উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাংক হার নীতি ও জমার হার পরিবর্তন নীতি গ্রহণ করেছে।
ব্যাংক ঋণের হার হ্রাস-বৃদ্ধি করে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল হলো ব্যাংক হার নীতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি প্রতিরোধে ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে। আবার, প্রতিটি তালিকাভুক্ত ব্যাংক আমানতের একটি অংশ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে। এ হার হ্রাস-বৃদ্ধি করে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করাই হলো জমার হার পরিবর্তন নীতি।
উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ ও আন্তঃব্যাংকিং দেনা- পাওনা নিষ্পত্তি করে। সম্প্রতি দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় - ব্যাংকটি তার সুদের হার ৫.৫% থেকে ৬%-এ উন্নীত করে। তবুও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক CRR বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রতিটি তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক যে হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে সেটি ব্যাংক হার। উদ্দীপকে প্রথমত ব্যাংক হার বৃদ্ধি করা হয়। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংক কম ঋণ গ্রহণ করবে এবং বাজারে অর্থের সরবরাহ হ্রাস পাবে। কিন্তু ব্যাংকগুলো যদি আর্থিকভাবে - সচ্ছল হয়, তাহলে এ নীতি তেমন কার্যকর হয় না। আবার, প্রতিটি - তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংককে আমানতের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। এই হারকে জমার - হার বলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ হার বৃদ্ধি করলে ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে বাজারে ঋণ সরবরাহও হ্রাস পায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ব্যাংক হার নীতি ও জমার হার পরিবর্তন নীতির মধ্যে জমার হার পরিবর্তন নীতি অধিক কার্যকর।