Chapter 8 : জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি Civics 1st Paper

HSC Civics 1st Paper এর Chapter 8 : জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২৭৯

প্রশ্ন

Civics 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'ক' রাষ্ট্রে জনগণ মনে করে যে, রাজনীতি নাগরিকের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। রাজনীতিতে তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে সুসংহত করছে। রাজনীতি সম্পর্কে 'ক' রাষ্ট্রের জনগণের ইতিবাচক ধারণাই তাদের সক্রিয় হতে উদ্বুদ্ধ করে। [রংপুর সরকারি কলেজ]
ক
"Voice of People is the Voice of God" উক্তিটি কে করেছেন?

উত্তর

Voice of people is the Voice of God- উক্তিটি করেছেন ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো।
খ
রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

প্রাচীনকাল থেকেই রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে মানুষ যেসব চিন্তাভাবনা করেছে এবং যা কিছু উদ্ভাবন করেছে তার সমষ্টিকেই বলা হয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বস্তুত রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো বিভিন্ন রাজনৈতিক। কর্মকান্ডের ফসল। সর্বোপরি রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিত সেই মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধকে বোঝায়, যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও মূল্যবোধকে নিয়ন্ত্রণ করে।
গ
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে কোন ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিদ্যমান? বর্ণনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিদ্যমান। যেখানে জনগণ রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সরকার, দাবিদাওয়া, সরকারি সিদ্ধান্ত ও নিয়মনীতি এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার সদস্য হিসেবে নিজের অধিকার ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি। উন্নত সমাজগুলোতে এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি লক্ষণীয়। এরূপ সমাজে জনগণ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে থাকে। উদ্দীপকে লক্ষ করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রের জনগণ মনে করে যে, রাজনীতি নাগরিকের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে সুসংহত করছে। রাজনীতি সম্পর্কে 'ক' রাষ্ট্রের জনগণকে ইতিবাচক ধারণাই তাদের সক্রিয় হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের এই সকল বৈশিষ্ট্য অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।
ঘ
'ক' রাষ্ট্রে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

'ক' রাষ্ট্রের বিদ্যমান অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গণতন্ত্র বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। গণতান্ত্রিক মনোভাব দ্বারা রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকশিত হলে জাতীয় সংহতি দৃঢ় ও শক্তিশালী হয় এবং সার্বিক অর্থে রাষ্ট্রের উন্নয়ন সাধিত হয়। উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকে। উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর জনগণের আস্থা থাকে। আর জনগণের আস্থার ওপর শাসক কর্তৃপক্ষের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে রাষ্ট্রব্যবস্থা কোনো সাম্প্রদায়িক স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয় না। কিন্তু অনুন্নত রাষ্ট্রগুলোতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি যথাযথ ও সুষ্ঠুভাবে বিকাশ লাভ না করায় সেসব রাষ্ট্রে গণতন্ত্র বিতর্কিত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটলে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি হয়। জনগণের অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়। ফলে সুশাসন বাধাপ্রাপ্ত হয়। এজন্য গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার জন্য এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

'ক' রাষ্ট্রে জনগণ মনে করে যে, রাজনীতি নাগরিকের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। রাজনীতিতে তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে সুসংহত করছে। রাজনীতি সম্পর্কে 'ক' রাষ্ট্রের জনগণের ইতিবাচক ধারণাই তাদের সক্রিয় হতে উদ্বুদ্ধ করে। [রংপুর সরকারি কলেজ]
ক
"Voice of People is the Voice of God" উক্তিটি কে করেছেন?

উত্তর

Voice of people is the Voice of God- উক্তিটি করেছেন ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো।
খ
রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

প্রাচীনকাল থেকেই রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে মানুষ যেসব চিন্তাভাবনা করেছে এবং যা কিছু উদ্ভাবন করেছে তার সমষ্টিকেই বলা হয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বস্তুত রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো বিভিন্ন রাজনৈতিক। কর্মকান্ডের ফসল। সর্বোপরি রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিত সেই মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধকে বোঝায়, যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও মূল্যবোধকে নিয়ন্ত্রণ করে।
গ
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে কোন ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিদ্যমান? বর্ণনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিদ্যমান। যেখানে জনগণ রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সরকার, দাবিদাওয়া, সরকারি সিদ্ধান্ত ও নিয়মনীতি এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার সদস্য হিসেবে নিজের অধিকার ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি। উন্নত সমাজগুলোতে এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি লক্ষণীয়। এরূপ সমাজে জনগণ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে থাকে। উদ্দীপকে লক্ষ করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রের জনগণ মনে করে যে, রাজনীতি নাগরিকের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে সুসংহত করছে। রাজনীতি সম্পর্কে 'ক' রাষ্ট্রের জনগণকে ইতিবাচক ধারণাই তাদের সক্রিয় হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের এই সকল বৈশিষ্ট্য অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।
ঘ
'ক' রাষ্ট্রে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

'ক' রাষ্ট্রের বিদ্যমান অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গণতন্ত্র বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। গণতান্ত্রিক মনোভাব দ্বারা রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকশিত হলে জাতীয় সংহতি দৃঢ় ও শক্তিশালী হয় এবং সার্বিক অর্থে রাষ্ট্রের উন্নয়ন সাধিত হয়। উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকে। উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর জনগণের আস্থা থাকে। আর জনগণের আস্থার ওপর শাসক কর্তৃপক্ষের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে রাষ্ট্রব্যবস্থা কোনো সাম্প্রদায়িক স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয় না। কিন্তু অনুন্নত রাষ্ট্রগুলোতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি যথাযথ ও সুষ্ঠুভাবে বিকাশ লাভ না করায় সেসব রাষ্ট্রে গণতন্ত্র বিতর্কিত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটলে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি হয়। জনগণের অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়। ফলে সুশাসন বাধাপ্রাপ্ত হয়। এজন্য গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার জন্য এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

টকশো প্রতিটি টিভি চ্যানেলের প্রতি রাতের এই ধরনের অনুষ্ঠানে। দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক বিষয়গুলোর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। দেশের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কিত অভিজ্ঞ। ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করে। সুতরাং এই ধরনের অনুষ্ঠান জনগণের মধ্যে কল্যাণকামী ও যুক্তিসংগত মতামত গড়ে তুলতে সাহায্য করে। [চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ]
ক
রাজনৈতিক সংস্কৃতি কী?

উত্তর

রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো সেসব মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধ যা মানুষের আচরণ ও মূল্যবোধকে নিয়ন্ত্রণ করে।
খ
রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক লেখ।

উত্তর

রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের মধ্যে কার্যক্ষেত্রে গভীর সম্পর্ক লক্ষ করা যায়। রাজনৈতিক সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে অর্থবহ করে তোলে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি দ্বারা উদ্দীপ্ত জনগোষ্ঠী রাজনৈতিকভাবে সংস্কৃতিবান থাকে বলেই রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ জনমতকে উপেক্ষা করতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরাজমান উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর গণতন্ত্রের সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। অন্যদিকে, গণতন্ত্রের আদর্শে উজ্জীবিত জনগোষ্ঠী রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকাশের অপরিহার্য শর্ত হিসেবেও প্রভাব রাখে। ফলে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতন্ত্র পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত এবং একটির অগ্রগতি অন্যটির অগ্রগতিকে প্রভাবান্বিত করে।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি তোমার পাঠ্য বিষয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের সমস্ত আবহে জনমতের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে। জনমত যেকোনো বিষয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। জনমতের চাপে সরকার অনেক কাজ করতে বাধ্য থাকে। উদ্দীপকে গার্মেন্টস কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে গড়ে উঠা জনমতের প্রভাবে সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়। সাধারণ অর্থে, জনমত অর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত। অন্যদিকে পৌরনীতির ভাষায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে প্রভাবশালী, যুক্তিসংগত, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়। জনমত সাধারণ জনগণের বৃহত্তর স্বার্থসংশ্লিষ্ট, সুনির্দিষ্ট, জনকল্যাণমূলক এবং যুক্তিভিত্তিক হয়। এটি পরিবর্তনশীল একটি বিষয়। কেননা এখন যা জনমতের পক্ষে কিছুদিন পর এর পক্ষে জনমত নাও থাকতে পারে। আবার যে'ইস্যু নিয়ে এখন জনমত গড়ে উঠেছে, কিছুদিন পরে তার গুরুত্ব নাও থাকতে পারে। পরিবার, সমাজ, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সাহিত্য, সভা-সমাবেশ জনমত গঠনের পক্ষে কাজ করে। বর্তমানকালের ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো (যেমন- facebook, twitter, blooger প্রভৃতি) জনমত গঠনের এক শক্তিশালী মাধ্যম।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত কল্যাণকামী ও যুক্তিসংগত মতামত গঠনের মাধ্যমটির গুরুত্ব, বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত কল্যাণকামী ও যুক্তিসংগত মতামত গঠনের, মাধ্যমটি হলো গণমাধ্যম যার গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো টিভি চ্যানেলসমূহ। আর টিভি চ্যানেলসমূহ জনমত গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় সমস্যা বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রচার করে সকল শ্রেণির মানুষকে সহজে বোঝানো যায়। এর ফলে জনগণও জনকল্যাণার্থে মতামত প্রকাশ করে। এছাড়াও বর্তমান সময়ে যেকোনো নির্বাচনের আগে প্রতিটি প্রার্থীই টেলিভিশনে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণও তাদেরকে প্রশ্ন করে এবং তার প্রতি জনগণের কৌতূহল জানতে পারে। আর এ বিষয়গুলো শিক্ষিত, অশিক্ষিত সবাই টেলিভিশনে দেখে সঠিক ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের জন্য তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। এভাবে টেলিভিশন ও তাতে প্রচারিত অনুষ্ঠানমালা জনমত গঠনে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে থাকে। আমরা উদ্দীপকেও দেখি টেলিভিশন টকশোর মাধ্যমে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হয়। এতে অংশগ্রহণ করে বিশিষ্টবর্গ। যা প্রচারিত হয় দেশব্যাপী। এভাবে টেলিভিশন জনমত গঠনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

টকশো প্রতিটি টিভি চ্যানেলের প্রতি রাতের এই ধরনের অনুষ্ঠানে। দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক বিষয়গুলোর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। দেশের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কিত অভিজ্ঞ। ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করে। সুতরাং এই ধরনের অনুষ্ঠান জনগণের মধ্যে কল্যাণকামী ও যুক্তিসংগত মতামত গড়ে তুলতে সাহায্য করে। [চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ]
ক
রাজনৈতিক সংস্কৃতি কী?

উত্তর

রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো সেসব মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধ যা মানুষের আচরণ ও মূল্যবোধকে নিয়ন্ত্রণ করে।
খ
রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক লেখ।

উত্তর

রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের মধ্যে কার্যক্ষেত্রে গভীর সম্পর্ক লক্ষ করা যায়। রাজনৈতিক সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে অর্থবহ করে তোলে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি দ্বারা উদ্দীপ্ত জনগোষ্ঠী রাজনৈতিকভাবে সংস্কৃতিবান থাকে বলেই রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ জনমতকে উপেক্ষা করতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরাজমান উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর গণতন্ত্রের সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। অন্যদিকে, গণতন্ত্রের আদর্শে উজ্জীবিত জনগোষ্ঠী রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকাশের অপরিহার্য শর্ত হিসেবেও প্রভাব রাখে। ফলে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতন্ত্র পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত এবং একটির অগ্রগতি অন্যটির অগ্রগতিকে প্রভাবান্বিত করে।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি তোমার পাঠ্য বিষয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের সমস্ত আবহে জনমতের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে। জনমত যেকোনো বিষয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। জনমতের চাপে সরকার অনেক কাজ করতে বাধ্য থাকে। উদ্দীপকে গার্মেন্টস কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে গড়ে উঠা জনমতের প্রভাবে সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়। সাধারণ অর্থে, জনমত অর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত। অন্যদিকে পৌরনীতির ভাষায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে প্রভাবশালী, যুক্তিসংগত, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়। জনমত সাধারণ জনগণের বৃহত্তর স্বার্থসংশ্লিষ্ট, সুনির্দিষ্ট, জনকল্যাণমূলক এবং যুক্তিভিত্তিক হয়। এটি পরিবর্তনশীল একটি বিষয়। কেননা এখন যা জনমতের পক্ষে কিছুদিন পর এর পক্ষে জনমত নাও থাকতে পারে। আবার যে'ইস্যু নিয়ে এখন জনমত গড়ে উঠেছে, কিছুদিন পরে তার গুরুত্ব নাও থাকতে পারে। পরিবার, সমাজ, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সাহিত্য, সভা-সমাবেশ জনমত গঠনের পক্ষে কাজ করে। বর্তমানকালের ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো (যেমন- facebook, twitter, blooger প্রভৃতি) জনমত গঠনের এক শক্তিশালী মাধ্যম।
ঘ
উদ্দীপকে বর্ণিত কল্যাণকামী ও যুক্তিসংগত মতামত গঠনের মাধ্যমটির গুরুত্ব, বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত কল্যাণকামী ও যুক্তিসংগত মতামত গঠনের, মাধ্যমটি হলো গণমাধ্যম যার গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো টিভি চ্যানেলসমূহ। আর টিভি চ্যানেলসমূহ জনমত গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় সমস্যা বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রচার করে সকল শ্রেণির মানুষকে সহজে বোঝানো যায়। এর ফলে জনগণও জনকল্যাণার্থে মতামত প্রকাশ করে। এছাড়াও বর্তমান সময়ে যেকোনো নির্বাচনের আগে প্রতিটি প্রার্থীই টেলিভিশনে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণও তাদেরকে প্রশ্ন করে এবং তার প্রতি জনগণের কৌতূহল জানতে পারে। আর এ বিষয়গুলো শিক্ষিত, অশিক্ষিত সবাই টেলিভিশনে দেখে সঠিক ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের জন্য তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। এভাবে টেলিভিশন ও তাতে প্রচারিত অনুষ্ঠানমালা জনমত গঠনে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে থাকে। আমরা উদ্দীপকেও দেখি টেলিভিশন টকশোর মাধ্যমে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হয়। এতে অংশগ্রহণ করে বিশিষ্টবর্গ। যা প্রচারিত হয় দেশব্যাপী। এভাবে টেলিভিশন জনমত গঠনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image [বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ]
ক
রাজনৈতিক সংস্কৃতি কী?

উত্তর

রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো সেসব মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধ, যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও মূল্যবোধকে নিয়ন্ত্রণ করে।
খ
সংবাদপত্র কীভাবে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে?

উত্তর

সংবাদপত্র জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনগণ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংবাদ, তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যাদির ওপর মতামত ব্যক্ত করে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দেশের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষাবিদ ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের অভিমত জনসম্মুখে তুলে ধরে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। সংবাদপত্রের গঠনমূলক আলোচনা, সমালোচনা, সম্পাদকীয় এবং ব্যঙ্গচিত্র জনমত গঠনের ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী বাহন হিসেবে কাজ করে। এজন্য এটিকে সমাজের দর্পণও বলা হয়ে থাকে।
গ
উদ্দীপকে '?' চিহ্ন দিয়ে কোন বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে?' চিহ্নটি দ্বারা যে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে তা হলো জনমত। কেননা উদ্দীপকে জনমতের কিছু মাধ্যম বা বাহন উপস্থাপিত হয়েছে। সাধারণ অর্থে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে জনমত বলা হলেও পৌরনীতিতে এর অর্থ সুসংহত। পৌরনীতি ও সুশাসনে কেবল যুক্তিযুক্ত, প্রভাবশালী, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকেই জনমত। বলা হয়ে থাকে। পরিবার রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের অন্যতম মাধ্যম যা পরিবারস্থ সদস্যদের চিন্তাভাবনা ও ধ্যান-ধারণাকে প্রভাবিত করে। আর এতে করেই সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পরিবারের সকলের মাঝে সমজাতীয় মনোভাব ধারণ করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়, যা জনমত গঠনে সহায়ক। আইনসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক, যুক্তি উপস্থাপন, আলোচনা-সমালোচনা এবং প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জনগণের মতামতকে প্রভাবিত করে থাকেন। জনগণ সেসব বক্তব্য-বিবৃতির মূল্যায়ন করে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ মতামত গঠন করে থাকে। আবার রাজনৈতিক দল সুনির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেদের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে সভা-সমাবেশ, প্রচারপত্র, সংবাদপত্র, জনসংযোগ প্রভৃতি কর্মসূচি পালন করে থাকে। ফলে জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক জ্ঞান লাভ ও মতায়ত প্রকাশে অনুপ্রাণিত হয় যা জনমত গঠনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ, বাণী, সমালোচনা প্রভৃতি জনগণের নিজস্ব মতামত গঠনে সাহায্য করে থাকে। দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের • প্রতিটি উপাদান এককভাবে 'জনমতের বাহন হিসেবে কাজ করে থাকে। আর তাই তাদের সম্পর্কিত মূল ধারণাটি নিঃসন্দেহে জনমত।
ঘ
উদ্দীপকে চিহ্নিত বিষয়টি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত বিষয়টি অর্থাৎ জনমত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য- উক্তিটি যথার্থ। আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জনমতের ওপর নির্ভরশীল। গণতন্ত্র ও জনমত প্রায় সমার্থক শব্দ। গণতন্ত্র হচ্ছে 'জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, জনগণের শাসন'। জনসম্মতির ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সরকারি দল জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে বাধ্য হয়। তাই বলা হয়ে থাকে, গণতন্ত্রে সদাজাগ্রত জনমত সরকারের স্বেচ্ছাচার রোধ করে গণতন্ত্রের স্বরূপ বজায় রাখে। আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমত মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল জনমতকে ভয় করে চলে। জনমত গণতান্ত্রিক সরকারকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। সরকার জনকল্যাণ সাধনের জন্য যে কর্মসূচি প্রণয়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে তা সাধারণত জনমতের দিকে লক্ষ রেখেই করা হয়ে থাকে। জনমত সরকারকে গতিশীল হতে সাহায্য করে থাকে। জনমতের চাপে সরকার রক্ষণশীল মনোভাব পরিত্যাগ করে। সরকার যুগোপযোগী ও প্রগতিশীল কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। জনমত যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের অনুকূলে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে সরকার দক্ষতা ও ক্ষিপ্রতার সাথে যেকোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন প্রণীত ও পরিবর্তিত হয় জনমতের চাপে বা প্রভাবে। সুতরাং, জনমত হচ্ছে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তি বা প্রাণ। আর তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image [বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ]
ক
রাজনৈতিক সংস্কৃতি কী?

উত্তর

রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো সেসব মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধ, যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও মূল্যবোধকে নিয়ন্ত্রণ করে।
খ
সংবাদপত্র কীভাবে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে?

উত্তর

সংবাদপত্র জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনগণ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংবাদ, তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যাদির ওপর মতামত ব্যক্ত করে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দেশের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষাবিদ ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের অভিমত জনসম্মুখে তুলে ধরে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। সংবাদপত্রের গঠনমূলক আলোচনা, সমালোচনা, সম্পাদকীয় এবং ব্যঙ্গচিত্র জনমত গঠনের ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী বাহন হিসেবে কাজ করে। এজন্য এটিকে সমাজের দর্পণও বলা হয়ে থাকে।
গ
উদ্দীপকে '?' চিহ্ন দিয়ে কোন বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে?' চিহ্নটি দ্বারা যে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে তা হলো জনমত। কেননা উদ্দীপকে জনমতের কিছু মাধ্যম বা বাহন উপস্থাপিত হয়েছে। সাধারণ অর্থে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে জনমত বলা হলেও পৌরনীতিতে এর অর্থ সুসংহত। পৌরনীতি ও সুশাসনে কেবল যুক্তিযুক্ত, প্রভাবশালী, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকেই জনমত। বলা হয়ে থাকে। পরিবার রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের অন্যতম মাধ্যম যা পরিবারস্থ সদস্যদের চিন্তাভাবনা ও ধ্যান-ধারণাকে প্রভাবিত করে। আর এতে করেই সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পরিবারের সকলের মাঝে সমজাতীয় মনোভাব ধারণ করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়, যা জনমত গঠনে সহায়ক। আইনসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক, যুক্তি উপস্থাপন, আলোচনা-সমালোচনা এবং প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জনগণের মতামতকে প্রভাবিত করে থাকেন। জনগণ সেসব বক্তব্য-বিবৃতির মূল্যায়ন করে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ মতামত গঠন করে থাকে। আবার রাজনৈতিক দল সুনির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেদের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে সভা-সমাবেশ, প্রচারপত্র, সংবাদপত্র, জনসংযোগ প্রভৃতি কর্মসূচি পালন করে থাকে। ফলে জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক জ্ঞান লাভ ও মতায়ত প্রকাশে অনুপ্রাণিত হয় যা জনমত গঠনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ, বাণী, সমালোচনা প্রভৃতি জনগণের নিজস্ব মতামত গঠনে সাহায্য করে থাকে। দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের • প্রতিটি উপাদান এককভাবে 'জনমতের বাহন হিসেবে কাজ করে থাকে। আর তাই তাদের সম্পর্কিত মূল ধারণাটি নিঃসন্দেহে জনমত।
ঘ
উদ্দীপকে চিহ্নিত বিষয়টি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত বিষয়টি অর্থাৎ জনমত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য- উক্তিটি যথার্থ। আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জনমতের ওপর নির্ভরশীল। গণতন্ত্র ও জনমত প্রায় সমার্থক শব্দ। গণতন্ত্র হচ্ছে 'জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, জনগণের শাসন'। জনসম্মতির ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সরকারি দল জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে বাধ্য হয়। তাই বলা হয়ে থাকে, গণতন্ত্রে সদাজাগ্রত জনমত সরকারের স্বেচ্ছাচার রোধ করে গণতন্ত্রের স্বরূপ বজায় রাখে। আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমত মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল জনমতকে ভয় করে চলে। জনমত গণতান্ত্রিক সরকারকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। সরকার জনকল্যাণ সাধনের জন্য যে কর্মসূচি প্রণয়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে তা সাধারণত জনমতের দিকে লক্ষ রেখেই করা হয়ে থাকে। জনমত সরকারকে গতিশীল হতে সাহায্য করে থাকে। জনমতের চাপে সরকার রক্ষণশীল মনোভাব পরিত্যাগ করে। সরকার যুগোপযোগী ও প্রগতিশীল কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। জনমত যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের অনুকূলে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে সরকার দক্ষতা ও ক্ষিপ্রতার সাথে যেকোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন প্রণীত ও পরিবর্তিত হয় জনমতের চাপে বা প্রভাবে। সুতরাং, জনমত হচ্ছে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তি বা প্রাণ। আর তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো