উদ্দীপকে উল্লিখিত ধারাবাহিক পরিবর্তন ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের মাধ্যমে জাইগোট তৈরির পর তা বার বার বিভাজিত হয়ে ছোট ভ্রূণ তৈরি করে। একে ব্লাস্টোসিস্ট বলে। ভ্রূণ ৪-৫ দিনের মধ্যে অমরার মাধ্যমে জরায়ুর প্রাচীরে সংযুক্ত হয়। ভ্রূণ বৃদ্ধির জন্য খাদ্য উপাদান যেমন শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি, খনিজ লবণ ইত্যাদি জরায়ু প্রাচীরে অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে। জরায়ু ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বিকাশের অনুকূল পরিবেশ প্রদান করে থাকে। ফলে জরায়ুতে ভ্রূণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে মানব শিশুতে পরিণত হয়। জরায়ু ভ্রূণকে বাইরের চাপ বা আঘাত থেকে রক্ষা করে। ভ্রূণ জরায়ুতে সাধারণত ৩৮-৪০ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে। ভ্রূণ ধারণ করা অবস্থায় জরায়ুর কোনো ক্ষতি হলে ভ্রূণের উপর তার প্রভাব পড়ে। জাইগোট থেকে ভ্রূণ তৈরির প্রক্রিয়াটিতে জরায়ু ভ্রূণকে ধারণ, সংরক্ষণ ও পুষ্টি প্রদানের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রত্যেক প্রজাতিতে ভ্রণের জন্য মাতৃদেহের ভিতর সহজ, স্বাভাবিক এবং নিরাপদ পরিবর্ধনের ব্যবস্থা হিসেবে ভ্রূণের চারদিকে কতগুলো ঝিল্লি বা আবরণ থাকে। এগুলো ভ্রূণের পুষ্টি, গ্যাসীয় আদান-প্রদান, বর্জ্য নিষ্কাশন ইত্যাদি কাজে সহায়তা করে। ভ্রূণ আবরণীগুলো ক্রমবর্ধনশীল ভ্রূণকে রক্ষা করে এবং অতিগুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়। [চিত্র] ভ্রূণ মাতৃগর্ভে গড়ে প্রায় ৪০ সপ্তাহ অবস্থান করে। ঐ একই সময়ে গর্ভবর্তী মায়ে অগ্র পিটুইটারি ও অমরা থেকে হরমোন নিঃসরণ শুরু হয়। প্রসবের পূর্বে জরায়ু নির্দিষ্ট ব্যবধানে সংকুচিত হতে থাকে এবং ব্যথা-বেদনার সৃষ্টি হয়। এই ক্রমবর্ধমান বেদনাকে প্রসববেদনা বলে। প্রসবের শেষ পর্যায়ে ভ্রূণের বাইরের পর্দাগুলো ফেটে যায়। এর ভিতরের তরল বাইরে নির্গত হয়। এক পর্যায়ে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়।
SSC জীববিজ্ঞান অধ্যায়-১১ : জীবে প্রজনন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · জীববিজ্ঞান · অধ্যায়-১১ : জীবে প্রজনন · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লিখিত ধারাবাহিক পরিবর্তন ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপক
Dinajpur · 2021
উত্তর
উত্তর
HIV ভাইরাসের আক্রমণে এইডস হয়। এই ভাইরাস শ্বেত রক্ত কোষের 'ক্ষতিসাধন করে এবং এ কোষের এন্টিবডি তৈরিসহ রোগ প্রতিরোধ-সংক্রান্ত কাজে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে শ্বেত রক্ত কোষের সংখ্যা (বিশেষ করে CD4 জাতীয় শ্বেত রক্তকোষ) ও এন্ডিবডির পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে। এই ভাইরাস মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় অনেক দিন থাকতে পারে। এই ভাইরাসের আক্রমণে রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায় বলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। তাই AIDS কে ঘাতক ব্যাধি বলা হয়।উত্তর
ভ্রূণ মাতৃগর্ভে গড়ে প্রায় ৪০ সপ্তাহ অবস্থান করে। ঐ একই সময়ে গর্ভবর্তী মায়ে অগ্র পিটুইটারি ও অমরা থেকে হরমোন নিঃসরণ শুরু হয়। প্রসবের পূর্বে জরায়ু নির্দিষ্ট ব্যবধানে সংকুচিত হতে থাকে এবং ব্যথা-বেদনার সৃষ্টি হয়। এই ক্রমবর্ধমান বেদনাকে প্রসববেদনা বলে। প্রসবের শেষ পর্যায়ে ভ্রূণের বাইরের পর্দাগুলো ফেটে যায়। এর ভিতরের তরল বাইরে নির্গত হয়। এক পর্যায়ে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়।উত্তর
অমরার সাহায্যে ভ্রূণ জরায়ুর গায়ে সংস্থাপিত হয়। ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের দরকার। শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি এবং খনিজ লবণ ইত্যাদি অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে। অমরা অনেকটা ফুসফুসের মতো কাজ করে অমরার মাধ্যমে ভ্রূণ মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং ভ্রূণ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় ঘটে। অমরা একই সাথে বৃক্কের মতো কাজ করে। বিপাকের ফলে যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় তা অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়। অমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে। এ হরমোন ভ্রূণের রক্ষণাবেক্ষণ ও তার স্বাভাবিক গঠনে সাহায্য করে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ভ্রূণের সুষ্ঠু বিকাশে অমরার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।