Chapter 4 : ই-গভর্নেন্স ও সুশাসন Civics 1st Paper

HSC Civics 1st Paper এর Chapter 4 : ই-গভর্নেন্স ও সুশাসন অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১৬৪

প্রশ্ন

Civics 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রহিম ও করিম এক সেমিনারে অংশগ্রহণ করে জানতে পারল যে, বাংলাদেশে ই-গভর্নেন্সের যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে বহু বাধা অতিক্রম করতে হচ্ছে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধে উপস্থাপক ই-গভর্নেন্সের প্রতিবন্ধকতা দূর করার উপায়গুলো নির্দেশ করলেন। তিনি বললেন, শাসকবর্গ এ ব্যবস্থা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে এবং এতে বেকারত্ব বেড়ে যেতে পারে। তবে সার্বিক বিবেচনায় এ ব্যবস্থায় সুবিধা বেশি।

আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2025

ক
ই-গভর্নেন্স কী?

উত্তর

সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌছানোর ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স (Electronic Governance)।
খ
তথ্য বিনিময়ে ই-গভর্নেন্সের সুবিধগুলো লেখ।

উত্তর

ই-গভর্ন্যান্স ও সংশ্লিষ্ট সেবার সুবিধাসমূহ আপনার দেওয়া তালিকাটি ই-গভর্ন্যান্স এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিককে নির্দেশ করে। নিচে প্রতিটি বিষয়ের ব্যাখ্যা দেওয়া হলো: ১. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা : সরকারি সকল তথ্য, আইন এবং সেবার বিবরণ অনলাইনে প্রকাশ করায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আসে। এর ফলে, নাগরিকেরা সহজেই জানতে পারে কোন সেবা কীভাবে পাওয়া যাবে এবং কোনো কাজ সম্পন্ন হতে দেরি হলে তার কারণ কী। এটি সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বা জবাবদিহি করতে সাহায্য করে। ২. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস : অনলাইন সেবা চালু হওয়ায় অনেক কাজ এখন ঘরে বসেই করা যায়। এতে সনাতন পদ্ধতির দীর্ঘসূত্রিতা, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য এবং অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমে আসে, যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বহুলাংশে হ্রাস করে। ৩. দুর্নীতি রোধ : ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা প্রদান এবং অর্থ লেনদেনের ফলে মানুষের সাথে মানুষের সরাসরি সংস্পর্শ কমে যায়। প্রতিটি কার্যক্রমের ডিজিটাল রেকর্ড থাকায় অবৈধ লেনদেন বা দুর্নীতির সুযোগ কমে আসে। ৪. ই-হেলথ : ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করাকে ই-হেলথ বলে। এর মধ্যে রয়েছে টেলিমেডিসিন, অনলাইনে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন এবং স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষণ, যা গ্রামীণ বা দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে। ৫. সর্বজনীন তথ্য প্রবাহ : ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে তথ্যকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর ফলে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হয় এবং জনগণ সহজেই যেকোনো প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।
গ
বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশে ই-গভর্নেন্স কী কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের আলোকে ই-গভর্ন্যান্সের প্রতিবন্ধকতা উদ্দীপকে বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান প্রতিবন্ধকতার কথা ফুটে উঠেছে। এগুলো হলো: ১. শাসকবর্গের দ্বারা ব্যবস্থার অপব্যবহারের ঝুঁকি। ২. প্রযুক্তির কারণে বেকারত্ব বৃদ্ধির আশঙ্কা। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. শাসকবর্গের স্বার্থে ব্যবহার: ই-গভর্ন্যান্সের মূল উদ্দেশ্য হলো শাসনব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা। কিন্তু উদ্দীপকের বক্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, শাসক শ্রেণি বা ক্ষমতাশালীরা এই ডিজিটাল ব্যবস্থাকে নিজেদের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে। তারা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে জনগণের উপর নজরদারি বাড়াতে পারে, তথ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে অথবা নিজেদের পছন্দের লোকদের সুবিধা দিয়ে দুর্নীতি করতে পারে। এর ফলে, ই-গভর্ন্যান্সের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং এটি জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে শাসকবর্গের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে, যা সুশাসনের একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। ২. বেকারত্ব বৃদ্ধি: ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নের ফলে অনেক সরকারি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় (automated) হয়ে যায়। সনাতন পদ্ধতিতে যে কাজগুলো সম্পন্ন করতে অনেক লোকবলের প্রয়োজন হতো, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেই কাজগুলো অল্প সময়ে এবং কম লোক দিয়েই করা সম্ভব হয়। এর ফলে, বিশেষ করে কায়িক শ্রম বা প্রথাগত দাপ্তরিক কাজে নিযুক্ত কর্মীদের প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। যদি এই কর্মীদের নতুন প্রযুক্তির জন্য প্রশিক্ষিত করে বিকল্প কাজের সুযোগ তৈরি করা না যায়, তবে প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের কারণে দেশে বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা একটি বড় সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। সুতরাং, বক্তার মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সামাজিক চ্যালেঞ্জই বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা।
ঘ
উদ্দীপকে ই-গভর্নেন্সের যে সুবিধার কথা বলা হয়েছে তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের আলোকে ই-গভর্ন্যান্সের সুবিধা বিশ্লেষণ উদ্দীপকে বক্তা ই-গভর্ন্যান্সের কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করলেও, "সার্বিক বিবেচনায় এ ব্যবস্থায় সুবিধা বেশি"—এই উক্তিটির মাধ্যমে এর ইতিবাচক এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাবের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। পাঠ্যবইয়ের আলোকে ই-গভর্ন্যান্সের এই সুবিধাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: ই-গভর্ন্যান্সের অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো এটি সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিয়ে আসে। সরকারের সকল তথ্য, আইন, নীতিমালা এবং সেবার বিবরণ অনলাইনে বা সরকারি পোর্টালে প্রকাশ করায় জনগণ সহজেই সবকিছু জানতে পারে। এর ফলে, কোনো কাজের বিলম্ব বা অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে। ২. দুর্নীতি হ্রাস: ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা প্রদান এবং অর্থ লেনদেন করার ফলে নাগরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন কমে যায়। প্রতিটি কার্যক্রমের ডিজিটাল রেকর্ড থাকায় অবৈধ লেনদেন, ঘুষ বা দুর্নীতির সুযোগ বহুলাংশে হ্রাস পায়। এটি একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠনে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। ৩. দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদান: ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে নাগরিকেরা এখন ঘরে বসেই বিভিন্ন সরকারি সেবার জন্য আবেদন করতে পারেন এবং সেবা গ্রহণ করতে পারেন। যেমন: অনলাইনে বিল পরিশোধ, পরীক্ষার ফলাফল জানা, জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্টের আবেদন ইত্যাদি। এর ফলে, সনাতন পদ্ধতির দীর্ঘসূত্রিতা এবং হয়রানি থেকে মানুষ মুক্তি পায়। ৪. সময় ও অর্থের সাশ্রয়: অনলাইনে সেবা গ্রহণ করার ফলে নাগরিকদের এখন আর সরকারি অফিসে যাতায়াতের প্রয়োজন হয় না। এতে তাদের সময় এবং অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হয়। সরকারের দিক থেকেও কাগজের ব্যবহার, ফাইল সংরক্ষণ এবং অন্যান্য দাপ্তরিক খরচ কমে আসে। ৫. তথ্যের সহজলভ্যতা ও নাগরিক ক্ষমতায়ন: ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হয়। জনগণ সহজেই যেকোনো প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। এটি নাগরিকদের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে। উপরোক্ত বিশ্লেষণ থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের বক্তার মন্তব্যটি যথার্থ। কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও, ই-গভর্ন্যান্স একটি দেশের শাসনব্যবস্থা ও নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে যে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে, তার গুরুত্ব অনেক বেশি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রহিম ও করিম এক সেমিনারে অংশগ্রহণ করে জানতে পারল যে, বাংলাদেশে ই-গভর্নেন্সের যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে বহু বাধা অতিক্রম করতে হচ্ছে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধে উপস্থাপক ই-গভর্নেন্সের প্রতিবন্ধকতা দূর করার উপায়গুলো নির্দেশ করলেন। তিনি বললেন, শাসকবর্গ এ ব্যবস্থা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে এবং এতে বেকারত্ব বেড়ে যেতে পারে। তবে সার্বিক বিবেচনায় এ ব্যবস্থায় সুবিধা বেশি।

আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2025

ক
ই-গভর্নেন্স কী?

উত্তর

সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌছানোর ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স (Electronic Governance)।
খ
তথ্য বিনিময়ে ই-গভর্নেন্সের সুবিধগুলো লেখ।

উত্তর

ই-গভর্ন্যান্স ও সংশ্লিষ্ট সেবার সুবিধাসমূহ আপনার দেওয়া তালিকাটি ই-গভর্ন্যান্স এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিককে নির্দেশ করে। নিচে প্রতিটি বিষয়ের ব্যাখ্যা দেওয়া হলো: ১. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা : সরকারি সকল তথ্য, আইন এবং সেবার বিবরণ অনলাইনে প্রকাশ করায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আসে। এর ফলে, নাগরিকেরা সহজেই জানতে পারে কোন সেবা কীভাবে পাওয়া যাবে এবং কোনো কাজ সম্পন্ন হতে দেরি হলে তার কারণ কী। এটি সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বা জবাবদিহি করতে সাহায্য করে। ২. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস : অনলাইন সেবা চালু হওয়ায় অনেক কাজ এখন ঘরে বসেই করা যায়। এতে সনাতন পদ্ধতির দীর্ঘসূত্রিতা, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য এবং অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমে আসে, যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বহুলাংশে হ্রাস করে। ৩. দুর্নীতি রোধ : ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা প্রদান এবং অর্থ লেনদেনের ফলে মানুষের সাথে মানুষের সরাসরি সংস্পর্শ কমে যায়। প্রতিটি কার্যক্রমের ডিজিটাল রেকর্ড থাকায় অবৈধ লেনদেন বা দুর্নীতির সুযোগ কমে আসে। ৪. ই-হেলথ : ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করাকে ই-হেলথ বলে। এর মধ্যে রয়েছে টেলিমেডিসিন, অনলাইনে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন এবং স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষণ, যা গ্রামীণ বা দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে। ৫. সর্বজনীন তথ্য প্রবাহ : ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে তথ্যকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর ফলে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হয় এবং জনগণ সহজেই যেকোনো প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।
গ
বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশে ই-গভর্নেন্স কী কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের আলোকে ই-গভর্ন্যান্সের প্রতিবন্ধকতা উদ্দীপকে বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান প্রতিবন্ধকতার কথা ফুটে উঠেছে। এগুলো হলো: ১. শাসকবর্গের দ্বারা ব্যবস্থার অপব্যবহারের ঝুঁকি। ২. প্রযুক্তির কারণে বেকারত্ব বৃদ্ধির আশঙ্কা। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. শাসকবর্গের স্বার্থে ব্যবহার: ই-গভর্ন্যান্সের মূল উদ্দেশ্য হলো শাসনব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা। কিন্তু উদ্দীপকের বক্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, শাসক শ্রেণি বা ক্ষমতাশালীরা এই ডিজিটাল ব্যবস্থাকে নিজেদের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে। তারা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে জনগণের উপর নজরদারি বাড়াতে পারে, তথ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে অথবা নিজেদের পছন্দের লোকদের সুবিধা দিয়ে দুর্নীতি করতে পারে। এর ফলে, ই-গভর্ন্যান্সের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং এটি জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে শাসকবর্গের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে, যা সুশাসনের একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। ২. বেকারত্ব বৃদ্ধি: ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নের ফলে অনেক সরকারি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় (automated) হয়ে যায়। সনাতন পদ্ধতিতে যে কাজগুলো সম্পন্ন করতে অনেক লোকবলের প্রয়োজন হতো, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেই কাজগুলো অল্প সময়ে এবং কম লোক দিয়েই করা সম্ভব হয়। এর ফলে, বিশেষ করে কায়িক শ্রম বা প্রথাগত দাপ্তরিক কাজে নিযুক্ত কর্মীদের প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। যদি এই কর্মীদের নতুন প্রযুক্তির জন্য প্রশিক্ষিত করে বিকল্প কাজের সুযোগ তৈরি করা না যায়, তবে প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের কারণে দেশে বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা একটি বড় সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। সুতরাং, বক্তার মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সামাজিক চ্যালেঞ্জই বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা।
ঘ
উদ্দীপকে ই-গভর্নেন্সের যে সুবিধার কথা বলা হয়েছে তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকের আলোকে ই-গভর্ন্যান্সের সুবিধা বিশ্লেষণ উদ্দীপকে বক্তা ই-গভর্ন্যান্সের কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করলেও, "সার্বিক বিবেচনায় এ ব্যবস্থায় সুবিধা বেশি"—এই উক্তিটির মাধ্যমে এর ইতিবাচক এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাবের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। পাঠ্যবইয়ের আলোকে ই-গভর্ন্যান্সের এই সুবিধাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: ই-গভর্ন্যান্সের অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো এটি সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিয়ে আসে। সরকারের সকল তথ্য, আইন, নীতিমালা এবং সেবার বিবরণ অনলাইনে বা সরকারি পোর্টালে প্রকাশ করায় জনগণ সহজেই সবকিছু জানতে পারে। এর ফলে, কোনো কাজের বিলম্ব বা অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে। ২. দুর্নীতি হ্রাস: ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা প্রদান এবং অর্থ লেনদেন করার ফলে নাগরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন কমে যায়। প্রতিটি কার্যক্রমের ডিজিটাল রেকর্ড থাকায় অবৈধ লেনদেন, ঘুষ বা দুর্নীতির সুযোগ বহুলাংশে হ্রাস পায়। এটি একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠনে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। ৩. দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদান: ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে নাগরিকেরা এখন ঘরে বসেই বিভিন্ন সরকারি সেবার জন্য আবেদন করতে পারেন এবং সেবা গ্রহণ করতে পারেন। যেমন: অনলাইনে বিল পরিশোধ, পরীক্ষার ফলাফল জানা, জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্টের আবেদন ইত্যাদি। এর ফলে, সনাতন পদ্ধতির দীর্ঘসূত্রিতা এবং হয়রানি থেকে মানুষ মুক্তি পায়। ৪. সময় ও অর্থের সাশ্রয়: অনলাইনে সেবা গ্রহণ করার ফলে নাগরিকদের এখন আর সরকারি অফিসে যাতায়াতের প্রয়োজন হয় না। এতে তাদের সময় এবং অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হয়। সরকারের দিক থেকেও কাগজের ব্যবহার, ফাইল সংরক্ষণ এবং অন্যান্য দাপ্তরিক খরচ কমে আসে। ৫. তথ্যের সহজলভ্যতা ও নাগরিক ক্ষমতায়ন: ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হয়। জনগণ সহজেই যেকোনো প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। এটি নাগরিকদের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে। উপরোক্ত বিশ্লেষণ থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের বক্তার মন্তব্যটি যথার্থ। কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও, ই-গভর্ন্যান্স একটি দেশের শাসনব্যবস্থা ও নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে যে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে, তার গুরুত্ব অনেক বেশি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে ঘরে বসেই মানুষ সব খবর জানতে পারছে। ঢাকায় বসেই আমেরিকার বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের লাইসেন্স নবায়ন করছে। ছাত্ররা ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অজানা তথ্য ও তত্ত্ব জানতে পারছে। তাই খুব সহজ হয়েছে জীবনযাত্রা। স্বাধীনতার স্বাদও খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারছে সবাই।

সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, টঙ্গী, গাজীপুর · 2026

ক
ই-গভর্নেন্স কী?

উত্তর

সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেট এবং ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স।
খ
ই-গভর্নেন্সের দুটি উদ্দেশ্য লেখো।

উত্তর

ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকে ই-গভর্নেন্স বলে। ই-গভর্নেন্সের প্রধান উদ্দেশ্য হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা ও তথ্যসমূহ জনসাধারণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এর আরেকটি উদ্দেশ্য হলো তথ্যভিত্তিক সমাজ গঠন করে জনগণকে সকারি কর্যক্রমে সম্পৃক্ত করা।
গ
“স্বাধীনতার রক্ষাকবচগুলোই স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করতে পারে"- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সহজ জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার রক্ষাকবচগুলোই নাগরিকের স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত ও অর্থবহ করে তোলে। স্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলতে সেই সকল ব্যবস্থা বা শর্তাবলিকে বোঝায় যা নাগরিকের স্বাধীনতাকে অন্যের হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করে। এর মধ্যে আইন, লিখিত সংবিধান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং জনগণের সজাগ দৃষ্টি অন্যতম। এই রক্ষাকবচগুলো না থাকলে শক্তিশালী পক্ষ দুর্বলের স্বাধীনতা হরণ করতে পারে, তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ ঘরে বসে তথ্য পাচ্ছে এবং ব্যবসায়িক কাজ সম্পন্ন করছে, যা তাদের ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ। এই স্বাধীনতা তখনই স্থায়ী হয় যখন রাষ্ট্রে উপযুক্ত রক্ষাকবচ বিদ্যমান থাকে। যেমন- আইনের শাসন থাকলে. একজন ব্যবসায়ী অনলাইনে নিরাপদে লেনদেন করতে পারেন এবং ছাত্ররা তথ্যের অবাধ প্রবাহ ভোগ করতে পারে। উদ্দীপকের সহজ জীবনযাত্রা ও স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণের বিষয়টি মূলত রাষ্ট্রের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষারই ফল। সুতরাং, স্বাধীনতার রক্ষাকবচগুলোই প্রকৃত অর্থে নাগরিকের স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত রাখে।
ঘ
“সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স পরস্পর গভীর বন্ধনে/সম্পর্কে আবদ্ধ”- উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর

সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স একে অপরের পরিপূরক এবং এদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। সুশাসন হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকে। অন্যদিকে, ই-গভর্নেন্স হলো তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রদান। ই-গভর্নেন্স মূলত সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি আধুনিক ও শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। উদ্দীপকে বর্ণিত ই-মেইলের মাধ্যমে লাইসেন্স নবায়ন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য প্রাপ্তি ই-গভর্নেন্সের উদাহরণ। এর ফলে সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা কমে এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। যখন একজন নাগরিক ঘরে বসে সেবা পান, তখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতির সুযোগ কমে যায়, যা সরাসরি সুশাসনের বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রতিফলিত করে। উদ্দীপকের জীবনযাত্রা সহজ হওয়ার মূলে রয়েছে ই-গভর্নেন্সের সফল প্রয়োগ। পরিশেষে বলা যায়, ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হওয়ায় সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায় এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হয়। সুশাসনের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ, আর ই-গভর্নেন্স সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে। ই-গভর্নেন্স যত শক্তিশালী হবে, সুশাসন তত সুসংহত হবে। তাই উক্তিটি যথার্থ যে, সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স পরস্পর গভীর বন্ধনে আবদ্ধ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে ঘরে বসেই মানুষ সব খবর জানতে পারছে। ঢাকায় বসেই আমেরিকার বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের লাইসেন্স নবায়ন করছে। ছাত্ররা ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অজানা তথ্য ও তত্ত্ব জানতে পারছে। তাই খুব সহজ হয়েছে জীবনযাত্রা। স্বাধীনতার স্বাদও খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারছে সবাই।

সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ, টঙ্গী, গাজীপুর · 2026

ক
ই-গভর্নেন্স কী?

উত্তর

সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেট এবং ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স।
খ
ই-গভর্নেন্সের দুটি উদ্দেশ্য লেখো।

উত্তর

ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকে ই-গভর্নেন্স বলে। ই-গভর্নেন্সের প্রধান উদ্দেশ্য হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা ও তথ্যসমূহ জনসাধারণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এর আরেকটি উদ্দেশ্য হলো তথ্যভিত্তিক সমাজ গঠন করে জনগণকে সকারি কর্যক্রমে সম্পৃক্ত করা।
গ
“স্বাধীনতার রক্ষাকবচগুলোই স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করতে পারে"- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সহজ জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার রক্ষাকবচগুলোই নাগরিকের স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত ও অর্থবহ করে তোলে। স্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলতে সেই সকল ব্যবস্থা বা শর্তাবলিকে বোঝায় যা নাগরিকের স্বাধীনতাকে অন্যের হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করে। এর মধ্যে আইন, লিখিত সংবিধান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং জনগণের সজাগ দৃষ্টি অন্যতম। এই রক্ষাকবচগুলো না থাকলে শক্তিশালী পক্ষ দুর্বলের স্বাধীনতা হরণ করতে পারে, তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ ঘরে বসে তথ্য পাচ্ছে এবং ব্যবসায়িক কাজ সম্পন্ন করছে, যা তাদের ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ। এই স্বাধীনতা তখনই স্থায়ী হয় যখন রাষ্ট্রে উপযুক্ত রক্ষাকবচ বিদ্যমান থাকে। যেমন- আইনের শাসন থাকলে. একজন ব্যবসায়ী অনলাইনে নিরাপদে লেনদেন করতে পারেন এবং ছাত্ররা তথ্যের অবাধ প্রবাহ ভোগ করতে পারে। উদ্দীপকের সহজ জীবনযাত্রা ও স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণের বিষয়টি মূলত রাষ্ট্রের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষারই ফল। সুতরাং, স্বাধীনতার রক্ষাকবচগুলোই প্রকৃত অর্থে নাগরিকের স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত রাখে।
ঘ
“সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স পরস্পর গভীর বন্ধনে/সম্পর্কে আবদ্ধ”- উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।

উত্তর

সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স একে অপরের পরিপূরক এবং এদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। সুশাসন হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকে। অন্যদিকে, ই-গভর্নেন্স হলো তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রদান। ই-গভর্নেন্স মূলত সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি আধুনিক ও শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। উদ্দীপকে বর্ণিত ই-মেইলের মাধ্যমে লাইসেন্স নবায়ন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য প্রাপ্তি ই-গভর্নেন্সের উদাহরণ। এর ফলে সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা কমে এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। যখন একজন নাগরিক ঘরে বসে সেবা পান, তখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতির সুযোগ কমে যায়, যা সরাসরি সুশাসনের বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রতিফলিত করে। উদ্দীপকের জীবনযাত্রা সহজ হওয়ার মূলে রয়েছে ই-গভর্নেন্সের সফল প্রয়োগ। পরিশেষে বলা যায়, ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হওয়ায় সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায় এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হয়। সুশাসনের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ, আর ই-গভর্নেন্স সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে। ই-গভর্নেন্স যত শক্তিশালী হবে, সুশাসন তত সুসংহত হবে। তাই উক্তিটি যথার্থ যে, সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স পরস্পর গভীর বন্ধনে আবদ্ধ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ফরিদুল ইসলাম গ্রামে বাস করেন। পূর্বে জন্ম নিবন্ধন করতে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার যেতে হতো। বর্তমানে সে অনলাইনে আবেদন করে নির্দিষ্ট সময়ে সনদ সংগ্রহ করতে পেরেছে।

মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা · 2026

ক
সরকার কাকে বলে?

উত্তর

রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য গঠিত সংস্থাকে সরকার বলে।
খ
গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

যে শাসনব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শাসনকার্য পরিচালনা করে তাকে গণতন্ত্র বলে। গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত। Demos অর্থ জনগণ আর Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা। সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্র হচ্ছে 'জনগণের শাসন ক্ষমতা'। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম রাষ্ট্রপতি, আব্রাহাম লিংকন (Abraham Lincoln) গণতন্ত্র সম্পর্কে বলেন- “জনসাধারণের কল্যাণের জন্য, জনসাধারণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিমূলক শাসনব্যবস্থা।” গণতন্ত্র বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ও জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় জনগণের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করা হয়।
গ
উদ্দীপকে দৃশ্যমান বিষয়টির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের এ ঘটনাটির মাধ্যমে ই-গভর্নেন্সকে বোঝানো হয়েছে। ই-গভর্নেন্সের বেশকিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে- ই-গভর্নেন্সের বৈশিষ্ট্যসমূহের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ই-গভর্নেন্স তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণ, ব্যবসায়ী শ্রেণি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সরকারি বিভিন্ন অঙ্গ ও সংস্থার মধ্যে সরকারের সেবাসমূহের আদান-প্রদান, অন্যান্য লেনদেন, মিথস্ক্রিয়া প্রভৃতি পরিচালিত করে থাকে। এছাড়া ই-গভর্নেন্স প্রযুক্তি সেবাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে সহজতর করে। এতে করে প্রান্তিক নাগরিকদের পক্ষেও উন্নত সেবা পাওয়া সহজ হয়। ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে নাগরিকগণ সেবাপ্রাপ্তির পাশাপাশি সেবার মান বিষয়ে মতামত, অভিযোগ বা পরামর্শ সরকারকে জানাতে পারে। উদ্দীপকের ফরিদুল ইসলাম গ্রামে বাস করেন। পূর্বে জন্ম নিবন্ধন করতে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার যেতে হতো। বর্তমানে সে অনলাইনে আবেদন করে নির্দিষ্ট সময়ে সনদ সংগ্রহ করতে পেরেছে। পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, উদ্দীপকে ই-গভর্নেন্সকে বোঝানো হয়েছে। যা তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে (ক্যাপাসিটি বিল্ডিং) সহায়তা করে। তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়ানো যায়। উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ ছাড়াও এটি ই-গভর্নেন্সের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টির সমস্যা সমাধানে সরকারের করণীয় বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ঘ উদ্দীপকে উল্লিখিত ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকারের বহুমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়গুলো হলো নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের অভাব, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জনগণের মধ্যে ডিজিটাল সচেতনতার অভাব। এই সমস্যাগুলো দূর করতে হলে শক্তিশালী আইসিটি অবকাঠামো নির্মাণ এবং তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সরকার যদি এই কারিগরি ও কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারে, তবেই ই-গভর্নেন্সের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব। উদ্দীপকের ফরিদুল ইসলাম অনলাইন সুবিধা পেলেও অনেক গ্রামীণ মানুষ এখনো প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে এসব সেবা গ্রহণ করতে হিমশিম খায়। এছাড়া অনেক সময় সার্ভার জটিলতা বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনলাইন সেবা ব্যাহত হয়। এই সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারকে ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আইসিটি বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সহজতর করা প্রয়োজন। পরিশেষে বলা যায়, ই-গভর্নেন্সের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে হলে সরকারকে তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি বা প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রসারে কাজ করতে হবে। সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ই-গভর্নেন্সের সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এর ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা আসবে এবং সুশাসন সুসংহত হবে, যা একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের জন্য অপরিহার্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ফরিদুল ইসলাম গ্রামে বাস করেন। পূর্বে জন্ম নিবন্ধন করতে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার যেতে হতো। বর্তমানে সে অনলাইনে আবেদন করে নির্দিষ্ট সময়ে সনদ সংগ্রহ করতে পেরেছে।

মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা · 2026

ক
সরকার কাকে বলে?

উত্তর

রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য গঠিত সংস্থাকে সরকার বলে।
খ
গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

যে শাসনব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শাসনকার্য পরিচালনা করে তাকে গণতন্ত্র বলে। গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত। Demos অর্থ জনগণ আর Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা। সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্র হচ্ছে 'জনগণের শাসন ক্ষমতা'। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম রাষ্ট্রপতি, আব্রাহাম লিংকন (Abraham Lincoln) গণতন্ত্র সম্পর্কে বলেন- “জনসাধারণের কল্যাণের জন্য, জনসাধারণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিমূলক শাসনব্যবস্থা।” গণতন্ত্র বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ও জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় জনগণের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করা হয়।
গ
উদ্দীপকে দৃশ্যমান বিষয়টির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের এ ঘটনাটির মাধ্যমে ই-গভর্নেন্সকে বোঝানো হয়েছে। ই-গভর্নেন্সের বেশকিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে- ই-গভর্নেন্সের বৈশিষ্ট্যসমূহের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ই-গভর্নেন্স তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণ, ব্যবসায়ী শ্রেণি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সরকারি বিভিন্ন অঙ্গ ও সংস্থার মধ্যে সরকারের সেবাসমূহের আদান-প্রদান, অন্যান্য লেনদেন, মিথস্ক্রিয়া প্রভৃতি পরিচালিত করে থাকে। এছাড়া ই-গভর্নেন্স প্রযুক্তি সেবাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে সহজতর করে। এতে করে প্রান্তিক নাগরিকদের পক্ষেও উন্নত সেবা পাওয়া সহজ হয়। ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে নাগরিকগণ সেবাপ্রাপ্তির পাশাপাশি সেবার মান বিষয়ে মতামত, অভিযোগ বা পরামর্শ সরকারকে জানাতে পারে। উদ্দীপকের ফরিদুল ইসলাম গ্রামে বাস করেন। পূর্বে জন্ম নিবন্ধন করতে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার যেতে হতো। বর্তমানে সে অনলাইনে আবেদন করে নির্দিষ্ট সময়ে সনদ সংগ্রহ করতে পেরেছে। পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, উদ্দীপকে ই-গভর্নেন্সকে বোঝানো হয়েছে। যা তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে (ক্যাপাসিটি বিল্ডিং) সহায়তা করে। তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়ানো যায়। উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ ছাড়াও এটি ই-গভর্নেন্সের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টির সমস্যা সমাধানে সরকারের করণীয় বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ঘ উদ্দীপকে উল্লিখিত ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকারের বহুমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়গুলো হলো নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের অভাব, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জনগণের মধ্যে ডিজিটাল সচেতনতার অভাব। এই সমস্যাগুলো দূর করতে হলে শক্তিশালী আইসিটি অবকাঠামো নির্মাণ এবং তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সরকার যদি এই কারিগরি ও কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারে, তবেই ই-গভর্নেন্সের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব। উদ্দীপকের ফরিদুল ইসলাম অনলাইন সুবিধা পেলেও অনেক গ্রামীণ মানুষ এখনো প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে এসব সেবা গ্রহণ করতে হিমশিম খায়। এছাড়া অনেক সময় সার্ভার জটিলতা বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনলাইন সেবা ব্যাহত হয়। এই সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারকে ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আইসিটি বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সহজতর করা প্রয়োজন। পরিশেষে বলা যায়, ই-গভর্নেন্সের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে হলে সরকারকে তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি বা প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রসারে কাজ করতে হবে। সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ই-গভর্নেন্সের সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এর ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা আসবে এবং সুশাসন সুসংহত হবে, যা একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের জন্য অপরিহার্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো