শেয়ারFacebookWhatsApp

'১৯৭১' উপন্যাসে 'নীলগঞ্জ' আসলে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।- ব্যাখ্যা করো।.

উত্তর: ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ '১৯৭১' উপন্যাসে জনবিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র এক শান্ত গ্রামকে করেছেন উপন্যাসের পটভূমি। গ্রামটির নাম নীলগঞ্জ। এ গ্রামের মানুষ যুদ্ধ বোঝে না, সংগ্রাম কী তা জানে না। কিন্তু সেই গ্রামেই একদিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মানুষের জীবনে বিপর্যয় নিয়ে আসে। লেখক স্পষ্ট করে কোথাও বলেননি যে নীলগঞ্জ গ্রামে মুক্তিবাহিনী আছে, শুধু সন্দেহের বেড়াজাল বুনে গেছেন উপন্যাসজুড়ে। সন্দেহের বশেই নীলগঞ্জ গ্রামে মেজর এজাজের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়, যেটাকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রতিচ্ছবি বলা যায়। '১৯৭১' উপন্যাসে বলা হয়েছে নীলগঞ্জ গ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একদল জোয়ান পাকিস্তানি এক সেনাকে বন্দি করেছে। যার নাম মেজর বখতিয়ার। তাকে উদ্ধার করতেই মেজর এজাজ গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে প্রথম থেকেই তারা গ্রামবাসীর ওপর আগ্রাসী হয়ে ওঠে। প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার আজিজকে ধরে এনে অমানবিক অত্যাচার করে। এক পর্যায়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। শুধু এই একটি নয়, অসংখ্য বর্বরোচিত ঘটনা ঘটনায় তারা। গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে মনা ও বিরু কৈবর্তকে সবার সামনে গুলি করে হত্যা করে। নীলগঞ্জের সম্ভ্রান্ত হিন্দু নীলু সেনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে হত্যা করে। বর্বর পাকিস্তানিরা গণহত্যার যে নজির স্থাপন করেছিল নীলগঞ্জেও তাই ঘটেছে। নীলগঞ্জ গ্রামের বিলকে তারা বধ্যভূমি হিসেবে ব্যবহার করেছে। শুধু পুরুষ নয়, দখলদার পিশাচ হানাদার বাহিনীর হাত থেকে গ্রামের মেয়েরাও রক্ষা পায়নি। তারা সফদরউল্লাহর স্ত্রী ও শ্যালিকার সম্ভ্রমহানি করে। মুক্তিযুদ্ধে নারী লাঞ্ছনার দিকটা এখানে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে অন্যায় ও শোষণ কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মানুষ এক সময় অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। সফদরউল্লাহ তার স্ত্রী ও শ্যালিকার লাঞ্ছনার প্রতিশোধ নিতে দা হাতে বেরিয়ে পড়ে। আজিজ মাস্টার লজ্জাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন না হতে মৃত্যুকে বরণ করে। বিবেকের তাড়নায় ও প্রতিবাদস্বরূপ রফিক মেজর এজাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং মৃত্যুকে বরণ করে নেয়। প্রত্যক্ষ কোনো প্রতিরোধ না হলেও দেশপ্রেমের চেতনাবোধ জাগ্রত হয় বেশকিছু চরিত্রে, যা বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। এছাড়াও এ দেশীয় রাজাকারদের উল্লেখ রয়েছে এই উপন্যাসে। তাই বলা যায়, '১৯৭১' উপন্যাসের নীলগঞ্জ গ্রাম আসলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কালীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।

SSC বাংলা ১ম পত্র ১৯৭১ (উপন্যাস) CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ১ম পত্র · ১৯৭১ (উপন্যাস) · সৃজনশীল

'১৯৭১' উপন্যাসে 'নীলগঞ্জ' আসলে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।- ব্যাখ্যা করো।.

উত্তর

ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ '১৯৭১' উপন্যাসে জনবিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র এক শান্ত গ্রামকে করেছেন উপন্যাসের পটভূমি। গ্রামটির নাম নীলগঞ্জ। এ গ্রামের মানুষ যুদ্ধ বোঝে না, সংগ্রাম কী তা জানে না। কিন্তু সেই গ্রামেই একদিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মানুষের জীবনে বিপর্যয় নিয়ে আসে। লেখক স্পষ্ট করে কোথাও বলেননি যে নীলগঞ্জ গ্রামে মুক্তিবাহিনী আছে, শুধু সন্দেহের বেড়াজাল বুনে গেছেন উপন্যাসজুড়ে। সন্দেহের বশেই নীলগঞ্জ গ্রামে মেজর এজাজের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়, যেটাকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রতিচ্ছবি বলা যায়। '১৯৭১' উপন্যাসে বলা হয়েছে নীলগঞ্জ গ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একদল জোয়ান পাকিস্তানি এক সেনাকে বন্দি করেছে। যার নাম মেজর বখতিয়ার। তাকে উদ্ধার করতেই মেজর এজাজ গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে প্রথম থেকেই তারা গ্রামবাসীর ওপর আগ্রাসী হয়ে ওঠে। প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার আজিজকে ধরে এনে অমানবিক অত্যাচার করে। এক পর্যায়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। শুধু এই একটি নয়, অসংখ্য বর্বরোচিত ঘটনা ঘটনায় তারা। গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে মনা ও বিরু কৈবর্তকে সবার সামনে গুলি করে হত্যা করে। নীলগঞ্জের সম্ভ্রান্ত হিন্দু নীলু সেনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে হত্যা করে। বর্বর পাকিস্তানিরা গণহত্যার যে নজির স্থাপন করেছিল নীলগঞ্জেও তাই ঘটেছে। নীলগঞ্জ গ্রামের বিলকে তারা বধ্যভূমি হিসেবে ব্যবহার করেছে। শুধু পুরুষ নয়, দখলদার পিশাচ হানাদার বাহিনীর হাত থেকে গ্রামের মেয়েরাও রক্ষা পায়নি। তারা সফদরউল্লাহর স্ত্রী ও শ্যালিকার সম্ভ্রমহানি করে। মুক্তিযুদ্ধে নারী লাঞ্ছনার দিকটা এখানে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে অন্যায় ও শোষণ কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মানুষ এক সময় অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। সফদরউল্লাহ তার স্ত্রী ও শ্যালিকার লাঞ্ছনার প্রতিশোধ নিতে দা হাতে বেরিয়ে পড়ে। আজিজ মাস্টার লজ্জাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন না হতে মৃত্যুকে বরণ করে। বিবেকের তাড়নায় ও প্রতিবাদস্বরূপ রফিক মেজর এজাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং মৃত্যুকে বরণ করে নেয়। প্রত্যক্ষ কোনো প্রতিরোধ না হলেও দেশপ্রেমের চেতনাবোধ জাগ্রত হয় বেশকিছু চরিত্রে, যা বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। এছাড়াও এ দেশীয় রাজাকারদের উল্লেখ রয়েছে এই উপন্যাসে। তাই বলা যায়, '১৯৭১' উপন্যাসের নীলগঞ্জ গ্রাম আসলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কালীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
SSCবাংলা ১ম পত্র১৯৭১ (উপন্যাস)
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.'১৯৭১' উপন্যাসের রফিক চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

'১৯৭১' উপন্যাসের রফিক চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.“বিপদের সময় নিজ গোত্রের মানুষের কথাই প্রথম মনে পড়ে”- কে, কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছিলেন?

“বিপদের সময় নিজ গোত্রের মানুষের কথাই প্রথম মনে পড়ে”- কে, কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছিলেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.পাকবাহিনীর আগমন নীলগঞ্জের জনজীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল? আলোচনা করো।

পাকবাহিনীর আগমন নীলগঞ্জের জনজীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল? আলোচনা করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.মেজর এজাজ আজিজ মাস্টারকে সৎলোক বলেছেন কেন?

মেজর এজাজ আজিজ মাস্টারকে সৎলোক বলেছেন কেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.“নীলগঞ্জ বাংলাদেশের একটি নিভৃত গ্রামের প্রতিচ্ছবি।”- '১৯৭১' উপন্যাস অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

“নীলগঞ্জ বাংলাদেশের একটি নিভৃত গ্রামের প্রতিচ্ছবি।”- '১৯৭১' উপন্যাস অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.মেজর এজাজ মনার বিচার-দৃশ্য মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে দেখতে বাধ্য করেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

মেজর এজাজ মনার বিচার-দৃশ্য মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে দেখতে বাধ্য করেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.“'১৯৭১' উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো মুক্তিযুদ্ধে নিপীড়িত সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণা”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

“'১৯৭১' উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো মুক্তিযুদ্ধে নিপীড়িত সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণা”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.“বিপদের সময় নিজ গোত্রের মানুষের কথাই প্রথম মনে পড়ে।”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

“বিপদের সময় নিজ গোত্রের মানুষের কথাই প্রথম মনে পড়ে।”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.“নীলগঞ্জ আসলে মুক্তিযুদ্ধ কালীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি"- ব্যাখ্যা করো।

“নীলগঞ্জ আসলে মুক্তিযুদ্ধ কালীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি"- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.রুয়াইল বাজার নিয়ে স্থানীয় লোকরা অহংকার করতেন কেন?

রুয়াইল বাজার নিয়ে স্থানীয় লোকরা অহংকার করতেন কেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.“মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে কে কী করবে তা আগে থেকে বলা অসম্ভব”- মন্তব্যটি আজিজ মাস্টার ও জয়নাল মিয়া চরিত্রের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

“মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে কে কী করবে তা আগে থেকে বলা অসম্ভব”- মন্তব্যটি আজিজ মাস্টার ও জয়নাল মিয়া চরিত্রের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.বদিউজ্জামান মত বদলে নীলগঞ্জে ফিরে গিয়েছিল কেন?

বদিউজ্জামান মত বদলে নীলগঞ্জে ফিরে গিয়েছিল কেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

'১৯৭১' উপন্যাসের রফিক চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।“বিপদের সময় নিজ গোত্রের মানুষের কথাই প্রথম মনে পড়ে”- কে, কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছপাকবাহিনীর আগমন নীলগঞ্জের জনজীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল? আলোচনা করো।মেজর এজাজ আজিজ মাস্টারকে সৎলোক বলেছেন কেন?“নীলগঞ্জ বাংলাদেশের একটি নিভৃত গ্রামের প্রতিচ্ছবি।”- '১৯৭১' উপন্যাস অবলম্বনে মন্মেজর এজাজ মনার বিচার-দৃশ্য মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে দেখতে বাধ্য করেছেন কেন? ব্যাখ্“'১৯৭১' উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো মুক্তিযুদ্ধে নিপীড়িত সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্র“বিপদের সময় নিজ গোত্রের মানুষের কথাই প্রথম মনে পড়ে।”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?“নীলগঞ্জ আসলে মুক্তিযুদ্ধ কালীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি"- ব্যাখ্যা করো।রুয়াইল বাজার নিয়ে স্থানীয় লোকরা অহংকার করতেন কেন?“মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে কে কী করবে তা আগে থেকে বলা অসম্ভব”- মন্তব্যটি আজিজ মাস্টাবদিউজ্জামান মত বদলে নীলগঞ্জে ফিরে গিয়েছিল কেন?

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।

'১৯৭১' উপন্যাসে 'নীলগঞ্জ' আসলে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছ… | Prosthuti