HSCBangla 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,
তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল।
গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান, কাষ্ঠ,
দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্ন দান।
স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত,
বংশী করে নিজ স্বরে অপরে মোহিত।
শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জলধরে,
সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।
Mymensingh · 2022
ক
'নকশী কাঁথার মাঠ' কী ধরনের রচনা?
উত্তর
'নকশি কাঁথার মাঠ' একটি কাব্যগ্রন্থ।
খ
'কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর'- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
কবি অনিষ্ঠকারীর উপকার করতে চান বলে কাঁটার বিনিময়ে ফুল দান করে।
কবি বিশ্বাস করেন অনিষ্টকারীকে কেবল ক্ষমা করেই নয়, বরং প্রতিদান হিসেবে তার উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর করা সম্ভব।বর্তমানে মানুষ একে অন্যের ক্ষতি করতে ব্যস্ত।যদি মানুষ একে অপরের ক্ষতি না করে ভালো চাইতো তাহলে পৃথিবী সুন্দর হতো।কবিতায় পৃথিবীকে সুন্দর করতে কবি অনিষ্ঠকারীকেও ফুল দিতে চেয়েছেন, মঙ্গল সাধন করতে চেয়েছেন।
গ
উদ্দীপকে 'প্রতিদান' কবিতার যে দিকটি প্রকাশিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে 'প্রতিদান' কবিতার অন্যের জন্য আত্মনিবেদনে দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিদান কবিতায় কবি নিজের স্বার্থ অপরের কল্যাণে আত্মনিবেদন করেছেন।তিনি তার যারা ক্ষতি করেছেন তার ক্ষতি না করে তার উপকার করতে চেয়েছেন। কবি মনে করেন প্রতিশোধ প্রতিহিংসার বিপরীতে ভালোবাসায় পারে পৃথিবীকে সুন্দর ও নিরাপদ করতে। আর তাই তিনি তাঁর শত্রুর প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
উদ্দীপকে পরার্থপরতার বিভিন্ন প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান— নদী, গাছ, গাভী, কাঠ, স্বর্ণ, বাঁশি, মেঘ সবকিছুই পরের কল্যাণে নিজেকে সর্বদা উৎসর্গ করে দেয়। পরহিতব্রতে জীবনের সার্থকতা নিহিত। প্রকৃতির এ উদারচিত্তের পরিচয় দেখে মহৎপ্রাণ ব্যক্তিরাও পরের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেন।উদ্দীপকের এর মাঝে আত্মনিবেদনের স্বরূপ আমরা প্রতিদান কবিতার কবির মাঝেও দেখি। কবি মনে করেন, পরের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করতে পারলেই সমাজ হয়ে উঠবে সুন্দর। আর এখানে উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্য।
ঘ
“উদ্দীপকের সাধুজন 'প্রতিদান' কবিতার কবির কাক্ষিত মানুষ”- উক্তিটির সত্যতা যাচাই কর।
উত্তর
পরার্থে আত্মনিবেদন করার দিকটি উঠে আসায় উদ্দীপকের সাধুজন প্রতিদান কবিতার কবির কাঙ্খিত মানুষ হয়ে উঠেছেন।
প্রতিদান কবিতায় ক্ষমাশীলতা,উদারতা ও সহনশীলতার দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে।কবি সমাজে হানাহানি হিংসা বিদ্বেষের বিপরীতে প্রীতিময় পরিবেশের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। কবি মনে করেন পরের উপকার করার মধ্য দিয়ে মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করলেই তাঁর প্রত্যাশা পূরণ হবে। তাঁর কাছে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কই পরম সত্য।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি নানা উদাহরণের মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন সাধুর ঐশ্বর্য নির্ভর করে তার পরার্থপরতায়। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান— নদী, গাছ, গাভী, কাঠ, স্বর্ণ, বাঁশি, মেঘ সবকিছুই পরের কল্যাণে নিজেকে সর্বদা উৎসর্গ করে দেয়। পরহিতব্রতে জীবনের সার্থকতা নিহিত।
প্রতিদান কবিতায় যেমন অপরের কল্যাণে কথা বলেছেন, তেমনি উদ্দীপকের কবিতাংশেও সাধুর মতো অপরের কল্যাণ করার কথা বলা হয়েছে। অপরের কল্যাণে আত্মনিবেদনের মধ্যে যে মানব জীবনের সার্থকতা নিহিত তিনি সাধুর মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছেন। আর এই বিষয়টি আলোচ্য কবিতার প্রদান বিষয়। এই বিবেচনায় উদ্দীপকের সাধুজন আলোচ্য কবিতার কবির কাঙ্খিত মানুষ হয়ে উঠেছেন।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো