HSCCivics 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
ছক-১
ছক-২
বাহ্যিক আচার আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে
বাহ্যিক ও মানসিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে
নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট
অনির্দিষ্ট ও অস্পষ্ট
সার্বভৌম রাষ্ট্র কর্তৃক সমর্থিত
সামাজিক বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
সিলেট সরকারি কলেজ · 2024
ক
সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ববোধ কোন বিপ্লবের স্লোগান ছিল?
উত্তর
সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ববোধ ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান ছিল।
খ
“সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন”- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ।
সমাজে ও রাষ্ট্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে প্রকৃত স্বাধীনতা ভোগ করা যায় না। সাম্যের মূল চেতনা হলো সকল মানুষ সমান। সাম্য স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি হলো সাম্য। অন্যদিকে গণতন্ত্রের উৎস সাম্য সমঅধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানুষে মানুষে বৈষম্য কমিয়ে এক ধরনের মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ করে। তাই সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন ।
গ
ছক-১ ও ছক-২-এর মধ্যে কোন সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকের ছক-১ ও ছক-২ যথাক্রমে আইন ও নৈতিকতাকে নির্দেশ করে। এ দুটি বিষয়ের মধ্যে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
আইন ও নৈতিকতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। উভয়েরই আলোচ্য বিষয় হচ্ছে মানুষের আচরণ, আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে আর নৈতিকতা মানুষের মনোজগতকে নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের নৈতিকতাবোধ রাষ্ট্রীয় আইনকে প্রভাবিত করে। যে দেশের মানুষের নৈতিকতার মান খুবই নিচু, সে দেশের আইন কখনো উচ্চমান সম্পন্ন হতে পারে না । সমাজ জীবনের উৎকর্ষতা সাধনে আইন ও নৈতিকতা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। আইনের কার্যকারিতা যেমন মানুষের নৈতিক বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি সময় ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে সামঞ্জস্যহীন নৈতিক বিশ্বাসও আইনের দ্বারা পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত হয়। যেমন— সতীদাহ প্রথাকে একসময় ভারতে ধর্মের অঙ্গ মনে করা হতো। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার আইনের মাধ্যমে এই প্রথা বন্ধ করে।
উদ্দীপকের ছক-১-এ বর্ণিত তথ্যগুলো হলো- বাহ্যিক আচার-আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে, নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট, সার্বভৌম রাষ্ট্র কর্তৃক সমর্থিত। এসব তথ্য আইনকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে ছক-২-এর তথ্য হচ্ছে- বাহ্যিক ও মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, অনির্দিষ্ট ও অস্পষ্ট, সামাজিক বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এ বৈশিষ্ট্যগুলো নৈতিকতাকেই নির্দেশ করে। এ দুটি বিষয় একে অপরের পরিপূরক। নৈতিকতা বিরোধী আইন কোনোদিনই জনসমর্থন লাভ করেনি এবং টিকেও থাকেনি।
ঘ
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ছক-১ ও ছক-২-এর ভূমিকা তুমি কীভাবে মূল্যায়ন করবে?
উত্তর
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ছক-১-এ নির্দেশিত আইন এবং ছক-২-এ নির্দেশিত নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ছক-১ এর তথ্যসমূহ আইনকে নির্দেশ করে। আর আইন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেননা সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আইনের শাসন। আইনের শাসন বলতে আইনের চোখে সবার সমান হওয়া এবং আইনের প্রাধান্য বজায় থাকাকে বোঝায়। ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি এবং ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাই আইনের দৃষ্টিতে সমান। কেউ বিশেষ মর্যাদার অধিকারী নয়। যে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে এবং শাস্তি পেতে হবে এটাই আইনের শাসনের বিধান। আইনের শাসন বিদ্যমান থাকলে জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে। শাসক ও শাসিতের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সবাই আইনের দৃষ্টিতে সমান বলে গণ্য এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী হয়। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজতর হয়।
ছক-২ এ নৈতিকতার প্রতিফলন ঘটেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নৈতিকতারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কেননা নৈতিকতা কোনো কাজকে ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদির মানদণ্ডে বিচার করে। নৈতিকতার লক্ষ্যই হলো মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে জনকল্যাণ সাধন করা। যে রাষ্ট্রের জনগণের নৈতিক মান সুউচ্চ, সেদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সহজ। কেননা সেদেশের নাগরিকগণ নিজেরাই অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকে, ঘুষ- দুর্নীতিকে ঘৃণা করে। আর এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয় ।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, আইন ও নৈতিকতা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো