"১৯৭১' উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো মুক্তিযুদ্ধে নিপীড়িত সাধারণ মানুষের জীবন যন্ত্রণা।”- আলোচনা করো।
উত্তর: '১৯৭১' উপন্যাসের মূল উপজীব্য নিপীড়িত মানুষের জীবন যন্ত্রণা- '১৯৭১' উপন্যাসের সার্বিক বিচারে আলোচ্য মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য। '১৯৭১' উপন্যাসের ক্ষেত্রভূমি নিস্তরঙ্গ অসামরিক প্রত্যন্ত গ্রাম নীলগঞ্জ। শহর, রেলস্টেশন, এমনকি বন্দর থেকে অনেক দূরের অজপাড়াগাঁ এ নীলগঞ্জ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আভাস এমন দুর্গম অঞ্চলেও লেগেছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দুটো দল ১৯৭১ সালের ১ মে গভীর রাতে এবং সকালে এ গ্রামে হানা দেয়। মিলিটারি মেজর এজাজ আহমেদ নীলগঞ্জ গ্রামের পার্শ্ববর্তী মধুবন জঙ্গলা মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান নেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে এ অঞ্চলে আসে। মুক্তিবাহিনী ছিল কি না, এ বিষয়ে সঠিক তথ্য স্পষ্ট করেননি এ উপন্যাসের লেখক। তবে মিলিটারিদের আগমনে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। এ উপন্যাসে পাকবাহিনীর আগমনে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে গ্রামীণ বৃদ্ধ পিতার প্রতিনিধি মীর আলির জীবন। মোটামুটি সচ্ছল মধ্যবিত্ত গোছের সংসার পতিত হয়েছে অনিশ্চয়তার সাগরে। মীর আলি অন্ধ। ঝড় তার ঘরের চালা উড়িয়ে নিয়ে গেছে। একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেটির মিলিটারির কবলে পড়ে বাড়ি ফেরার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় সে কাতরালেও এমন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সম্ভব হয়নি তার মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়া। যুদ্ধ, অনিশ্চয়তা এবং মৃত্যু-ক্ষুধার যন্ত্রণা এই চরিত্রটিকে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের বাস্তব চরিত্রের এবং মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক করে তুলেছে। এ উপন্যাসে নিপীড়িত মানুষের জীবন-যন্ত্রণার অন্যতম প্রতীক দুজন বিদেশি লোক হিসেবে পরিচিতি আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেব। নীলগঞ্জে প্রবেশ করেই এ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মেজর এজাজ। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য না-দিতে পারায় চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয় সে। সে ইমাম সাহেবের ওপরে নির্মম নির্যাতন চালায়। আজিজ মাস্টারকে দেয় অপমানজনক শাস্তি অথবা মৃত্যুকে বেছে নেওয়ার শর্ত। শেষমেশ নিজের আত্মসম্মানবোধকে অক্ষুণ্ণ রাখতে মৃত্যুকে বেছে নেয় আজিজ মাস্টার। '১৯৭১' উপন্যাসের আরেক নিপীড়িত চরিত্র সফদরউল্লাহ। মিলিটারি ও রাজাকার কর্তৃক তার স্ত্রী ও শ্যালিকার সম্ভ্রমহানি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে রাজাকারদের হত্যার জন্য গভীর রাতে দা হাতে বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু তার এ প্রচেষ্টায় সফলতার কোনো অগ্রগতি ঔপন্যাসিক পাঠকদের জানাননি। এ উপন্যাসের আরেকটি নিপীড়িত চরিত্র রফিক। পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হয়েও সে মেজর এজাজের ক্ষোভ থেকে রক্ষা পায়নি। বাঙালিদের প্রতি পক্ষপাত তাকে মেজর এজাজের বন্ধু থেকে দুশমনে পরিণত করে। উপন্যাসের শেষে মেজর এজাজ নৃশংসভাবে হত্যা করে দেশপ্রেমিক রফিককে। তাই উপযুক্ত আলোচনা ও দৃষ্টান্ত থেকে প্রমাণিত হয় যে, '১৯৭১' উপন্যাসের মূল উপজীব্য মুক্তিযুদ্ধে নিপীড়িত ইমানুয়ের জীবন-যন্ত্রণা" মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।
SSC বাংলা ১ম পত্র ১৯৭১ (উপন্যাস) CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · ১৯৭১ (উপন্যাস) · সৃজনশীল
"১৯৭১' উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো মুক্তিযুদ্ধে নিপীড়িত সাধারণ মানুষের জীবন যন্ত্রণা।”- আলোচনা করো।
উত্তর