HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
নরওয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন ভিদকুন কুইজলিং। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি জার্মান শাসক হিটলারের সাথে গোপন আঁতাত করেন। হিটলার নরওয়ে আক্রমণ করলে কুইজলিং রাজধানী থেকে ৫০ কি.মি. দূরে ঘাঁটি গাড়েন এবং নরওয়ে সরকার পরাজিত হয়ে পালিয়েছে-এ মর্মে অপপ্রচার চালাতে থাকেন। অতঃপর হিটলার নরওয়ে জয় করার পর কুইজলিংকে সরকার প্রধানের দায়িত্ব দেন।
Dinajpur · 2022
ক
ইংরেজদের সাথে উমিচাঁদের কত টাকার চুক্তি হয়েছিল?
উত্তর
ইংরেজদের সাথে উমিচাদের ২০ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছিল।
খ
“আমি বরং নবাবকে বিশ্বাস করতে পারি।”-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে রবার্ট ক্লাইভ প্রশ্নোত্ত্ব মন্তব্যটি করেছেন।
মিরজাফর ছিল নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি। সে নিজ স্বার্থের জন্য নবাব ও দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মিরজাফরের এ ধরনের ঘৃণিত কর্মে রবার্ট ক্লাইভ মিরজাফরের উদ্দেশে বলেছেন, 'আমি বরং নবাবকে বিশ্বাস করতে পারি।'
গ
উদ্দীপকের কুইজলিং-এর সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটির তুলনামূলক ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের কুইজলিং-এর সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটি হলো মিরজাফর।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা। তিনি বাংলা বিহার উড়িষ্যার একমাত্র স্বাধীন অধিপতি ছিলেন। কিন্তু তার সম্রাজ্যের | সেনাপতি মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাবের করুণ পরাজয় হয়। ইংরেজ ও বাংলার নবাবের মধ্যে পলাশি প্রান্তরে যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন মিরজাফর, কিন্তু মিরজাফর ইংরেজদের | সাথে গোপন চুক্তি করেন। ফলে যুদ্ধের সময় মিরজাফর ইংরেজদের | বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে নিষ্ক্রিয় থাকেন। এতে নবাবের পরাজয় হয়।
উদ্দীপকের নরওয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন মিরজাফরের মতো বিশ্বাসঘাতক । | দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির শাসক হিটলার যখন নরওয়ে আক্রমণ | করেন তখন বিশ্বাসঘাতক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্যক্তিস্বার্থের জন্য যুদ্ধ না করে | মিথ্যা প্রচারণা শুরু করেন। তার বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নরওয়ে যুদ্ধ না। | করেই পরাজিত হয়। জার্মান শাসক হিটলার বিনা রক্তপাতে নরওয়ে দখল উদ্দীপকের কুইজলিং-এর সাথে করে নেন। তাই বলা যায়, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটি হলো মিরজাফর।
ঘ
“কুইজলিংরা থাকে বলেই যুগে যুগে হিটলাররা নরওয়ে জয় করে।” উক্তিটির আলোকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কাহিনি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকের কুইজলিং-এর মতো বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই উদ্দীপকের নরওয়ে সরকার এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাবের পরাজয় ঘটায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ হয়ে উঠেছে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা-বিহার ও উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রাজকার্য পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু নবাবের নিকটজনদের বিরোধিতায় ও প্রধান সেনাপতির ষড়যন্ত্রে নবাব বিপর্যস্ত ও পরাজিত হয়। নবাবেরর অমাত্যবর্গ নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন বলে অন্যরা সেই ষড়যন্ত্রের সুযোগ নেন। তা না হলে ইংরেজরাও নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারত না। তাই ষড়যন্ত্রের জাল পরিবারের ভেতর থেকেই শুরু হলে রাজ্য জয় করা সুবিধা হয়।
উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই নরওয়ের পরাজয়ের পেছনে নরওয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতা দায়ী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভিদকুন কুইজলিং হিটলারের সাথে গোপন আঁতাত করেন। এই জন্য ভিদকুন কুইজলিং জার্মানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে জার্মান বাহিনীকে সহযোগিতা করেন এবং নরওয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা রটনা করেন। এই জন্য নরওয়ে আক্রমণ করতে হিটলারের সুবিধা হয়।
উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোচনা সাপেক্ষে বলা যায় যে, কুইজলিংদের মতো বিশ্বাসঘাতক থাকে বলেই যুগে যুগে হিটলাররা নরওয়ে জয় করে। ঘসেটি বেগম, মিরজাফর না থাকলে ইংরেজরা কখনো বাংলা আক্রমণের সাহস পেত না। তাদের সহযোগিতায় ও দুর্বলতার সুযোগে ইংরেজরা স্থায়ীভাবে বাংলার সিংহাসন দখল করার দুঃসাহস করে। উদ্দীপকে কুইজলিংও এই রকম বিশ্বাসঘাতকতা করে। ফলে জার্মানি নরওয়ে দখল করে। তাই বলা যায়, 'প্রতিটি দেশে কুইজলিংরা থাকে বলেই যুগে যুগে হিটলাররা নরওয়ে জয় করে' উক্তিটি যথার্থ।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো