HSCSociology 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
সুমন যে বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিল সেখানে সমাজের সামগ্রিক দিক নিয়ে আলোচনা ছিল, যেমন- পরিবার, বিবাহ, রাষ্ট্র, ক্ষমতা, সামাজিক রীতি-নীতি, সামাজিক সমস্যা ইত্যাদি। তাই সুমন তার অর্জিত জ্ঞান গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য গ্রামে গেল। কিন্তু কাজের শুরুতেই সমাজের মানুষের অশিক্ষা-কুশিক্ষা, অসচেতনতা এবং ক্ষমতার দম্ভ তাকে বাধাগ্রস্ত করল। তবু দমে না গিয়ে সে তার অর্জিত জ্ঞান দিয়ে যুবকদের সচেতন করে তুলল। কারণ সে ভেবেছে, ঐ জ্ঞানই মানুষকে সচেতন করে তুলবে এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে তা কার্যকর হবে।
Dinajpur · 2017
ক
কত সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান আত্মপ্রকাশ করে?
উত্তর
১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান আত্মপ্রকাশ করে।
খ
"সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান"- বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর
সমাজস্থ মানুষের ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্কের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করায় সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান বলা হয়।
সমাজবিজ্ঞান সমাজ কাঠামো তথা ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান- প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভূমিকা, কার্যাবলি সম্পর্কে পঠন-পাঠন ও গবেষণা করে। এছাড়াও সমাজের শ্রেণিবিন্যাস, শ্রেণিগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক, উৎপাদন যন্ত্রের সাথে তাদের সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয় নিয়েও আলোচনা করে। অর্থাৎ, সমাজবিজ্ঞান সমাজ ও সমাজ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় ও তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে থাকে। এজন্যই সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান বলা হয়।
গ
সুমনের পঠিত বিষয়টির বাংলাদেশে গোড়াপত্তনের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর ভূমিকা উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুমনের পঠিত বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান। উক্ত বিষয়টির গোড়াপত্তনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংগঠন ইউনেস্কোর ভূমিকা অপরিসীম।
১৮৩৯ সালে ফ্রান্সে সমাজবিজ্ঞানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে উক্ত বিষয়টির যাত্রা শুরু হয় মূলত বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। শিল্প বিপ্লবোত্তর যুগে সমাজে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে, সমাজের বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা করতে গিয়ে সুদূর ইউরোপে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ লাভ হয়। এ পটভূমিতে বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে প্রখ্যাত ফরাসি নৃবিজ্ঞানী লেভি স্ট্রসের নেতৃত্বে ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ মিশন সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন এবং সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক নৃবিজ্ঞান পঠন-পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান এবং সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপনের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনেস্কোর সহযোগিতায় ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এ কথা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের গোড়াপত্তনের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর ভূমিকা অপরিসীম।
ঘ
সুমনের ভাবনা বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্বকেই তুলে ধরে- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
উদ্দীপকের সুমনের ভাবনা বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্বকেই তুলে ধরে- উক্তিটি যথার্থ।
বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যা যেমন- অশিক্ষা-কুশিক্ষা, অসচেতনতা প্রভৃতিতে জর্জরিত। সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান আমাদেরকে আত্মসচেতন, শ্রেণি সচেতন, সমাজ সচেতন এবং সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। অর্থাৎ, ব্যক্তি হিসেবে আমাদের পরিচয় কী, সমাজে আমাদের অবস্থান, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞান জ্ঞান দান করে। এছাড়াও সামাজিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সমস্যাবলির গভীরতা অনুধাবন করা এবং উক্ত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও সমাজবিজ্ঞান জ্ঞান দান করে থাকে। পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা আছে।
উদ্দীপকে সুমন গ্রামের উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার পঠিত বিষয়ের জ্ঞান প্রয়োগ করতে গিয়ে প্রথমে বাধাপ্রাপ্ত হলেও, সে দমে না গিয়ে উক্ত বিষয়ের জ্ঞান দ্বারাই গ্রামের যুবকদের সচেতন করে তোলে এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে আত্মপ্রত্যয়ী হয়। কারণ সুমন জানত যে, একমাত্র উক্ত বিষয়টি মানুষকে সচেতন করে তুলতে পারবে যা বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো