উক্ত প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে একটি জাতির আলোকবর্তিকা বা জ্ঞানগৃহে পরিণত হয়- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উক্ত প্রতিষ্ঠানটি তথা বায়তুল হিকমা পরবর্তীতে একটি জাতির আলোকবর্তিতা বা জ্ঞানগৃহে পরিণত হয়। খলিফা মামুন নির্মিত বায়তুল হিকমা (জ্ঞানগৃহ) ছিল আব্বাসিদের গৌরবোজ্জ্বল যুগের অন্যতম প্রতীক। এ প্রতিষ্ঠানটি সমসাময়িককালে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার এক উন্নত ও সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠান ছিল। প্রতিষ্ঠানটি বই সংগ্রহ, অনুবাদ, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিস্তৃত হয়েছিল। বায়তুল হিকমায় তৎকালে গ্রিক, সিরীয়, পারসিক, সংস্কৃত ভাষায় লিখিত মূল্যবান গ্রন্থাদি অনুবাদ করত। এ প্রতিষ্ঠানটি লিউক, কোস্টার, গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি, পল, এরিস্টটল ও প্লেটো রচিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন মৌলিক গ্রন্থাদি সংগ্রহ করে সেগুলো আরবিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করত। এছাড়া মানকা ও দুবান নামক সংস্কৃত পণ্ডিতের ওপর সংস্কৃত ভাষায় লিখিত ভারতীয় গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার গ্রন্থাবলি এবং পারসিক আঁকর গ্রন্থাবলি আরবিতে অনুবাদের ভার অর্পণ করা হয়। আর আল মামুন গ্রিক জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে উপকরণ সংগ্রহের জন্য ইবনে মিসকাওয়া এবং হুনায়ন ইবনে ইসহাকের নেতৃত্বে কনস্টান্টিনোপল ও সিসিলি হতে গ্রিক ভাষায় লেখা প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেন। এছাড়া তিনি আলেকজান্দ্রিয়া, সিরিয়া, এশিয়া মাইনর প্রভৃতি অঞ্চল হতে বহু মূল্যবান গ্রন্থ সংগ্রহ করে বিভিন্ন পণ্ডিতদের ওপর অনুবাদের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। তার একান্ত প্রচেষ্টায় গ্যালন, ইউক্লিড, টলেমি, পল প্রমুখ মনীষীর বৈজ্ঞানিক গ্রন্থাবলি এবং জগৎ বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটল ও প্লেটোর বহু মূল্যবান গ্রন্থাবলি অনুবাদের দায়িত্ব ভিন্ন ভিন্ন মনীষীদের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বায়তুল হিকমা বিদেশি ভাষার গ্রন্থাবলি আরবিতে অনুবাদের ফলে আব্বাসি খিলাফতে জ্ঞানচর্চার এক নবদিগন্ত উন্মোচিত হয়। এটি পরবর্তীতে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার আলোকবর্তিতায় পরিণত হয়।
HSC Islamic History 1st paper Chapter 5 : আব্বাসি খিলাফত CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 1st paper · Chapter 5 : আব্বাসি খিলাফত · সৃজনশীল
উক্ত প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে একটি জাতির আলোকবর্তিকা বা জ্ঞানগৃহে পরি…
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর