উদ্দীপকের আলোকে মক্কা বিজয়-পরবর্তী বিজয়ী মুসলমানদের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন কর।
উত্তর: ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা বিজয় পরবর্তী সময়ে বিজয়ী মুসলমানগণ কোনো রক্তপাত করেননি, কোনো লুণ্ঠন করেননি। তারা চরম শত্রুকেও ক্ষমা করে দিয়েছে। তারা কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি দিতে থাকেন। সাহাবিরা কাবার ৩৬০টি মূর্তি বাইরে নিয়ে এসে ভেঙে ফেলে দিলেন। কাবা শরিফ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নামাজের জন্য তৈরি করা হয়। হযরত বেলাল (রা.) আজান দেন। সকলেই মহাআনন্দে জামাতের সাথে নামায আদায় করেন। কুরাইশরা দূর থেকে এ স্বর্গীয় দৃশ্য দেখে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়। মক্কা বিজয়ের দিন ছিল ক্ষমা ও দয়ার দিন। এত ত্যাগ, এত কষ্ট, এত বঞ্চনা সত্ত্বেও মহানবি (সা.) ও মুহাজিরগণ মক্কার কুরাইশদের ক্ষমা ঘোষণা করেন। কুরাইশদের অভয় দেওয়া হয় তারা যেন মুসলমানদের ভয়ে পালিয়ে না যায়। মক্কার নাগরিকগণ ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় তাদের দীর্ঘদিনের অত্যাচার জুলুমের পরিণাম চিন্তা করছিল। তাদের স্বাভাবিক ধারণার বিপরীতে ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। মহানবি (সা.) বলেন, "আজ তোমাদের প্রতি কোনো প্রকার ভয়ভীতি, তিরস্কার-ভর্ৎসনা প্রয়োগ করা হবে না। কারও ওপর কোনো অভিযোগ নেই, তোমাদের সকলকে ক্ষমা করা হলো।" মক্কা বিজয়ে ১০ (দশ) হাজার সাহাবি অংশগ্রহণ করেছিল। তাঁরা জানত যে ইসলামে পরদ্রব্য হরণ করা হারাম। অহংকার করা, অন্যায়ভাবে কাউকে কষ্ট দেওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সাহাবিগণ ইসলামের আদর্শ ধারণ করে কেউ মক্কাবাসীর ধনসম্পদে হাত দেয়নি, কোনো নারী ধর্ষিত হয়নি। উদ্দীপকের বিজয়ীদের পক্ষ থেকে যেমন কোনো রক্তপাত হলো না, ধ্বংসলীলা হলো না, বরং জীবন-সম্পদ রক্ষায় সকলে স্বতঃস্ফূর্ত এগিয়ে এলো। সর্বত্র বিজয় ও মানবতার পতাকা পতপত করে উড়তে থাকল। তেমনি মক্কা বিজয়ের পর কোনো রক্তপাত হলো না, ধ্বংসলীলা হলো না, ইসলামের পতাকা পতপত করে উড়ল।
HSC Islamic History 1st paper Chapter 2 : হযরত মুহাম্মদ (স.) CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 1st paper · Chapter 2 : হযরত মুহাম্মদ (স.) · সৃজনশীল
উদ্দীপকের আলোকে মক্কা বিজয়-পরবর্তী বিজয়ী মুসলমানদের কর্মকাণ্ড মূল্য…
উদ্দীপক
Dhaka · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর