HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন শকুন নেমে আসে এই সোনার বাংলায়;
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন আমাদের দেশ ছেয়ে যায় দালালেরই আলখাল্লায়;
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
ক
'স্থাণু' অর্থ কী?
উত্তর
'স্থাণু' অর্থ নিশ্চল।
খ
মেঘনাদ যজ্ঞাগারে বিষাদ অনুভব করেছিল কেন? বুঝিয়ে দাও।
উত্তর
মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে বিষাদ অনুভব করেছিল। কারণ সেখানে বিভীষণের সহায়তায় শত্রু লক্ষ্মণ প্রবেশ করেছিল।
ভাঁতা কুম্ভকর্ণ ও পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুর পর লঙ্কারাজ রাবণ পরবর্তী দিবসে অনুষ্ঠেয় মহাযুদ্ধের সেনাপতি ঘোষণা করেন মেঘনাদকে। যুদ্ধজয় নিশ্চিত করতে মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা করতে যায়। তখন মায়াদেবীর আনুকূল্যে এবং রাবণানুজ বিভীষণের সহায়তায় লক্ষ্মণ শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে। মেঘনাদ লক্ষ্মণকে দেখে বিস্মিত হয়। এর পর দেখে লক্ষ্মণকে সেখানে আসতে সাহায্য করেছে পিতৃব্য বিভীষণ। তার এ ধরনের আচরণে মেঘনাদ বিষাদ অনুভব করে।
গ
উদ্দীপকের চতুর্থ পঙ্ক্তির সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার সম্পর্ক নির্ণয় কর।
উত্তর
উদ্দীপকের চতুর্থ পঙক্তিতে দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতার দিকটির সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
একজন দেশপ্রেমিক দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। তবে কিছু মানুষ নিজ নিজ স্বার্থের জন্য দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এরা মানুষরূপী হায়েনা, দেশ ও জাতির শত্রু।
উদ্দীপকের কবিতাংশের চতুর্থ চরণে বলা হয়েছে, একসময় এদেশ ছেয়ে যায় দালালের আলখাল্লায়- অর্থাৎ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এদেশের কিছু স্বার্থান্বেষী দালাল নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পাকিস্তানিদের সহায়তা করেছিল। তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য বাঙালিকে হত্যা করে। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায়ও বর্ণিত হয়েছে, লঙ্ঙ্কাধিপতি রাবণের ছোট ভাই বিভীষণ দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে পরদেশি রামের পক্ষে যোগ দেয়। তারই পরামর্শে ও প্ররোচনায় লক্ষ্মণ রাবণপুত্র মেঘনাদকে হত্যা করে। তাই বিশ্বাসঘাতকতার দিক দিয়ে উদ্দীপকের চতুর্থ পঙক্তির সাথে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
"নূরলদীন ও মেঘনাদ উভয়ের মধ্যে দেশপ্রেমিকের নিদর্শন রয়েছে।"- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
"নূরলদীন ও মেঘনাদ উভয়ের মধ্যে দেশপ্রেমিকের নিদর্শন রয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
একজন দেশপ্রেমিকের কাছে মা ও মাতৃভূমি একই অর্থ বহন করে। কারণ স্বদেশ ও তার আলো-বাতাস তাকে মানুষ করেছে। তাই প্রত্যেকেই তার দেশকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে। দেশের জন্য জীবন দিতেও কুণ্ঠিত হয় না।
উদ্দীপকের নূরলদীন একজন দেশপ্রেমিক গণনেতা। কারণ নূরলদীন একদিন শত্রুর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। তাই যখনই বাংলার অসহায় মানুষ শত্রুর কবলে পড়ে তখনই সেই সাহসী সংগ্রামী নেতা নূরলদীনের কথা মনে পড়ে। উদ্দীপকের নূরলদীনের মতো মেঘনাদও একজন দেশপ্রেমিক। তার চাচা বিভীষণ যখন স্বজাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে তখন মেঘনাদ তাকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে। এতে মেঘনাদের দেশপ্রেমের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এছাড়াও মৃত্যু আসন্ন জেনেও সে লড়াই করে স্বর্ণলঙ্কা বাঁচাতে চেয়েছে, অস্ত্র হাতে দেশের শত্রু বিনাশ করতে চেয়েছে।
উদ্দীপকের নূরলদীন ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মেঘনাদ দুজনেই বীর। তারা বীরত্বের সঙ্গে স্বদেশের সম্মান রক্ষা করতে চেষ্টা করেছেন। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সত্য।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো