HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক

Rajshahi · 2017
ক
Caste কী?
উত্তর
Caste শব্দের অর্থ বংশ বা বংশগত গুণাবলি। এর দ্বারা জাতিবর্ণ প্রথাকে বোঝায়।
খ
সামাজিক পরিবর্তনে 'তথ্য প্রযুক্তির প্রভাব' কীরূপ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
সামাজিক পরিবর্তনে 'তথ্য প্রযুক্তির' গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব অপরিসীম।
তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম উপাদান হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছে। এর উন্নতি ও প্রসার সামাজিক মনোভাব, প্রথা বা প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আবিষ্কার, কেবল প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, অপটিক্যাল ফাইবার, ইন্টারনেট প্রভৃতি আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী তথ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। তাই বলা যায় যে, তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গ
উদ্দীপকে ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজতাত্ত্বিক কোন প্রত্যয়টি নির্দেশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকে ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে অন্যতম সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় সামাজিক স্তরবিন্যাস নির্দেশিত হয়েছে।
সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে অন্যান্য আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করা হয়। এককথায় সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী বা শ্রেণির উঁচু-নীচু অবস্থান বা বিন্যাস ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার এবং পেজ বলেন, 'সামাজিক স্তরবিন্যাস বলতে মর্যাদা অনুযায়ী স্তরবিভাগকে বোঝায়। দার্শনিক কার্ল মার্কস-এর মতানুসারে অর্থনীতির মানদণ্ডে সমাজের মানুষের যে ভেদাভেদ সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। অথবা উৎপাদনের উপকরণের মালিকানার ভিত্তিতে মানুষ যে ভেদাভেদ সেটাই সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। সামাজিক স্তরবিন্যাস সমাজ বা কালভেদে আলাদা হতে পারে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরণগুলোকে পর্যালোচনা করে সমাজবিজ্ঞানীরা চারটি ধরনের কথা বলেছেন যথা: ১. দাসপ্রথা, ২. এস্টেট প্রথা, ৩. জাতিবর্ণ, ৪. সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা গোষ্ঠী।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের এ চারটি প্রকারভেদই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের "?" স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রত্যয়টিই নির্দেশিত হয়েছে।
ঘ
“উক্ত সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয়টি ছাড়া পৃথিবীর কোনো সমাজকে কল্পনা করা যায় না।” তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? তোমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর
মামুনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে যে বাহনটি ভূমিকা রেখেছে তা হলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে ধর্ম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জন্মের পর থেকেই একজন মানুষ নিজ ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়। শিশু পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই প্রথম নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাথে পরিচিত হয়। শিশু পিতামাতা ও দাদা-দাদিকে মসজিদ, মন্দির কিংবা প্যাগোডায় যেতে ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলো পালন করতে দেখে। এতে শিশু ধীরে ধীরে নিজ ধর্মীয় রীতিনীতিগুলো শিখে নেয়। আর ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সত্যবাদিতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকারিতা, মাদকমুক্ত জীবনযাপন ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলি অর্জিত হয়। আবার সমাজে ব্যক্তির নৈতিকতার মানদণ্ড কী হবে তা ধর্ম নির্দেশ করে। ধর্ম মানুষকে মন্দ পথ বা মন্দ অভ্যাস পরিহার করে সৎপথে চলার নির্দেশ দেয়। ধর্ম ব্যক্তিকে আচরণে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হতেও শিক্ষা দেয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার পিতা তাকে নিয়ে ইমাম সাহেবের শরণাপন্ন হন। ইমাম সাহেব মাদকাসক্তির পরিণাম, পরকালে এর শাস্তি এবং নৈতিকতার বিষয়ে শিক্ষা দেন এবং বেশকিছু দিন মামুনকে তার সাথে রাখেন। ফলশ্রুতিতে মামুন এখন মাদকাসক্ত থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। মূলত ইমাম সাহেব কর্তৃক ধর্মীয় উপদেশ ও দিকনির্দেশনা প্রদানই মামুনকে নেশাগ্রস্ত জীবন থেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছে।
সুতরাং বলা যায় যে, মামুনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বাহনটি ভূমিকা রেখেছে। আর সামাজিকীকরণে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো
