর প্রধানত দুই প্রকার; যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর। আয়কর, সম্পতি কর, দান কর ইত্যাদি হলো প্রত্যক্ষ কর; অন্যদিকে মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক ইত্যাদি হলো পরোক্ষ কর। কর-বহির্ভূত আয়ের উৎসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উৎসগুলো হলো: ফি, বাণিজ্যিক আয়, সরকারি সম্পদ থেকে আয়, জরিমানা, সরকারি ঋণ, নতুন নোট ছাপানো, বিশেষ ধরনের আদায়, বাজেয়াপ্তকরণ, দান ও অনুদান ইত্যাদি।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সরকারের আয়ের খাতসমূহ কী কী?

উত্তর

কোনো দেশে সরকারি আয়ের বিভিন্ন উৎস রয়েছে। তবে উদ্দীপকে দেখা যায়, শিপলু বর্তমান যে দেশে গিয়ে বাস করছে সেখানে সরকারি আয়ের কতগুলো সুনির্দিষ্ট উৎস রয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটিতে সরকারি আয়ের উৎসমূহের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো- ১. কর: কোনো প্রকার প্রত্যক্ষ প্রাপ্তি বা উপকারের আশা না করে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কিছু শর্তাধীনে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারকে যে অর্থ প্রদান করে তাই হলো কর। এ কর দুই শ্রেণিতে বিভক্ত, যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর। প্রত্যক্ষ করের মধ্যে রয়েছে আয়কর, সম্পত্তি কর, সম্পদ কর, দান কর, মূলধনী কর, ভূমি রাজস্ব প্রবৃতি। আর পরোক্ষ করের মধ্যে রয়েছে, মূল্য সংযোজন কর, আমদানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক, প্রমোদ কর ইত্যাদি। আর পরোক্ষ করের মধ্যে রয়েছে, মূল্য সংযোজন কর, আমদানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক, প্রমোদ কর ইত্যাদি। দেশটির সরকার উচ্চ হারে বিভিন্ন কর আদায় করে বিপুল অর্থ আয় করে। ২. অনুদান: কতগুলো নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য এক দেশের সরকার অন্য দেশের সরকারকে যে অর্থ সাহায্য করে তাই হলো অনুদান। অনুদান বাবদ উদ্দীপকের দেশটি অনেক অর্থ আয় করে। ৩. ঋণ: উদ্দীপকের দেশটির সরকার ব্যয় মেটানোর জন্য দেশের অভ্যন্তরে জনসাধারণ, ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং দেশের বাইরে আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংক ইত্যাদি থেকে ঋণ গ্রহণ করে। ৪. রপ্তানি আয়: উদ্দীপকের দেশটি থেকে যেসব দ্রব্যসামগ্রী বিদেশে রপ্তানি করা হয় তার ওপর শুল্ক আরোপ করেও সরকার কিছু অর্থ আয় করে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সাথে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের খাতের মিল আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের দেশটির সরকারের আয়ের উৎসগুলোর সাথে বাংলাদেশের সরকারের আয়ের উৎসগুলোর মিল আছে কি না তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- উদ্দীপকের দেশটির সরকারের মতো বাংলাদেশের সরকারেরও আয়ের প্রধান উৎস হলো কর। বাংলাদেশ সরকার দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর আরোপ করে তার আয়ের সিংহভাগ অর্জন করে। সরকার প্রত্যক্ষ কর হিসেবে জনগণের আয় ও কোম্পানির মুনাফার ওপর আয় কর ধার্য করে প্রচুর অর্থ আয় করে। বাংলাদেশ সরকার আর একট প্রত্যক্ষ কর থেকে আয় করে; তা হলো ভূমি রাজস্ব। উদ্দীপকের দেশটির সরকারের মতো বাংলাদেশ সরকারও দ্রব্য ও সেবাকর্মের ওপর পরোক্ষ কর আরোপ করে অর্থ আয় করে। সরকারের আরোপিত প্রধান পরোক্ষ করগুলো হলো- মূল্য সংযোজন কর, আমদানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক। এছাড়া সরকার কয়েকটি কম গুরুত্বপূর্ণ পরোক্ষ কর থেকেও আয় করে; সেগুলো হলো: নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, যানবাহন শুল্ক, আমোদ-প্রমোদ কর ভোগকৃত বিদ্যুতের ওপর কর, পেট্রোল ও গ্যাসের ওপর কর, বিদেশ ভ্রমণের ওপর কর, সেচকাজ ও যন্ত্রপাতির ওপর কর ইত্যাদি। উদ্দীপকের দেশটির মতো বাংলাদেশও উন্নত নয়। এ জন্য ঐ দেশের সরকারের মতো এদেশের সরকারও বিদেশ থেকে অনুদান গ্রহণ করে। বাংলাদেশ সরকার উদ্দীপকের দেশের সরকারের মতো দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার ব্যয় নির্বাহের জন্য ঋণ গ্রহণ করে। উদ্দীপকের দশটির মতো সরকার এ ঋণ দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে সংগ্রহ করে। এসব ছাড়াও বাংলাদেশ সরকার উদ্দীপকের দেশটির সরকারের মতো রপ্তানিকৃত দ্রব্যাদির ওপর ধার্যকৃত কর তথা রপ্তানি কর থেকে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ আয় করে। সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশ সরকার উদ্দীপকের দেশটির সরকারের মতো কর ও কর-বহির্ভূত উৎস থেকে আয় করে। তবে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের এমন সব উৎস রয়েছে যা উদ্দীপকের সরকারের নেই। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সরকারের আয়ের উৎসগুলোর সাথে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসগুলোর যথেষ্ট মিল রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো