কবিতা : তাহারেই পড়ে মনে Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর কবিতা : তাহারেই পড়ে মনে অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২৬৭

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

তাপসীর নেশা ও পেশা ছবি আঁকা। তাঁর ছবির বিশেষত্ব হচ্ছে উজ্জ্বল রং আর বিভিন্ন মিথের ব্যবহার। কিন্তু দুর্ঘটনায় তাঁর একমাত্র শিশুপুত্র মারা গেলে পাল্টে যায় তার জীবন। তিনি শহর ছেড়ে চলে যান গ্রামে। এখন আর ছবি আঁকা তাকে টানে না। বন্ধুরা তাকে প্রশ্ন করলে বলেন, "কী হবে ছবি এঁকে!"
ক
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কোন ফুল ফোটার কথা কবি জানতে চেয়েছেন?

উত্তর

বাতাবি নেবু
খ
"ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই?"- কেন বলেছেন?

উত্তর

ওগো কবি, অভিমান করেছো কি তাই- এখানে পাঠকের অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে। কবি তার স্বামী নেহালকে হারিয়েছে। এজন্য তিনি প্রকৃতির উপর আনমনা। প্রিয় পাঠক এগুলো সহ্য করতে পারেনি। তারা মনে করেছে কবি অভিমান করেছে। এজন্য কবির কাছে পাঠকের প্রশ্ন এসেছে।
গ
উদ্দীপকের কোন দিকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষাদময় রিক্ততার হাহাকার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বসন্ত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কবিমনে আনন্দের শিহরন জাগাবে, তিনি তাকে ভাবে ছন্দে সুরে ভরিয়ে তুলবেন সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু কবিমন যদি কোনো কারণে শোকাচ্ছন্ন বা বেদনা ভারাতুর থাকে তবে তা কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে পারবে না। কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ত ও বিষণ্ণ ছবি। তাঁর মন গভীরভাবে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাঁর কণ্ঠ নীরব। শীতের করুণ বিদায়কে কবি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। আর তাই বসন্তও তাঁর মনে কোনো সাড়া জাগাতে পারছে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তাঁর প্রথম স্বামী তাঁর কাব্য সাধনার প্রেরণা-পুরুষ ছিলেন। তাঁরই আকস্মিক মৃত্যুতে কবির অন্তরে যে বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার সুর বেজে উঠেছে, তারই সুস্পষ্ট প্রভাব ও ইঙ্গিত এ কবিতায় বিধৃত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশেও রয়েছে আকস্মিক বিচ্ছেদ-বেদনার করুণ হাহাকার। কেননা, কবি তার ছেলের আকষ্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। সে ছিল তাঁর জীবন- ছায়া, সে শুধু মায়াভরা স্মৃতি রেখে তাঁর জীবন থেকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে। তাঁর জীবন এখন ফাঁকা, তিনি এখন একাকী। সব সৌন্দর্যবোধ, সব কিছুর গুরুত্ব এখন ম্লান হয়ে গেছে। তাই অপরূপ প্রকৃতির রূপের প্রতি তাঁর কোনো আকর্ষণ নেই। কেননা, সমস্ত মন পড়ে আছে কেবল তাঁরই জন্য। কাজেই একথা বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার সুর প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সম্পূর্ণ দিকটি ফুটে উঠেছে কি? তোমার যুক্তি উপস্থাপন কর।

উত্তর

"উদ্দীপকটি যেন 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মর্মবাণীকেই ধারণ করেছে"- কথাটা যথার্থ ও যৌক্তিক। কেননা উদ্দীপক এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মর্মবাণী একই। সুতরাং সম্পুর্ন দিক ধারণ করেছে। প্রিয়জন হারানোর বেদনা বড়ই মর্মান্তিক। যে প্রিয়জন কষ্ট-দুঃখে সমব্যথী, উৎসাহ-অনুপ্রেরণায় উদার, প্রেম-ভালোবাসায় অতুলনীয়, বন্ধুত্বে অনুপম, সেই প্রিয়জনকে কখনো বিস্মৃত হওয়া যায় না। তাঁকে হারিয়ে জীবন হয়ে যায় রিক্ত-শূন্য-মূল্যহীন। উদ্দীপকে এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রিয়জন হারানোর বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার হাহাকার ধ্বনিত হয়েছে। এটাই এ দুটোর মর্মবাণী বা মূলসুর। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি যাকে তার ছেলেকে হারিয়ে সে নির্বাচিত , সে তাঁর জীবন থেকে চলে গেছে চিরদিনের মতো। শুধু রয়ে গেছে মায়াভরা স্মৃতি। অপরূপ প্রকৃতি সৌন্দর্য তাঁর ভালো লাগে না। রিক্ত শূন্য একাকী জীবনে তাঁর স্মৃতিটুকুই এখন সান্ত্বনা। একইভাবে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি তাঁর স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনকে হারিয়ে রিক্ত ও শূন্য হয়ে গেছেন। কেননা,তিনিই ছিলেন তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও প্রেরণাদাতা। এর ফলে তাঁর সাহিত্য সাধনায়ও নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণ্ণতা। কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে যায় রিক্ততার করুণ হাহাকারে। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, উদ্দীকপটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মর্মবাণীকেই ধারণ করেছে এবং সম্পূর্ণ দিক ফুটে উঠেছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

তাপসীর নেশা ও পেশা ছবি আঁকা। তাঁর ছবির বিশেষত্ব হচ্ছে উজ্জ্বল রং আর বিভিন্ন মিথের ব্যবহার। কিন্তু দুর্ঘটনায় তাঁর একমাত্র শিশুপুত্র মারা গেলে পাল্টে যায় তার জীবন। তিনি শহর ছেড়ে চলে যান গ্রামে। এখন আর ছবি আঁকা তাকে টানে না। বন্ধুরা তাকে প্রশ্ন করলে বলেন, "কী হবে ছবি এঁকে!"
ক
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কোন ফুল ফোটার কথা কবি জানতে চেয়েছেন?

উত্তর

বাতাবি নেবু
খ
"ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই?"- কেন বলেছেন?

উত্তর

ওগো কবি, অভিমান করেছো কি তাই- এখানে পাঠকের অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে। কবি তার স্বামী নেহালকে হারিয়েছে। এজন্য তিনি প্রকৃতির উপর আনমনা। প্রিয় পাঠক এগুলো সহ্য করতে পারেনি। তারা মনে করেছে কবি অভিমান করেছে। এজন্য কবির কাছে পাঠকের প্রশ্ন এসেছে।
গ
উদ্দীপকের কোন দিকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষাদময় রিক্ততার হাহাকার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বসন্ত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কবিমনে আনন্দের শিহরন জাগাবে, তিনি তাকে ভাবে ছন্দে সুরে ভরিয়ে তুলবেন সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু কবিমন যদি কোনো কারণে শোকাচ্ছন্ন বা বেদনা ভারাতুর থাকে তবে তা কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে পারবে না। কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ত ও বিষণ্ণ ছবি। তাঁর মন গভীরভাবে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাঁর কণ্ঠ নীরব। শীতের করুণ বিদায়কে কবি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। আর তাই বসন্তও তাঁর মনে কোনো সাড়া জাগাতে পারছে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তাঁর প্রথম স্বামী তাঁর কাব্য সাধনার প্রেরণা-পুরুষ ছিলেন। তাঁরই আকস্মিক মৃত্যুতে কবির অন্তরে যে বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার সুর বেজে উঠেছে, তারই সুস্পষ্ট প্রভাব ও ইঙ্গিত এ কবিতায় বিধৃত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশেও রয়েছে আকস্মিক বিচ্ছেদ-বেদনার করুণ হাহাকার। কেননা, কবি তার ছেলের আকষ্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। সে ছিল তাঁর জীবন- ছায়া, সে শুধু মায়াভরা স্মৃতি রেখে তাঁর জীবন থেকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে। তাঁর জীবন এখন ফাঁকা, তিনি এখন একাকী। সব সৌন্দর্যবোধ, সব কিছুর গুরুত্ব এখন ম্লান হয়ে গেছে। তাই অপরূপ প্রকৃতির রূপের প্রতি তাঁর কোনো আকর্ষণ নেই। কেননা, সমস্ত মন পড়ে আছে কেবল তাঁরই জন্য। কাজেই একথা বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার সুর প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সম্পূর্ণ দিকটি ফুটে উঠেছে কি? তোমার যুক্তি উপস্থাপন কর।

উত্তর

"উদ্দীপকটি যেন 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মর্মবাণীকেই ধারণ করেছে"- কথাটা যথার্থ ও যৌক্তিক। কেননা উদ্দীপক এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মর্মবাণী একই। সুতরাং সম্পুর্ন দিক ধারণ করেছে। প্রিয়জন হারানোর বেদনা বড়ই মর্মান্তিক। যে প্রিয়জন কষ্ট-দুঃখে সমব্যথী, উৎসাহ-অনুপ্রেরণায় উদার, প্রেম-ভালোবাসায় অতুলনীয়, বন্ধুত্বে অনুপম, সেই প্রিয়জনকে কখনো বিস্মৃত হওয়া যায় না। তাঁকে হারিয়ে জীবন হয়ে যায় রিক্ত-শূন্য-মূল্যহীন। উদ্দীপকে এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রিয়জন হারানোর বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার হাহাকার ধ্বনিত হয়েছে। এটাই এ দুটোর মর্মবাণী বা মূলসুর। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি যাকে তার ছেলেকে হারিয়ে সে নির্বাচিত , সে তাঁর জীবন থেকে চলে গেছে চিরদিনের মতো। শুধু রয়ে গেছে মায়াভরা স্মৃতি। অপরূপ প্রকৃতি সৌন্দর্য তাঁর ভালো লাগে না। রিক্ত শূন্য একাকী জীবনে তাঁর স্মৃতিটুকুই এখন সান্ত্বনা। একইভাবে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি তাঁর স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনকে হারিয়ে রিক্ত ও শূন্য হয়ে গেছেন। কেননা,তিনিই ছিলেন তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও প্রেরণাদাতা। এর ফলে তাঁর সাহিত্য সাধনায়ও নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণ্ণতা। কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে যায় রিক্ততার করুণ হাহাকারে। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, উদ্দীকপটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মর্মবাণীকেই ধারণ করেছে এবং সম্পূর্ণ দিক ফুটে উঠেছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ঋতুরাজ বসন্তে প্রকৃতি এক নতুন সাজে সজ্জিত হয়। শীতের শুষ্কতা কাটিয়ে প্রকৃতি তখন নব যৌবন লাভ করে। গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, ফুলে ফুলে ভরে যায় অবারিত মাঠ-ঘাট ও বাগান। আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে তখন চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে। এই ঋতুতে বিরহীদের মন প্রিয়জনের সান্নিধ্য খোঁজে। তাদের কথা বেশি বেশি মনে পড়ে। কারণ, প্রকৃতির সঙ্গে মানব মনের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রভাব তখন মানব মনে পড়ে। কবি-সাহিত্যিকগণ তখন নতুন নতুন সাহিত্য চর্চায় আত্মনিয়োগ করার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

Chittagong · 2017

ক
মাঘের সন্ন্যাসী কোথায় চলে গিয়েছে?

উত্তর

মাঘের সন্ন্যাসী পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে চলে গেছে।
খ
বসন্তের আগমন সত্ত্বেও কবির নীরব ভূমিকা পালনের কারণ কী?

উত্তর

প্রিয়জন হারানোর বিষাদময় স্মৃতি ভুলতে না পারার কারণে কবি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটলেও কবির মনোজগৎ জুড়ে বিরাজ করছে শীতের রিক্ততা ও বিষণ্ণতার ছবি। প্রিয়জনের করুণ বিদায়ের ফলে কবিমনে যে বেদনার ছায়াপাত রেখে গেছে তা তিনি কিছুতেই ভুলতে পারেন না। কবির এই নীরবতার কারণটি যেন প্রকৃতির চিরাচরিত পরিস্থিতির মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায়। মূলত প্রিয়জন হারানোর বেদনায় মুহ্যমান কবি স্বাভাবিকভাবেই নিরাসক্ত, নিরাবেগ ও নীরব হয়ে পড়েন।
গ
'প্রকৃতির সঙ্গে মানব মনের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে'- উদ্দীপকের উক্তিটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবিমনের বিষণ্ণতা প্রকৃতি সংলগ্নতায় উপস্থাপিত হয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে মানব মনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিক দিয়ে উদ্দীপকের বিষয়ের সাথে আলোচ্য কবিতার কবিমনের সাদৃশ্য বিদ্যমান। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ঋতুরাজ বসন্তের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কবিমনের প্রত্যাশিত আনন্দের উৎস। আর প্রকৃতির সৌন্দর্য যে মানব মনের অফুরন্ত আনন্দের উৎস- এ সত্যের প্রকাশ ঘটেছে উদ্দীপকে। উদ্দীপকের মতো 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটিতেও মানবমনে প্রকৃতির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। বসন্ত-প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য যে কবিমনে আনন্দ শিহরণ জাগাবে এবং তিনি তাকে ভাবে-ছন্দে-সুরে ফুটিয়ে তুলবেন, সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু বসন্তের আবির্ভাবের আগেই কবির প্রিয়তম স্বামী কুহেলিকার অন্তরালে চলে যাওয়ায় ঋতুরাজ বসন্তের ঐশ্বর্য কবিকে আপ্লুত করতে পারেনি। ব্যক্তিজীবনের দুঃসহ বিষণ্ণতার কারণে বসন্ত-প্রকৃতির সৌন্দর্যে কবি উন্মাতাল হতে পারেন না; বরং রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। অতএব বলা যায়, 'প্রকৃতির সঙ্গে মানব মনের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে'- উদ্দীপকের উক্তিটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আলোকে যথার্থ।
ঘ
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় বর্ণিত বসন্তের রূপচিত্র এবং উদ্দীপকের ঋতুরাজের রূপচিত্র একই অর্থে সমার্থক'- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

উত্তর

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ঋতুরাজ বসন্তের সৌন্দর্য প্রতিফলিত হয়েছে। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ঋতুরাজ বসন্তের কথা বলা হয়েছে। ফাগুন মাস বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। বসন্তে প্রকৃতি যেন নতুন সাজে নিজেকে সজ্জিত করে। চারদিকে গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, ফুল ফোটে নতুনত্বের বার্তা নিয়ে। বাতাবি লেবু, ফুল ও আমের মুকুলের সুগন্ধে চারপাশ ভরে ওঠে। ঋতুরাজ বসন্ত পত্র-পুষ্প-মঞ্জরিতে যখন সজ্জিত হয় সমগ্র প্রকৃতিতে তখন বয়ে যায় আনন্দের হিল্লোল। বসন্তের মৃদু-মন্দ দখিনা বাতাসে মানুষের মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। একইভাবে উদ্দীপকেও বসন্তের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত বসন্ত-প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য স্বাভাবিকভাবেই মানবমনে আনন্দের জোয়ার বয়ে আনে। বসন্তের সৌন্দর্য প্রকাশে উদ্দীপকে বলা হয়েছে- 'গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, ফুলে ফুলে ভরে যায় অবারিত মাঠ-ঘাট ও বাগান। আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে তখন চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে।' 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ঋতুরাজ বসন্তের সৌন্দর্য উপস্থাপিত হয়েছে। বসন্তের আগমনে বাতাবি লেবু ফুল ও আমের মুকুলের গন্ধে দখিনা বাতাস দিগ্বিদিক সুগন্ধে ভরে তোলে। প্রকৃতি সেজে ওঠে আপন সৌন্দর্যে। অতএব বলা যায়, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় বর্ণিত বসন্তের রূপচিত্র এবং উদ্দীপকের ঋতুরাজের রূপচিত্র একই অর্থে সমার্থক'- উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ঋতুরাজ বসন্তে প্রকৃতি এক নতুন সাজে সজ্জিত হয়। শীতের শুষ্কতা কাটিয়ে প্রকৃতি তখন নব যৌবন লাভ করে। গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, ফুলে ফুলে ভরে যায় অবারিত মাঠ-ঘাট ও বাগান। আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে তখন চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে। এই ঋতুতে বিরহীদের মন প্রিয়জনের সান্নিধ্য খোঁজে। তাদের কথা বেশি বেশি মনে পড়ে। কারণ, প্রকৃতির সঙ্গে মানব মনের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রভাব তখন মানব মনে পড়ে। কবি-সাহিত্যিকগণ তখন নতুন নতুন সাহিত্য চর্চায় আত্মনিয়োগ করার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

Chittagong · 2017

ক
মাঘের সন্ন্যাসী কোথায় চলে গিয়েছে?

উত্তর

মাঘের সন্ন্যাসী পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে চলে গেছে।
খ
বসন্তের আগমন সত্ত্বেও কবির নীরব ভূমিকা পালনের কারণ কী?

উত্তর

প্রিয়জন হারানোর বিষাদময় স্মৃতি ভুলতে না পারার কারণে কবি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটলেও কবির মনোজগৎ জুড়ে বিরাজ করছে শীতের রিক্ততা ও বিষণ্ণতার ছবি। প্রিয়জনের করুণ বিদায়ের ফলে কবিমনে যে বেদনার ছায়াপাত রেখে গেছে তা তিনি কিছুতেই ভুলতে পারেন না। কবির এই নীরবতার কারণটি যেন প্রকৃতির চিরাচরিত পরিস্থিতির মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায়। মূলত প্রিয়জন হারানোর বেদনায় মুহ্যমান কবি স্বাভাবিকভাবেই নিরাসক্ত, নিরাবেগ ও নীরব হয়ে পড়েন।
গ
'প্রকৃতির সঙ্গে মানব মনের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে'- উদ্দীপকের উক্তিটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবিমনের বিষণ্ণতা প্রকৃতি সংলগ্নতায় উপস্থাপিত হয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে মানব মনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিক দিয়ে উদ্দীপকের বিষয়ের সাথে আলোচ্য কবিতার কবিমনের সাদৃশ্য বিদ্যমান। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ঋতুরাজ বসন্তের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কবিমনের প্রত্যাশিত আনন্দের উৎস। আর প্রকৃতির সৌন্দর্য যে মানব মনের অফুরন্ত আনন্দের উৎস- এ সত্যের প্রকাশ ঘটেছে উদ্দীপকে। উদ্দীপকের মতো 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটিতেও মানবমনে প্রকৃতির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। বসন্ত-প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য যে কবিমনে আনন্দ শিহরণ জাগাবে এবং তিনি তাকে ভাবে-ছন্দে-সুরে ফুটিয়ে তুলবেন, সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু বসন্তের আবির্ভাবের আগেই কবির প্রিয়তম স্বামী কুহেলিকার অন্তরালে চলে যাওয়ায় ঋতুরাজ বসন্তের ঐশ্বর্য কবিকে আপ্লুত করতে পারেনি। ব্যক্তিজীবনের দুঃসহ বিষণ্ণতার কারণে বসন্ত-প্রকৃতির সৌন্দর্যে কবি উন্মাতাল হতে পারেন না; বরং রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। অতএব বলা যায়, 'প্রকৃতির সঙ্গে মানব মনের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে'- উদ্দীপকের উক্তিটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আলোকে যথার্থ।
ঘ
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় বর্ণিত বসন্তের রূপচিত্র এবং উদ্দীপকের ঋতুরাজের রূপচিত্র একই অর্থে সমার্থক'- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

উত্তর

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ঋতুরাজ বসন্তের সৌন্দর্য প্রতিফলিত হয়েছে। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ঋতুরাজ বসন্তের কথা বলা হয়েছে। ফাগুন মাস বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। বসন্তে প্রকৃতি যেন নতুন সাজে নিজেকে সজ্জিত করে। চারদিকে গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, ফুল ফোটে নতুনত্বের বার্তা নিয়ে। বাতাবি লেবু, ফুল ও আমের মুকুলের সুগন্ধে চারপাশ ভরে ওঠে। ঋতুরাজ বসন্ত পত্র-পুষ্প-মঞ্জরিতে যখন সজ্জিত হয় সমগ্র প্রকৃতিতে তখন বয়ে যায় আনন্দের হিল্লোল। বসন্তের মৃদু-মন্দ দখিনা বাতাসে মানুষের মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। একইভাবে উদ্দীপকেও বসন্তের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত বসন্ত-প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য স্বাভাবিকভাবেই মানবমনে আনন্দের জোয়ার বয়ে আনে। বসন্তের সৌন্দর্য প্রকাশে উদ্দীপকে বলা হয়েছে- 'গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, ফুলে ফুলে ভরে যায় অবারিত মাঠ-ঘাট ও বাগান। আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে তখন চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে।' 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ঋতুরাজ বসন্তের সৌন্দর্য উপস্থাপিত হয়েছে। বসন্তের আগমনে বাতাবি লেবু ফুল ও আমের মুকুলের গন্ধে দখিনা বাতাস দিগ্বিদিক সুগন্ধে ভরে তোলে। প্রকৃতি সেজে ওঠে আপন সৌন্দর্যে। অতএব বলা যায়, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় বর্ণিত বসন্তের রূপচিত্র এবং উদ্দীপকের ঋতুরাজের রূপচিত্র একই অর্থে সমার্থক'- উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সালমা ও জামিল দাম্পত্য জীবনে সুখেই দিনাতিপাত করছিল। হঠাৎ এ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করল জামিল। ছন্দপতন ঘটল সালমার সুখময় জীবনে। যদিও পরবর্তীকালে শামীম নামের এক ভদ্রলোকের সাথে সালমার আবার বিয়ে হয়। কিন্তু প্রথম স্বামীর স্মৃতি সে এক দিনের জন্যেও ভুলতে পারেনি। কারণ, সে ছিল তার সকল কাজের প্রেরণাদাতা। প্রতি বসন্তে সালমা প্রথম স্বামীর কথা স্মরণ করে একদম উদাসীন হয়ে যায় এবং স্বামীর কবরের পাশে বসে নীরবে অশ্রুপাত করে। কেননা তার সেই ভালোবাসার মানুষটি বসন্তকালেই তাকে ছেড়ে চিরদিনের মতো চলে গেছে।

Comilla · 2017

ক
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি কোন ছন্দে লেখা?

উত্তর

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।
খ
'কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর

কবি শীতকে কুয়াশার চাদর পরিহিত মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন। শীত প্রকৃতিকে দেয় রিক্ততার রূপ। শীতের এ রূপকে বসন্তের বিপরীতে স্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃতি বসন্তের আগমনে ফুলের সাজে সাজলেও কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ততার ছবি। শীত যেন সর্বরিক্ত সন্ন্যাসীর মতো কুয়াশার চাদর গায়ে পত্রপুষ্পহীন দিগন্তের পথে চলে গেছে।
গ
উদ্দীপকের জামিলের সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কার সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের জামিলের সঙ্গে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাদৃশ্য রয়েছে। আলোচ্য কবিতাটি শীত ও বসন্ত ঋতুর পালাবদলের অন্তরালে কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের স্মরণেই রচিত হয়েছে। তাঁর মৃত্যু কবির জীবনে যে রিক্ততার সৃষ্টি করেছিল, বসন্ত প্রকৃতির বর্ণনার অন্তরালে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এ কবিতায়। ৎউদ্দীপকের জামিল হঠাৎ করেই দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। তার মৃত্যু স্ত্রী সালমার জীবনের ছন্দপতন ঘটায়। পরবর্তীতে সালমার আরেকজনের সঙ্গে বিয়ে হলেও জামিলের কথা সে এক দিনের জন্যও ভুলতে পারেনি। সকল কাজের প্রেরণাদাতা জামিলের স্মৃতি সর্বদাই সালমার মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। এদিকে আলোচ্য কবিতার কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনেরও আকস্মিক মৃত্যু হয়। ফলে কবির জীবনে নেমে আসে প্রচণ্ড শূন্যতা। সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যু কবির জীবনে আনে দুঃসহ বিষণ্ণতা। উদ্দীপকের জামিল ও আলোচ্য কবিতার সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যু তাদের জীবনসঙ্গিনীর জীবনকে বিষাদময় রিক্ততায় ভরে তোলে।
ঘ
"উদ্দীপকের সালমার মনের কষ্ট আর 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ এক সূত্রে গাঁথা”- আলোচনা করো।

উত্তর

"উদ্দীপকের সালমার মনের কষ্ট আর 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ এক সূত্রে গাঁথা" আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ। কেননা উভয়েই প্রিয়জনের বিয়োগব্যথায় কাতর হয়েছেন। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি সুফিয়া কামালের স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু হয়। ফলে কবির ব্যক্তিজীবনে ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণ্ণতা। উদ্দীপকের সালমার স্বামী জামিল হঠাৎ করে দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পরবর্তীতে পুনরায় বিয়ে করলেও জামিলের স্মৃতি তাকে সর্বদাই তাড়িয়ে বেড়ায়। একইভাবে আলোচ্য কবিতার কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যুতে কবির জীবনও বিষাদময় রিক্ততায় ভরে ওঠে। হাহাকার নেমে আসে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে। প্রিয়জনের মৃত্যু স্বভাবতই মানুষের হৃদয়কে শোকে কাতর করে তোলে। আর তা যদি হয় জীবনসঙ্গীর মৃত্যু তবে তা আরও বেশি কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। সর্বদা তার অনুপস্থিতি হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে তোলে। আলোচ্য কবিতার কবির স্বামী ছিলেন তাঁর সকল কাজের উৎসাহদাতা। এমন একজন জীবনসঙ্গী হারিয়ে কবি নিমজ্জিত হন সীমাহীন কষ্টের সাগরে। ফলে বসন্ত এলেও কবিমনে শিহরণ জাগে না বরং তার হৃদয়জুড়ে থাকে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা। এ রকম পরিস্থিতি হয়েছে উদ্দীপকের সালমার ক্ষেত্রেও। প্রাণপ্রিয় স্বামী জামিলের মৃত্যুতে তার সুখময় জীবনের ছন্দপতন ঘটেছে। স্বামী হারানোর প্রেক্ষাপটে বলা যায়, সালমার কষ্ট ও কবির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ একই সূত্রে গাঁথা। অতএব, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সালমা ও জামিল দাম্পত্য জীবনে সুখেই দিনাতিপাত করছিল। হঠাৎ এ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করল জামিল। ছন্দপতন ঘটল সালমার সুখময় জীবনে। যদিও পরবর্তীকালে শামীম নামের এক ভদ্রলোকের সাথে সালমার আবার বিয়ে হয়। কিন্তু প্রথম স্বামীর স্মৃতি সে এক দিনের জন্যেও ভুলতে পারেনি। কারণ, সে ছিল তার সকল কাজের প্রেরণাদাতা। প্রতি বসন্তে সালমা প্রথম স্বামীর কথা স্মরণ করে একদম উদাসীন হয়ে যায় এবং স্বামীর কবরের পাশে বসে নীরবে অশ্রুপাত করে। কেননা তার সেই ভালোবাসার মানুষটি বসন্তকালেই তাকে ছেড়ে চিরদিনের মতো চলে গেছে।

Comilla · 2017

ক
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি কোন ছন্দে লেখা?

উত্তর

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।
খ
'কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর

কবি শীতকে কুয়াশার চাদর পরিহিত মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন। শীত প্রকৃতিকে দেয় রিক্ততার রূপ। শীতের এ রূপকে বসন্তের বিপরীতে স্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃতি বসন্তের আগমনে ফুলের সাজে সাজলেও কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ততার ছবি। শীত যেন সর্বরিক্ত সন্ন্যাসীর মতো কুয়াশার চাদর গায়ে পত্রপুষ্পহীন দিগন্তের পথে চলে গেছে।
গ
উদ্দীপকের জামিলের সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কার সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের জামিলের সঙ্গে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাদৃশ্য রয়েছে। আলোচ্য কবিতাটি শীত ও বসন্ত ঋতুর পালাবদলের অন্তরালে কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের স্মরণেই রচিত হয়েছে। তাঁর মৃত্যু কবির জীবনে যে রিক্ততার সৃষ্টি করেছিল, বসন্ত প্রকৃতির বর্ণনার অন্তরালে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এ কবিতায়। ৎউদ্দীপকের জামিল হঠাৎ করেই দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। তার মৃত্যু স্ত্রী সালমার জীবনের ছন্দপতন ঘটায়। পরবর্তীতে সালমার আরেকজনের সঙ্গে বিয়ে হলেও জামিলের কথা সে এক দিনের জন্যও ভুলতে পারেনি। সকল কাজের প্রেরণাদাতা জামিলের স্মৃতি সর্বদাই সালমার মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। এদিকে আলোচ্য কবিতার কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনেরও আকস্মিক মৃত্যু হয়। ফলে কবির জীবনে নেমে আসে প্রচণ্ড শূন্যতা। সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যু কবির জীবনে আনে দুঃসহ বিষণ্ণতা। উদ্দীপকের জামিল ও আলোচ্য কবিতার সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যু তাদের জীবনসঙ্গিনীর জীবনকে বিষাদময় রিক্ততায় ভরে তোলে।
ঘ
"উদ্দীপকের সালমার মনের কষ্ট আর 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ এক সূত্রে গাঁথা”- আলোচনা করো।

উত্তর

"উদ্দীপকের সালমার মনের কষ্ট আর 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ এক সূত্রে গাঁথা" আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ। কেননা উভয়েই প্রিয়জনের বিয়োগব্যথায় কাতর হয়েছেন। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি সুফিয়া কামালের স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু হয়। ফলে কবির ব্যক্তিজীবনে ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণ্ণতা। উদ্দীপকের সালমার স্বামী জামিল হঠাৎ করে দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পরবর্তীতে পুনরায় বিয়ে করলেও জামিলের স্মৃতি তাকে সর্বদাই তাড়িয়ে বেড়ায়। একইভাবে আলোচ্য কবিতার কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যুতে কবির জীবনও বিষাদময় রিক্ততায় ভরে ওঠে। হাহাকার নেমে আসে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে। প্রিয়জনের মৃত্যু স্বভাবতই মানুষের হৃদয়কে শোকে কাতর করে তোলে। আর তা যদি হয় জীবনসঙ্গীর মৃত্যু তবে তা আরও বেশি কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। সর্বদা তার অনুপস্থিতি হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে তোলে। আলোচ্য কবিতার কবির স্বামী ছিলেন তাঁর সকল কাজের উৎসাহদাতা। এমন একজন জীবনসঙ্গী হারিয়ে কবি নিমজ্জিত হন সীমাহীন কষ্টের সাগরে। ফলে বসন্ত এলেও কবিমনে শিহরণ জাগে না বরং তার হৃদয়জুড়ে থাকে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা। এ রকম পরিস্থিতি হয়েছে উদ্দীপকের সালমার ক্ষেত্রেও। প্রাণপ্রিয় স্বামী জামিলের মৃত্যুতে তার সুখময় জীবনের ছন্দপতন ঘটেছে। স্বামী হারানোর প্রেক্ষাপটে বলা যায়, সালমার কষ্ট ও কবির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ একই সূত্রে গাঁথা। অতএব, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো