১৯৭১' উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহে আজিজ মাস্টারের ভূমিকাও কম নয়"- মন্তব্যটির যৌক্তিকতা বিচার করো।
উত্তর: বাংলাদেশের প্রখ্যাত ও জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের '১৯৭১' শীর্ষক উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আজিজ মাস্টার। সে নীলগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার। সে নীলগঞ্জের স্থানীয় লোক নয়। গ্রামে দুজন বিদেশির মধ্যে একজন হলো আজিজ মাস্টার। আটত্রিশ বছর বয়সি এ ব্যক্তিটি হাঁপানিসহ নানা রকম অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত। গ্রামের অবস্থাপন্ন ব্যক্তি জয়নাল মিয়ার বাড়িতে সে থাকে। জয়নাল মিয়ার কিশোরী মেয়ে মালার প্রতি তার অনুরাগ জন্মে। সে তাকে নিয়ে কবিতা লেখে। তার মধ্যে রয়েছে কবিসত্তা। গ্রামের সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষ সে। স্থানীয়দের মধ্যে সে মান্যজন হিসেবেই বিবেচিত। আজিজ মাস্টার নীলগঞ্জ গ্রামের কেউ না হলেও মিলিটারির কাছে। গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারি প্রবেশের কিছুক্ষণ পরেই মেজর এজাজ ডেকে পাঠায় আজিজ মাস্টারকে। সে মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য জানতে চায়, কিন্তু আজিজ মাস্টার কোনো তথ্য দিতে পারে না। মেজর এজাজ তার কথা বিশ্বাস করে না এবং তাকে আটকে রাখে। তার কাছে রেডিও থাকা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শোনা, পাকিস্তানের রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রভৃতি তাকে মিলিটারির সন্দেহের আওতায় নিয়ে আসে। মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার সম্ভাবনায় তার ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। তার সামনে মেজর এজাজ চিত্রা বুড়ির ছেলেকে হত্যার দায়ে কৈবর্ত সম্প্রদায়ের মনা ও তার ছোটো ভাই বিরুকে হত্যা করে, যেন সে ভয় পায় এবং সঠিক তথ্য প্রদান করে। কিন্তু এরপরও কোনো তথ্য আজিজ মাস্টারের মুখ থেকে বের করতে না পারায় তাকে আরও ভয়াবহ শাস্তির ব্যবস্থা করে মেজর এজাজ। মালার প্রতি দুর্বলতার বিষয় জানতে পেরে :-তাকে উলঙ্গ করে পুরুষাঙ্গে ইটের টুকরো বেঁধে মালার সামনে হাজির করতে চায় মেজর এজাজ। আজিজ মাস্টার প্রথম দিকে মৃত্যুভয়ে এমন চরম অপমানজনক শাস্তি মেনে নেয়। এসময় সে জয়নাল মিয়াকে ধরে আনে এবং উলঙ্গ আজিজ মাস্টারকে সামনে এনে সে যে তার মেয়েকে ভালোবাসে তা জানিয়ে দেয়। এরপর মেজর এজাজ নির্দেশ দেয়, সে যেন পুরুষাঙ্গে ইট বাঁধা নগ্ন অবস্থায় আজিজ মাস্টারকে মালার সামনে নিয়ে যায়। এ পর্যায়ে আজিজ মাস্টার সব ধরনের ভয়ের উর্ধ্বে উঠে অপমানের চেয়ে মৃত্যুকেই শ্রেয় বলে মেনে নেয়। মেজর এজাজের নির্দেশে তাকে হত্যা করা হয়। ঔপন্যাসিক আজিজ মাস্টার চরিত্রটিকে গ্রামীণ এক ভীত মানুষ থেকে সাহসী ব্যক্তিতে পরিণত করেছেন যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতিতে। মিলিটারি ডেকে পাঠালে ভয়ে তার হাঁপানির টান ওঠে। প্রস্রাবের বেগ হয়। মিলিটারির হাতে বন্দি ইমামের নির্যাতিত চেহারা দেখে ভয়ে প্রস্রাব করে ফেলে সে। কিন্তু সেই আজিজ মাস্টার যে গ্রামের একজন সাধারণ ভীতু প্রকৃতির স্কুলশিক্ষক, সে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাহসী হয়ে ওঠে। আজিজ মাস্টার চরিত্রটি মুক্তিযুদ্ধে নিপীড়িত বাঙালি সাধারণ জনতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। তাই বলা যায়, “১৯৭১' উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহে আজিজ মাস্টারের ভূমিকাও কম নয়" মন্তব্যটি যথার্থ।
SSC বাংলা ১ম পত্র ১৯৭১ (উপন্যাস) CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · ১৯৭১ (উপন্যাস) · সৃজনশীল
১৯৭১' উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহে আজিজ মাস্টারের ভূমিকাও কম নয়"- মন্তব্যটির যৌক্তিকতা বিচার করো।
উত্তর