গ. উদ্দীপকের মি. খান আজীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন।
এ জীবন বিমায় বিমাগ্রহীতা আমৃত্যু প্রিমিয়াম পরিশোধ করেন। জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি কোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা পান না। তবে বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর তার মনোনীত ব্যক্তি বিমাদাবি আদায় করতে পারেন। উদ্দীপকের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মি. খান ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একটি জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। বিমা পলিসিতে তিনি তার একমাত্র ছেলে মি. রাকিবকে উত্তরাধিকারী করেন। চারটি প্রিমিয়াম প্রদানের পর মি. খান মৃত্যুবরণ করেন। এখানে মি. খানের বিমা পলিসির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই। অর্থাৎ, তিনি আমৃত্যু বিমা প্রিমিয়াম প্রদান করবেন। উক্ত বৈশিষ্ট্য আজীবন বিমাপত্রকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, মি. খান তার জীবনের জন্য আজীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেছেন।
উদ্দীপকের মি. খান বিমাচুক্তির অন্যতম উপাদান চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের নীতি লঙ্ঘন করায়, বিমা কোম্পানি মি. রাকিবকে বিমাদাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়।
বিমাচুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিমাকারী ও বিমাগ্রহীতার মধ্যে চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই এক্ষেত্রে বিমাকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কে সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে বিমাগ্রহীতা বাধ্য। এতে উভয়পক্ষের সম্পর্কে সচ্ছলতা বজায় থাকে।
উদ্দীপকের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মি. খান তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। তাই তিনি তার একমাত্র ছেলে মি. রাকিবকে উত্তরাধিকারী করে একটি আজীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি একটি দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও বিমা কোম্পানির কাছে সে তথ্য গোপন করেন। মৃত্যু পরবর্তীতে উত্তরাধিকারী মি. রাকিব বিমাদাবির আবেদন করলে কোম্পানি তা প্রত্যাখ্যান করে।
বিমাচুক্তির চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের নীতি অনুযায়ী মি. খান সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে বাধ্য ছিলেন। কিন্তু তিনি এক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তথা তার দুরারোগ্য রোগের কথা গোপন করেন। যার ফলে আইনগতভাবে উভয়ের মধ্যে কোনো বৈধ চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। এরকম পরিস্থিতিতে বিমা কোম্পানি বিমাগ্রহীতাকে আর্থিক সুবিধা দিতে বাধ্য নয়। তাই বলা যায়, বিমা কোম্পানি চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের নীতি লঙ্ঘনের কারণে মি. রাকিবের আবেদন অ-স্বীকৃতি জানায়।