“সুবাহর জেলায় গড়ে উঠা বনভূমির অনুরূপই সারা দেশের বনভূমি”- তুমি কি একমত? সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: সুবাহর জেলায় গড়ে ওঠা বনভূমিটি হলো স্রোতজ বনভূমি। সারাদেশের বনভূমি স্রোতজ বনভূমির অনুরূপ। এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত নই। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের খুলনা এবং দক্ষিণ পূর্বাংশের নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার উপকূলে জোয়ার-ভাটার লোনা ও ভেজা মাটিতে যেসব উদ্ভিদ জন্মায় তাদের স্রোতজ বা গরান বনভূমি বলা হয়। বাংলাদেশে মোট ৪,১৯২ বর্গকিলোমিটার স্রোতজ বনভূমি রয়েছে। এর বেশির ভাগই সুন্দরবন। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা এবং এর সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কিছু অংশে ছড়িয়ে রয়েছে সুন্দরবন। উদ্দীপকের সুবাহর বাড়ি খুলনা। সুতরাং তার অঞ্চলে গড়ে ওঠা বনভূমিটি হলো স্রোতজ বনভূমি। সারাদেশের বনভূমির সাথে এর তেমন মিল নেই। কেননা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর এলাকার বনভূমি বাংলাদেশের ক্রান্তীয় পাতাঝরা বনভূমি নামে পরিচিত। এ বনভূমিতে বছরের শীতকালে একবার গাছের পাতা সম্পূর্ণরূপে ঝরে যায়। এ বনে শাল বেশি জন্মায় বলে একে শালবনও বলা হয়। এছাড়া এখানে কড়ই, বহেড়া, হিজল, শিরীষ, হরীতকী, কাঁঠাল, নিম ইত্যাদি গাছ জন্মে। ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের শালবন 'ভাওয়াল বনভূমি' নামেও পরিচিত। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অংশের পাহাড়ি অঞ্চলকে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পত্রপতনশীল বনভূমি এলাকা নামে অভিহিত করা হয়। উষ্ণ ও আর্দ্রভূমির কিছু এলাকা জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, তরুলতা, ঝোঁপঝাড়, গুল্ম জন্ম নেয়। এসব গাছের পাতা একত্রে ফোঁটেও না, ঝরেও না। ফলে সারা বছর বনগুলো সবুজ বা চিরহরিৎ থাকে। এ ধরনের বনের প্রধান উদ্ভিদ হলো-চাপালিশ, ময়না, তেলসুর, মেহগনি, জারুল, সেগুন, গর্জন ইত্যাদি। চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও সিলেট এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের সকল বনভূমিই স্রোতজ বনভূমির অনুরূপ নয়।
SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অধ্যায়-৪ : বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু (Full Syllabus) CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · অধ্যায়-৪ : বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু (Full Syllabus) · সৃজনশীল
“সুবাহর জেলায় গড়ে উঠা বনভূমির অনুরূপই সারা দেশের বনভূমি”- তুমি কি এ…
উদ্দীপক
Mymensingh · 2023
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর