গদ্য : রেইনকোট Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর গদ্য : রেইনকোট অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৫৯

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

"চকচকে রোদ। সড়কের উত্তরে রাইফেল রেঞ্জের মধ্যে গামছা-পরা এক কিশোর তিন চারটে গরু খেদিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার মাথায় ছালা বোঝাই ঘাস। কাঁধে লাঙল-জোয়াল। সম্ভবত সে মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছে। 'মুক্তি! মুক্তি!' একজন সৈনিক চিৎকার করে ওঠে। 'কাঁহা? কাঁহা?- অপরেরা প্রশ্ন করে। 'ভাহনা তরফ দেখো।' কলিমুদ্দি দফাদার সবিনয়ে বলতে চায়, 'মুক্তি নেহি ক্যাপ্টেন সাব, উয়ো রাখাল হ্যায়, মেরা চেনাজানা হ্যায়। 'চুপরাও সালে কাফের কা বাচ্চা কাফের। মুক্তি, আলবৎ মুক্তি।' বলেই সকলে একসঙ্গে গুলি ছোঁড়ে। এলাকা কেঁপে ওঠে। ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে দূরে ছড়িয়ে পড়ে।

Rajshahi · 2017

ক
'রেইনকোট' গল্পটি কার লেখা?

উত্তর

'রেইনকোট' গল্পটি লিখেছেন- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
খ
'ক্রাক-ডাউনের' রাতে কী ঘটেছিল?

উত্তর

ক্রাক-ডাউনের রাতে নিরীহ বাঙালির ওপর ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাঙালি শোষণ-নির্যাতনের শিকার হতে থাকে। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ দিবাগত রাতে তা চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। এ সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকার নিরস্ত্র মানুষের ওপর ভয়াবহ গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করে। সে রাতের ভয়াবহতা বোঝাতে 'ক্লাক ডাউনের রাত' কথাটি বলা হয়েছে।
গ
উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের গণহত্যার দিকটি ফুটে উঠেছে। 'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে। সে সময় ঢাকার কোনো মানুষই নিরাপদ ছিল না। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাত থেকে তারা নিয়মিত গণহত্যা চালাতে থাকে। এর থেকে রেহাই পায় না আযান দিতে থাকা মসজিদের মোয়াজ্জিন পর্যন্ত। তারা নারী- শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। যেমনটি লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের ঘটনায়। উদ্দীপকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক এক রাখাল বালককে গুলি করে হত্যা করার চিত্র ফুটে উঠেছে। নিরীহ রাখাল বালক দিন শেষে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। কিন্তু নির্মম পাকিস্তানি সৈন্যের বন্দুকের গুলি থেকে সে রেহাই পায়নি। তাদের আচরণ ছিল হিংস্র পশুর চেয়েও ঘৃণ্য। তারা এদেশের মানুষকে এতটাই তুচ্ছ মনে করত যে সামান্য কারণেই হত্যা করত। এরূপ নির্মমতার প্রতিফলন সমানভাবে লক্ষ করা যায় উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের ঘটনায়।
ঘ
উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের আলোকে স্বাধীনতা যুদ্ধে এদেশের জনসাধারণের অবস্থা আলোচনা করো।

উত্তর

'রেইনকোট' গল্পে স্বাধীনতা যুদ্ধে এদেশের জনসাধারণের ভয়াবহ অবস্থার কথা চিত্রিত হয়েছে। 'রেইনকোট' গল্পটি রচিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার রাজধানী ঢাকার ভয়াবহ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘ শোষণ-নিপীড়নের পর ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঘুমন্ত শহরবাসির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। নির্যাতনের ভয়াবহতা বাঙালিদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে তাঁরা এদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব চিত্র লক্ষ করা যায়। পাকিস্তানিরা সম্পূর্ণভাবে এদেশের অবকাঠামো ভেঙে দিয়েছিল। বাঙালির জীবন তাদের কাছে ছিল তুচ্ছ। যুদ্ধের সময় পশু-পাখির মতো তারা মানুষ হত্যা করেছে। উদ্দীপকের রাখালকে হত্যা করার মাধ্যমে তারই প্রমাণ পাওয়া যায়। 'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞে ঢাকা শহরের অধিবাসীদের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে। সহজ- সরল নুরুল হুদা ও মসজিদের মোয়াজ্জিন যেন উদ্দীপকের নিরীহ রাখাল বালকেরই প্রতিরূপ। তাদের এমন অবস্থাই বলে দেয় সমসাময়িক পরিস্থিতির ভয়াবহতা। গল্পের নুরুল হুদা চারবার বাসা পরিবর্তন করেও তার নিয়তিকে পাল্টাতে পারেনি। দেশের জনসাধারণ যেন জিম্মি হয়ে গিয়েছিল তাদের হাতে। কোনো মানুষই বলতে পারত না বাড়ি থেকে বের হলে আর ফিরে আসতে পারবে কিনা। উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের কাহিনিতে এমন আভাসই পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

"চকচকে রোদ। সড়কের উত্তরে রাইফেল রেঞ্জের মধ্যে গামছা-পরা এক কিশোর তিন চারটে গরু খেদিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার মাথায় ছালা বোঝাই ঘাস। কাঁধে লাঙল-জোয়াল। সম্ভবত সে মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছে। 'মুক্তি! মুক্তি!' একজন সৈনিক চিৎকার করে ওঠে। 'কাঁহা? কাঁহা?- অপরেরা প্রশ্ন করে। 'ভাহনা তরফ দেখো।' কলিমুদ্দি দফাদার সবিনয়ে বলতে চায়, 'মুক্তি নেহি ক্যাপ্টেন সাব, উয়ো রাখাল হ্যায়, মেরা চেনাজানা হ্যায়। 'চুপরাও সালে কাফের কা বাচ্চা কাফের। মুক্তি, আলবৎ মুক্তি।' বলেই সকলে একসঙ্গে গুলি ছোঁড়ে। এলাকা কেঁপে ওঠে। ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে দূরে ছড়িয়ে পড়ে।

Rajshahi · 2017

ক
'রেইনকোট' গল্পটি কার লেখা?

উত্তর

'রেইনকোট' গল্পটি লিখেছেন- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
খ
'ক্রাক-ডাউনের' রাতে কী ঘটেছিল?

উত্তর

ক্রাক-ডাউনের রাতে নিরীহ বাঙালির ওপর ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাঙালি শোষণ-নির্যাতনের শিকার হতে থাকে। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ দিবাগত রাতে তা চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। এ সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকার নিরস্ত্র মানুষের ওপর ভয়াবহ গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করে। সে রাতের ভয়াবহতা বোঝাতে 'ক্লাক ডাউনের রাত' কথাটি বলা হয়েছে।
গ
উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের গণহত্যার দিকটি ফুটে উঠেছে। 'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে। সে সময় ঢাকার কোনো মানুষই নিরাপদ ছিল না। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাত থেকে তারা নিয়মিত গণহত্যা চালাতে থাকে। এর থেকে রেহাই পায় না আযান দিতে থাকা মসজিদের মোয়াজ্জিন পর্যন্ত। তারা নারী- শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। যেমনটি লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের ঘটনায়। উদ্দীপকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক এক রাখাল বালককে গুলি করে হত্যা করার চিত্র ফুটে উঠেছে। নিরীহ রাখাল বালক দিন শেষে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। কিন্তু নির্মম পাকিস্তানি সৈন্যের বন্দুকের গুলি থেকে সে রেহাই পায়নি। তাদের আচরণ ছিল হিংস্র পশুর চেয়েও ঘৃণ্য। তারা এদেশের মানুষকে এতটাই তুচ্ছ মনে করত যে সামান্য কারণেই হত্যা করত। এরূপ নির্মমতার প্রতিফলন সমানভাবে লক্ষ করা যায় উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের ঘটনায়।
ঘ
উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের আলোকে স্বাধীনতা যুদ্ধে এদেশের জনসাধারণের অবস্থা আলোচনা করো।

উত্তর

'রেইনকোট' গল্পে স্বাধীনতা যুদ্ধে এদেশের জনসাধারণের ভয়াবহ অবস্থার কথা চিত্রিত হয়েছে। 'রেইনকোট' গল্পটি রচিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার রাজধানী ঢাকার ভয়াবহ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘ শোষণ-নিপীড়নের পর ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঘুমন্ত শহরবাসির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। নির্যাতনের ভয়াবহতা বাঙালিদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে তাঁরা এদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব চিত্র লক্ষ করা যায়। পাকিস্তানিরা সম্পূর্ণভাবে এদেশের অবকাঠামো ভেঙে দিয়েছিল। বাঙালির জীবন তাদের কাছে ছিল তুচ্ছ। যুদ্ধের সময় পশু-পাখির মতো তারা মানুষ হত্যা করেছে। উদ্দীপকের রাখালকে হত্যা করার মাধ্যমে তারই প্রমাণ পাওয়া যায়। 'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞে ঢাকা শহরের অধিবাসীদের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে। সহজ- সরল নুরুল হুদা ও মসজিদের মোয়াজ্জিন যেন উদ্দীপকের নিরীহ রাখাল বালকেরই প্রতিরূপ। তাদের এমন অবস্থাই বলে দেয় সমসাময়িক পরিস্থিতির ভয়াবহতা। গল্পের নুরুল হুদা চারবার বাসা পরিবর্তন করেও তার নিয়তিকে পাল্টাতে পারেনি। দেশের জনসাধারণ যেন জিম্মি হয়ে গিয়েছিল তাদের হাতে। কোনো মানুষই বলতে পারত না বাড়ি থেকে বের হলে আর ফিরে আসতে পারবে কিনা। উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের কাহিনিতে এমন আভাসই পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বর্গি এল খাজনা নিতে মারল মানুষ কত। পুড়ল শহর পুড়ল শ্যামল গ্রাম যে শত শত। হানাদারের সঙ্গে জোরে লড়ে মুক্তি সেনা তাদের কথা দেশের মানুষ কখনো ভুলবে না।

Comilla · 2017

ক
'রেইনকোট' গল্পের কথকের নাম কী?

উত্তর

'রেইনকোট' গল্পের কথকের নাম নুরুল হুদা।
খ
'রাশিয়ায় ছিল জেনারেল উইনটার, আমাদের জেনারেল মনসুন'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য বর্ষাঋতুর সহায়ক ভূমিকার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রচণ্ড শীতের কবলে পড়ে জার্মান বাহিনী রাশিয়ায় পর্যুদস্ত হয়েছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্ষাঋতুর কারণে পাকবাহিনী একইভাবে পর্যুদস্ত হয়েছিল। বাংলার প্রবল ঝড়-বৃষ্টির সাথে হানাদার বাহিনীর পরিচয় ছিল না। ফলে তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সাথে বর্ষাঋতুর সাথেও লড়তে হয়েছিল। 'রেইনকোট' গল্পে বর্ষাঋতুকে তাই জেনারেলের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
গ
উদ্দীপকটিতে 'রেইনকোট' গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকটিতে 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত হানাদারদের বর্বরতা ও বাঙালির প্রতিরোধের দিকটি ফুটে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে 'রেইনকোট' গল্পটি রচিত। এ গল্পে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্ত হয়েছে শত্রুসেনার বিরুদ্ধে বাঙালির যূথবদ্ধ প্রতিরোধের দিকটি। উদ্দীপকের কবিতায় হানাদার বাহিনীর পাশবিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে। তারা নির্বিচারে মানুষ মেরেছে। শত শত গ্রাম, শহরের বস্তি ও স্থাপনা জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাঙালিরাও থেমে থাকেনি বরং মুক্তির জন্য লড়াই করে হানাদারদের দেশছাড়া করেছে। 'রেইনকোট' গল্পেও বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে গুলি করা, আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিনকে গুলি করা ও মুক্তিসেনাদের তথ্য জানতে শিক্ষককে অমানুষিক নির্যাতনের চিত্রের মাধ্যমে হানাদার বাহিনীর বর্বরতা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা কলেজের সামনের বৈদ্যুতিক টান্সফর্মার ধ্বংস, প্রিন্সিপালের বাড়িতে গ্রেনেড ছোড়ার মধ্যদিয়ে বাঙালির যূথবদ্ধ প্রতিরোধ চিত্র ফুটে উঠেছে।
ঘ
"হানাদারের সঙ্গে জোরে লড়ে মুক্তি সেনা- উদ্দীপকের এই বক্তব্যের মতো 'রেইনকোট' গল্পেও প্রতিরোধের চিত্র রয়েছে"- তোমার মতামতসহ আলোচনা করো।

উত্তর

মুক্তিযুদ্ধে হানাদারদের বিরুদ্ধে বাঙালির যুথবদ্ধ প্রতিরোধের আলেখ্য 'রেইনকোট' গল্পটি। 'রেইনকোট' গল্পটিতে ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের বহুমাত্রিক চিত্র। পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতা ও মুক্তিসেনাদের প্রতিরোধ- দুটোই এ গল্পের উপজীব্য। উদ্দীপকের কবিতায় বর্গি বলতে হানাদার বাহিনীকে বোঝানো হয়েছে, যারা নির্বিচারে মানুষ মেরেছে। বাংলার মানুষ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। যূথবদ্ধ লড়াই করে হানাদারদের নিশ্চিহ্ন করেছে মুক্তিসেনারা। এদিকে একই প্রেক্ষাপট রয়েছে 'রেইনকোট' গল্পেও। এ গল্পে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণের চিত্র ফুটে উঠেছে। মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকা কলেজের সামনের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মারটি ধ্বংস করে দেয়। হানাদারদের দোসর প্রিন্সিপালের বাড়িতে গ্রেনেড ছোড়ে, গেট ভেঙে দেয়। বর্ষাকালের সুবিধা নিয়ে গেরিলা আক্রমণ চালিয়ে কাবু করে পাকবাহিনীকে। নুরুল হুদা মুক্তিসেনাদের তথ্য হানাদারদের জানানো থেকে বিরত থাকে শত অত্যাচারের পরও। 'রেইনকোট' গল্পে এ রকম নানা ঘটনার মধ্য দিয়েই মুক্তিসেনাদের প্রতিরোধের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। তাই 'রেইনকোট' গল্পের আলোকে হানদারদের সঙ্গে জোরে লড়ে মুক্তিসেনা" মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বর্গি এল খাজনা নিতে মারল মানুষ কত। পুড়ল শহর পুড়ল শ্যামল গ্রাম যে শত শত। হানাদারের সঙ্গে জোরে লড়ে মুক্তি সেনা তাদের কথা দেশের মানুষ কখনো ভুলবে না।

Comilla · 2017

ক
'রেইনকোট' গল্পের কথকের নাম কী?

উত্তর

'রেইনকোট' গল্পের কথকের নাম নুরুল হুদা।
খ
'রাশিয়ায় ছিল জেনারেল উইনটার, আমাদের জেনারেল মনসুন'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য বর্ষাঋতুর সহায়ক ভূমিকার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রচণ্ড শীতের কবলে পড়ে জার্মান বাহিনী রাশিয়ায় পর্যুদস্ত হয়েছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্ষাঋতুর কারণে পাকবাহিনী একইভাবে পর্যুদস্ত হয়েছিল। বাংলার প্রবল ঝড়-বৃষ্টির সাথে হানাদার বাহিনীর পরিচয় ছিল না। ফলে তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সাথে বর্ষাঋতুর সাথেও লড়তে হয়েছিল। 'রেইনকোট' গল্পে বর্ষাঋতুকে তাই জেনারেলের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
গ
উদ্দীপকটিতে 'রেইনকোট' গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকটিতে 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত হানাদারদের বর্বরতা ও বাঙালির প্রতিরোধের দিকটি ফুটে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে 'রেইনকোট' গল্পটি রচিত। এ গল্পে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্ত হয়েছে শত্রুসেনার বিরুদ্ধে বাঙালির যূথবদ্ধ প্রতিরোধের দিকটি। উদ্দীপকের কবিতায় হানাদার বাহিনীর পাশবিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে। তারা নির্বিচারে মানুষ মেরেছে। শত শত গ্রাম, শহরের বস্তি ও স্থাপনা জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাঙালিরাও থেমে থাকেনি বরং মুক্তির জন্য লড়াই করে হানাদারদের দেশছাড়া করেছে। 'রেইনকোট' গল্পেও বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে গুলি করা, আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিনকে গুলি করা ও মুক্তিসেনাদের তথ্য জানতে শিক্ষককে অমানুষিক নির্যাতনের চিত্রের মাধ্যমে হানাদার বাহিনীর বর্বরতা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা কলেজের সামনের বৈদ্যুতিক টান্সফর্মার ধ্বংস, প্রিন্সিপালের বাড়িতে গ্রেনেড ছোড়ার মধ্যদিয়ে বাঙালির যূথবদ্ধ প্রতিরোধ চিত্র ফুটে উঠেছে।
ঘ
"হানাদারের সঙ্গে জোরে লড়ে মুক্তি সেনা- উদ্দীপকের এই বক্তব্যের মতো 'রেইনকোট' গল্পেও প্রতিরোধের চিত্র রয়েছে"- তোমার মতামতসহ আলোচনা করো।

উত্তর

মুক্তিযুদ্ধে হানাদারদের বিরুদ্ধে বাঙালির যুথবদ্ধ প্রতিরোধের আলেখ্য 'রেইনকোট' গল্পটি। 'রেইনকোট' গল্পটিতে ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের বহুমাত্রিক চিত্র। পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতা ও মুক্তিসেনাদের প্রতিরোধ- দুটোই এ গল্পের উপজীব্য। উদ্দীপকের কবিতায় বর্গি বলতে হানাদার বাহিনীকে বোঝানো হয়েছে, যারা নির্বিচারে মানুষ মেরেছে। বাংলার মানুষ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। যূথবদ্ধ লড়াই করে হানাদারদের নিশ্চিহ্ন করেছে মুক্তিসেনারা। এদিকে একই প্রেক্ষাপট রয়েছে 'রেইনকোট' গল্পেও। এ গল্পে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণের চিত্র ফুটে উঠেছে। মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকা কলেজের সামনের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মারটি ধ্বংস করে দেয়। হানাদারদের দোসর প্রিন্সিপালের বাড়িতে গ্রেনেড ছোড়ে, গেট ভেঙে দেয়। বর্ষাকালের সুবিধা নিয়ে গেরিলা আক্রমণ চালিয়ে কাবু করে পাকবাহিনীকে। নুরুল হুদা মুক্তিসেনাদের তথ্য হানাদারদের জানানো থেকে বিরত থাকে শত অত্যাচারের পরও। 'রেইনকোট' গল্পে এ রকম নানা ঘটনার মধ্য দিয়েই মুক্তিসেনাদের প্রতিরোধের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। তাই 'রেইনকোট' গল্পের আলোকে হানদারদের সঙ্গে জোরে লড়ে মুক্তিসেনা" মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বিদেশি সেনার কামান বুলেটে বিদ্ধ নারী, শিশু আর যুবক-জোয়ান-বৃদ্ধ। শত্রু সেনারা হত্যার অভিযানে মুক্তিবাহিনী প্রতিরোধে উত্থানে। মুক্তির পথ যুদ্ধেও রয় জেনে ঘাতক ধ্বংস করেছে অস্ত্র হেনে।

Jessore · 2017

ক
'রেইনকোট' গল্পটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

উত্তর

'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
খ
'যেন বৃষ্টি পড়ছে মিন্টুর রেইনকোটের ওপর'- বাক্যটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

মুক্তিসেনা মিন্টুর রেইনকোটটি পরে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার ভেতরে যে চেতনা সঞ্চারিত হয়েছিল তার নিখুঁত পরিচয় আছে 'রেইনকোট' গল্পে। মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি পরার পর থেকেই ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মাঝে সঞ্চারিত হয় সাহস ও দেশপ্রেমের এক বিচিত্র অনুভূতি। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নুরুল হুদার সংযোগ থাকায় তাকে চাবুক দিয়ে পিটিয়ে তথ্য বের করার চেষ্টা চালায় পাকিস্তানি সেনারা। কিন্তু রেইনকোটটির কারণে তার মাঝে যে প্রেরণার সৃষ্টি হয়েছিল তা যেন তার চাবুকের আঘাতকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। নুরুল হুদার কাছে চাবুকের আঘাতের ব্যাপারটি রেইনকোটের ওপর বৃষ্টি পড়ার মতোই স্বাভাবিক লাগছিল।
গ
উদ্দীপকের 'বিদেশি সেনা' 'রেইনকোট' গল্পের কাদের সাথে তুলনীয়? পাঠ্য গল্পে তাদের তৎপরতার সাথে উদ্দীপকের বর্ণনার মিলগুলো তুলে ধরো।

উত্তর

উদ্দীপকের 'বিদেশি সেনা' 'রেইনকোট' গল্পের পাকিস্তানি সেনাদের সাথে তুলনীয়। 'রেইনকোট' গল্পটি মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে রচিত। এ গল্পে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উদ্দীপকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিপীড়নের চিত্র ফুটে উঠেছে। তারা কামান ও বুলেটের আঘাতে বাঙালিদের হত্যা করে। নারী-শিশু-যুবক-বৃদ্ধ সবাই তাদের বর্বরতার শিকার হয়। 'রেইনকোট' গল্পেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের বর্ণনা পাওয়া যায়। গল্পের কথক নুরুল হুদার বর্ণনা থেকে জানা যায়, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গুলি করে মানুষ হত্যা করে; বাড়ি-ঘর, গ্রাম, হাট-বাজার জ্বালিয়ে দেয়। এমনকি তারা আজানরত মুয়াজ্জিনকেও গুলি করে হত্যা করে। অর্থাৎ, উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্প উভয়ক্ষেত্রেই হানাদার বাহিনীর নির্মমতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
ঘ
"উদ্দীপকটির 'মুক্তিবাহিনী'র সাথে 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষশক্তির বর্ণনা অনেকটা সাদৃশ্যযুক্ত হলেও বৈসাদৃশ্যও রয়েছে"- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে হানাদার বাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে 'মিসক্রিয়ান্ট' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচ্য গল্পে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি তথা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ সমর্থনকারী সাধারণ মানুষের পরিচয় ফুটে উঠেছে। গল্পের মিন্টু ও তার সহযোদ্ধারা দেশকে শত্রুমুক্ত করতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। আবার, মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করার কারণে নুরুল হুদা ও আবদুস সাত্তার মৃধার মতো সাধারণ মানুষদেরও নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে হয়। উদ্দীপকে বাঙালিদের ওপর হানাদার বাহিনীর নিপীড়নের চিত্রের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধচিত্রও ফুটে উঠেছে। এখানে যেমন হানাদার বাহিনীকর্তৃক নারী-শিশু-যুবক-বৃদ্ধদের হত্যার বর্ণনা রয়েছে, তেমনি দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধযুদ্ধের কথাও রয়েছে। উদ্দীপকের মুক্তিবাহিনী শত্রুর আস্তানায় প্রবল আঘাত হেনে মুক্তির পথ প্রশস্ত করেছে। 'রেইনকোট' গল্পের মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা আক্রমণ করে পাকিস্তানি হানাদারদের পর্যুদস্ত করে তোলে। কুলি সেজে কলেজে ঢুকে তারা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার ধ্বংস করে। প্রিন্সিপালের বাসায় গ্রেনেড ছুড়ে ফটক উড়িয়ে দেয়। গল্পে মুক্তিযোদ্ধাদের এই তৎপরতার বাইরে যে বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠেছে, তা হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জাগরণ। নুরুল হুদা নির্মম নির্যাতন সহ্য করেও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধান দেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের মহান চেতনা নিজের মধ্যে লালন করায় হানাদারদের অত্যাচার তার কাছে নিছক উৎপাত বলে মনে হয়েছে। অন্যদিকে, আলোচ্য উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এখানে মুক্তিযুদ্ধ সমর্থনকারী সাধারণ মানুষের কথা উঠে আসেনি। নুরুল হুদার মতো সাধারণ মানুষেরাও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি, যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও মানসিকভাবে মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ, আলোচ্য গল্পে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তার মাত্র একটি দিক উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকটির 'মুক্তিবাহিনী'র সাথে 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষশক্তির বর্ণনা অনেকটা সাদৃশ্যযুক্ত হলেও বৈসাদৃশ্যও রয়েছে"-মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বিদেশি সেনার কামান বুলেটে বিদ্ধ নারী, শিশু আর যুবক-জোয়ান-বৃদ্ধ। শত্রু সেনারা হত্যার অভিযানে মুক্তিবাহিনী প্রতিরোধে উত্থানে। মুক্তির পথ যুদ্ধেও রয় জেনে ঘাতক ধ্বংস করেছে অস্ত্র হেনে।

Jessore · 2017

ক
'রেইনকোট' গল্পটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

উত্তর

'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
খ
'যেন বৃষ্টি পড়ছে মিন্টুর রেইনকোটের ওপর'- বাক্যটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর

মুক্তিসেনা মিন্টুর রেইনকোটটি পরে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার ভেতরে যে চেতনা সঞ্চারিত হয়েছিল তার নিখুঁত পরিচয় আছে 'রেইনকোট' গল্পে। মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি পরার পর থেকেই ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মাঝে সঞ্চারিত হয় সাহস ও দেশপ্রেমের এক বিচিত্র অনুভূতি। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নুরুল হুদার সংযোগ থাকায় তাকে চাবুক দিয়ে পিটিয়ে তথ্য বের করার চেষ্টা চালায় পাকিস্তানি সেনারা। কিন্তু রেইনকোটটির কারণে তার মাঝে যে প্রেরণার সৃষ্টি হয়েছিল তা যেন তার চাবুকের আঘাতকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। নুরুল হুদার কাছে চাবুকের আঘাতের ব্যাপারটি রেইনকোটের ওপর বৃষ্টি পড়ার মতোই স্বাভাবিক লাগছিল।
গ
উদ্দীপকের 'বিদেশি সেনা' 'রেইনকোট' গল্পের কাদের সাথে তুলনীয়? পাঠ্য গল্পে তাদের তৎপরতার সাথে উদ্দীপকের বর্ণনার মিলগুলো তুলে ধরো।

উত্তর

উদ্দীপকের 'বিদেশি সেনা' 'রেইনকোট' গল্পের পাকিস্তানি সেনাদের সাথে তুলনীয়। 'রেইনকোট' গল্পটি মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে রচিত। এ গল্পে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উদ্দীপকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিপীড়নের চিত্র ফুটে উঠেছে। তারা কামান ও বুলেটের আঘাতে বাঙালিদের হত্যা করে। নারী-শিশু-যুবক-বৃদ্ধ সবাই তাদের বর্বরতার শিকার হয়। 'রেইনকোট' গল্পেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের বর্ণনা পাওয়া যায়। গল্পের কথক নুরুল হুদার বর্ণনা থেকে জানা যায়, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গুলি করে মানুষ হত্যা করে; বাড়ি-ঘর, গ্রাম, হাট-বাজার জ্বালিয়ে দেয়। এমনকি তারা আজানরত মুয়াজ্জিনকেও গুলি করে হত্যা করে। অর্থাৎ, উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্প উভয়ক্ষেত্রেই হানাদার বাহিনীর নির্মমতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
ঘ
"উদ্দীপকটির 'মুক্তিবাহিনী'র সাথে 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষশক্তির বর্ণনা অনেকটা সাদৃশ্যযুক্ত হলেও বৈসাদৃশ্যও রয়েছে"- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে হানাদার বাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে 'মিসক্রিয়ান্ট' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচ্য গল্পে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি তথা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ সমর্থনকারী সাধারণ মানুষের পরিচয় ফুটে উঠেছে। গল্পের মিন্টু ও তার সহযোদ্ধারা দেশকে শত্রুমুক্ত করতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। আবার, মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করার কারণে নুরুল হুদা ও আবদুস সাত্তার মৃধার মতো সাধারণ মানুষদেরও নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে হয়। উদ্দীপকে বাঙালিদের ওপর হানাদার বাহিনীর নিপীড়নের চিত্রের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধচিত্রও ফুটে উঠেছে। এখানে যেমন হানাদার বাহিনীকর্তৃক নারী-শিশু-যুবক-বৃদ্ধদের হত্যার বর্ণনা রয়েছে, তেমনি দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধযুদ্ধের কথাও রয়েছে। উদ্দীপকের মুক্তিবাহিনী শত্রুর আস্তানায় প্রবল আঘাত হেনে মুক্তির পথ প্রশস্ত করেছে। 'রেইনকোট' গল্পের মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা আক্রমণ করে পাকিস্তানি হানাদারদের পর্যুদস্ত করে তোলে। কুলি সেজে কলেজে ঢুকে তারা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার ধ্বংস করে। প্রিন্সিপালের বাসায় গ্রেনেড ছুড়ে ফটক উড়িয়ে দেয়। গল্পে মুক্তিযোদ্ধাদের এই তৎপরতার বাইরে যে বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠেছে, তা হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জাগরণ। নুরুল হুদা নির্মম নির্যাতন সহ্য করেও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধান দেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের মহান চেতনা নিজের মধ্যে লালন করায় হানাদারদের অত্যাচার তার কাছে নিছক উৎপাত বলে মনে হয়েছে। অন্যদিকে, আলোচ্য উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এখানে মুক্তিযুদ্ধ সমর্থনকারী সাধারণ মানুষের কথা উঠে আসেনি। নুরুল হুদার মতো সাধারণ মানুষেরাও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি, যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও মানসিকভাবে মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ, আলোচ্য গল্পে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তার মাত্র একটি দিক উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকটির 'মুক্তিবাহিনী'র সাথে 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষশক্তির বর্ণনা অনেকটা সাদৃশ্যযুক্ত হলেও বৈসাদৃশ্যও রয়েছে"-মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো