কবিতা : বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ Bangla 1st Paper

HSC Bangla 1st Paper এর কবিতা : বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২২২

প্রশ্ন

Bangla 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় যখন শকুন নেমে আসে এই সোনার বাংলায়; নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় যখন আমাদের দেশ ছেয়ে যায় দালালেরই আলখাল্লায়; নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
ক
'স্থাণু' অর্থ কী?

উত্তর

'স্থাণু' অর্থ নিশ্চল।
খ
মেঘনাদ যজ্ঞাগারে বিষাদ অনুভব করেছিল কেন? বুঝিয়ে দাও।

উত্তর

মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে বিষাদ অনুভব করেছিল। কারণ সেখানে বিভীষণের সহায়তায় শত্রু লক্ষ্মণ প্রবেশ করেছিল। ভাঁতা কুম্ভকর্ণ ও পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুর পর লঙ্কারাজ রাবণ পরবর্তী দিবসে অনুষ্ঠেয় মহাযুদ্ধের সেনাপতি ঘোষণা করেন মেঘনাদকে। যুদ্ধজয় নিশ্চিত করতে মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা করতে যায়। তখন মায়াদেবীর আনুকূল্যে এবং রাবণানুজ বিভীষণের সহায়তায় লক্ষ্মণ শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে। মেঘনাদ লক্ষ্মণকে দেখে বিস্মিত হয়। এর পর দেখে লক্ষ্মণকে সেখানে আসতে সাহায্য করেছে পিতৃব্য বিভীষণ। তার এ ধরনের আচরণে মেঘনাদ বিষাদ অনুভব করে।
গ
উদ্দীপকের চতুর্থ পঙ্ক্তির সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার সম্পর্ক নির্ণয় কর।

উত্তর

উদ্দীপকের চতুর্থ পঙক্তিতে দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতার দিকটির সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে। একজন দেশপ্রেমিক দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। তবে কিছু মানুষ নিজ নিজ স্বার্থের জন্য দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এরা মানুষরূপী হায়েনা, দেশ ও জাতির শত্রু। উদ্দীপকের কবিতাংশের চতুর্থ চরণে বলা হয়েছে, একসময় এদেশ ছেয়ে যায় দালালের আলখাল্লায়- অর্থাৎ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এদেশের কিছু স্বার্থান্বেষী দালাল নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পাকিস্তানিদের সহায়তা করেছিল। তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য বাঙালিকে হত্যা করে। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায়ও বর্ণিত হয়েছে, লঙ্ঙ্কাধিপতি রাবণের ছোট ভাই বিভীষণ দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে পরদেশি রামের পক্ষে যোগ দেয়। তারই পরামর্শে ও প্ররোচনায় লক্ষ্মণ রাবণপুত্র মেঘনাদকে হত্যা করে। তাই বিশ্বাসঘাতকতার দিক দিয়ে উদ্দীপকের চতুর্থ পঙক্তির সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
"নূরলদীন ও মেঘনাদ উভয়ের মধ্যে দেশপ্রেমিকের নিদর্শন রয়েছে।"- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

"নূরলদীন ও মেঘনাদ উভয়ের মধ্যে দেশপ্রেমিকের নিদর্শন রয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ। একজন দেশপ্রেমিকের কাছে মা ও মাতৃভূমি একই অর্থ বহন করে। কারণ স্বদেশ ও তার আলো-বাতাস তাকে মানুষ করেছে। তাই প্রত্যেকেই তার দেশকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে। দেশের জন্য জীবন দিতেও কুণ্ঠিত হয় না। উদ্দীপকের নূরলদীন একজন দেশপ্রেমিক গণনেতা। কারণ নূরলদীন একদিন শত্রুর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। তাই যখনই বাংলার অসহায় মানুষ শত্রুর কবলে পড়ে তখনই সেই সাহসী সংগ্রামী নেতা নূরলদীনের কথা মনে পড়ে। উদ্দীপকের নূরলদীনের মতো মেঘনাদও একজন দেশপ্রেমিক। তার চাচা বিভীষণ যখন স্বজাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে তখন মেঘনাদ তাকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে। এতে মেঘনাদের দেশপ্রেমের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এছাড়াও মৃত্যু আসন্ন জেনেও সে লড়াই করে স্বর্ণলঙ্কা বাঁচাতে চেয়েছে, অস্ত্র হাতে দেশের শত্রু বিনাশ করতে চেয়েছে। উদ্দীপকের নূরলদীন ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মেঘনাদ দুজনেই বীর। তারা বীরত্বের সঙ্গে স্বদেশের সম্মান রক্ষা করতে চেষ্টা করেছেন। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সত্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় যখন শকুন নেমে আসে এই সোনার বাংলায়; নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় যখন আমাদের দেশ ছেয়ে যায় দালালেরই আলখাল্লায়; নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
ক
'স্থাণু' অর্থ কী?

উত্তর

'স্থাণু' অর্থ নিশ্চল।
খ
মেঘনাদ যজ্ঞাগারে বিষাদ অনুভব করেছিল কেন? বুঝিয়ে দাও।

উত্তর

মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে বিষাদ অনুভব করেছিল। কারণ সেখানে বিভীষণের সহায়তায় শত্রু লক্ষ্মণ প্রবেশ করেছিল। ভাঁতা কুম্ভকর্ণ ও পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুর পর লঙ্কারাজ রাবণ পরবর্তী দিবসে অনুষ্ঠেয় মহাযুদ্ধের সেনাপতি ঘোষণা করেন মেঘনাদকে। যুদ্ধজয় নিশ্চিত করতে মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা করতে যায়। তখন মায়াদেবীর আনুকূল্যে এবং রাবণানুজ বিভীষণের সহায়তায় লক্ষ্মণ শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে। মেঘনাদ লক্ষ্মণকে দেখে বিস্মিত হয়। এর পর দেখে লক্ষ্মণকে সেখানে আসতে সাহায্য করেছে পিতৃব্য বিভীষণ। তার এ ধরনের আচরণে মেঘনাদ বিষাদ অনুভব করে।
গ
উদ্দীপকের চতুর্থ পঙ্ক্তির সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার সম্পর্ক নির্ণয় কর।

উত্তর

উদ্দীপকের চতুর্থ পঙক্তিতে দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতার দিকটির সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে। একজন দেশপ্রেমিক দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। তবে কিছু মানুষ নিজ নিজ স্বার্থের জন্য দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এরা মানুষরূপী হায়েনা, দেশ ও জাতির শত্রু। উদ্দীপকের কবিতাংশের চতুর্থ চরণে বলা হয়েছে, একসময় এদেশ ছেয়ে যায় দালালের আলখাল্লায়- অর্থাৎ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এদেশের কিছু স্বার্থান্বেষী দালাল নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পাকিস্তানিদের সহায়তা করেছিল। তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য বাঙালিকে হত্যা করে। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায়ও বর্ণিত হয়েছে, লঙ্ঙ্কাধিপতি রাবণের ছোট ভাই বিভীষণ দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে পরদেশি রামের পক্ষে যোগ দেয়। তারই পরামর্শে ও প্ররোচনায় লক্ষ্মণ রাবণপুত্র মেঘনাদকে হত্যা করে। তাই বিশ্বাসঘাতকতার দিক দিয়ে উদ্দীপকের চতুর্থ পঙক্তির সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
"নূরলদীন ও মেঘনাদ উভয়ের মধ্যে দেশপ্রেমিকের নিদর্শন রয়েছে।"- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

"নূরলদীন ও মেঘনাদ উভয়ের মধ্যে দেশপ্রেমিকের নিদর্শন রয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ। একজন দেশপ্রেমিকের কাছে মা ও মাতৃভূমি একই অর্থ বহন করে। কারণ স্বদেশ ও তার আলো-বাতাস তাকে মানুষ করেছে। তাই প্রত্যেকেই তার দেশকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে। দেশের জন্য জীবন দিতেও কুণ্ঠিত হয় না। উদ্দীপকের নূরলদীন একজন দেশপ্রেমিক গণনেতা। কারণ নূরলদীন একদিন শত্রুর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। তাই যখনই বাংলার অসহায় মানুষ শত্রুর কবলে পড়ে তখনই সেই সাহসী সংগ্রামী নেতা নূরলদীনের কথা মনে পড়ে। উদ্দীপকের নূরলদীনের মতো মেঘনাদও একজন দেশপ্রেমিক। তার চাচা বিভীষণ যখন স্বজাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে তখন মেঘনাদ তাকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে। এতে মেঘনাদের দেশপ্রেমের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এছাড়াও মৃত্যু আসন্ন জেনেও সে লড়াই করে স্বর্ণলঙ্কা বাঁচাতে চেয়েছে, অস্ত্র হাতে দেশের শত্রু বিনাশ করতে চেয়েছে। উদ্দীপকের নূরলদীন ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মেঘনাদ দুজনেই বীর। তারা বীরত্বের সঙ্গে স্বদেশের সম্মান রক্ষা করতে চেষ্টা করেছেন। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সত্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

"স্বধর্ম যদি গুণহীনও হয় তবু তা উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত পরধর্মের চেয়ে শ্রেয়; স্বধর্মে নিধনও ভালো, কিন্তু পরধর্ম ভয়াবহ।” বরিশাল বোর্ড ২০১৬
ক
'নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!" উক্তিটি কার?

উত্তর

"নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!" উক্তিটি মেঘনাদের।
খ
গুণবান পরজন অপেক্ষা নির্গুণ স্বজন শ্রেয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

গুণবান পরজন অপেক্ষা নির্গুণ স্বজন শ্রেয়- পর কখনো আপন হয় না, কোনো বিপদে সাহায্যের হাত বাড়ায় না। পৃথিবীতে সুখে-দুঃখে আপনজনেরাই এগিয়ে আসে। স্বজন গুণহীন হলেও স্বজন। কারণ তার সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক। আর পরজন যতই গুণবান হোক, সে কখনো বিপদে এগিয়ে আসে না। বিভীষণ স্বজন হয়েও যখন পরজনদের সঙ্গে হাত মেলায় তখন তাকে মেঘনাদ শাস্ত্রে বর্ণিত এসব কথা শুনিয়ে তাঁর স্বজাতির প্রতি বীরধর্ম পালনের জন্য আহ্বান করে। 'এসব নীতিকথা বলে বিভীষণের চেতনা জাগ্রত করার চেষ্টা করে।
গ
উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বক্তব্যের কী মিল পাওয়া যায়? লেখ।

উত্তর

উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বক্তব্যের মিল রয়েছে। যা কিছু নিজের তাই সত্য, তাই সুন্দর। অন্যের অনেক কিছু ভালো হতে পারে, তাতে লাভ কী, তা তো অন্যের। অন্যের জিনিস অপেক্ষা নিজের জিনিস কম মূল্যের হলেও তা মূল্যবান, কারণ তা নিজের একান্ত আপনার। উদ্দীপকে বলা হয়েছে পরধর্ম যত ভালোই হোক না কেন, নিজের ধর্ম গুণহীন হলেও তার থেকে ভালো। নিজের ধর্মকেই শ্রেষ্ঠ মনে করা উচিত। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায়ও একই বক্তব্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। বিভীষণ স্বদেশ ও স্বজাতি ছেড়ে রামের দলে যোগ দেয়। লক্ষ্মণকে পথ দেখিয়ে যজ্ঞাগারে নিয়ে আসে। তখন মেঘনাদ তার চাচা বিভীষণকে বলে, ভ্রাতৃত্ব, জ্ঞাতিত্ব, জাতি সব বিসর্জন দিয়েছ, তুমি কি জানো না শাস্ত্র বলে, গুণহীন স্বজন গুণবান পরজন অপেক্ষা ভালো। আপনজন যদি নির্গুণও হয় তবুও আপনজন। পরজন যতই গুণবান হোক সে পর। তাই বলা যায় যে, যা কিছু নিজের তার ওপরেই গুরুত্ব দিতে বলার দিক থেকে উদ্দীপকের বক্তব্যের সঙ্গে কবিতার বক্তব্যের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
"উদ্দীপকের মূলভাব ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।" উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

"উদ্দীপকের মূলভাব ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।”- উক্তিটি যথার্থ। যার সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক সেই আত্মীয়। আত্মার সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয় না। আত্মীয় যতই হীন বা নীচ হোক তাকে ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়। শাস্ত্রেও তার অনুমতি নেই। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় দেখা যায় রামচন্দ্র কর্তৃক দ্বীপরাজ্য স্বর্ণলঙ্কা আক্রান্ত হলে বিভীষণ তার ভাই ও স্বদেশ-স্বজাতি ছেড়ে রামচন্দ্রের পক্ষ অবলম্বন করে। রাবণ অন্যায় করেছেন এ কথা সত্য, তবে বিভীষণ স্বজাতি ত্যাগ করে স্বদেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিভীষণ শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্মণকে নিয়ে মেঘনাদকে হত্যা করতে যজ্ঞাগারে উপস্থিত হয়েছে। এমনকি মেঘনাদ যেন অস্ত্রাগারে যেতে না পারে তার জন্য বিভীষণ অস্ত্রাগারের দরজা রোধ করে রাখে। তখন মেঘনাদ বিভীষণকে শাস্ত্রের কথা বলে, বিভিন্ন কথা বলে দেশপ্রেম জাগানোর চেষ্টা করে। বিভীষণ তখন সত্য ধর্মের দোহাই দেয়। তখন মেঘনাদ তাকে শাস্ত্রের কথা বলে যে, গুণবান যদি পরজন হয় তাহলেও তাকে বর্জন করা উচিত আর স্বজন গুণহীন হলেও সে স্বজন। উদ্দীপকের বক্তব্যেও একই ভাবের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে স্বধর্ম যদি গুণহীনও হয় তবুও তা উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত করতে হবে। পরধর্ম কখনই স্বধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে না। উদ্দীপক ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতা উভয় জায়গায় নিজ ধর্ম ও নিজের আত্মীয়কে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে। অন্য ধর্ম ও অনাত্মীয় যতই সুন্দর ও গুণবান হোক, তা বর্জন করতে বলা হয়েছে। তাই বলা যায় যে- প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

"স্বধর্ম যদি গুণহীনও হয় তবু তা উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত পরধর্মের চেয়ে শ্রেয়; স্বধর্মে নিধনও ভালো, কিন্তু পরধর্ম ভয়াবহ।” বরিশাল বোর্ড ২০১৬
ক
'নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!" উক্তিটি কার?

উত্তর

"নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!" উক্তিটি মেঘনাদের।
খ
গুণবান পরজন অপেক্ষা নির্গুণ স্বজন শ্রেয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

গুণবান পরজন অপেক্ষা নির্গুণ স্বজন শ্রেয়- পর কখনো আপন হয় না, কোনো বিপদে সাহায্যের হাত বাড়ায় না। পৃথিবীতে সুখে-দুঃখে আপনজনেরাই এগিয়ে আসে। স্বজন গুণহীন হলেও স্বজন। কারণ তার সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক। আর পরজন যতই গুণবান হোক, সে কখনো বিপদে এগিয়ে আসে না। বিভীষণ স্বজন হয়েও যখন পরজনদের সঙ্গে হাত মেলায় তখন তাকে মেঘনাদ শাস্ত্রে বর্ণিত এসব কথা শুনিয়ে তাঁর স্বজাতির প্রতি বীরধর্ম পালনের জন্য আহ্বান করে। 'এসব নীতিকথা বলে বিভীষণের চেতনা জাগ্রত করার চেষ্টা করে।
গ
উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বক্তব্যের কী মিল পাওয়া যায়? লেখ।

উত্তর

উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বক্তব্যের মিল রয়েছে। যা কিছু নিজের তাই সত্য, তাই সুন্দর। অন্যের অনেক কিছু ভালো হতে পারে, তাতে লাভ কী, তা তো অন্যের। অন্যের জিনিস অপেক্ষা নিজের জিনিস কম মূল্যের হলেও তা মূল্যবান, কারণ তা নিজের একান্ত আপনার। উদ্দীপকে বলা হয়েছে পরধর্ম যত ভালোই হোক না কেন, নিজের ধর্ম গুণহীন হলেও তার থেকে ভালো। নিজের ধর্মকেই শ্রেষ্ঠ মনে করা উচিত। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায়ও একই বক্তব্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। বিভীষণ স্বদেশ ও স্বজাতি ছেড়ে রামের দলে যোগ দেয়। লক্ষ্মণকে পথ দেখিয়ে যজ্ঞাগারে নিয়ে আসে। তখন মেঘনাদ তার চাচা বিভীষণকে বলে, ভ্রাতৃত্ব, জ্ঞাতিত্ব, জাতি সব বিসর্জন দিয়েছ, তুমি কি জানো না শাস্ত্র বলে, গুণহীন স্বজন গুণবান পরজন অপেক্ষা ভালো। আপনজন যদি নির্গুণও হয় তবুও আপনজন। পরজন যতই গুণবান হোক সে পর। তাই বলা যায় যে, যা কিছু নিজের তার ওপরেই গুরুত্ব দিতে বলার দিক থেকে উদ্দীপকের বক্তব্যের সঙ্গে কবিতার বক্তব্যের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
"উদ্দীপকের মূলভাব ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।" উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

"উদ্দীপকের মূলভাব ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।”- উক্তিটি যথার্থ। যার সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক সেই আত্মীয়। আত্মার সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয় না। আত্মীয় যতই হীন বা নীচ হোক তাকে ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়। শাস্ত্রেও তার অনুমতি নেই। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় দেখা যায় রামচন্দ্র কর্তৃক দ্বীপরাজ্য স্বর্ণলঙ্কা আক্রান্ত হলে বিভীষণ তার ভাই ও স্বদেশ-স্বজাতি ছেড়ে রামচন্দ্রের পক্ষ অবলম্বন করে। রাবণ অন্যায় করেছেন এ কথা সত্য, তবে বিভীষণ স্বজাতি ত্যাগ করে স্বদেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিভীষণ শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্মণকে নিয়ে মেঘনাদকে হত্যা করতে যজ্ঞাগারে উপস্থিত হয়েছে। এমনকি মেঘনাদ যেন অস্ত্রাগারে যেতে না পারে তার জন্য বিভীষণ অস্ত্রাগারের দরজা রোধ করে রাখে। তখন মেঘনাদ বিভীষণকে শাস্ত্রের কথা বলে, বিভিন্ন কথা বলে দেশপ্রেম জাগানোর চেষ্টা করে। বিভীষণ তখন সত্য ধর্মের দোহাই দেয়। তখন মেঘনাদ তাকে শাস্ত্রের কথা বলে যে, গুণবান যদি পরজন হয় তাহলেও তাকে বর্জন করা উচিত আর স্বজন গুণহীন হলেও সে স্বজন। উদ্দীপকের বক্তব্যেও একই ভাবের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে স্বধর্ম যদি গুণহীনও হয় তবুও তা উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত করতে হবে। পরধর্ম কখনই স্বধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে না। উদ্দীপক ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতা উভয় জায়গায় নিজ ধর্ম ও নিজের আত্মীয়কে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে। অন্য ধর্ম ও অনাত্মীয় যতই সুন্দর ও গুণবান হোক, তা বর্জন করতে বলা হয়েছে। তাই বলা যায় যে- প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

স্বাধীনতার অগ্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এ দেশের আপামর জনতা। মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের শৌর্য, বীর্য, সাহসিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর যোদ্ধারা জীবনের বিনিময়ে আমাদের দিয়ে গেলেন লাল-সবুজের পতাকা। যশোর বোর্ড ২০১৬
ক
লক্ষ্মণের মায়ের নাম কী?

উত্তর

লক্ষ্মণের মায়ের নাম সুমিত্রা।
খ
"প্রফুল্ল কমলে কীটবাস?"- বুঝিয়ে দাও।

উত্তর

'প্রফুল্ল কমলে কীটবাস' বলতে প্রফুল্ল কমলসম লঙ্কাপুরীতে কীটসম লক্ষ্মণের অবস্থান করাকে বোঝানো হয়েছে। মেঘনাদ যুদ্ধযাত্রার আগে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা সম্পন্ন করার জন্য উপস্থিত হয়। সেখানে মায়াদেবীর আনুকূল্যে এবং বিভীষণের সহায়তায় লক্ষ্মণ প্রবেশ করে নিরস্ত্র মেঘনাদকে যুদ্ধে আহ্বান করে। মেঘনাদ তখন পিতৃব্য বিভীষণকে নানাভাবে বুঝিয়ে অস্ত্রাগারে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করে। কিন্তু বিভীষণ দ্বার ছাড়ে না'। সে নিজেকে রাঘবের দাস হিসেবে পরিচয় দেয়। তখন ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে মেঘনাদ লঙ্কাকে মনোরম সাজানো বাগান আর লক্ষ্মণকে কীটরূপে অভিহিত করে।
গ
উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধাদের কোন কোন বৈশিষ্ট্য 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মেঘনাদের চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়?- আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধাদের সব বৈশিষ্ট্য 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মেঘনাদের চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়। দেশপ্রেম মানবমনের এক সুগভীর আবেগ, যে আবেগের কারণে মানুষ আপন প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দেয়। প্রকৃত দেশপ্রেমিক কখনো শত্রুর ভয়ে পিছপা হয় না, বরং বীরত্বের সঙ্গে শত্রুর মোকাবিলা করে। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় শৌর্যে-বীর্যে মেঘনাদ অদ্বিতীয়। তাই মৃত্যুর সম্মুখে দাঁড়িয়েও ভীত হয়নি, লক্ষ্মণের কাছে যুদ্ধসাজ গ্রহণের অনুমতি চেয়েছে। দেশের জন্য যুদ্ধ করা তার কর্তব্য এ বোধ থেকেই সে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণের পূর্বে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের আশীর্বাদ গ্রহণের জন্য যজ্ঞাগারে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু কাপুরুষ লক্ষ্মণের হাতে তাকে নিরস্ত্র অবস্থায় প্রাণ দিতে হয়। উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধাদের শৌর্য, বীর্য, সাহসিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও ত্যাগ এসব বৈশিষ্ট্যই মেঘনাদ চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ
“দেশপ্রেম প্রকৃত বীরের ধর্ম"- উদ্দীপক ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতা অনুসরণে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

দেশপ্রেমের মধ্য দিয়েই প্রকৃত বীরের বীরত্বের প্রকাশ ঘটে, যা উদ্দীপক ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় ফুটে উঠেছে। 'দেশপ্রেমিকের কাছে দেশ হলো মায়ের সমান। দেশের প্রতি অনুরাগী দেশপ্রেমের সুগভীর বোধ থেকেই মানুষ দেশের কল্যাণে কাজ করে, দেশের, প্রয়োজনে জীবন বিসর্জন দেয়। দেশের প্রতি অনুরাগী দেশপ্রেমিকরাই প্রকৃত বীর। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মেঘনাদ একজন প্রকৃত বীর। নিজ দেশ শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে সে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে অগ্রসর হয়েছে। যুদ্ধজয়ের প্রত্যাশায় সে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা সম্পন্ন করতে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে যায়। সেখানে তার চাচা বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা, লক্ষ্মণকে সাহায্য করা এসব কারণে নিরস্ত্র অবস্থায় প্রাণ দিতে হয় মেঘনাদকে। উদ্দীপকেও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে এমন গভীর দেশপ্রেম লক্ষ করা যায়। শত্রুদের ধ্বংস করার প্রতিজ্ঞা করে তারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে জীবনের বিনিময়ে তারা দেশ স্বাধীন করে আমাদের উপহার দেয় লাল-সবুজের পতাকা। দেশপ্রেমের গভীরতায় বীর দেশকে রক্ষার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হবে একথা জেনেই সে যুদ্ধে যায়। এটাই প্রকৃত বীরত্ব, যা মেঘনাদের মধ্যে লক্ষ করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

স্বাধীনতার অগ্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এ দেশের আপামর জনতা। মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের শৌর্য, বীর্য, সাহসিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর যোদ্ধারা জীবনের বিনিময়ে আমাদের দিয়ে গেলেন লাল-সবুজের পতাকা। যশোর বোর্ড ২০১৬
ক
লক্ষ্মণের মায়ের নাম কী?

উত্তর

লক্ষ্মণের মায়ের নাম সুমিত্রা।
খ
"প্রফুল্ল কমলে কীটবাস?"- বুঝিয়ে দাও।

উত্তর

'প্রফুল্ল কমলে কীটবাস' বলতে প্রফুল্ল কমলসম লঙ্কাপুরীতে কীটসম লক্ষ্মণের অবস্থান করাকে বোঝানো হয়েছে। মেঘনাদ যুদ্ধযাত্রার আগে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা সম্পন্ন করার জন্য উপস্থিত হয়। সেখানে মায়াদেবীর আনুকূল্যে এবং বিভীষণের সহায়তায় লক্ষ্মণ প্রবেশ করে নিরস্ত্র মেঘনাদকে যুদ্ধে আহ্বান করে। মেঘনাদ তখন পিতৃব্য বিভীষণকে নানাভাবে বুঝিয়ে অস্ত্রাগারে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করে। কিন্তু বিভীষণ দ্বার ছাড়ে না'। সে নিজেকে রাঘবের দাস হিসেবে পরিচয় দেয়। তখন ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে মেঘনাদ লঙ্কাকে মনোরম সাজানো বাগান আর লক্ষ্মণকে কীটরূপে অভিহিত করে।
গ
উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধাদের কোন কোন বৈশিষ্ট্য 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মেঘনাদের চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়?- আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধাদের সব বৈশিষ্ট্য 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মেঘনাদের চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়। দেশপ্রেম মানবমনের এক সুগভীর আবেগ, যে আবেগের কারণে মানুষ আপন প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দেয়। প্রকৃত দেশপ্রেমিক কখনো শত্রুর ভয়ে পিছপা হয় না, বরং বীরত্বের সঙ্গে শত্রুর মোকাবিলা করে। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় শৌর্যে-বীর্যে মেঘনাদ অদ্বিতীয়। তাই মৃত্যুর সম্মুখে দাঁড়িয়েও ভীত হয়নি, লক্ষ্মণের কাছে যুদ্ধসাজ গ্রহণের অনুমতি চেয়েছে। দেশের জন্য যুদ্ধ করা তার কর্তব্য এ বোধ থেকেই সে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণের পূর্বে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের আশীর্বাদ গ্রহণের জন্য যজ্ঞাগারে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু কাপুরুষ লক্ষ্মণের হাতে তাকে নিরস্ত্র অবস্থায় প্রাণ দিতে হয়। উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধাদের শৌর্য, বীর্য, সাহসিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও ত্যাগ এসব বৈশিষ্ট্যই মেঘনাদ চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ
“দেশপ্রেম প্রকৃত বীরের ধর্ম"- উদ্দীপক ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতা অনুসরণে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

দেশপ্রেমের মধ্য দিয়েই প্রকৃত বীরের বীরত্বের প্রকাশ ঘটে, যা উদ্দীপক ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় ফুটে উঠেছে। 'দেশপ্রেমিকের কাছে দেশ হলো মায়ের সমান। দেশের প্রতি অনুরাগী দেশপ্রেমের সুগভীর বোধ থেকেই মানুষ দেশের কল্যাণে কাজ করে, দেশের, প্রয়োজনে জীবন বিসর্জন দেয়। দেশের প্রতি অনুরাগী দেশপ্রেমিকরাই প্রকৃত বীর। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মেঘনাদ একজন প্রকৃত বীর। নিজ দেশ শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে সে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে অগ্রসর হয়েছে। যুদ্ধজয়ের প্রত্যাশায় সে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা সম্পন্ন করতে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে যায়। সেখানে তার চাচা বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা, লক্ষ্মণকে সাহায্য করা এসব কারণে নিরস্ত্র অবস্থায় প্রাণ দিতে হয় মেঘনাদকে। উদ্দীপকেও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে এমন গভীর দেশপ্রেম লক্ষ করা যায়। শত্রুদের ধ্বংস করার প্রতিজ্ঞা করে তারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে জীবনের বিনিময়ে তারা দেশ স্বাধীন করে আমাদের উপহার দেয় লাল-সবুজের পতাকা। দেশপ্রেমের গভীরতায় বীর দেশকে রক্ষার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হবে একথা জেনেই সে যুদ্ধে যায়। এটাই প্রকৃত বীরত্ব, যা মেঘনাদের মধ্যে লক্ষ করা যায়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো