স্বাধীনতা উত্তর (১৯৭১-বর্তমান) বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। নিম্নে তা উদ্দীপকের আলোকে বর্ণনা করা হলো-
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সুদীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ হতে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত এ দেশের অর্থনীতিকে বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই, দীর্ঘ ৪৬ বছর পরেও আমরা অর্থনৈতিক মুক্তির পরিপূর্ণ স্বাদ পাইনি।প্রায় দুইশত বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন এ দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। তাছাড়া এ দেশে সনাতন কৃষিব্যবস্থা প্রচলিত থাকায় কৃষিতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটেনি। শিল্প ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ ঘটাতে না পারায় কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি। ২৪ বছরের পাকিস্তানি শাসন, শোষণ ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতির শিকার হয়। তাছাড়া স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দ্রুত হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়, যা অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতার প্রধান কারণ। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান অতি নিম্নপর্যায়ে নেমে আসে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি না পাওয়ায় দেশে খাদ্য ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়, যা দেশকে আমদানিনির্ভর করে তোলে। ফলে এদেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, এক সময় বাংলায় সমৃদ্ধিশালী অর্থনীতি বিরাজ করলেও ঔপনিবেশিক শাসন, পাকিস্তানি শোষণ ও বৈষম্য এদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে অনুন্নত কৃষি, শিল্পের পশ্চাৎপদতা, নিম্ন জীবনযাত্রার মান, বেকারত্ব ইত্যাদি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি, দেশে অভিজ্ঞ ও বুদ্ধিজীবীদের অভাব, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সাংস্কৃতিক অবক্ষয় ইত্যাদি এদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করে। তবে বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত বাস্তবমুখী নানান পরিকল্পনা দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করছে।