উদ্দীপকে মূল্যস্তরের স্থিতিশীলতা আনয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত প্রত্যক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রয়োগ যুক্তিযুক্ত। কখনও কখনও কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি-নিষেধ অমান্য করে। তখন প্রত্যক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নীতি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঐ বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। যেমন: কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিকাশ ঘরের সুবিধা বাতিল, বেশি সুদ ধার্য, বিল 'বাট্টাকরণ সুবিধা স্থগিত প্রভৃতি শাস্তি প্রদান করে । উদ্দীপকে ঋণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক' তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর জমার হার ২% বাড়ায়। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাংক এই নিয়ম অমান্য করে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের বিল বাট্টাকরণে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহ নির্দেশ পালনে বাধ্য হয় এবং বাজারে মুদ্রা সরবরাহ ও ঋণের পরিমাণ কাম্যস্তরে ফিরে আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বিল বাট্টাকরণে সুবিধা বাতিল করা হলো এক ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। বিল বাট্টাকরণ সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের পক্ষে বিলে স্বীকৃতি বা বিলের অর্থ আদায়ে ভূমিকা রাখতে পারবে না। এতে ব্যাংকের ওপর গ্রাহক সন্তুষ্টি কমবে। ফলে ব্যাংকগুলোর গ্রাহকের সংখ্যা কমতে পারে। এর ফলে ব্যাংকের মুনাফা কমবে। এসব কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিল বাট্টাকরণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে চায় না। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সুবিধা বাতিলের ঘোষণা দিলে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ ঘোষিত CRR মানতে বাধ্য হয়। ফলে মুদ্রা ও ঋণ ব্যবস্থা কাম্য স্তরে ফিরে আসে। তাই বলা যায়, মূল্যস্তরের স্থিতিশীলতা আনয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত প্রত্যক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যথার্থ হয়েছে।