"উদ্দীপকের কবির আকাঙ্ক্ষা এবং "প্রতিদান" কবিতার কবির কর্মপন্থা—দুই-ই এক মহত্তম মানবিক দর্শনে সিক্ত।"—মন্তব্যের যাথার্থ্য মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকের কবি পার্থিব ধনসম্পদ, মণি-মুক্তা, রাজত্ব ও সম্মানের প্রতি আকৃষ্ট নন। তিনি এসবের পরিবর্তে একটি মহৎ হৃদয় লাভ করতে চান। মনুষ্যত্বের শ্রেষ্ঠ উপাদানে নিজের হৃদয়কে সমৃদ্ধ করাই তাঁর জীবনের সাধনা। অর্থাৎ তিনি বস্তুগত প্রাপ্তির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক গুণ, আত্মিক মহত্ত্ব ও মানুষের কল্যাণকে জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। 'প্রতিদান' কবিতার কবিও একই মানবিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ। তবে উদ্দীপকের কবির মহত্ত্ব একটি আকাঙ্ক্ষা হিসেবে প্রকাশিত হলেও জসীমউদ্দীনের কবিতায় তা কর্মপন্থায় পরিণত হয়েছে। যারা কবির ক্ষতি করেছে, তিনি তাদের ক্ষতি করতে চান না। বরং নিজের ঘর ভাঙার প্রতিদানে তাদের ঘর বেঁধে দেন, আঘাতকারীর জন্য কাঁদেন এবং কাঁটার প্রতিদানে ফুল দান করেন। এমনকি যে তাঁকে পর করেছে, তাকেও ভালোবেসে আপন করে নিতে চান। উভয়ের মধ্যে প্রতিশোধ, হিংসা ও পার্থিব স্বার্থের পরিবর্তে ভালোবাসা, ক্ষমা, সহিষ্ণুতা ও পরোপকারের দর্শন লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের কবি মহৎ প্রাণ লাভ করে মনুষ্যত্বের সাধনা করতে চান; আর 'প্রতিদান' কবিতার কবি নিজের আচরণের মাধ্যমে সেই মনুষ্যত্বের বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। একজনের বক্তব্যে মানবিক আদর্শের আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যজনের কর্মে সেই আদর্শের সফল প্রয়োগ ঘটেছে। তবে উভয়ের প্রকাশভঙ্গিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। উদ্দীপকের কবি নিজের আত্মিক উৎকর্ষ ও মহৎ হৃদয় লাভের কথা বলেছেন। অন্যদিকে 'প্রতিদান' কবিতার কবি নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে শত্রু ও অনিষ্টকারীর কল্যাণ সাধনের মাধ্যমে মানবপ্রেমের সামাজিক ও ব্যবহারিক রূপ তুলে ধরেছেন। কবিতাটি প্রতিশোধের পরিবর্তে ভালোবাসা দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও প্রীতিময় সমাজ নির্মাণের শিক্ষা দেয়। সুতরাং উদ্দীপকের কবির মনুষ্যত্ব অর্জনের আকাঙ্ক্ষা এবং 'প্রতিদান' কবিতার কবির ক্ষমা, প্রেম ও পরোপকারমূলক কর্মপন্থা—উভয়ই মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কল্যাণকামী চেতনার প্রকাশ। তাই মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
HSC Bangla 1st Paper কবিতা : প্রতিদান CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · কবিতা : প্রতিদান · সৃজনশীল
"উদ্দীপকের কবির আকাঙ্ক্ষা এবং "প্রতিদান" কবিতার কবির কর্মপন্থা—দুই-…
উদ্দীপক
Combined · 2026
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর