'নিরস্ত্র মানুষ হত্যা কাপুরুষোচিত' উদ্দীপক ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার আলোকে উক্তিটি বিচার করো।
উত্তর: যারা কাপুরুষ তারা সম্মুখ যুদ্ধে লড়তে ভয় পায় সেই দিক থেকে "নিরস্ত্র মানুষ হত্যা কাপুরুষোচিত" উক্তিটি যথার্থ। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় দেশপ্রেমিক মেঘনাদ সপক্ষের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় শত্রুপক্ষের কাছে অসহায়ভাবে পরাজিত হয়। প্রকৃত বীর সাহসের সঙ্গে শত্রুর মোকাবেলা করে। নিরস্ত্র অবস্থায় শত্রুকে হত্যা করা প্রকৃত বীরের ধর্ম নয়। নিরস্ত্র মেঘনাদের উপর আক্রমণ করে লক্ষ্মণ কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছে। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় লক্ষ্মণ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিরস্ত্র মেঘনাদকে যুদ্ধে আহ্বান করে। লক্ষ্মণ তলোয়ার কোষমুক্ত করলে মেঘনাদ অস্ত্রাগারে গিয়ে যুদ্ধের সাজে সেজে আসতে চায়। কিন্তু লক্ষ্মণ তাকে সময় ও সুযোগ দেয় না। লক্ষ্মণের এই কাজ মূলত কাপুরুষোচিত। উদ্দীপকেও অনুরূপ কাপুরুষোচিত হত্যাকান্ডের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা এ দেশের সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে। তাদেরকে সহযোগিতা করে বিভীষণের মতো এ দেশীয় দোসর, ঘরের শত্রু রাজাকার বাহিনী। যুদ্ধের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে অস্ত্রের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে তারা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যায়। প্রকৃত বীর প্রতিপক্ষকে ভয় করে না এবং নিরস্ত্র কাউকে আঘাতও করে না। কিন্তু এটা যারা করে তারা কাপুরুষ। এই দিক থেকে লক্ষ্মণ এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ভূমিকা কাপুরুষোচিত।
HSC Bangla 1st Paper কবিতা : বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · কবিতা : বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ · সৃজনশীল
'নিরস্ত্র মানুষ হত্যা কাপুরুষোচিত' উদ্দীপক ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ…
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর