ব্যাংক হিসাব খোলার পদ্ধতি বিচারে উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম হিসাবের (চলতি হিসাব) চেয়ে পরবর্তী হিসাব (স্থায়ী হিসাব) খোলা সহজ।
ব্যাংক হিসাব খুলতে চাইলে কতগুলো ধারাবাহিক নিয়ম পালন করতে হয়। ব্যাংক হিসাবের ধরন অনুযায়ী হিসাব খোলার ক্ষেত্রে নিয়মের পার্থক্য রয়েছে। ব্যাংক ও গ্রাহকের নিরাপত্তার স্বার্থে এরূপ আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়।
উদ্দীপকে জনাব সুবির প্রথমে 'রত্ন' ব্যাংকে একটি চলতি হিসাব খোলেন। এ হিসাবে তিনি যতবার খুশি অর্থ জমা ও উত্তোলন করতে পারেন। কিন্তু কোনো মুনাফা পান না। মুনাফার কথা বিবেচনা করে তিনি আরেকটি হিসাব খোলেন। উক্ত হিসাবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থ জমা রাখেন। তবে ব্যাংক এ হিসাবের জন্য তাকে কোনো চেক বই দেয়নি। ব্যাংক হিসাবের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় জনাব সুবির রত্ন ব্যাংকে স্থায়ী হিসাব খুলেছেন। কিন্তু পূর্বের হিসাব খোলার পদ্ধতির চেয়ে পরবর্তী হিসাব খোলার পদ্ধতি তার কাছে সহজ মনে হয়েছে।।চলতি হিসাব খোলার জন্য গ্রাহক প্রথমে আবেদন ফরম সংগ্রহ করেন। এরপর KYC ফরম, সত্যায়িত ছবি, দলিলপত্র, নমুনা স্বাক্ষর কার্ড প্রভৃতি আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ব্যাংক কর্মকর্তা হিসাব খোলার অনুমতি দিয়ে একটি নম্বর দিবেন। এরপর প্রাথমিকভাবে কিছু টাকা জমা দিতে হবে। টাকা জমার পরই চলতি হিসাবের কাজ শুরু হয়। অন্যদিকে স্থায়ী হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অল্প কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। এ হিসাব খোলার জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হয়। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পরই ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রাহককে একটি স্থায়ী জমা রসিদ দিবেন। উক্ত রসিদে আমানতকারীর নাম, ঠিকানা, স্বাক্ষর, জমাকৃত অর্থের পরিমাণ, মেয়াদ প্রভৃতির উল্লেখ থাকে। এভাবে খুব সহজেই স্থায়ী হিসাব খোলা যায়। তাই বলা যায়, হিসাব খোলার পদ্ধতি ও আনুষ্ঠানিকতার বিচারে উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম হিসাবের চেয়ে পরবর্তী হিসাব খোলা সহজ।