গদ্য : সাহিত্যে খেলা Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর গদ্য : সাহিত্যে খেলা অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২৭৮

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পিরোজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রতিদিন বিকেলে ছেলেরা খেলাধুলা করে। এই গ্রামে ধনীদরিদ্র সকলের সন্তান এই মাঠে খেলা করে আনন্দ উপভোগ করে। তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে সামান্য একটু ঝগড়া হলেও পরক্ষণেই তা মিটে যায়, কারণ খেলাধুলার যে আনন্দ তা ঝগড়ার বিষাদকে নিঃশেষ করে দেয়। একই গ্রামের শিক্ষিত যুবক করিম শেখ বিকেল বেলায় অবসর সময়ে ছেলেদের খেলা দেখে প্রায়ই আনন্দ উপভোগ করে থাকেন।
ক
সাহিত্য কখন স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে?

উত্তর

সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে।
খ
প্রমথ চৌধুরী সাহিত্য ও শিক্ষাকে ভিন্ন ভিন্নভাবে দেখিয়েছেন কেন?- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ সাহিত্য ও শিক্ষার রীতি ভিন্ন বলে প্রমথ চৌধুরী সাহিত্য ও শিক্ষাকে ভিন্ন ভিন্নভাবে দেখিয়েছেন। ➤ প্রমথ চৌধুরীর মতে, শিক্ষা মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করে থাকে, কিন্তু সাহিত্যের রস মানুষ স্বেচ্ছায় পান করে। লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য অনাবিল আনন্দদান করা, শিক্ষা দেওয়া নয়। বিশ্বের খবরাখবর পরিবেশন করে মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির কাজটি শিক্ষার মাধ্যমে হয়ে থাকে। শিক্ষার সঙ্গে জ্ঞানচর্চার সম্পর্ক বিদ্যমান। পক্ষান্তরে সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো। অন্যের মনের অভাব পূরণ করার উদ্দেশ্যেই শিক্ষার জন্ম, আর সাহিত্যের জন্ম মানবমনের পরিপূর্ণতা থেকে। সারকথা: শিক্ষার সঙ্গে জ্ঞানচর্চার সম্পর্ক বিদ্যমান। পক্ষান্তরে সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।
গ
উদ্দীপকের মাঠের খেলার সঙ্গে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকের মাঠের খেলার মতো শিল্পরাজ্যের খেলায় সবার অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে- এই দিকটি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ➤ মানুষ কোনোরূপ জাগতিক লাভের আশায় খেলাধুলা করে না। খেলাধুলার ক্ষেত্রে মানুষ সব ভেদাভেদ ভুলে একত্রে অংশগ্রহণ করে। সাহিত্যের বেলায়ও ঠিক তেমনই। এখানেও মূল উদ্দেশ্য আনন্দলাভ হওয়ায় সবাই এতে অংশগ্রহণ করতে পারে। ➤ উদ্দীপকে মাঠের খেলার মতো প্রবন্ধের শিল্পরাজ্যের খেলায় ধনী-দরিদ্র সবারই অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। পৃথিবীতে খেলার মাঠে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের যেমন প্রভেদ নেই, সাহিত্যের রাজ্যও তেমনই। রাজার ছেলের সঙ্গে দরিদ্রের ছেলের খেলায় যোগ দেওয়ার অধিকার যেমন সর্বজনস্বীকৃত, সাহিত্যেও তাই। মূলত উদ্দীপকের খেলার জগতে প্রবেশ করার সঙ্গে প্রবন্ধের সাহিত্যের জগতে সবার প্রবেশ করার দিকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: পৃথিবীতে খেলার মাঠে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের যেমন প্রভেদ নেই, সাহিত্যের রাজ্যেও তেমনই। খেলায় অধিকার যেমন সর্বজনস্বীকৃত, সাহিত্যেও তাই।
ঘ
"উদ্দীপকের করিম শেখের খেলা দেখা এবং 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্য রচনা উভয় ক্ষেত্রেই আনন্দই 8 প্রধান।"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকের করিম শেখের খেলা দেখা এবং 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্য রচনা উভয় ক্ষেত্রেই আনন্দই প্রধান।" উক্তিটি যথার্থ। ➤ খেলা দেখা মানবজীবনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে না। এ দেখার পেছনে একটিই কারণ বিদ্যমান, তা হলো আনন্দলাভ। এ রকম নিছক আনন্দলাভের জন্য মানুষ আরেকটি কাজ করে, তা হলো সাহিত্যপাঠ। ➤ উদ্দীপকের করিম শেখ যেমন খেলা দেখে আনন্দ উপভোগ করেন তেমনই সাহিত্য পাঠ করে পাঠক অনাবিল আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যকে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সাহিত্য এক জটিল শিল্পকর্ম, কিন্তু তা আনন্দদায়ক। এর স্রষ্টারা আনন্দ ভুবনে কল্পনারথের অভিযাত্রী। সে কারণেই সাহিত্যকে খেলা বলা হয়েছে। লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য অনাবিল আনন্দ দান করা, শিক্ষা দেওয়া নয়। খেলার উদ্দেশ্যও তাই। এ কারণে উদ্দীপকের করিম শেখ খেলা দেখে এবং সাহিত্য পাঠ করে অনাবিল আনন্দ উপভোগ করেন। ➤ লেখক শিল্পরাজ্যে কোনো রকম কার্যোদ্ধার বা উদ্দেশ্য সাধনের চেয়ে খেলা করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। খেলার মাধ্যমে যেমন উদ্দীপকের করিম শেখ নিছক আনন্দ উপভোগ করে থাকেন, তেমনই সাহিত্যের মাধ্যমেও পাঠক অনাবিল আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। এদিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: খেলাধুলা যেমন মানুষকে আনন্দদান করে তেমনই সাহিত্যও মানুষকে অনাবিল আনন্দদান করে। তাই আলোচ্য প্রবন্ধে সাহিত্যকে প্রমথ চৌধুরী খেলাধুলার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

পিরোজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রতিদিন বিকেলে ছেলেরা খেলাধুলা করে। এই গ্রামে ধনীদরিদ্র সকলের সন্তান এই মাঠে খেলা করে আনন্দ উপভোগ করে। তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে সামান্য একটু ঝগড়া হলেও পরক্ষণেই তা মিটে যায়, কারণ খেলাধুলার যে আনন্দ তা ঝগড়ার বিষাদকে নিঃশেষ করে দেয়। একই গ্রামের শিক্ষিত যুবক করিম শেখ বিকেল বেলায় অবসর সময়ে ছেলেদের খেলা দেখে প্রায়ই আনন্দ উপভোগ করে থাকেন।
ক
সাহিত্য কখন স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে?

উত্তর

সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে।
খ
প্রমথ চৌধুরী সাহিত্য ও শিক্ষাকে ভিন্ন ভিন্নভাবে দেখিয়েছেন কেন?- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ সাহিত্য ও শিক্ষার রীতি ভিন্ন বলে প্রমথ চৌধুরী সাহিত্য ও শিক্ষাকে ভিন্ন ভিন্নভাবে দেখিয়েছেন। ➤ প্রমথ চৌধুরীর মতে, শিক্ষা মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করে থাকে, কিন্তু সাহিত্যের রস মানুষ স্বেচ্ছায় পান করে। লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য অনাবিল আনন্দদান করা, শিক্ষা দেওয়া নয়। বিশ্বের খবরাখবর পরিবেশন করে মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির কাজটি শিক্ষার মাধ্যমে হয়ে থাকে। শিক্ষার সঙ্গে জ্ঞানচর্চার সম্পর্ক বিদ্যমান। পক্ষান্তরে সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো। অন্যের মনের অভাব পূরণ করার উদ্দেশ্যেই শিক্ষার জন্ম, আর সাহিত্যের জন্ম মানবমনের পরিপূর্ণতা থেকে। সারকথা: শিক্ষার সঙ্গে জ্ঞানচর্চার সম্পর্ক বিদ্যমান। পক্ষান্তরে সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।
গ
উদ্দীপকের মাঠের খেলার সঙ্গে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকের মাঠের খেলার মতো শিল্পরাজ্যের খেলায় সবার অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে- এই দিকটি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ➤ মানুষ কোনোরূপ জাগতিক লাভের আশায় খেলাধুলা করে না। খেলাধুলার ক্ষেত্রে মানুষ সব ভেদাভেদ ভুলে একত্রে অংশগ্রহণ করে। সাহিত্যের বেলায়ও ঠিক তেমনই। এখানেও মূল উদ্দেশ্য আনন্দলাভ হওয়ায় সবাই এতে অংশগ্রহণ করতে পারে। ➤ উদ্দীপকে মাঠের খেলার মতো প্রবন্ধের শিল্পরাজ্যের খেলায় ধনী-দরিদ্র সবারই অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। পৃথিবীতে খেলার মাঠে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের যেমন প্রভেদ নেই, সাহিত্যের রাজ্যও তেমনই। রাজার ছেলের সঙ্গে দরিদ্রের ছেলের খেলায় যোগ দেওয়ার অধিকার যেমন সর্বজনস্বীকৃত, সাহিত্যেও তাই। মূলত উদ্দীপকের খেলার জগতে প্রবেশ করার সঙ্গে প্রবন্ধের সাহিত্যের জগতে সবার প্রবেশ করার দিকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: পৃথিবীতে খেলার মাঠে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের যেমন প্রভেদ নেই, সাহিত্যের রাজ্যেও তেমনই। খেলায় অধিকার যেমন সর্বজনস্বীকৃত, সাহিত্যেও তাই।
ঘ
"উদ্দীপকের করিম শেখের খেলা দেখা এবং 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্য রচনা উভয় ক্ষেত্রেই আনন্দই 8 প্রধান।"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকের করিম শেখের খেলা দেখা এবং 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্য রচনা উভয় ক্ষেত্রেই আনন্দই প্রধান।" উক্তিটি যথার্থ। ➤ খেলা দেখা মানবজীবনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে না। এ দেখার পেছনে একটিই কারণ বিদ্যমান, তা হলো আনন্দলাভ। এ রকম নিছক আনন্দলাভের জন্য মানুষ আরেকটি কাজ করে, তা হলো সাহিত্যপাঠ। ➤ উদ্দীপকের করিম শেখ যেমন খেলা দেখে আনন্দ উপভোগ করেন তেমনই সাহিত্য পাঠ করে পাঠক অনাবিল আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যকে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সাহিত্য এক জটিল শিল্পকর্ম, কিন্তু তা আনন্দদায়ক। এর স্রষ্টারা আনন্দ ভুবনে কল্পনারথের অভিযাত্রী। সে কারণেই সাহিত্যকে খেলা বলা হয়েছে। লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য অনাবিল আনন্দ দান করা, শিক্ষা দেওয়া নয়। খেলার উদ্দেশ্যও তাই। এ কারণে উদ্দীপকের করিম শেখ খেলা দেখে এবং সাহিত্য পাঠ করে অনাবিল আনন্দ উপভোগ করেন। ➤ লেখক শিল্পরাজ্যে কোনো রকম কার্যোদ্ধার বা উদ্দেশ্য সাধনের চেয়ে খেলা করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। খেলার মাধ্যমে যেমন উদ্দীপকের করিম শেখ নিছক আনন্দ উপভোগ করে থাকেন, তেমনই সাহিত্যের মাধ্যমেও পাঠক অনাবিল আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। এদিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: খেলাধুলা যেমন মানুষকে আনন্দদান করে তেমনই সাহিত্যও মানুষকে অনাবিল আনন্দদান করে। তাই আলোচ্য প্রবন্ধে সাহিত্যকে প্রমথ চৌধুরী খেলাধুলার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

করিম আহমেদ একজন বড় মাপের শিল্পী। তাই খেলাচ্ছলে ছবি আঁকা, পুতুল গড়াই তাঁর কাজ। তিনি সামান্য একটু মাটিকে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে টিপে যে পুতুল তৈরি করেন, তা-ই উৎকৃষ্ট শিল্পকর্মে পরিণত হয়। করিম আহমেদের মতো বড় শিল্পীরা প্রায়ই শিল্পরাজ্যের এ খেলা খেলে থাকেন। কিন্তু ছোট মাপের শিল্পীরা এক করতে গিয়ে আরেক করে ফেলেন। করিম আহমেদের মতো বড় মাপের শিল্পীর সঙ্গে ছোট মাপের শিল্পীর এই পার্থক্য।
ক
রোদ্যা কে?

উত্তর

ফ্রাঁসোয়া অগুস্ত রোদ্যা জগদবিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর।
খ
"যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেন।"- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ "যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেন।"- উক্তিটিতে লেখক পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পীদের প্রশংসাকীর্তন করেছেন। ➤ দক্ষতা ও নৈপুণ্য একজন শিল্পীর শিল্প নির্মাণের যথার্থ উপায়। দক্ষতা ও নৈপুণ্য অর্জনের মধ্য দিয়েই প্রত্যেক শিল্পী, কবি- সাহিত্যিক স্ব-স্ব ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। আর এর জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়। অধ্যবসায় দ্বারাই পৃথিবীতে অমরত্ব লাভের কর্মসাধন করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ প্রাবন্ধিক বিশ্বখ্যাত ভাস্করশিল্পী ফ্যাঁসোয়া অগুস্ত রোদ্যার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি শিল্পকর্মে এতটাই দক্ষ ছিলেন যে, যখন-তখন হাতে কাদা নিয়ে আঙুলে টিপে মাটির পুতুল তৈরি করতে পারতেন। পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পীরাই এই কাজটা করতে পারতেন। তাই প্রাবন্ধিক বলেছেন, "যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেন।" সারকথা: প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে বড় মাপের শিল্পীদের মাহাত্ম্য কীর্তিত হয়েছে। যারা বড় মাপের শিল্পী তারা খেলাচ্ছলে বড় বড় করতে পারেন। তাদের পক্ষে অসাধারণ কিছু যেমন তৈরি করা সম্ভব, তেমনই সাধারণ কিছু তৈরি করাও সম্ভব। ড় শিল্পকর্ম তৈরি
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছোট মাপের শিল্পীদের সঙ্গে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাদৃশ্য বর্ণনা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকে উল্লিখিত ছোট মাপের শিল্পীদের সঙ্গে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে উল্লিখিত লেখকের সমালোচনার সাদৃশ্য রয়েছে। ➤ যাঁরা প্রকৃত শিল্পী তাঁরা খেলাচ্ছলেই তৈরি করেন সব মহৎ শিল্পকর্ম। মহৎ শিল্পীদের সঙ্গে সাধারণ শিল্পীদের পার্থক্য হলো সাধারণ শিল্পীরা এক করতে গিয়ে আর এক করে বসেন। আর মহৎ শিল্পীরা যা করতে চান ঠিক তা-ই করতে পারেন। ➤ উদ্দীপকের ছোট মাপের শিল্পীদের যে বৈশিষ্ট্য উল্লিখিত হয়েছে তা প্রমথ চৌধুরীর 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পী হিসেবে রোদ্যার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন এবং তাঁর সঙ্গে ছোট মাপের অর্থাৎ ইতর শ্রেণি শিল্পীদের পার্থক্য নির্ণয় করেছেন। পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পীরা শিল্পরাজ্যে খেলা করে থাকেন। এই খেলায় তাঁরা যেমন আনন্দ পান, তেমনই দর্শক বা সাধারণ মানুষকেও আনন্দ দেন। প্রমথ চৌধুরী বড় এবং ইতর শ্রেণির শিল্পীদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে এই ব্যাপারটিই তুলে ধরেছেন। মূলত উদ্দীপকের ছোট মাপের শিল্পীদের সমালোচনার দিকটিই প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক বড় মাপের এবং ছোট মাপের শিল্পীদের পার্থক্য নির্ণয় করেছেন, যা উদ্দীপকেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘ
শিল্প মাত্রই আনন্দদান করে, তাই পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পীগণ এ খেলায় অংশগ্রহণ করেন।"- উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

➤ শিল্পমাত্রই আনন্দদান করে, তাই পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পীগণ এ খেলায় অংশগ্রহণ করেন।"- মন্তব্যটি যথার্থ " ➤ শিল্পরাজ্যে প্রবেশাধিকার সবার জন্য সমান। সবাই এখানে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। তবে সবার কাজ একরকম হয় না, একেক ব্যক্তির কাজ একেক রকম হয়। এখানেই শিল্পীদের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণীত হয়। ➤ উদ্দীপকের করিম আহমেদ বড় মাপের শিল্পী। তাই তিনি খেলাচ্ছলে নানা শিল্প তৈরি করে আনন্দ পান। এই আনন্দ পাওয়া এবং আনন্দ দেওয়াই একজন বড় মাপের শিল্পীর বৈশিষ্ট্য। তিনি সামান্য একটু মাটিকে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে টিপে টিপে যে পুতুল তৈরি করেন, তাই উৎকৃষ্ট শিল্পকর্মে পরিণত হয়। করিম আহমেদের মতো বড় শিল্পীরা প্রায়ই শিল্পরাজ্যের এই খেলা খেলে থাকেন। ➤ দক্ষতা ও নৈপুণ্য অর্জনের মধ্য দিয়েই প্রত্যেক শিল্পী, কবি-সাহিত্যিক স্ব-স্ব ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। উদ্দীপকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের রোদ্যার মতো শিল্পীদের কথা বলা হয়েছে। ভাস্কর রোদ্যা পাষাণ দেহে এমন শিল্প নির্মাণ করেছেন যা মনে হয় জীবন্ত। তিনি শিল্পকর্মে এতটাই দক্ষ ছিলেন যে, যখন-তখন হাতে কাদা নিয়ে আঙুলের টিপে মাটির পুতুল তৈরি করতে পারতেন। এই পুতুল গড়া ছিল তাঁর কাছে খেলার মতো। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তবটি উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ উভয়ের আলোকে যথার্থ। সারকথা: পৃথিবীর এসব বড় মাপের শিল্পীরা করিম আহমেদের মতো শিল্পরাজ্যের খেলা খেলে থাকেন। এই খেলায় তাঁরা যেমন আনন্দ পান, তেমনই অন্যদেরকেও আনন্দদান করেন। ফলে শিল্পমাত্রই আনন্দ। দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

করিম আহমেদ একজন বড় মাপের শিল্পী। তাই খেলাচ্ছলে ছবি আঁকা, পুতুল গড়াই তাঁর কাজ। তিনি সামান্য একটু মাটিকে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে টিপে যে পুতুল তৈরি করেন, তা-ই উৎকৃষ্ট শিল্পকর্মে পরিণত হয়। করিম আহমেদের মতো বড় শিল্পীরা প্রায়ই শিল্পরাজ্যের এ খেলা খেলে থাকেন। কিন্তু ছোট মাপের শিল্পীরা এক করতে গিয়ে আরেক করে ফেলেন। করিম আহমেদের মতো বড় মাপের শিল্পীর সঙ্গে ছোট মাপের শিল্পীর এই পার্থক্য।
ক
রোদ্যা কে?

উত্তর

ফ্রাঁসোয়া অগুস্ত রোদ্যা জগদবিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর।
খ
"যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেন।"- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ "যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেন।"- উক্তিটিতে লেখক পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পীদের প্রশংসাকীর্তন করেছেন। ➤ দক্ষতা ও নৈপুণ্য একজন শিল্পীর শিল্প নির্মাণের যথার্থ উপায়। দক্ষতা ও নৈপুণ্য অর্জনের মধ্য দিয়েই প্রত্যেক শিল্পী, কবি- সাহিত্যিক স্ব-স্ব ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। আর এর জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়। অধ্যবসায় দ্বারাই পৃথিবীতে অমরত্ব লাভের কর্মসাধন করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ প্রাবন্ধিক বিশ্বখ্যাত ভাস্করশিল্পী ফ্যাঁসোয়া অগুস্ত রোদ্যার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি শিল্পকর্মে এতটাই দক্ষ ছিলেন যে, যখন-তখন হাতে কাদা নিয়ে আঙুলে টিপে মাটির পুতুল তৈরি করতে পারতেন। পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পীরাই এই কাজটা করতে পারতেন। তাই প্রাবন্ধিক বলেছেন, "যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেন।" সারকথা: প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে বড় মাপের শিল্পীদের মাহাত্ম্য কীর্তিত হয়েছে। যারা বড় মাপের শিল্পী তারা খেলাচ্ছলে বড় বড় করতে পারেন। তাদের পক্ষে অসাধারণ কিছু যেমন তৈরি করা সম্ভব, তেমনই সাধারণ কিছু তৈরি করাও সম্ভব। ড় শিল্পকর্ম তৈরি
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছোট মাপের শিল্পীদের সঙ্গে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাদৃশ্য বর্ণনা কর।

উত্তর

➤ উদ্দীপকে উল্লিখিত ছোট মাপের শিল্পীদের সঙ্গে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে উল্লিখিত লেখকের সমালোচনার সাদৃশ্য রয়েছে। ➤ যাঁরা প্রকৃত শিল্পী তাঁরা খেলাচ্ছলেই তৈরি করেন সব মহৎ শিল্পকর্ম। মহৎ শিল্পীদের সঙ্গে সাধারণ শিল্পীদের পার্থক্য হলো সাধারণ শিল্পীরা এক করতে গিয়ে আর এক করে বসেন। আর মহৎ শিল্পীরা যা করতে চান ঠিক তা-ই করতে পারেন। ➤ উদ্দীপকের ছোট মাপের শিল্পীদের যে বৈশিষ্ট্য উল্লিখিত হয়েছে তা প্রমথ চৌধুরীর 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পী হিসেবে রোদ্যার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন এবং তাঁর সঙ্গে ছোট মাপের অর্থাৎ ইতর শ্রেণি শিল্পীদের পার্থক্য নির্ণয় করেছেন। পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পীরা শিল্পরাজ্যে খেলা করে থাকেন। এই খেলায় তাঁরা যেমন আনন্দ পান, তেমনই দর্শক বা সাধারণ মানুষকেও আনন্দ দেন। প্রমথ চৌধুরী বড় এবং ইতর শ্রেণির শিল্পীদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে এই ব্যাপারটিই তুলে ধরেছেন। মূলত উদ্দীপকের ছোট মাপের শিল্পীদের সমালোচনার দিকটিই প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক বড় মাপের এবং ছোট মাপের শিল্পীদের পার্থক্য নির্ণয় করেছেন, যা উদ্দীপকেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘ
শিল্প মাত্রই আনন্দদান করে, তাই পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পীগণ এ খেলায় অংশগ্রহণ করেন।"- উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

➤ শিল্পমাত্রই আনন্দদান করে, তাই পৃথিবীর বড় মাপের শিল্পীগণ এ খেলায় অংশগ্রহণ করেন।"- মন্তব্যটি যথার্থ " ➤ শিল্পরাজ্যে প্রবেশাধিকার সবার জন্য সমান। সবাই এখানে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। তবে সবার কাজ একরকম হয় না, একেক ব্যক্তির কাজ একেক রকম হয়। এখানেই শিল্পীদের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণীত হয়। ➤ উদ্দীপকের করিম আহমেদ বড় মাপের শিল্পী। তাই তিনি খেলাচ্ছলে নানা শিল্প তৈরি করে আনন্দ পান। এই আনন্দ পাওয়া এবং আনন্দ দেওয়াই একজন বড় মাপের শিল্পীর বৈশিষ্ট্য। তিনি সামান্য একটু মাটিকে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে টিপে টিপে যে পুতুল তৈরি করেন, তাই উৎকৃষ্ট শিল্পকর্মে পরিণত হয়। করিম আহমেদের মতো বড় শিল্পীরা প্রায়ই শিল্পরাজ্যের এই খেলা খেলে থাকেন। ➤ দক্ষতা ও নৈপুণ্য অর্জনের মধ্য দিয়েই প্রত্যেক শিল্পী, কবি-সাহিত্যিক স্ব-স্ব ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। উদ্দীপকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের রোদ্যার মতো শিল্পীদের কথা বলা হয়েছে। ভাস্কর রোদ্যা পাষাণ দেহে এমন শিল্প নির্মাণ করেছেন যা মনে হয় জীবন্ত। তিনি শিল্পকর্মে এতটাই দক্ষ ছিলেন যে, যখন-তখন হাতে কাদা নিয়ে আঙুলের টিপে মাটির পুতুল তৈরি করতে পারতেন। এই পুতুল গড়া ছিল তাঁর কাছে খেলার মতো। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তবটি উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ উভয়ের আলোকে যথার্থ। সারকথা: পৃথিবীর এসব বড় মাপের শিল্পীরা করিম আহমেদের মতো শিল্পরাজ্যের খেলা খেলে থাকেন। এই খেলায় তাঁরা যেমন আনন্দ পান, তেমনই অন্যদেরকেও আনন্দদান করেন। ফলে শিল্পমাত্রই আনন্দ। দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মাজেদ মাহতাব একজন নামকরা চিত্রশিল্পী। তাঁর পুরো শিল্পকর্মকে দুভাগে ভাগ করা যায়- সহজবোধ্য ও দুর্বোধ্য। তাঁর অনেক সৃজনশীল কাজ রয়েছে যেগুলো শিল্পমানে কালোত্তীর্ণ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি কয়েকবার তাঁর শিল্পকর্মের প্রদর্শনী করেছেন এবং বোদ্ধা মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর কিছু চিত্রকর্ম রয়েছে সহজ, সুন্দর ও সাধারণের উপযোগী। চিত্রকলা একটি উঁচুমানের শিল্পকলা যাতে সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। চিত্রকলার সাথে সাধারণের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতেই তিনি দু ধারায় কাজ করেন। তাঁর কোনো অর্থমোহ নেই।
ক
মহর্ষিরা রামায়ণ শুনে কুশীলবকে কী পর্যন্ত পেলা দিয়েছিলেন?

উত্তর

মহর্ষিরা রামায়ণ শুনে কুশীলবকে কৌপিন পর্যন্ত পেলা দিয়েছিলেন।
খ
প্রমথ চৌধুরীর মতানুসারে বৈশ্য লেখক ও শূদ্র পাঠকের পরিচয় দাও।

উত্তর

➤ প্রমথ চৌধুরী 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে মানের নিম্নতা প্রকাশের জন্য দু জাতীয় লেখক-পাঠকের কথা উল্লেখ করেছেন। ➤ প্রমথ চৌধুরী 'বৈশ্য লেখক' ও 'শূদ্র পাঠক' বলতে বিশেষ শ্রেণির লেখক ও পাঠকদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। বৈশ্য ও শূদ্র হিন্দু সমাজের দুটি অনভিজাত বর্ণবিশেষ। বৈশ্যরা ব্যাবসা-বাণিজ্য করত। কোনো লেখক যদি সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে কার্য উদ্ধার করতে চান তাহলে তাকে লিখতে হবে উদ্দেশ্যপ্রবণ লেখা। আর এই লেখা হবে নিম্নমানের। এই জাতীয় লেখকগণ 'সৃষ্টি' করেন না, তারা 'উৎপাদন' করেন। এই জাতীয় লেখকদের তিনি 'বৈশ্য লেখক' বলেছেন। আবার বৈশ্য লেখকের পাঠক স্বাভাবিকভাবেই আরও নিম্নমানের হবে। তাই তাদের তিনি 'শূদ্র পাঠক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সারকথা: ব্যাবসার উদ্দেশ্য নিয়ে যারা বই লেখেন তাদেরকে প্রমথ চৌধুরী 'বৈশ্য লেখক' বলেছেন এবং 'শূদ্র পাঠক' বলেছেন তার চেয়েও নিম্নমানের পাঠককে।
গ
উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাবের চিন্তাধারার সঙ্গে সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের কার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ মাজেদ মাহতাব একজন নির্মোহ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির শিল্পী। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে এমন মহৎ শিল্পীদের স্বরূপ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ➤ সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনে সাড়া জাগানো। তাই সাহিত্যকে হতে হবে সহজবোধ্য। নিজের পান্ডিত্য জাহির করে শুধু ভারী ভারী শব্দ ব্যবহার করলেই সাহিত্যের মান বাড়ে না। সাহিত্যের মান নির্ভর করে লেখাকে পাঠকের বোধগম্য করে তোলার উপর। ➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী যুক্তিতর্কের স্থলে সাহিত্যের আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিরূপণ করেছেন। এক্ষেত্রে 'খেলা' ও 'জুয়াখেলা' প্রসঙ্গটিও এসেছে। সাহিত্যচর্চার শৈল্পিক সিদ্ধি ঠিক রাখতে চাইলে সাহিত্য নিয়ে 'খেলা' করার বিকল্প নেই। খেলা নির্মল আনন্দ দেয় এবং এতে আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো প্রাপ্তির আশা কেউ করে না। কিন্তু লেখক যদি তার সাহিত্যকর্ম থেকে প্রাপ্তির যোগ প্রত্যাশা করেন তাহলে সাহিত্যচর্চার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাব একজন সৃজনশীল চিত্রশিল্পী। তিনি ছবি আঁকেন মনের আনন্দে। শুধু যোদ্ধাদের জন্যই তিনি ছবি আঁকেন না। কিংবা কার্য উদ্ধারের অভিপ্রায়ও তিনি তুলে ধরেন না। এক্ষেত্রেই প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্য দর্শনের সঙ্গে তাঁর চিন্তাচেতনার সাদৃশ্য পাওয়া যায়। সারকথা: সাহিত্য জগৎ হচ্ছে খেলা করার জগৎ। তা না করে সাহিত্যকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। মাজেদ মাহতাব কোনো উদ্দেশ্য বা অভিসন্ধি থেকে ছবি আঁকেন না। তাই তিনি সত্যিকারের সৃজনশীল চিত্রশিল্পী।
ঘ
"উদ্দীপকের মাজেদ সাহেবের কর্মকান্ড 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখকের সমধর্মী।" মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকের মাজেদ সাহেবের কর্মকান্ড 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখকের সমধর্মী।" মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ সাহিত্যের মান নির্ভর করে পাঠকের আনন্দ ও বোধগম্যতার ওপর। যতই উচ্চমার্গীয় সাহিত্য হোক না কেন- তা যদি পাঠকের বোধগম্য না হয় তাহলে সেটাকে যথার্থ সাহিত্য বলা যায় না। কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাহিত্য পাঠকসমাজে সমাদৃত হতে পারে না। ➤ উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাবের শিল্পীজীবন দুই ধারায় বিভক্ত। শিল্পকলা সৃষ্টির এক ধারায় তিনি নির্মাণ করেছেন ক্লাসিক ধারার চিত্রকলা এবং বিপরীত পথে নির্মাণ করেছেন সহজবোধ্য কিছু চিত্র। জনপ্রিয় ধারায় কিছু কাজ করলেও সেটা তিনি প্রাপ্তির উদ্দেশ্য নিয়ে করেননি। সাধারণ মানুষকে চিত্রকলার অনুপম দ্বাদ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি তা করেছেন। তাঁর কোনো অর্থমোহ ছিল না। ➤ স্যাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের বক্তব্য হচ্ছে এই যে, "সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দান করা, কারো মনোরঞ্জন করা নয়।" সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে। আপন মনের আনন্দেই সাহিত্য রচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে মাজেদ মাহতাবের চিত্রকর্মকে এই দুই পর্যায়ের মাঝামাঝি রাখতে হয়। কেননা এক্ষেত্রে তিনি কিছুটা আপস করেছেন। সাধারণ জনজীবনকে সম্পৃক্ত করতেই মাজেদ মাহতাব কিছু সহজবোধ্য ছবি এঁকেছেন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাব শিল্পমানে উত্তীর্ণ ক্লাসিক্যাল চিত্র নির্মাণ করে সুনাম কুড়িয়েছেন। আবার চিত্রকলার সঙ্গে সাধারণকে পরিচয় করিয়ে দিতে কিছু সহজবোধ্য কাজ করেছেন। প্রমথ চৌধুরীর আদর্শের সঙ্গে তা পুরোপুরি যথার্থ নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মাজেদ মাহতাব একজন নামকরা চিত্রশিল্পী। তাঁর পুরো শিল্পকর্মকে দুভাগে ভাগ করা যায়- সহজবোধ্য ও দুর্বোধ্য। তাঁর অনেক সৃজনশীল কাজ রয়েছে যেগুলো শিল্পমানে কালোত্তীর্ণ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি কয়েকবার তাঁর শিল্পকর্মের প্রদর্শনী করেছেন এবং বোদ্ধা মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর কিছু চিত্রকর্ম রয়েছে সহজ, সুন্দর ও সাধারণের উপযোগী। চিত্রকলা একটি উঁচুমানের শিল্পকলা যাতে সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। চিত্রকলার সাথে সাধারণের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতেই তিনি দু ধারায় কাজ করেন। তাঁর কোনো অর্থমোহ নেই।
ক
মহর্ষিরা রামায়ণ শুনে কুশীলবকে কী পর্যন্ত পেলা দিয়েছিলেন?

উত্তর

মহর্ষিরা রামায়ণ শুনে কুশীলবকে কৌপিন পর্যন্ত পেলা দিয়েছিলেন।
খ
প্রমথ চৌধুরীর মতানুসারে বৈশ্য লেখক ও শূদ্র পাঠকের পরিচয় দাও।

উত্তর

➤ প্রমথ চৌধুরী 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে মানের নিম্নতা প্রকাশের জন্য দু জাতীয় লেখক-পাঠকের কথা উল্লেখ করেছেন। ➤ প্রমথ চৌধুরী 'বৈশ্য লেখক' ও 'শূদ্র পাঠক' বলতে বিশেষ শ্রেণির লেখক ও পাঠকদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। বৈশ্য ও শূদ্র হিন্দু সমাজের দুটি অনভিজাত বর্ণবিশেষ। বৈশ্যরা ব্যাবসা-বাণিজ্য করত। কোনো লেখক যদি সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে কার্য উদ্ধার করতে চান তাহলে তাকে লিখতে হবে উদ্দেশ্যপ্রবণ লেখা। আর এই লেখা হবে নিম্নমানের। এই জাতীয় লেখকগণ 'সৃষ্টি' করেন না, তারা 'উৎপাদন' করেন। এই জাতীয় লেখকদের তিনি 'বৈশ্য লেখক' বলেছেন। আবার বৈশ্য লেখকের পাঠক স্বাভাবিকভাবেই আরও নিম্নমানের হবে। তাই তাদের তিনি 'শূদ্র পাঠক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সারকথা: ব্যাবসার উদ্দেশ্য নিয়ে যারা বই লেখেন তাদেরকে প্রমথ চৌধুরী 'বৈশ্য লেখক' বলেছেন এবং 'শূদ্র পাঠক' বলেছেন তার চেয়েও নিম্নমানের পাঠককে।
গ
উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাবের চিন্তাধারার সঙ্গে সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের কার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

➤ মাজেদ মাহতাব একজন নির্মোহ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির শিল্পী। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে এমন মহৎ শিল্পীদের স্বরূপ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ➤ সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনে সাড়া জাগানো। তাই সাহিত্যকে হতে হবে সহজবোধ্য। নিজের পান্ডিত্য জাহির করে শুধু ভারী ভারী শব্দ ব্যবহার করলেই সাহিত্যের মান বাড়ে না। সাহিত্যের মান নির্ভর করে লেখাকে পাঠকের বোধগম্য করে তোলার উপর। ➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী যুক্তিতর্কের স্থলে সাহিত্যের আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিরূপণ করেছেন। এক্ষেত্রে 'খেলা' ও 'জুয়াখেলা' প্রসঙ্গটিও এসেছে। সাহিত্যচর্চার শৈল্পিক সিদ্ধি ঠিক রাখতে চাইলে সাহিত্য নিয়ে 'খেলা' করার বিকল্প নেই। খেলা নির্মল আনন্দ দেয় এবং এতে আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো প্রাপ্তির আশা কেউ করে না। কিন্তু লেখক যদি তার সাহিত্যকর্ম থেকে প্রাপ্তির যোগ প্রত্যাশা করেন তাহলে সাহিত্যচর্চার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাব একজন সৃজনশীল চিত্রশিল্পী। তিনি ছবি আঁকেন মনের আনন্দে। শুধু যোদ্ধাদের জন্যই তিনি ছবি আঁকেন না। কিংবা কার্য উদ্ধারের অভিপ্রায়ও তিনি তুলে ধরেন না। এক্ষেত্রেই প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্য দর্শনের সঙ্গে তাঁর চিন্তাচেতনার সাদৃশ্য পাওয়া যায়। সারকথা: সাহিত্য জগৎ হচ্ছে খেলা করার জগৎ। তা না করে সাহিত্যকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। মাজেদ মাহতাব কোনো উদ্দেশ্য বা অভিসন্ধি থেকে ছবি আঁকেন না। তাই তিনি সত্যিকারের সৃজনশীল চিত্রশিল্পী।
ঘ
"উদ্দীপকের মাজেদ সাহেবের কর্মকান্ড 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখকের সমধর্মী।" মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

➤ "উদ্দীপকের মাজেদ সাহেবের কর্মকান্ড 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখকের সমধর্মী।" মন্তব্যটি যথার্থ। ➤ সাহিত্যের মান নির্ভর করে পাঠকের আনন্দ ও বোধগম্যতার ওপর। যতই উচ্চমার্গীয় সাহিত্য হোক না কেন- তা যদি পাঠকের বোধগম্য না হয় তাহলে সেটাকে যথার্থ সাহিত্য বলা যায় না। কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাহিত্য পাঠকসমাজে সমাদৃত হতে পারে না। ➤ উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাবের শিল্পীজীবন দুই ধারায় বিভক্ত। শিল্পকলা সৃষ্টির এক ধারায় তিনি নির্মাণ করেছেন ক্লাসিক ধারার চিত্রকলা এবং বিপরীত পথে নির্মাণ করেছেন সহজবোধ্য কিছু চিত্র। জনপ্রিয় ধারায় কিছু কাজ করলেও সেটা তিনি প্রাপ্তির উদ্দেশ্য নিয়ে করেননি। সাধারণ মানুষকে চিত্রকলার অনুপম দ্বাদ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি তা করেছেন। তাঁর কোনো অর্থমোহ ছিল না। ➤ স্যাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের বক্তব্য হচ্ছে এই যে, "সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দান করা, কারো মনোরঞ্জন করা নয়।" সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে। আপন মনের আনন্দেই সাহিত্য রচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে মাজেদ মাহতাবের চিত্রকর্মকে এই দুই পর্যায়ের মাঝামাঝি রাখতে হয়। কেননা এক্ষেত্রে তিনি কিছুটা আপস করেছেন। সাধারণ জনজীবনকে সম্পৃক্ত করতেই মাজেদ মাহতাব কিছু সহজবোধ্য ছবি এঁকেছেন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সারকথা: উদ্দীপকের মাজেদ মাহতাব শিল্পমানে উত্তীর্ণ ক্লাসিক্যাল চিত্র নির্মাণ করে সুনাম কুড়িয়েছেন। আবার চিত্রকলার সঙ্গে সাধারণকে পরিচয় করিয়ে দিতে কিছু সহজবোধ্য কাজ করেছেন। প্রমথ চৌধুরীর আদর্শের সঙ্গে তা পুরোপুরি যথার্থ নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো