শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নয়নে আল-মামুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি আব্বাসীয় খিলাফতে এশিয়াটিক সোসাইটির তুলনায় বেশি অবদান রাখে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত এশিয়াটিক সোসাইটির সাথে আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বায়তুল হিকমাহ' ( [গণিত] )-এর সাদৃশ্য রয়েছে। তবে আমি মনে করি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে এশিয়াটিক সোসাইটির তুলনায় 'বায়তুল হিকমাহ'-এর অবদান ছিল অনেক বেশি বিস্তৃত ও যুগান্তকারী। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো: দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত এশিয়াটিক সোসাইটি মূলত প্রাচীন গ্রন্থাবলির সংরক্ষণ, অনুবাদ ও গবেষণায় পৃষ্ঠপোষকতা করে। অন্যদিকে, ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আল-মামুন বাগদাদে যে 'বায়তুল হিকমাহ' (জ্ঞানের গৃহ) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা ছিল একাধারে একটি বিশাল গ্রন্থাগার, অনুবাদ কেন্দ্র, বিজ্ঞান একাডেমি এবং মানমন্দির। আল-মামুন দেশ-বিদেশের পণ্ডিতদের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই প্রতিষ্ঠানে সমবেত করেছিলেন। হুনাইন ইবনে ইজহাক, আল-কিন্দি, আল-খাওয়ারিজমির মতো পণ্ডিতদের নিরলস পরিশ্রমে গ্রিক, পারসিক, সংস্কৃত ও সিরীয় ভাষার অসংখ্য মূল্যবান বিজ্ঞান ও দর্শনের গ্রন্থ (যেমন- প্লেটো, অ্যারিস্টটল, গ্যালেন, টলেমি, ইউক্লিড-এর বই) এখানে আরবিতে অনুবাদ করা হয়েছিল। এর ফলেই প্রাচীন গ্রিক ও ভারতীয় জ্ঞানবিজ্ঞান চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। পরবর্তীতে এই আরবি অনুবাদগুলোই ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়ে ইউরোপীয় রেনেসাঁ বা নবজাগরণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। এশিয়াটিক সোসাইটির কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, বায়তুল হিকমাহ কেবল আব্বাসীয় খিলাফত নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জ্ঞানবিজ্ঞানের সংরক্ষণ ও বিকাশে এক অতুলনীয় ও বৈশ্বিক অবদান রেখেছিল। তাই সামগ্রিক বিচারে আল-মামুনের 'বায়তুল হিকমাহ'-এর অবদান যে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, সেই বিশ্লেষণটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
HSC Islamic History 1st paper Chapter 5 : আব্বাসি খিলাফত CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 1st paper · Chapter 5 : আব্বাসি খিলাফত · সৃজনশীল
শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নয়নে আল-মামুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি আব…
উদ্দীপক
Combined · 2026
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর