কবিতা : আমি কিংবদন্তি কথা বলছি Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর কবিতা : আমি কিংবদন্তি কথা বলছি অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২১৩

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

খ্যাতিমান সমাজবিজ্ঞানী ড. সামাদ তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এ বাংলাদেশের ইতিহাস শোষণ আর বঞ্চনার। কৃষিই ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রধান অবলম্বন। আর ছিল মৃৎশিল্প ও তাঁতশিল্প। আমাদের পূর্বপুরুষদের বা তাঁদের পেশার প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়ে জাতি হিসেবে আমরা উন্নতি করতে পারব না। বিদেশি শোষকদের নির্মম অত্যাচার সহ্য করে তাঁরা আমাদের জন্য স্বাধীনতার ভিত তৈরি করে গেছেন। আর তাঁদের এই আত্মত্যাগই আজ আমাদের শিল্প-সাহিত্যের মৌলিক প্রেরণা।

Sylhet · 2017

ক
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কী?

উত্তর

জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা।
খ
'তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচারের ইতিহাস ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে বলেছেন। পরাধীনতার কারণে পূর্বপুরুষদের ওপর বারবার অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছে। পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত বলতে পূর্বপুরুষদের পরাধীনতাকেই নির্দেশ করা হয়েছে। বিদেশি শত্রুরা আমাদের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করত। আর তাই, পূর্বপুরুষদের ওপর তাদের অত্যাচারের মাত্রা বোঝাতেই আলোচ্য চরণটির অবতারণা করা হয়েছে।
গ
উদ্দীপকের বিদেশি শোষকের অত্যাচার 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন প্রসঙ্গকে মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের বিদেশি শোষকদের অত্যাচার 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় আমাদের পূর্বপুরুষদের ওপর শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতনের কথা মনে করিয়ে দেয়। আলোচ্য কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের ওপর শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারের মাত্রা বোঝাতে পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষতের কথা কলেছেন। পূর্বপুরুষদের ক্রীতদাস হয়ে থাকার পেছনে পরাধীনতাকেই দায়ী করেছেন তিনি। কেননা, শাসকশ্রেণি তাঁদের সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করত। উদ্দীপকের বিদেশি শোষকদের অত্যাচারের বর্ণনাতেও এ দিকটির আভাস পাওয়া যায়। উদ্দীপকের খ্যাতিমান সমাজবিজ্ঞানী ড. সামাদ তাঁর আলোচনায় বিদেশি শোষকের অত্যাচারের কথা বলেছেন। তাঁর কথায় 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত পূর্বপুরুষদের ওপর জমিদারশ্রেণির অত্যাচার ও তাঁদের পিঠের গভীর ক্ষতের কথাকে মনে করিয়ে দেয়। সে সময় জমিদাররা আমাদের পূর্বপুরুষদের শ্রমের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করত। তারা নানাভাবে আমাদের পূর্বপুরুষদের শোষণ করত। উৎপাদিত ফসল কিংবা শ্রমের ন্যায্য মূল্য তো দিতই না, বরং খাজনা আদায়ের নামে চাবুকপেটা করে তাঁদের শরীরে নির্মম ক্ষতের সৃষ্টি করত। আলোচ্য কবিতার এ দিকগুলোই উদ্দীপকের সমাজবিজ্ঞানীর কথায় উঠে এসেছে।
ঘ
"উদ্দীপকের ড. সামাদ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি চৈতন্যগত দিক থেকে অভিন্ন"- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

"উদ্দীপকের ড. সামাদ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি চৈতন্যগত দিক থেকে অভিন্ন"- মন্তব্যটির সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করি। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের বন্দিজীবন কাটানোর কথা বলেছেন। তাঁদের পিঠে রক্তজবার মতো গভীর ক্ষতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি শেকড়সন্ধানী মানুষের সার্বিক মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণা দিয়েছেন। কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সাহসী, সংগ্রামী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, আমাদের ঐতিহ্য হলো কৃষিজীবী, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস। তাঁদের ওপর বর্বর নির্যাতনের ইতিহাসকেও বহন করে চলেছি আমরা। উদ্দীপকের সমাজবিজ্ঞানী ড. সামাদ আমাদের পূর্বপুরুষদের পেশার কথা উল্লেখ করেছেন, তাঁদের ওপর বিদেশি শোষকদের অত্যাচারের কথা বলেছেন। তিনি তাঁদের তাঁদের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাও বলেছেন। কিন্তু পূর্বপুরুষদের রুখে দাঁড়ানোর কথা বলেননি। তাঁদের লড়াই-সংগ্রামের কথা, দুর্গম বাধা ডিঙানোর কথা বলেননি। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি যেমন তাঁর পূর্বপুরুষদের গৌরবময় জীবনের ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন, তেমনি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও ভালোবাসার কথাও বলেছেন। উদ্দীপকে ড. সামাদ পূর্বপুরুষদের ওপর শত্রুর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তাঁদের ত্যাগের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি তাঁর শত্রু বা শোষকের পরিচয় 'বিদেশি' বলে উল্লেখ করলেও কবি তা নির্দিষ্ট করেননি। তাই "উদ্দীপকের ড. সামাদ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি চৈতন্যগত দিক থেকে অভিন্ন"- মন্তব্যটির সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করে বলছি, উক্তিটি পুরোপুরি সত্য নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

খ্যাতিমান সমাজবিজ্ঞানী ড. সামাদ তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এ বাংলাদেশের ইতিহাস শোষণ আর বঞ্চনার। কৃষিই ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রধান অবলম্বন। আর ছিল মৃৎশিল্প ও তাঁতশিল্প। আমাদের পূর্বপুরুষদের বা তাঁদের পেশার প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়ে জাতি হিসেবে আমরা উন্নতি করতে পারব না। বিদেশি শোষকদের নির্মম অত্যাচার সহ্য করে তাঁরা আমাদের জন্য স্বাধীনতার ভিত তৈরি করে গেছেন। আর তাঁদের এই আত্মত্যাগই আজ আমাদের শিল্প-সাহিত্যের মৌলিক প্রেরণা।

Sylhet · 2017

ক
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কী?

উত্তর

জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা।
খ
'তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচারের ইতিহাস ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে বলেছেন। পরাধীনতার কারণে পূর্বপুরুষদের ওপর বারবার অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছে। পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত বলতে পূর্বপুরুষদের পরাধীনতাকেই নির্দেশ করা হয়েছে। বিদেশি শত্রুরা আমাদের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করত। আর তাই, পূর্বপুরুষদের ওপর তাদের অত্যাচারের মাত্রা বোঝাতেই আলোচ্য চরণটির অবতারণা করা হয়েছে।
গ
উদ্দীপকের বিদেশি শোষকের অত্যাচার 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন প্রসঙ্গকে মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের বিদেশি শোষকদের অত্যাচার 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় আমাদের পূর্বপুরুষদের ওপর শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতনের কথা মনে করিয়ে দেয়। আলোচ্য কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের ওপর শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারের মাত্রা বোঝাতে পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষতের কথা কলেছেন। পূর্বপুরুষদের ক্রীতদাস হয়ে থাকার পেছনে পরাধীনতাকেই দায়ী করেছেন তিনি। কেননা, শাসকশ্রেণি তাঁদের সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করত। উদ্দীপকের বিদেশি শোষকদের অত্যাচারের বর্ণনাতেও এ দিকটির আভাস পাওয়া যায়। উদ্দীপকের খ্যাতিমান সমাজবিজ্ঞানী ড. সামাদ তাঁর আলোচনায় বিদেশি শোষকের অত্যাচারের কথা বলেছেন। তাঁর কথায় 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত পূর্বপুরুষদের ওপর জমিদারশ্রেণির অত্যাচার ও তাঁদের পিঠের গভীর ক্ষতের কথাকে মনে করিয়ে দেয়। সে সময় জমিদাররা আমাদের পূর্বপুরুষদের শ্রমের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করত। তারা নানাভাবে আমাদের পূর্বপুরুষদের শোষণ করত। উৎপাদিত ফসল কিংবা শ্রমের ন্যায্য মূল্য তো দিতই না, বরং খাজনা আদায়ের নামে চাবুকপেটা করে তাঁদের শরীরে নির্মম ক্ষতের সৃষ্টি করত। আলোচ্য কবিতার এ দিকগুলোই উদ্দীপকের সমাজবিজ্ঞানীর কথায় উঠে এসেছে।
ঘ
"উদ্দীপকের ড. সামাদ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি চৈতন্যগত দিক থেকে অভিন্ন"- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

"উদ্দীপকের ড. সামাদ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি চৈতন্যগত দিক থেকে অভিন্ন"- মন্তব্যটির সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করি। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের বন্দিজীবন কাটানোর কথা বলেছেন। তাঁদের পিঠে রক্তজবার মতো গভীর ক্ষতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি শেকড়সন্ধানী মানুষের সার্বিক মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণা দিয়েছেন। কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সাহসী, সংগ্রামী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, আমাদের ঐতিহ্য হলো কৃষিজীবী, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস। তাঁদের ওপর বর্বর নির্যাতনের ইতিহাসকেও বহন করে চলেছি আমরা। উদ্দীপকের সমাজবিজ্ঞানী ড. সামাদ আমাদের পূর্বপুরুষদের পেশার কথা উল্লেখ করেছেন, তাঁদের ওপর বিদেশি শোষকদের অত্যাচারের কথা বলেছেন। তিনি তাঁদের তাঁদের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাও বলেছেন। কিন্তু পূর্বপুরুষদের রুখে দাঁড়ানোর কথা বলেননি। তাঁদের লড়াই-সংগ্রামের কথা, দুর্গম বাধা ডিঙানোর কথা বলেননি। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি যেমন তাঁর পূর্বপুরুষদের গৌরবময় জীবনের ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন, তেমনি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও ভালোবাসার কথাও বলেছেন। উদ্দীপকে ড. সামাদ পূর্বপুরুষদের ওপর শত্রুর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তাঁদের ত্যাগের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি তাঁর শত্রু বা শোষকের পরিচয় 'বিদেশি' বলে উল্লেখ করলেও কবি তা নির্দিষ্ট করেননি। তাই "উদ্দীপকের ড. সামাদ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি চৈতন্যগত দিক থেকে অভিন্ন"- মন্তব্যটির সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করে বলছি, উক্তিটি পুরোপুরি সত্য নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

"পরিচয়ে আমি বাঙালি, আমার আছে ইতিহাস গর্বের- কখনোই ভয় করিনিকো আমি উদ্যত কোনো খড়গের। শত্রুর সাথে লড়াই করেছি, স্বপ্নের সাথে বাস; অস্ত্রেও শান দিয়েছি যেমন শস্য করেছি চাষ; একই হাসিমুখে বাজিয়েছি বাঁশি, গলায় পরেছি ফাঁস আপস করিনি কখনোই আমি- এই হলো ইতিহাস।"

Dhaka · 2018

ক
'কিংবদন্তি' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'কিংবদন্তি' শব্দের অর্থ- জনশ্রুতি।
খ
'তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল' বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর

বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচারের ইতিহাস ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে বলেছেন। শত্রুরা আমাদের পূর্বপুরুষের ওপর যে অত্যাচার ও নির্যাতন করেছিল তা এখনো তাজা রয়েছে বোঝাতেই রক্তজবার প্রসঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছে। পরাধীনতার কারণে পূর্বপুরুষদের ওপর বারবার অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছে। বিদেশি শত্রুরা আমাদের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করেছে। পূর্বপুরুষদের পরাধীনতা ও তাদের সেই অত্যাচারের মাত্রা বোঝাতেই আলোচ্য চরণটির অবতারণা করা হয়েছে।
গ
উদ্দীপকের ইতিহাস প্রসঙ্গ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় ঐতিহ্যচেতনার সাদৃশ্য নির্দেশ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস বর্ণনার সঙ্গে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত ঐতিহ্যের চেতনাগত সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপটে আছে বাঙালির জীবন-সংস্কৃতির চিরায়ত রূপ। এখানে আলোচিত হয়েছে বাঙালি জাতির সংগ্রাম, বিজয় ও মানবিক উদ্ভাসনের নানা দিক। বাঙালির পূর্বপুরুষের সাহসিকতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা উপস্থাপিত হয়েছে। কবিতাটিতে। এই ইতিহাস মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষদের ইতিহাস, যারা বাংলার অনার্য কৃষিজীবী সম্প্রদায়। উদ্দীপকে দীর্ঘ পথ-পরিক্রমার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা বাংলা ও বাঙালির গৌরবময় ইতিহাসের কথা ব্যক্ত হয়েছে। এখানে উঠে এসেছে অন্যায়ের কাছে বাঙালির হার না মানা মনোভাবের দিকটি। বাংলার মানুষ হৃদয়ে সোনালি স্বপ্নের বীজ বপনের পাশাপাশি শত্রুর সাথে লড়াই করেছে দ্বিধাহীন চিত্তে। বাঙালির প্রকৃত ইতিহাস হলো শত্রুর সাথে কখনোই আপস না করার ইতিহাস। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাতেও এই ইতিহাসের কথাই বর্ণিত হয়েছে, যার প্রবহমানতায় যুগে যুগে বিজয়ী হয়েছে বাঙালি। তাই বাঙালি জাতির ইতিহাসের পটভূমিতে উদ্দীপকের কবিতাংশ আলোচ্য কবিতার সঙ্গে চেতনাগত সাদৃশ্য রক্ষা করেছে।
ঘ
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত সংগ্রামী চেতনা যেন 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ভাবসত্যের সংহতরূপ।"- এ অভিমত মূল্যায়ন করো।

উত্তর

"উদ্দীপকে প্রতিফলিত সংগ্রামী চেতনা যেন 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ভাবসত্যের সংহতরূপ”- মন্তব্যটি যথার্থ। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় পরাধীনতার গ্লানি থেকে উত্তরণের জন্য বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস উঠে এসেছে। এ কবিতায় উচ্চারিত হয়েছে শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির ঘোষণা। কবি তাঁর লেখনীর মধ্য দিয়ে আমাদের পূর্বপুরুষদের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা উপস্থাপন করেছেন। উদ্দীপকে বাঙালির আবহমান কালের সমৃদ্ধি ও শৌর্য-বীর্যের কথা অঙ্কিত হয়েছে। ইতিহাস অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাঙালি কৃষিকাজে সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি প্রস্তুত থেকেছে শত্রুকে মোকাবিলার জন্য। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্তিত্বের প্রয়োজনে বাঙালি সহজেই হাতে তুলে নিতে পেরেছিল আগ্নেয়াস্ত্র। সেই অস্ত্রের আঘাতে শত্রুরা আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছিল এবং এভাবেই রচিত হয়েছিল বাঙালির নতুন ইতিহাস। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির বীরত্বের পরিচয় ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আমরা ছিনিয়ে এনেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ আমাদের পূর্বপুরুষদের দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। কিন্তু মুক্তিসংগ্রামীদের অদম্য মানসিকতার ফলেই আমরা পেয়েছি মুক্তির আনন্দ। অপরদিকে, উদ্দীপকেও বাঙালির আপসহীন মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে। বাঙালি যে অস্ত্র দিয়ে শস্য চাষ করেছে, সেই অস্ত্র দিয়েই দেশকে শত্রুমুক্ত করেছে। সুতরাং, উদ্দীপকে বাঙালির যে আপসহীন মনোভাবের দিকটি উঠে এসেছে আলোচ্য কবিতায়, তা আরও সংহতরূপে প্রকাশ পেয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

"পরিচয়ে আমি বাঙালি, আমার আছে ইতিহাস গর্বের- কখনোই ভয় করিনিকো আমি উদ্যত কোনো খড়গের। শত্রুর সাথে লড়াই করেছি, স্বপ্নের সাথে বাস; অস্ত্রেও শান দিয়েছি যেমন শস্য করেছি চাষ; একই হাসিমুখে বাজিয়েছি বাঁশি, গলায় পরেছি ফাঁস আপস করিনি কখনোই আমি- এই হলো ইতিহাস।"

Dhaka · 2018

ক
'কিংবদন্তি' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'কিংবদন্তি' শব্দের অর্থ- জনশ্রুতি।
খ
'তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল' বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর

বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচারের ইতিহাস ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে বলেছেন। শত্রুরা আমাদের পূর্বপুরুষের ওপর যে অত্যাচার ও নির্যাতন করেছিল তা এখনো তাজা রয়েছে বোঝাতেই রক্তজবার প্রসঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছে। পরাধীনতার কারণে পূর্বপুরুষদের ওপর বারবার অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছে। বিদেশি শত্রুরা আমাদের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করেছে। পূর্বপুরুষদের পরাধীনতা ও তাদের সেই অত্যাচারের মাত্রা বোঝাতেই আলোচ্য চরণটির অবতারণা করা হয়েছে।
গ
উদ্দীপকের ইতিহাস প্রসঙ্গ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় ঐতিহ্যচেতনার সাদৃশ্য নির্দেশ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস বর্ণনার সঙ্গে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত ঐতিহ্যের চেতনাগত সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপটে আছে বাঙালির জীবন-সংস্কৃতির চিরায়ত রূপ। এখানে আলোচিত হয়েছে বাঙালি জাতির সংগ্রাম, বিজয় ও মানবিক উদ্ভাসনের নানা দিক। বাঙালির পূর্বপুরুষের সাহসিকতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা উপস্থাপিত হয়েছে। কবিতাটিতে। এই ইতিহাস মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষদের ইতিহাস, যারা বাংলার অনার্য কৃষিজীবী সম্প্রদায়। উদ্দীপকে দীর্ঘ পথ-পরিক্রমার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা বাংলা ও বাঙালির গৌরবময় ইতিহাসের কথা ব্যক্ত হয়েছে। এখানে উঠে এসেছে অন্যায়ের কাছে বাঙালির হার না মানা মনোভাবের দিকটি। বাংলার মানুষ হৃদয়ে সোনালি স্বপ্নের বীজ বপনের পাশাপাশি শত্রুর সাথে লড়াই করেছে দ্বিধাহীন চিত্তে। বাঙালির প্রকৃত ইতিহাস হলো শত্রুর সাথে কখনোই আপস না করার ইতিহাস। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাতেও এই ইতিহাসের কথাই বর্ণিত হয়েছে, যার প্রবহমানতায় যুগে যুগে বিজয়ী হয়েছে বাঙালি। তাই বাঙালি জাতির ইতিহাসের পটভূমিতে উদ্দীপকের কবিতাংশ আলোচ্য কবিতার সঙ্গে চেতনাগত সাদৃশ্য রক্ষা করেছে।
ঘ
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত সংগ্রামী চেতনা যেন 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ভাবসত্যের সংহতরূপ।"- এ অভিমত মূল্যায়ন করো।

উত্তর

"উদ্দীপকে প্রতিফলিত সংগ্রামী চেতনা যেন 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ভাবসত্যের সংহতরূপ”- মন্তব্যটি যথার্থ। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় পরাধীনতার গ্লানি থেকে উত্তরণের জন্য বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস উঠে এসেছে। এ কবিতায় উচ্চারিত হয়েছে শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির ঘোষণা। কবি তাঁর লেখনীর মধ্য দিয়ে আমাদের পূর্বপুরুষদের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা উপস্থাপন করেছেন। উদ্দীপকে বাঙালির আবহমান কালের সমৃদ্ধি ও শৌর্য-বীর্যের কথা অঙ্কিত হয়েছে। ইতিহাস অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাঙালি কৃষিকাজে সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি প্রস্তুত থেকেছে শত্রুকে মোকাবিলার জন্য। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্তিত্বের প্রয়োজনে বাঙালি সহজেই হাতে তুলে নিতে পেরেছিল আগ্নেয়াস্ত্র। সেই অস্ত্রের আঘাতে শত্রুরা আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছিল এবং এভাবেই রচিত হয়েছিল বাঙালির নতুন ইতিহাস। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির বীরত্বের পরিচয় ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আমরা ছিনিয়ে এনেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ আমাদের পূর্বপুরুষদের দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। কিন্তু মুক্তিসংগ্রামীদের অদম্য মানসিকতার ফলেই আমরা পেয়েছি মুক্তির আনন্দ। অপরদিকে, উদ্দীপকেও বাঙালির আপসহীন মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে। বাঙালি যে অস্ত্র দিয়ে শস্য চাষ করেছে, সেই অস্ত্র দিয়েই দেশকে শত্রুমুক্ত করেছে। সুতরাং, উদ্দীপকে বাঙালির যে আপসহীন মনোভাবের দিকটি উঠে এসেছে আলোচ্য কবিতায়, তা আরও সংহতরূপে প্রকাশ পেয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বিভিন্ন মুখের কোটি অশ্বারোহী এসে খুরে খুরে ক্ষতময় করে গেছে সহনীয়া মাটি, লালসার লালামাখা ক্রোধে বন্দুক কামান কত অসুর গর্জনে চিরেছে আকাশ পরিপাটি, বিদীর্ণ বুক নীল বর্ণ হয়ে গেছ তুমি, বাংলাভূমি

Barisal · 2022

ক
উনোনের আগুনে আলোকিত কিসের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর

উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলা হয়েছে।
খ
'বিচলিত স্নেহ' কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

'আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি'- বলতে কবি আপনজনের আন্তরিক উৎকণ্ঠার কথাই বুঝিয়েছেন। আবহমান কাল থেকে এদেশে পারিবারিক বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ় ও মায়াময়। পরিবারে ছোটোদের প্রতি বড়োদের অকৃত্রিম স্নেহ ও মমতা কাজ করে । এই স্নেহ মমতার কোনো তুলনা চলে না। কবি তাই এদেশের ঐতিহ্যের কথা বলতে গিয়ে এই স্নেহ মমতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। 'বিচলিত স্নেহ' বলতে তিনি আপনজনের উৎকণ্ঠা তথা অকৃত্রিম স্নেহ- মমতার দিকটিকে বুঝিয়েছেন ।
গ
উদ্দীপকের 'বাংলাভূমি'-এর সাথে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার চেতনাগত সাদৃশ্য কোথায়? আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের বাংলাভূমির সাথে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সংগ্রামী চেতনাগত সাদৃশ্য রয়েছে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির সংগ্রাম করে টিকে থাকার চেতনা প্রকাশিত হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে বাঙালি জাতি ত্যাগ ও সংগ্রামী চেতনা ধারক। বিভিন্ন সময়ে এ জাতিকে ক্ষত-বিক্ষত করে বিদেশি শক্তি। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যে ক্ষত জাতির বুকে তৈরি হয়েছে তা এখনো তাজা রয়েছে রক্তজবার মতো। উদ্দীপকের বাংলাভূমিতে বাঙালির ওপরে নির্যাতনের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। এদেশে বহুকাল থেকেই বিদেশিদের লালসার বস্তু ছিল। অনেক সম্পদে ভরপুর ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় স্বার্থান্বেষী মহল সর্বদা একে কক্ষিগত রাখার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তাদের লালসার জন্য এখানে বন্দুক কামান দিয়ে মহড়া চলেছে। এদেশের আকাশ সেই অসুরের দলের গর্জনে বারবার চিরে খান খান হয়েছে। বিদীর্ণ হয়েছে বাংলার বুক। কষ্টের নীল বর্ণ এ মাটির পরতে পরতে যেন ছড়িয়ে আছে। | উদ্দীপকের বাংলাভূমির এমন চিত্র 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার | বাঙালির ঐতিহ্যগত সংগ্রামী চেতনার প্রতিচ্ছবি। কবি: আলোচ্য কবিতায় | বাঙালির পূর্বপুরুষের যে সাহস ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পরিচয় দিয়েছেন । উদ্দীপকটির বাংলাভূমি সেই ছবিই যেন ফুটিয়ে তুলেছে।
ঘ
'লালসার লালা মাখা ক্রোধে' কীভাবে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়? উদ্দীপক ও 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার প্রেক্ষাপটে আলোচনা কর।

উত্তর

'লালসার লালামাখা ক্রোধে' স্বার্থান্বেষী শক্তির শাসন-শোষণের কালানুক্রমিক অতীত কাহিনির মধ্য দিয়ে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়। “আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আমাদের গোলাম বানিয়ে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তারা এ জনপদকে কুক্ষিগত করতে বারবার আক্রমণ ও শোষণ করেছে। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বাঙালি জাতি লড়াই করে যাদের বিরোচিত স্বভাবের পরিচয় দিতে ভুল করেনি। উদ্দীপকে 'লালসার লালামাখা ক্রোধ' বলতে এদেশকে কুক্ষিগত করার লালসায় যারা এখানে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে তাদেরকে বোঝানো হয়েছে। বিভিন্ন পরিচয়ে তারা অস্ত্র-কামান নিয়ে এখানে এসেছিল দখল করার মানসিকতায়। বাঙালির বুকে তারা ক্ষত-চিহ্ন এঁকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছিল । নির্যাতিত হতে হতে যেন এ মাটি ক্ষত সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। সেই লোভীগোষ্ঠী তাদের স্বার্থ-চরিতার্থ করতে এদেশের আকাশ চিরেছে, বিদীর্ণ বাংলাভূমি যেন তাদের আঘাতে নীল হয়ে গেছে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রামের ঐতিহ্য গাঁথা তুলে ধরা হয়েছে। কবি খুব সচেতন বিধায় তিনি আমাদের পূর্বপুরুষের বীরত্ব ও সংগ্রাম অতুলনীয় কাব্যিক গাঁথুনিতে উপস্থাপন করতে পেয়েছেন । তিনি বাঙালির শিকড়ের খবর তুলে ধরেছেন। আজ যে সমৃদ্ধ জাতির গৌরব আমরা বোধ করছি এর পশ্চাতে রয়েছে ঐতিহ্যের সংগ্রামী ইতিহাস । কালে কালে কত জনপদ এখানে ধ্বংস হয়েছে। অনেক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এখানে বাণিজ্য সুবিধা নিতে এসেছিল । তারা আমাদের পূর্বপুরুষদের অত্যাচার-নির্যাতন করে নিঃশেষ করতে চেয়েছে। তাদের সেই নৃশংস নখরের দাগ এখনো শুকায়নি। রক্তজবার মতো সেই ক্ষত এখনো সতেজ রয়েছে । তারা হিংস্র মাংসাশী শিকারির মতো খাবলে খেতে চেয়েছে এদেশের অমূল্য সম্পদ। উদ্দীপকেও কবি একই ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। বিভিন্ন জাতির কোটি অশ্বারোহীর শাসন-শোষণের কথা তুলে ধরেছেন। যারা এ দেশের লালসা চরিতার্থ করতে এসে অসুরের মতো আচরণ করেছে। ভিনদেশিদের লোভের কারণে শাসন, শোষণ ও নির্যাতন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বিভিন্ন মুখের কোটি অশ্বারোহী এসে খুরে খুরে ক্ষতময় করে গেছে সহনীয়া মাটি, লালসার লালামাখা ক্রোধে বন্দুক কামান কত অসুর গর্জনে চিরেছে আকাশ পরিপাটি, বিদীর্ণ বুক নীল বর্ণ হয়ে গেছ তুমি, বাংলাভূমি

Barisal · 2022

ক
উনোনের আগুনে আলোকিত কিসের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর

উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলা হয়েছে।
খ
'বিচলিত স্নেহ' কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

'আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি'- বলতে কবি আপনজনের আন্তরিক উৎকণ্ঠার কথাই বুঝিয়েছেন। আবহমান কাল থেকে এদেশে পারিবারিক বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ় ও মায়াময়। পরিবারে ছোটোদের প্রতি বড়োদের অকৃত্রিম স্নেহ ও মমতা কাজ করে । এই স্নেহ মমতার কোনো তুলনা চলে না। কবি তাই এদেশের ঐতিহ্যের কথা বলতে গিয়ে এই স্নেহ মমতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। 'বিচলিত স্নেহ' বলতে তিনি আপনজনের উৎকণ্ঠা তথা অকৃত্রিম স্নেহ- মমতার দিকটিকে বুঝিয়েছেন ।
গ
উদ্দীপকের 'বাংলাভূমি'-এর সাথে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার চেতনাগত সাদৃশ্য কোথায়? আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের বাংলাভূমির সাথে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সংগ্রামী চেতনাগত সাদৃশ্য রয়েছে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির সংগ্রাম করে টিকে থাকার চেতনা প্রকাশিত হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে বাঙালি জাতি ত্যাগ ও সংগ্রামী চেতনা ধারক। বিভিন্ন সময়ে এ জাতিকে ক্ষত-বিক্ষত করে বিদেশি শক্তি। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যে ক্ষত জাতির বুকে তৈরি হয়েছে তা এখনো তাজা রয়েছে রক্তজবার মতো। উদ্দীপকের বাংলাভূমিতে বাঙালির ওপরে নির্যাতনের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। এদেশে বহুকাল থেকেই বিদেশিদের লালসার বস্তু ছিল। অনেক সম্পদে ভরপুর ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় স্বার্থান্বেষী মহল সর্বদা একে কক্ষিগত রাখার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তাদের লালসার জন্য এখানে বন্দুক কামান দিয়ে মহড়া চলেছে। এদেশের আকাশ সেই অসুরের দলের গর্জনে বারবার চিরে খান খান হয়েছে। বিদীর্ণ হয়েছে বাংলার বুক। কষ্টের নীল বর্ণ এ মাটির পরতে পরতে যেন ছড়িয়ে আছে। | উদ্দীপকের বাংলাভূমির এমন চিত্র 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার | বাঙালির ঐতিহ্যগত সংগ্রামী চেতনার প্রতিচ্ছবি। কবি: আলোচ্য কবিতায় | বাঙালির পূর্বপুরুষের যে সাহস ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পরিচয় দিয়েছেন । উদ্দীপকটির বাংলাভূমি সেই ছবিই যেন ফুটিয়ে তুলেছে।
ঘ
'লালসার লালা মাখা ক্রোধে' কীভাবে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়? উদ্দীপক ও 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার প্রেক্ষাপটে আলোচনা কর।

উত্তর

'লালসার লালামাখা ক্রোধে' স্বার্থান্বেষী শক্তির শাসন-শোষণের কালানুক্রমিক অতীত কাহিনির মধ্য দিয়ে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়। “আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আমাদের গোলাম বানিয়ে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তারা এ জনপদকে কুক্ষিগত করতে বারবার আক্রমণ ও শোষণ করেছে। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বাঙালি জাতি লড়াই করে যাদের বিরোচিত স্বভাবের পরিচয় দিতে ভুল করেনি। উদ্দীপকে 'লালসার লালামাখা ক্রোধ' বলতে এদেশকে কুক্ষিগত করার লালসায় যারা এখানে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে তাদেরকে বোঝানো হয়েছে। বিভিন্ন পরিচয়ে তারা অস্ত্র-কামান নিয়ে এখানে এসেছিল দখল করার মানসিকতায়। বাঙালির বুকে তারা ক্ষত-চিহ্ন এঁকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছিল । নির্যাতিত হতে হতে যেন এ মাটি ক্ষত সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। সেই লোভীগোষ্ঠী তাদের স্বার্থ-চরিতার্থ করতে এদেশের আকাশ চিরেছে, বিদীর্ণ বাংলাভূমি যেন তাদের আঘাতে নীল হয়ে গেছে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রামের ঐতিহ্য গাঁথা তুলে ধরা হয়েছে। কবি খুব সচেতন বিধায় তিনি আমাদের পূর্বপুরুষের বীরত্ব ও সংগ্রাম অতুলনীয় কাব্যিক গাঁথুনিতে উপস্থাপন করতে পেয়েছেন । তিনি বাঙালির শিকড়ের খবর তুলে ধরেছেন। আজ যে সমৃদ্ধ জাতির গৌরব আমরা বোধ করছি এর পশ্চাতে রয়েছে ঐতিহ্যের সংগ্রামী ইতিহাস । কালে কালে কত জনপদ এখানে ধ্বংস হয়েছে। অনেক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এখানে বাণিজ্য সুবিধা নিতে এসেছিল । তারা আমাদের পূর্বপুরুষদের অত্যাচার-নির্যাতন করে নিঃশেষ করতে চেয়েছে। তাদের সেই নৃশংস নখরের দাগ এখনো শুকায়নি। রক্তজবার মতো সেই ক্ষত এখনো সতেজ রয়েছে । তারা হিংস্র মাংসাশী শিকারির মতো খাবলে খেতে চেয়েছে এদেশের অমূল্য সম্পদ। উদ্দীপকেও কবি একই ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। বিভিন্ন জাতির কোটি অশ্বারোহীর শাসন-শোষণের কথা তুলে ধরেছেন। যারা এ দেশের লালসা চরিতার্থ করতে এসে অসুরের মতো আচরণ করেছে। ভিনদেশিদের লোভের কারণে শাসন, শোষণ ও নির্যাতন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো