মুনার বাবার মন্তব্যের সাথে তুমি কী একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ৷
উত্তর: বর্তমানে এ প্রথা তথা দাসপ্রথার প্রচলন না থাকলেও ভিন্নরূপে এর অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয়। মুনার বাবার এ মন্তব্যের সাথে আমি একমত। আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চুক্তিবদ্ধ চাকরি হলো প্রাচীন দাসপ্রথার ভিন্নরূপ। চাকরি বলতে নির্দিষ্ট মাসিক। বাৎসরিক বেতনের বিনিময়ে কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট পরিমাণ শ্রম দেওয়াকে বোঝায়। চাকরিরত ব্যক্তি কতকগুলো নির্দিষ্ট প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানকে শ্রম দিতে বাধ্য থাকে। যেমন- অধিকাংশ পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে প্রতি কর্মদিবসে ৮-৯ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৫টি দিন কাজ করতে হয়। এমনকি এক বছরে তিনি কতদিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন তাও চাকরির চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকে। অর্থাৎ চাকরিরত ব্যক্তিকে নিজের অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে কতিপয় সমঝোতা করতে হয় । দাসপ্রথায় দাস বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হতো যিনি আইন ও প্রথা অনুসারে অন্য একজনের সম্পত্তি। প্রত্যেক দাসের একজন মালিক থাকতে। এ প্রথায় ছিল দাস অবশ্যম্ভাবী শ্রমিক। একইভাবে আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় বেতন ভিত্তিক শিল্প শ্রমিকের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, বেশকিছু চুক্তির প্রেক্ষিতে তারা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তিতে পরিণত হন । কর্মদিবসে প্রতিষ্ঠানই চাকরিরত ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। এ ব্যবস্থায় ব্যক্তি অবশ্যম্ভাবী না হলেও চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাই বর্তমান সমাজের চুক্তিবদ্ধ চাকরিকে দাসপ্রথার ভিন্নরূপ বলা যায় । আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় দাসপ্রথার কতিপয় বৈশিষ্ট্যের আংশিক প্রতিফলন রয়েছে। এজন্য আমি মুনার বাবা মন্তব্যের সাথে একমত পোষণ করি ।
HSC Sociology 1st Paper Chapter 8 : সামাজিক স্তরবিন্যাস ও অসমতা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Sociology 1st Paper · Chapter 8 : সামাজিক স্তরবিন্যাস ও অসমতা · সৃজনশীল
মুনার বাবার মন্তব্যের সাথে তুমি কী একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ৷
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর

