"উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়ই 'বহিপীর' নাটকের একমাত্র বিষয় নয়”- মন্তব্যটি সত্য।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'বহিপীর' নাটকটি একটি গভীর অর্থবহ সাহিত্যকর্ম। এই নাটকটির মধ্যে উঠে এসেছে ধর্মীয় গোঁড়ামী, পীরের অন্ধ অনুকরণ, জমিদারি প্রথা ও নারী জাগরণ। এছাড়াও মানবজীবনের নানা দিকের সম্পর্ক, সামাজিক বন্ধন এবং ধর্মীয় ভ্রান্তি নিয়ে গভীর আলোচনা করা হয়েছে। নাটকের মূল বিষয়গুলো সমাজ, ধর্ম এবং মানবিকতার মধ্যে সংঘাত ও সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে। নাটকের প্রধান চরিত্র বহিপীর একদিকে যেমন আত্মবিশ্বাসী এবং স্বাধীনতার প্রতি বিশ্বাসী, তেমনি অন্যদিকে তার মধ্যে গভীর আত্ম-অন্বেষণের চেতনা রয়েছে, যা তার সংকীর্ণতার উর্ধ্বে ওঠার পথে সহায়ক হয়।
উদ্দীপকে নারী জাগরণের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। নারীকে ঘোমটা ছিঁড়ে ফেলে সাহসী হতে বলা হয়েছে। কারণ এ ঘোমটা তাকে ভিরুতে পরিণত করেছে। সেই থে সা শিকল ভাঙার কথাও ব্যক্ত হয়েছে। নারী যেন চিরকাল দাসী হয়ে না থাকে সেজন্য নারীকে অগ্রগামী হতে হবে। নারীকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নারী নিজেকে যে আবরণে ঢেকে অসহায়ত্বে পরিণত হয়েছে তার প্রতিকার কামনা করা হয়েছে উদ্দীপকে।
'বহিপীর' নাটকটি কেবল একটি নারী কেন্দ্রীক চিন্তা নয়; বরং একটি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি একটি সাহিত্যকর্ম। যা মানবিকতার সর্বোচ্চ স্তরের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে। নারীকে অবরুদ্ধ অবস্থায় রেখে তার স্বাধীনতার পথে বাধা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে 'বহিপীর' নাটকটি আত্মমর্যাদার পক্ষে এবং মানুষের মুক্তির জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়। এটি একদিকে যেমন নারীর স্বাধীনতার কথা বলে, তেমনি সামাজিক ও ধর্মীয় অন্ধত্ব এবং সমাজের প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জকে উন্মোচিত করে। কাজেই উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়ই 'বহিপীর' নাটকের একমাত্র বিষয় নয়।
উত্তরের মূলকথা : "উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়ই 'বহিপীর' নাটকের একমাত্র বিষয় নয়"- মন্তব্যটি সত্য।