চিত্র-২ যুগের সাংস্কৃতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা কর।
উত্তর: চিত্র-২ এ উল্লিখিত নব্যপ্রস্তর যুগের সাংস্কৃতিক অগ্রগতি ছিল খুবই প্রসিদ্ধময়। নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষের আবিষ্কারসমূহ মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনে। এ যুগের মানুষ ধারালো ও মসৃণ হাতিয়ার ব্যবহার শুরু করে। এ যুগেই নারীদের মাধ্যমে কৃষির সূত্রপাত হয়। তারা বীজ বপন, গাছ লাগানো, ফসল কাটা এবং তা প্রক্রিয়াজাত করে কৃষিকাজের সূচনা করে। কৃষি অর্থনীতি অধিবাসীদের স্বনির্ভরতার দিকে নিয়ে যায়। কৃষির বিভিন্ন আবিষ্কারের ফলে এ যুগে মানুষ যাযাবর জীবন ত্যাগ করে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলে। খাদ্যের নিশ্চয়তা আসার পর নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষ তাদের চিন্তা উদ্ভাবনী কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে। কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে কৃষিতে শ্রমের প্রয়োজন কমে যায় এবং গৃহে তৈরি করা যায় এমন কাজের দিকে মনোনিবেশ করে। ফলে শিকারভিত্তিক অর্থনীতির পরিবর্তে উৎপাদনভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এসময় ভূমিতে অলিখিতভাবে ব্যক্তি মালিকানা গড়ে ওঠে। ফলে আয় ও পেশার ভিত্তিতে সমাজে স্তরবিন্যাসের ধারা তৈরি হয়। তাছাড়া নব্য প্রস্তর যুগে চাকা আবিষ্কার হয়। ফলে মানুষ সহজে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন করতে পারত। এছাড়া এ যুগেই পারিবারিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। ফলে আগের যুগের অবাধ যৌনাচার কমে আসে এবং মানুষ স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করে। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, তৎকালীন সমাজের সাংস্কৃতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে নব্যপ্রস্তর যুগের বিভিন্ন আবিষ্কার বৈপ্লবিক ভূমিকা রেখেছিল।
HSC Sociology 2nd Paper Chapter 3 : প্রত্নতত্ত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সমাজ ও সভ্যতা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Sociology 2nd Paper · Chapter 3 : প্রত্নতত্ত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সমাজ ও সভ্যতা · সৃজনশীল
চিত্র-২ যুগের সাংস্কৃতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা কর।
উদ্দীপক

উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
