HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
তাপসীর নেশা ও পেশা ছবি আঁকা। তাঁর ছবির বিশেষত্ব হচ্ছে উজ্জ্বল রং আর বিভিন্ন মিথের ব্যবহার। কিন্তু দুর্ঘটনায় তাঁর একমাত্র শিশুপুত্র মারা গেলে পাল্টে যায় তার জীবন। তিনি শহর ছেড়ে চলে যান গ্রামে। এখন আর ছবি আঁকা তাকে টানে না। বন্ধুরা তাকে প্রশ্ন করলে বলেন, "কী হবে ছবি এঁকে!"
ক
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কোন ফুল ফোটার কথা কবি জানতে চেয়েছেন?
উত্তর
বাতাবি নেবু
খ
"ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই?"- কেন বলেছেন?
উত্তর
ওগো কবি, অভিমান করেছো কি তাই- এখানে পাঠকের অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে।
কবি তার স্বামী নেহালকে হারিয়েছে। এজন্য তিনি প্রকৃতির উপর আনমনা। প্রিয় পাঠক এগুলো সহ্য করতে পারেনি। তারা মনে করেছে কবি অভিমান করেছে। এজন্য কবির কাছে পাঠকের প্রশ্ন এসেছে।
গ
উদ্দীপকের কোন দিকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষাদময় রিক্ততার হাহাকার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বসন্ত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কবিমনে আনন্দের শিহরন জাগাবে, তিনি তাকে ভাবে ছন্দে সুরে ভরিয়ে তুলবেন সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু কবিমন যদি কোনো কারণে শোকাচ্ছন্ন বা বেদনা ভারাতুর থাকে তবে তা কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে পারবে না। কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ত ও বিষণ্ণ ছবি। তাঁর মন গভীরভাবে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাঁর কণ্ঠ নীরব। শীতের করুণ বিদায়কে কবি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। আর তাই বসন্তও তাঁর মনে কোনো সাড়া জাগাতে পারছে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তাঁর প্রথম স্বামী তাঁর কাব্য সাধনার প্রেরণা-পুরুষ ছিলেন। তাঁরই আকস্মিক মৃত্যুতে কবির অন্তরে যে বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার সুর বেজে উঠেছে, তারই সুস্পষ্ট প্রভাব ও ইঙ্গিত এ কবিতায় বিধৃত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশেও রয়েছে আকস্মিক বিচ্ছেদ-বেদনার করুণ হাহাকার।
কেননা, কবি তার ছেলের আকষ্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। সে ছিল তাঁর জীবন- ছায়া, সে শুধু মায়াভরা স্মৃতি রেখে তাঁর জীবন থেকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে। তাঁর জীবন এখন ফাঁকা, তিনি এখন একাকী। সব সৌন্দর্যবোধ, সব কিছুর গুরুত্ব এখন ম্লান হয়ে গেছে। তাই অপরূপ প্রকৃতির রূপের প্রতি তাঁর কোনো আকর্ষণ নেই। কেননা, সমস্ত মন পড়ে আছে কেবল তাঁরই জন্য। কাজেই একথা বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার সুর প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সম্পূর্ণ দিকটি ফুটে উঠেছে কি? তোমার যুক্তি উপস্থাপন কর।
উত্তর
"উদ্দীপকটি যেন 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মর্মবাণীকেই ধারণ করেছে"- কথাটা যথার্থ ও যৌক্তিক। কেননা উদ্দীপক এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মর্মবাণী একই। সুতরাং সম্পুর্ন দিক ধারণ করেছে।
প্রিয়জন হারানোর বেদনা বড়ই মর্মান্তিক। যে প্রিয়জন কষ্ট-দুঃখে সমব্যথী, উৎসাহ-অনুপ্রেরণায় উদার, প্রেম-ভালোবাসায় অতুলনীয়, বন্ধুত্বে অনুপম, সেই প্রিয়জনকে কখনো বিস্মৃত হওয়া যায় না। তাঁকে হারিয়ে জীবন হয়ে যায় রিক্ত-শূন্য-মূল্যহীন।
উদ্দীপকে এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রিয়জন হারানোর বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার হাহাকার ধ্বনিত হয়েছে। এটাই এ দুটোর মর্মবাণী বা মূলসুর। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি যাকে তার ছেলেকে হারিয়ে সে নির্বাচিত , সে তাঁর জীবন থেকে চলে গেছে চিরদিনের
মতো। শুধু রয়ে গেছে মায়াভরা স্মৃতি। অপরূপ প্রকৃতি সৌন্দর্য তাঁর ভালো লাগে না। রিক্ত শূন্য একাকী জীবনে তাঁর স্মৃতিটুকুই এখন সান্ত্বনা।
একইভাবে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি তাঁর স্বামী
সৈয়দ নেহাল হোসেনকে হারিয়ে রিক্ত ও শূন্য হয়ে গেছেন। কেননা,তিনিই ছিলেন তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও প্রেরণাদাতা। এর ফলে তাঁর সাহিত্য সাধনায়ও নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণ্ণতা। কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে যায় রিক্ততার করুণ হাহাকারে।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, উদ্দীকপটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মর্মবাণীকেই ধারণ করেছে এবং সম্পূর্ণ দিক ফুটে উঠেছে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো