Chapter 10 : মুদ্রা ও ব্যাংক Economics 1st Paper

HSC Economics 1st Paper এর Chapter 10 : মুদ্রা ও ব্যাংক অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৮৯৫

প্রশ্ন

Economics 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCEconomics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

অর্থের যোগান ও দামস্তর সম্পর্কিত তথ্য নিম্নের ছকে দেয়া হলো:- question image

Sylhet · 2017

ক
বাণিজ্যিক ব্যাংক কাকে বলে

উত্তর

মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যে ব্যাংক জনসাধারণের নিকট থেকে আমানত গ্রহণ করে এবং ব্যবসায়-বাণিজ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দান করে, তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে।
খ
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয় কেন?

উত্তর

অর্থ বাজারের অভিভাবক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেয়। দেশের তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটের সময় বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শরণাপন্ন হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ বাজারের অভিভাবক হিসেবে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোকে ঋণদানে এগিয়ে আসে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি ঋণ প্রদান করে অথবা বন্ড ও সিকিউরিটি ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দুর্দিনে তহবিলের যোগান দিয়ে থাকে। এরূপ ভূমিকার কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়।
গ
উদ্দীপকের আলোকে দামস্তর ও অর্থের যোগানের মধ্যে সম্পর্ক চিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের দামস্তর (P) ও অর্থের যোগান (M)-এর মধ্যে সম্পর্ক দেখানোর জন্য উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিমাপ গ্রহণ করে চিত্রে P= f(M)f(\mathrm{M}) রেখা তথা দামস্তর রেখা অঙ্কন করা হয়েছে। রেখাটির বিভিন্ন বিন্দুতে আনুভূমিক ও লম্ব দূরত্ব সমান হওয়ায় তা 45° রেখায় পরিণত হয়েছে। question image ফলে রেখাটি অর্থের যোগান ও দামস্তরের মধ্যে সমানুপাতিক সম্পর্ক তুলে ধরে। চিত্রে দেখা যায়, যখন অর্থের যোগান ১০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০০ কোটি এবং ২০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ কোটি টাকা হয় তখন দামস্তরও সমানুপাতিকভাবে বেড়ে যথাক্রমে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা এবং ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা হয়। সুতরাং বলা যায়, অর্থের যোগান বাড়লে দামস্তরও সমানুপাতিকভাবে বাড়ে এবং অর্থের যোগান কমলে দামস্তরও সমানুপাতিকভাবে কমে।
ঘ
অর্থের যোগান ১০০ কোটি টাকা হতে ২০০ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেলে অর্থের মূল্যের উপর কী প্রভাব পড়বে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

অর্থের যোগান ১০০ কোটি টাকা থেকে ২০০ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেলে অর্থের মূল্যের ওপর প্রভাব পড়বে। তবে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা নিচে উদ্দীপকের আলোকে রেখাচিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হলো: question image প্রদত্ত 'ক' ও 'খ' উভয় চিত্রেই ভূমি অক্ষে অর্থের যোগান (M), 'ক' চিত্রে লম্ব অক্ষে দামস্তর (P) এবং 'খ' চিত্রে লম্ব অক্ষে মুদ্রার মূল্য পরিমাপ করা হয়েছে। 'ক' চিত্রে P= f(M)f(\mathrm{M}) তথা দামস্তর রেখা 45° ও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় তা অর্থের যোগান ও দামন্তরের মধ্যে সরাসরি ও সমানুপাতিক সম্পর্ক দেখায়। question image 'খ' চিত্রে Vm=g (M) তথা অর্থের মূল্যরেখা নিম্নমুখী হওয়ায় তা অর্থের যোগান ও অর্থের মূল্যের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক দেখায়। 'ক' চিত্রে দেখা যায়, অর্থের যোগান বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ কোটি টাকা থেকে ২০০ কোটি টাকা ও ৩০০ কোটি টাকা হলে দামস্তরও বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা ও ১৫ টাকা হয়; কিন্তু এ অবস্থায় 'খ' চিত্রে অর্থের মূল্য যথাক্রমে ১/৫ থেকে কমে ১/১০ ও ১/১৫ হয়। অর্থাৎ অর্থের যোগান বৃদ্ধি পেলে দামস্তর বৃদ্ধি পায়; কিন্তু অর্থের মূল্য হ্রাস পায়। সুতরাং উদ্দীপকের প্রেক্ষিতে বলা যায়, অর্থের যোগান ১০০ কোটি থেকে হতে ২০০ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেলে অর্থের মূল্য কমে যাবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

অর্থের যোগান ও দামস্তর সম্পর্কিত তথ্য নিম্নের ছকে দেয়া হলো:- question image

Sylhet · 2017

ক
বাণিজ্যিক ব্যাংক কাকে বলে

উত্তর

মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যে ব্যাংক জনসাধারণের নিকট থেকে আমানত গ্রহণ করে এবং ব্যবসায়-বাণিজ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দান করে, তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে।
খ
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয় কেন?

উত্তর

অর্থ বাজারের অভিভাবক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেয়। দেশের তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটের সময় বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শরণাপন্ন হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ বাজারের অভিভাবক হিসেবে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোকে ঋণদানে এগিয়ে আসে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি ঋণ প্রদান করে অথবা বন্ড ও সিকিউরিটি ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দুর্দিনে তহবিলের যোগান দিয়ে থাকে। এরূপ ভূমিকার কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়।
গ
উদ্দীপকের আলোকে দামস্তর ও অর্থের যোগানের মধ্যে সম্পর্ক চিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের দামস্তর (P) ও অর্থের যোগান (M)-এর মধ্যে সম্পর্ক দেখানোর জন্য উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিমাপ গ্রহণ করে চিত্রে P= f(M)f(\mathrm{M}) রেখা তথা দামস্তর রেখা অঙ্কন করা হয়েছে। রেখাটির বিভিন্ন বিন্দুতে আনুভূমিক ও লম্ব দূরত্ব সমান হওয়ায় তা 45° রেখায় পরিণত হয়েছে। question image ফলে রেখাটি অর্থের যোগান ও দামস্তরের মধ্যে সমানুপাতিক সম্পর্ক তুলে ধরে। চিত্রে দেখা যায়, যখন অর্থের যোগান ১০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০০ কোটি এবং ২০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ কোটি টাকা হয় তখন দামস্তরও সমানুপাতিকভাবে বেড়ে যথাক্রমে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা এবং ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা হয়। সুতরাং বলা যায়, অর্থের যোগান বাড়লে দামস্তরও সমানুপাতিকভাবে বাড়ে এবং অর্থের যোগান কমলে দামস্তরও সমানুপাতিকভাবে কমে।
ঘ
অর্থের যোগান ১০০ কোটি টাকা হতে ২০০ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেলে অর্থের মূল্যের উপর কী প্রভাব পড়বে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

অর্থের যোগান ১০০ কোটি টাকা থেকে ২০০ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেলে অর্থের মূল্যের ওপর প্রভাব পড়বে। তবে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা নিচে উদ্দীপকের আলোকে রেখাচিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হলো: question image প্রদত্ত 'ক' ও 'খ' উভয় চিত্রেই ভূমি অক্ষে অর্থের যোগান (M), 'ক' চিত্রে লম্ব অক্ষে দামস্তর (P) এবং 'খ' চিত্রে লম্ব অক্ষে মুদ্রার মূল্য পরিমাপ করা হয়েছে। 'ক' চিত্রে P= f(M)f(\mathrm{M}) তথা দামস্তর রেখা 45° ও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় তা অর্থের যোগান ও দামন্তরের মধ্যে সরাসরি ও সমানুপাতিক সম্পর্ক দেখায়। question image 'খ' চিত্রে Vm=g (M) তথা অর্থের মূল্যরেখা নিম্নমুখী হওয়ায় তা অর্থের যোগান ও অর্থের মূল্যের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক দেখায়। 'ক' চিত্রে দেখা যায়, অর্থের যোগান বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ কোটি টাকা থেকে ২০০ কোটি টাকা ও ৩০০ কোটি টাকা হলে দামস্তরও বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা ও ১৫ টাকা হয়; কিন্তু এ অবস্থায় 'খ' চিত্রে অর্থের মূল্য যথাক্রমে ১/৫ থেকে কমে ১/১০ ও ১/১৫ হয়। অর্থাৎ অর্থের যোগান বৃদ্ধি পেলে দামস্তর বৃদ্ধি পায়; কিন্তু অর্থের মূল্য হ্রাস পায়। সুতরাং উদ্দীপকের প্রেক্ষিতে বলা যায়, অর্থের যোগান ১০০ কোটি থেকে হতে ২০০ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেলে অর্থের মূল্য কমে যাবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মামুন সাহেব একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন এবং বাবা-মা, ছেলে-মেয়েসহ অনেকটা কষ্টেই সংসার পরিচালনা করেন। বাসার রেফ্রিজারেটরটি নষ্ট হওয়াতে তার এক বন্ধুর কাছে টাকা ধার চাইলেন। তার বন্ধু তাকে একটি ব্যাংকে নিয়ে গেলেন এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে রেফ্রিজারেটর ক্রয় করলেন। ব্যাংক কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনি জানতে পারলেন যে এ ব্যাংক জনগণের সঞ্চয় জমা রাখে। ছোটখাট ব্যবসা করতে ব্যক্তিগত জামিনের বিপরীতে ঋণ প্রদান করে। এছাড়াও এ ধরনের ব্যাংক সমাজসেবার ক্ষেত্রে নানাবিধ কার্য সম্পাদন করে। মামুন সাহেবের জন্য বন্ধু ফয়সাল যে ব্যাংকে চাকরি করেন সে ব্যাংক দেশের অর্থবাজার নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক বিনিময় নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রা প্রচলন প্রভৃতি কাজ করে থাকে।

Chittagong · 2017

ক
মুদ্রার মূল্য কী?

উত্তর

একটি নির্দিষ্ট সময়ে এক একক মুদ্রা দ্বারা যে পরিমাণ দ্রব্য বা সেবা ক্রয় করা যায় তাই হলো মুদ্রার মূল্য।
খ
নগদ জমার অনুপাত কীভাবে মুদ্রার সরবরাহকে নিয়ন্ত্রণ করে?

উত্তর

কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদ জমার হার পরিবর্তনের মাধ্যমে ঋণের পরিমাণ সংকোচন বা সম্প্রসারণ করে মুদ্রার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদ জমার অনুপাত বাড়ালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বেশি পরিমাণে নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। তখন ব্যাংকগুলোর কাছে নগদ জমার পরিমাণ কমে গেলে তাদের ঋণদান ক্ষমতা কমে; এ অবস্থায় বাজারে ঋণের পরিমাণ কমে গেলে মুদ্রার যোগান কমে। আবার নগদ জমার অনুপাত কমানো হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কম পরিমাণ নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয় বলে তাদের ঋণদানের ক্ষমতা বাড়ে; তখন ঋণের পরিমাণ তথা মুদ্রার সরবরাহ বাড়ে। নগদ জমার অনুপাত এভাবে মুদ্রার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত যে ব্যাংক থেকে মামুন সাহেব ঋণ নিয়েছেন সেই ব্যাংকের প্রধান তিনটি কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত যে ব্যাংক থেকে মামুন সাহেব ঋণ নিয়েছেন তাহলো একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। উদ্দীপক অনুযায়ী এ ব্যাংকের প্রধান তিনটি কার্যাবলি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কাজ হলো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় বা উদ্বৃত্ত অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করা। আমানত তিন রকম যথা: চলতি আমানত, সঞ্চয়ী আমানত ও স্থায়ী আমানত। ব্যাংক, চলতি আমানতের অর্থ চাওয়ামাত্র আমানতকারীকে ফেরত দেয়। এ জন্য এক্ষেত্রে কোনো সুদ দেওয়া হয় না। সঞ্চয় আমানত থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় অর্থ উঠানো যায়, যখন স্থায়ী আমানত থেকে কেবল মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরই অর্থ উঠানো যায়। ব্যাংক, সঞ্চয়ী আমানতের জন্য অল্প হারে এবং স্থায়ী আমানতের জন্য অপক্ষোকৃত বেশি হারে সুদ দেয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ঋণ প্রদান করা। এ ব্যাংক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিভিন্ন উৎপাদনশীল কাজ এমনকি ভোগের ক্ষেত্রেও উপযুক্ত জামানতের বিপরীতে সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো নোট প্রচলনের ক্ষমতা না থাকলেও তার প্রদত্ত চেক বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া এ ব্যাংক, ব্যাংক ড্রাফট, ভ্রমণকারীর ঋণপত্র, হুন্ডি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত মামুন সাহেব ও ফয়সাল সাহেব যে দু'টো ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত সেই দুটো ব্যাংকের মধ্যে পার্থক্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকটি পড়ে জানা যায়, মামুন সাহেব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও তার বন্ধু ফয়সাল সাহেব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত। এ দুটি ব্যাংকের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে বিস্তর পার্থক্য লক্ষ করা যায়। পৃথিবীর প্রত্যেক দেশেই একটিমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক থাকে; কিন্তু কোনো দেশে অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক থাকতে পারে। কোনো দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ভার সরকারের ওপর ন্যস্ত থাকে, যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংক বেসরকারি মালিকানায় ও নিয়ন্ত্রাধীনে পরিচালিত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশে কাগজি নোট ও ধাতব মুদ্রা প্রচলনের একচেটিয়া অধিকার ভোগ করে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এরূপ কোনো ক্ষমতা নেই, তবে তারা যে চেকের মাধ্যমে লেনদেন করে তা সীমিত পর্যায় বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য হলো সর্বাধিক জনকল্যাণ সাধন, মুনাফা অর্জন নয়। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের একমাত্র লক্ষ্য হলো সর্বাধিক সম্ভব মুনাফা অর্জন করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনগণের নিকট হতে কখনো অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে না এবং জনসাধারণকে ঋণও প্রদান করে না। কিন্তু বাণিজ্যিক বাংকের অন্যতম প্রধান কাজ হলো জনগণের অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের কারবার করে না; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজই হলো জনসাধারণকে বিভিন্ন সুদের হারে ঋণ প্রদান করে মুনাফা অর্জন করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রা বাজারের অভিভাবক বা প্রধান। অপরপক্ষে বাণিজ্যিক ব্যাংক এর অধীন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আদেশ ও উপদেশ অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংক কাজ করে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত মামুন সাহেব ও ফয়সাল সাহেব যে দুটো ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত সে দুটো ব্যাংকের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মামুন সাহেব একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন এবং বাবা-মা, ছেলে-মেয়েসহ অনেকটা কষ্টেই সংসার পরিচালনা করেন। বাসার রেফ্রিজারেটরটি নষ্ট হওয়াতে তার এক বন্ধুর কাছে টাকা ধার চাইলেন। তার বন্ধু তাকে একটি ব্যাংকে নিয়ে গেলেন এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে রেফ্রিজারেটর ক্রয় করলেন। ব্যাংক কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনি জানতে পারলেন যে এ ব্যাংক জনগণের সঞ্চয় জমা রাখে। ছোটখাট ব্যবসা করতে ব্যক্তিগত জামিনের বিপরীতে ঋণ প্রদান করে। এছাড়াও এ ধরনের ব্যাংক সমাজসেবার ক্ষেত্রে নানাবিধ কার্য সম্পাদন করে। মামুন সাহেবের জন্য বন্ধু ফয়সাল যে ব্যাংকে চাকরি করেন সে ব্যাংক দেশের অর্থবাজার নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক বিনিময় নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রা প্রচলন প্রভৃতি কাজ করে থাকে।

Chittagong · 2017

ক
মুদ্রার মূল্য কী?

উত্তর

একটি নির্দিষ্ট সময়ে এক একক মুদ্রা দ্বারা যে পরিমাণ দ্রব্য বা সেবা ক্রয় করা যায় তাই হলো মুদ্রার মূল্য।
খ
নগদ জমার অনুপাত কীভাবে মুদ্রার সরবরাহকে নিয়ন্ত্রণ করে?

উত্তর

কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদ জমার হার পরিবর্তনের মাধ্যমে ঋণের পরিমাণ সংকোচন বা সম্প্রসারণ করে মুদ্রার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদ জমার অনুপাত বাড়ালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বেশি পরিমাণে নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। তখন ব্যাংকগুলোর কাছে নগদ জমার পরিমাণ কমে গেলে তাদের ঋণদান ক্ষমতা কমে; এ অবস্থায় বাজারে ঋণের পরিমাণ কমে গেলে মুদ্রার যোগান কমে। আবার নগদ জমার অনুপাত কমানো হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কম পরিমাণ নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয় বলে তাদের ঋণদানের ক্ষমতা বাড়ে; তখন ঋণের পরিমাণ তথা মুদ্রার সরবরাহ বাড়ে। নগদ জমার অনুপাত এভাবে মুদ্রার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত যে ব্যাংক থেকে মামুন সাহেব ঋণ নিয়েছেন সেই ব্যাংকের প্রধান তিনটি কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত যে ব্যাংক থেকে মামুন সাহেব ঋণ নিয়েছেন তাহলো একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। উদ্দীপক অনুযায়ী এ ব্যাংকের প্রধান তিনটি কার্যাবলি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কাজ হলো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় বা উদ্বৃত্ত অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করা। আমানত তিন রকম যথা: চলতি আমানত, সঞ্চয়ী আমানত ও স্থায়ী আমানত। ব্যাংক, চলতি আমানতের অর্থ চাওয়ামাত্র আমানতকারীকে ফেরত দেয়। এ জন্য এক্ষেত্রে কোনো সুদ দেওয়া হয় না। সঞ্চয় আমানত থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় অর্থ উঠানো যায়, যখন স্থায়ী আমানত থেকে কেবল মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরই অর্থ উঠানো যায়। ব্যাংক, সঞ্চয়ী আমানতের জন্য অল্প হারে এবং স্থায়ী আমানতের জন্য অপক্ষোকৃত বেশি হারে সুদ দেয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ঋণ প্রদান করা। এ ব্যাংক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিভিন্ন উৎপাদনশীল কাজ এমনকি ভোগের ক্ষেত্রেও উপযুক্ত জামানতের বিপরীতে সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো নোট প্রচলনের ক্ষমতা না থাকলেও তার প্রদত্ত চেক বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া এ ব্যাংক, ব্যাংক ড্রাফট, ভ্রমণকারীর ঋণপত্র, হুন্ডি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত মামুন সাহেব ও ফয়সাল সাহেব যে দু'টো ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত সেই দুটো ব্যাংকের মধ্যে পার্থক্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকটি পড়ে জানা যায়, মামুন সাহেব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও তার বন্ধু ফয়সাল সাহেব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত। এ দুটি ব্যাংকের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে বিস্তর পার্থক্য লক্ষ করা যায়। পৃথিবীর প্রত্যেক দেশেই একটিমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক থাকে; কিন্তু কোনো দেশে অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক থাকতে পারে। কোনো দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ভার সরকারের ওপর ন্যস্ত থাকে, যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংক বেসরকারি মালিকানায় ও নিয়ন্ত্রাধীনে পরিচালিত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশে কাগজি নোট ও ধাতব মুদ্রা প্রচলনের একচেটিয়া অধিকার ভোগ করে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এরূপ কোনো ক্ষমতা নেই, তবে তারা যে চেকের মাধ্যমে লেনদেন করে তা সীমিত পর্যায় বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য হলো সর্বাধিক জনকল্যাণ সাধন, মুনাফা অর্জন নয়। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের একমাত্র লক্ষ্য হলো সর্বাধিক সম্ভব মুনাফা অর্জন করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনগণের নিকট হতে কখনো অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে না এবং জনসাধারণকে ঋণও প্রদান করে না। কিন্তু বাণিজ্যিক বাংকের অন্যতম প্রধান কাজ হলো জনগণের অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের কারবার করে না; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজই হলো জনসাধারণকে বিভিন্ন সুদের হারে ঋণ প্রদান করে মুনাফা অর্জন করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রা বাজারের অভিভাবক বা প্রধান। অপরপক্ষে বাণিজ্যিক ব্যাংক এর অধীন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আদেশ ও উপদেশ অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংক কাজ করে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত মামুন সাহেব ও ফয়সাল সাহেব যে দুটো ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত সে দুটো ব্যাংকের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

একটি দেশের মুদ্রা সম্পর্কিত তথ্য নিম্নরূপ। মোট বিহিত অর্থের পরিমাণ- ৩০০ কোটি, অর্থের প্রচলন গতি =২০, ব্যাংক অর্থের পরিমাণ = ১০০ কোটি এবং ব্যাংক অর্থের প্রচলন গতি = ৫. মোট বাণিজ্যের পরিমাণ = ১৩০ একক।

Jessore · 2017

ক
বানিজ্যিক ব্যাংক কী?

উত্তর

যে ব্যাংক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে মুদ্রা ও মুদ্রার মূল্য নিরূপণযোগ্য পণ্যদ্রব্যের লেনদেন করে তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে।
খ
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেলে অর্থের মূল্যের ওপর কি প্রভাব পড়ে?

উত্তর

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেলে অর্থের মূল্যের ওপর ঋণাত্মক প্রভাব পড়ে অর্থাৎ অর্থের মূল্য কমতে থাকে। যখন দ্রব্যমূল্য কমে তখন এক একক অর্থ দ্বারা আগের চেয়ে বেশি পরিমাণ দ্রব্য ক্রয় করা যায় বলে সেক্ষেত্রে অর্থের মূল্য বাড়ে। আবার দ্রব্যমূল্য বাড়লে এক একক অর্থ দ্বারা আগের চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করা যায় বলে সেক্ষেত্রে অর্থের মূল্য কমে। তাই বলা যায়, দ্রব্যমূল্য ও অর্থের মূল্যের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেলে অর্থের মূল্য কমে।
গ
উদ্দীপকের আলোকে দামস্তর নির্ণয় করো।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রদত্ত তথ্যের আলোকে দামস্তর নির্ণয় করা হলো- আমরা জানি, ফিশারের সম্প্রসারিত বিনিময় সমীকরণটি হলো: MV+M′V′=PTM V+M^{\prime} V^{\prime}=P T বা P=MV+M′V′T\mathrm{P}=\frac{\mathrm{MV}+\mathrm{M}^{\prime} \mathrm{V}^{\prime}}{\mathrm{T}} যেখানে M = মোট বিহিত অর্থের পরিমাণ, V = অর্থের প্রচলন গতি, M′=M^{\prime} = ব্যাংক অর্থের পরিমাণ, V′V^{\prime} ব্যাংক অর্থের প্রচলন গতি, T = লেনদেনের পরিমাণ এবং P = দামস্তর। এখন, ফিশারের বিনিময় সমীকরণে অর্থবাজার সম্পর্কিত প্রদত্ত তথ্যসমূহের মান বসিয়ে পাই- P=MV+M′V′TP=\frac{M V+M^{\prime} V^{\prime}}{T} =৩০০×২০+১০০×৫১৩০[=\frac{৩০০ \times ২০+১০০ \times ৫}{১৩০}[ সমীকরণে মান বসিয়ে] =৬০০০+৫০০১৩০=\frac{৬০০০+৫০০}{১৩০} = ৫০ উদ্দীপকের আলোকে দামস্তর (P) = ৫০
ঘ
বিহিত মুদ্রা ও ব্যাংক সৃষ্ট মুদ্রার প্রচলন গতি যথাক্রমে ৫ ও ১০ বৃদ্ধি পেলে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

বিহিত মুদ্রা ও ব্যাংক সৃষ্ট মুদ্রার প্রচলন গতি যথাক্রমে ৫ ও ১০ বৃদ্ধি পেলে দামস্তর বৃদ্ধি পাবে, দামস্তর বৃদ্ধি পেলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হবে বা অর্থের মূল্য কমে যাবে। পূর্বে বিহিত মুদ্রার প্রচলন গতি (V) এর পরিমাণ ২০ এবং ব্যাংক সৃষ্ট মুদ্রার প্রচলন গতি (V′)V^{\prime}) এর পরিমাণ ৫ হওয়ায় দামস্তর (P) নির্ধারিত হয়েছিল ৫০। এখন বিহিত মুদ্রার প্রচলন গতি (V) এর পরিমাণ ৫ বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ এবং ব্যাংক সৃষ্ট মুদ্রার প্রচলন গতি (V′)V^{\prime}) এর পরিমাণ ১০ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ হওয়ায় P এর নিম্নোক্ত মান পাওয়া যায়: P=MV+M′V′TP=\frac{M V+M^{\prime} V^{\prime}}{T} =৩০০×২৫+১০০×১৫১৩০=\frac{৩০০ \times ২৫+১০০ \times ১৫}{১৩০} [সমীকরণে মান বসিয়ে] =৭৫০০+১৫০০১৩০=\frac{৭৫০০+১৫০০}{১৩০} = ৬৯.২৩ দামস্তর পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি হবে। মূল্যস্ফীতির প্রভাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হবে: মুদ্রাস্ফীতি হলে উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীগণ লাভবান হয়। কারণ, দামস্তর বৃদ্ধির সাথে সাথে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায় না, ফলে উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করতে পারে। তবে দামস্তর বৃদ্ধির ফলে ক্রেতা ও ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তারা পূর্বের তুলনায় সমপরিমাণ অর্থ দ্বারা কম পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করতে পারে। এছাড়াও দামস্তর বৃদ্ধির ফলে রপ্তানির পরিমাণ কমে যায় এবং আমদানির পরিমাণ বেড়ে যায়। সর্বোপরি মুদ্রাস্ফীতির ফলে ধনবৈষম্য বৃদ্ধি পেয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়, যা সামাজিক বিশৃঙ্খলা ডেকে আনতে পারে। সুতরাং, মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব অর্থনীতির জন্য সুখকর নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCEconomics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

একটি দেশের মুদ্রা সম্পর্কিত তথ্য নিম্নরূপ। মোট বিহিত অর্থের পরিমাণ- ৩০০ কোটি, অর্থের প্রচলন গতি =২০, ব্যাংক অর্থের পরিমাণ = ১০০ কোটি এবং ব্যাংক অর্থের প্রচলন গতি = ৫. মোট বাণিজ্যের পরিমাণ = ১৩০ একক।

Jessore · 2017

ক
বানিজ্যিক ব্যাংক কী?

উত্তর

যে ব্যাংক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে মুদ্রা ও মুদ্রার মূল্য নিরূপণযোগ্য পণ্যদ্রব্যের লেনদেন করে তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে।
খ
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেলে অর্থের মূল্যের ওপর কি প্রভাব পড়ে?

উত্তর

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেলে অর্থের মূল্যের ওপর ঋণাত্মক প্রভাব পড়ে অর্থাৎ অর্থের মূল্য কমতে থাকে। যখন দ্রব্যমূল্য কমে তখন এক একক অর্থ দ্বারা আগের চেয়ে বেশি পরিমাণ দ্রব্য ক্রয় করা যায় বলে সেক্ষেত্রে অর্থের মূল্য বাড়ে। আবার দ্রব্যমূল্য বাড়লে এক একক অর্থ দ্বারা আগের চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করা যায় বলে সেক্ষেত্রে অর্থের মূল্য কমে। তাই বলা যায়, দ্রব্যমূল্য ও অর্থের মূল্যের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেলে অর্থের মূল্য কমে।
গ
উদ্দীপকের আলোকে দামস্তর নির্ণয় করো।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রদত্ত তথ্যের আলোকে দামস্তর নির্ণয় করা হলো- আমরা জানি, ফিশারের সম্প্রসারিত বিনিময় সমীকরণটি হলো: MV+M′V′=PTM V+M^{\prime} V^{\prime}=P T বা P=MV+M′V′T\mathrm{P}=\frac{\mathrm{MV}+\mathrm{M}^{\prime} \mathrm{V}^{\prime}}{\mathrm{T}} যেখানে M = মোট বিহিত অর্থের পরিমাণ, V = অর্থের প্রচলন গতি, M′=M^{\prime} = ব্যাংক অর্থের পরিমাণ, V′V^{\prime} ব্যাংক অর্থের প্রচলন গতি, T = লেনদেনের পরিমাণ এবং P = দামস্তর। এখন, ফিশারের বিনিময় সমীকরণে অর্থবাজার সম্পর্কিত প্রদত্ত তথ্যসমূহের মান বসিয়ে পাই- P=MV+M′V′TP=\frac{M V+M^{\prime} V^{\prime}}{T} =৩০০×২০+১০০×৫১৩০[=\frac{৩০০ \times ২০+১০০ \times ৫}{১৩০}[ সমীকরণে মান বসিয়ে] =৬০০০+৫০০১৩০=\frac{৬০০০+৫০০}{১৩০} = ৫০ উদ্দীপকের আলোকে দামস্তর (P) = ৫০
ঘ
বিহিত মুদ্রা ও ব্যাংক সৃষ্ট মুদ্রার প্রচলন গতি যথাক্রমে ৫ ও ১০ বৃদ্ধি পেলে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

বিহিত মুদ্রা ও ব্যাংক সৃষ্ট মুদ্রার প্রচলন গতি যথাক্রমে ৫ ও ১০ বৃদ্ধি পেলে দামস্তর বৃদ্ধি পাবে, দামস্তর বৃদ্ধি পেলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হবে বা অর্থের মূল্য কমে যাবে। পূর্বে বিহিত মুদ্রার প্রচলন গতি (V) এর পরিমাণ ২০ এবং ব্যাংক সৃষ্ট মুদ্রার প্রচলন গতি (V′)V^{\prime}) এর পরিমাণ ৫ হওয়ায় দামস্তর (P) নির্ধারিত হয়েছিল ৫০। এখন বিহিত মুদ্রার প্রচলন গতি (V) এর পরিমাণ ৫ বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ এবং ব্যাংক সৃষ্ট মুদ্রার প্রচলন গতি (V′)V^{\prime}) এর পরিমাণ ১০ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ হওয়ায় P এর নিম্নোক্ত মান পাওয়া যায়: P=MV+M′V′TP=\frac{M V+M^{\prime} V^{\prime}}{T} =৩০০×২৫+১০০×১৫১৩০=\frac{৩০০ \times ২৫+১০০ \times ১৫}{১৩০} [সমীকরণে মান বসিয়ে] =৭৫০০+১৫০০১৩০=\frac{৭৫০০+১৫০০}{১৩০} = ৬৯.২৩ দামস্তর পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি হবে। মূল্যস্ফীতির প্রভাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হবে: মুদ্রাস্ফীতি হলে উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীগণ লাভবান হয়। কারণ, দামস্তর বৃদ্ধির সাথে সাথে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায় না, ফলে উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করতে পারে। তবে দামস্তর বৃদ্ধির ফলে ক্রেতা ও ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তারা পূর্বের তুলনায় সমপরিমাণ অর্থ দ্বারা কম পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করতে পারে। এছাড়াও দামস্তর বৃদ্ধির ফলে রপ্তানির পরিমাণ কমে যায় এবং আমদানির পরিমাণ বেড়ে যায়। সর্বোপরি মুদ্রাস্ফীতির ফলে ধনবৈষম্য বৃদ্ধি পেয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়, যা সামাজিক বিশৃঙ্খলা ডেকে আনতে পারে। সুতরাং, মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব অর্থনীতির জন্য সুখকর নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো