আরাফ সাহেবের উক্তিটি হলো- "দেশের উন্নয়নে শক্তির ভূমিকা অনেক বেশি”। উক্ত উক্তিটি আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিচে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো—
উন্নয়নের প্রধান মাপকাঠি : আধুনিক বিশ্বে একটি দেশ কতটুকু উন্নত, সেটি বোঝার প্রথম ও প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিদ্যুৎ বা শক্তি ব্যবহারের পরিমাণকে বিবেচনা করা হয়। শক্তির ব্যবহার যত বেশি হবে, দেশের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তত বেশি গতিশীল হবে।
শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসার : বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, বৈজ্ঞানিক ল্যাবরেটরি, কম্পিউটার ল্যাব এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার শক্তির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ শক্তি ছাড়া আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার গতি ব্যাহত হয়।
কৃষি খাতের উন্নয়ন : বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং এ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তির ভূমিকা অপরিসীম। জমিতে পানি সেচ দেওয়ার জন্য সেচ পাম্প চালানো, ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার ব্যবহার এবং উৎপাদিত ফসল প্রক্রিয়াজাত করতে প্রচুর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শক্তির প্রয়োজন হয়। এছাড়া সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া প্রয়োজনীয় সার উৎপাদন সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য ও শিল্পায়ন : আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় জীবন রক্ষাকারী অপারেশন থিয়েটার ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ শক্তির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কল-কারখানা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শক্তি।
শক্তির অপচয় রোধ ও উন্নয়ন : যেহেতু শক্তির উৎস (যেমন- প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা) সীমিত এবং এগুলো নিঃশেষ হয়ে গেলে উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়বে। তাই ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা গেলে সেই উদ্বৃত্ত শক্তি জাতীয় উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।
পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিল্প- প্রতিটি মৌলিক খাতের চাকা সচল রাখতে শক্তির কোনো বিকল্প নেই। তাই জাতীয় উন্নয়নের জন্য শক্তিকে অপরিহার্য বিবেচনা করে বলা যায়, আরাফ সাহেবের দেওয়া উক্তিটি যথার্থ।