HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
খ্যাতিমান সমাজবিজ্ঞানী ড. সামাদ তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এ বাংলাদেশের ইতিহাস শোষণ আর বঞ্চনার। কৃষিই ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রধান অবলম্বন। আর ছিল মৃৎশিল্প ও তাঁতশিল্প। আমাদের পূর্বপুরুষদের বা তাঁদের পেশার প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়ে জাতি হিসেবে আমরা উন্নতি করতে পারব না। বিদেশি শোষকদের নির্মম অত্যাচার সহ্য করে তাঁরা আমাদের জন্য স্বাধীনতার ভিত তৈরি করে গেছেন। আর তাঁদের এই আত্মত্যাগই আজ আমাদের শিল্প-সাহিত্যের মৌলিক প্রেরণা।
Sylhet · 2017
ক
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কী?
উত্তর
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা।
খ
'তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল'- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচারের ইতিহাস ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে বলেছেন। পরাধীনতার কারণে পূর্বপুরুষদের ওপর বারবার অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছে। পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত বলতে পূর্বপুরুষদের পরাধীনতাকেই নির্দেশ করা হয়েছে। বিদেশি শত্রুরা আমাদের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করত। আর তাই, পূর্বপুরুষদের ওপর তাদের অত্যাচারের মাত্রা বোঝাতেই আলোচ্য চরণটির অবতারণা করা হয়েছে।
গ
উদ্দীপকের বিদেশি শোষকের অত্যাচার 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন প্রসঙ্গকে মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
উদ্দীপকের বিদেশি শোষকদের অত্যাচার 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় আমাদের পূর্বপুরুষদের ওপর শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
আলোচ্য কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের ওপর শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারের মাত্রা বোঝাতে পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষতের কথা কলেছেন। পূর্বপুরুষদের ক্রীতদাস হয়ে থাকার পেছনে পরাধীনতাকেই দায়ী করেছেন তিনি। কেননা, শাসকশ্রেণি তাঁদের সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করত। উদ্দীপকের বিদেশি শোষকদের অত্যাচারের বর্ণনাতেও এ দিকটির আভাস পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের খ্যাতিমান সমাজবিজ্ঞানী ড. সামাদ তাঁর আলোচনায় বিদেশি শোষকের অত্যাচারের কথা বলেছেন। তাঁর কথায় 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত পূর্বপুরুষদের ওপর জমিদারশ্রেণির অত্যাচার ও তাঁদের পিঠের গভীর ক্ষতের কথাকে মনে করিয়ে দেয়। সে সময় জমিদাররা আমাদের পূর্বপুরুষদের শ্রমের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করত। তারা নানাভাবে আমাদের পূর্বপুরুষদের শোষণ করত। উৎপাদিত ফসল কিংবা শ্রমের ন্যায্য মূল্য তো দিতই না, বরং খাজনা আদায়ের নামে চাবুকপেটা করে তাঁদের শরীরে নির্মম ক্ষতের সৃষ্টি করত। আলোচ্য কবিতার এ দিকগুলোই উদ্দীপকের সমাজবিজ্ঞানীর কথায় উঠে এসেছে।
ঘ
"উদ্দীপকের ড. সামাদ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি চৈতন্যগত দিক থেকে অভিন্ন"- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর
"উদ্দীপকের ড. সামাদ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি চৈতন্যগত দিক থেকে অভিন্ন"- মন্তব্যটির সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করি।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের বন্দিজীবন কাটানোর কথা বলেছেন। তাঁদের পিঠে রক্তজবার মতো গভীর ক্ষতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি শেকড়সন্ধানী মানুষের সার্বিক মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণা দিয়েছেন। কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সাহসী, সংগ্রামী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, আমাদের ঐতিহ্য হলো কৃষিজীবী, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস। তাঁদের ওপর বর্বর নির্যাতনের ইতিহাসকেও বহন করে চলেছি আমরা।
উদ্দীপকের সমাজবিজ্ঞানী ড. সামাদ আমাদের পূর্বপুরুষদের পেশার কথা উল্লেখ করেছেন, তাঁদের ওপর বিদেশি শোষকদের অত্যাচারের কথা বলেছেন। তিনি তাঁদের তাঁদের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাও বলেছেন। কিন্তু পূর্বপুরুষদের রুখে দাঁড়ানোর কথা বলেননি। তাঁদের লড়াই-সংগ্রামের কথা, দুর্গম বাধা ডিঙানোর কথা বলেননি। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি যেমন তাঁর পূর্বপুরুষদের গৌরবময় জীবনের ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন, তেমনি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও ভালোবাসার কথাও বলেছেন।
উদ্দীপকে ড. সামাদ পূর্বপুরুষদের ওপর শত্রুর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তাঁদের ত্যাগের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি তাঁর শত্রু বা শোষকের পরিচয় 'বিদেশি' বলে উল্লেখ করলেও কবি তা নির্দিষ্ট করেননি। তাই "উদ্দীপকের ড. সামাদ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি চৈতন্যগত দিক থেকে অভিন্ন"- মন্তব্যটির সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করে বলছি, উক্তিটি পুরোপুরি সত্য নয়।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো