উদ্দীপকের বিক্রিয়াটির ধরন চিহ্নিতপূর্বক এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড ( [গণিত] ) এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ( [গণিত] ) ক্ষারের মধ্যে বিক্রিয়ার ফলে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (X) ও পানি উৎপন্ন হয়েছে। যেহেতু এসিড ও ক্ষারক পরস্পর বিক্রিয়া করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করেছে, তাই এটি প্রশমন বিক্রিয়া। নিচে প্রশমন বিক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হলো- পাকস্থলীর এসিডিটি নিরাময়ে: পাকস্থলীতে অতিরিক্ত এসিড উৎপন্ন হলে বদহজম বা পেটে ব্যথা হয়। এ সময় আমরা ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড সমৃদ্ধ এন্টাসিড ওষুধ সেবন করি, যা প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে বাড়তি এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে আমাদের সুস্থ করে তোলে। কৃষিক্ষেত্রে মাটির উর্বরতা রক্ষায়: মাটির এসিডিটি বা অম্লত্ব বেড়ে গেলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। এই অম্লত্ব দূর করার জন্য মাটিতে চুন ( [গণিত] ) বা স্ন্যাকড প্রয়োগ করা হয়, যা প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে মাটিকে চাষোপযোগী করে তোলে। দাঁতের সুরক্ষায়: আমরা যখন খাবার খাই, তখন মুখে এসিড তৈরি হয় যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে। ক্ষারীয় টুথপেস্ট (যার pH সাধারণত ৯ – ১১) দিয়ে ব্রাশ করলে এটি মুখের এসিডকে প্রশমিত করে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। পোকামাকড়ের বিষ নিরাময়ে: মৌমাছি বা বিচ্ছুর কামড়ের মাধ্যমে শরীরে এসিডিক পদার্থ প্রবেশ করে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করে। এসব এসিডিক পদার্থকে নিষ্ক্রিয় করতে চুন বা বেকিং সোডার মতো ক্ষারক পদার্থ ব্যবহার করে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে জ্বালা নিরাময় হয়।
SSC বিজ্ঞান অধ্যায়-৭ : অম্ল, ক্ষারক ও লবণের ব্যবহার CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বিজ্ঞান · অধ্যায়-৭ : অম্ল, ক্ষারক ও লবণের ব্যবহার · সৃজনশীল
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটির ধরন চিহ্নিতপূর্বক এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপক

Sylhet · 2026
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
সুতরাং বিক্রিয়াটিতে X চিহ্নিত যৌগটি হলো একটি লবণ। আমাদের জীবনে লবণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বিভিন্ন ক্ষেত্রে লবণের ব্যবহার উপযোগিতা বিশ্লেষণ করা হলো-
দৈনন্দিন জীবনে : দৈনন্দিন জীবনে লবণের ব্যবহার ব্যাপক। আমাদের খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে লবণ। এটি হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড () লবণ যা সাধারণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। এটি পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতেও ব্যবহৃত হয়। খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য আরেকটি লবণ সোডিয়াম গ্লুটামেট ব্যবহার করা হয়, যা টেস্টিং সল্ট নামে পরিচিত।
কৃষিক্ষেত্রে : মাটির অ্যাসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য আমরা যে চুনাপাথর ব্যবহার করি তা একটি লবণ। আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করি তাদের বেশির ভাগই লবণ। যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (), অ্যামোনিয়াম ফসফেট [], পটাসিয়াম নাইট্রেট () ইত্যাদি। কপার সালফেট () কৃষি জমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী।
শিল্প-কারখানায় : শিল্প-কারখানায় নানা কাজে লবণ অপরিহার্য। যেমন- চামড়া শিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে এবং ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ প্রয়োজন। রাবার প্রস্তুতিতে রাবারকে ল্যাটেক্স থেকে আলাদা করা হয় লবণ ব্যবহার করে। ওষুধ কারখানায় স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহার হয়।