Chapter 8 : সামাজিক স্তরবিন্যাস ও অসমতা Sociology 1st Paper

HSC Sociology 1st Paper এর Chapter 8 : সামাজিক স্তরবিন্যাস ও অসমতা অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৪৪৭

প্রশ্ন

Sociology 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Rajshahi · 2017

ক
Caste কী?

উত্তর

Caste শব্দের অর্থ বংশ বা বংশগত গুণাবলি। এর দ্বারা জাতিবর্ণ প্রথাকে বোঝায়।
খ
সামাজিক পরিবর্তনে 'তথ্য প্রযুক্তির প্রভাব' কীরূপ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সামাজিক পরিবর্তনে 'তথ্য প্রযুক্তির' গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব অপরিসীম। তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম উপাদান হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছে। এর উন্নতি ও প্রসার সামাজিক মনোভাব, প্রথা বা প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আবিষ্কার, কেবল প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, অপটিক্যাল ফাইবার, ইন্টারনেট প্রভৃতি আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী তথ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। তাই বলা যায় যে, তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গ
উদ্দীপকে ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজতাত্ত্বিক কোন প্রত্যয়টি নির্দেশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে অন্যতম সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় সামাজিক স্তরবিন্যাস নির্দেশিত হয়েছে। সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে অন্যান্য আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করা হয়। এককথায় সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী বা শ্রেণির উঁচু-নীচু অবস্থান বা বিন্যাস ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার এবং পেজ বলেন, 'সামাজিক স্তরবিন্যাস বলতে মর্যাদা অনুযায়ী স্তরবিভাগকে বোঝায়। দার্শনিক কার্ল মার্কস-এর মতানুসারে অর্থনীতির মানদণ্ডে সমাজের মানুষের যে ভেদাভেদ সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। অথবা উৎপাদনের উপকরণের মালিকানার ভিত্তিতে মানুষ যে ভেদাভেদ সেটাই সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। সামাজিক স্তরবিন্যাস সমাজ বা কালভেদে আলাদা হতে পারে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরণগুলোকে পর্যালোচনা করে সমাজবিজ্ঞানীরা চারটি ধরনের কথা বলেছেন যথা: ১. দাসপ্রথা, ২. এস্টেট প্রথা, ৩. জাতিবর্ণ, ৪. সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা গোষ্ঠী। উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের এ চারটি প্রকারভেদই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের "?" স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রত্যয়টিই নির্দেশিত হয়েছে।
ঘ
“উক্ত সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয়টি ছাড়া পৃথিবীর কোনো সমাজকে কল্পনা করা যায় না।” তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? তোমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

মামুনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে যে বাহনটি ভূমিকা রেখেছে তা হলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে ধর্ম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জন্মের পর থেকেই একজন মানুষ নিজ ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়। শিশু পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই প্রথম নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাথে পরিচিত হয়। শিশু পিতামাতা ও দাদা-দাদিকে মসজিদ, মন্দির কিংবা প্যাগোডায় যেতে ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলো পালন করতে দেখে। এতে শিশু ধীরে ধীরে নিজ ধর্মীয় রীতিনীতিগুলো শিখে নেয়। আর ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সত্যবাদিতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকারিতা, মাদকমুক্ত জীবনযাপন ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলি অর্জিত হয়। আবার সমাজে ব্যক্তির নৈতিকতার মানদণ্ড কী হবে তা ধর্ম নির্দেশ করে। ধর্ম মানুষকে মন্দ পথ বা মন্দ অভ্যাস পরিহার করে সৎপথে চলার নির্দেশ দেয়। ধর্ম ব্যক্তিকে আচরণে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হতেও শিক্ষা দেয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার পিতা তাকে নিয়ে ইমাম সাহেবের শরণাপন্ন হন। ইমাম সাহেব মাদকাসক্তির পরিণাম, পরকালে এর শাস্তি এবং নৈতিকতার বিষয়ে শিক্ষা দেন এবং বেশকিছু দিন মামুনকে তার সাথে রাখেন। ফলশ্রুতিতে মামুন এখন মাদকাসক্ত থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। মূলত ইমাম সাহেব কর্তৃক ধর্মীয় উপদেশ ও দিকনির্দেশনা প্রদানই মামুনকে নেশাগ্রস্ত জীবন থেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছে। সুতরাং বলা যায় যে, মামুনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বাহনটি ভূমিকা রেখেছে। আর সামাজিকীকরণে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Rajshahi · 2017

ক
Caste কী?

উত্তর

Caste শব্দের অর্থ বংশ বা বংশগত গুণাবলি। এর দ্বারা জাতিবর্ণ প্রথাকে বোঝায়।
খ
সামাজিক পরিবর্তনে 'তথ্য প্রযুক্তির প্রভাব' কীরূপ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

সামাজিক পরিবর্তনে 'তথ্য প্রযুক্তির' গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব অপরিসীম। তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম উপাদান হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছে। এর উন্নতি ও প্রসার সামাজিক মনোভাব, প্রথা বা প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আবিষ্কার, কেবল প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, অপটিক্যাল ফাইবার, ইন্টারনেট প্রভৃতি আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী তথ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। তাই বলা যায় যে, তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গ
উদ্দীপকে ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজতাত্ত্বিক কোন প্রত্যয়টি নির্দেশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে অন্যতম সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় সামাজিক স্তরবিন্যাস নির্দেশিত হয়েছে। সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে অন্যান্য আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করা হয়। এককথায় সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী বা শ্রেণির উঁচু-নীচু অবস্থান বা বিন্যাস ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার এবং পেজ বলেন, 'সামাজিক স্তরবিন্যাস বলতে মর্যাদা অনুযায়ী স্তরবিভাগকে বোঝায়। দার্শনিক কার্ল মার্কস-এর মতানুসারে অর্থনীতির মানদণ্ডে সমাজের মানুষের যে ভেদাভেদ সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। অথবা উৎপাদনের উপকরণের মালিকানার ভিত্তিতে মানুষ যে ভেদাভেদ সেটাই সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। সামাজিক স্তরবিন্যাস সমাজ বা কালভেদে আলাদা হতে পারে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরণগুলোকে পর্যালোচনা করে সমাজবিজ্ঞানীরা চারটি ধরনের কথা বলেছেন যথা: ১. দাসপ্রথা, ২. এস্টেট প্রথা, ৩. জাতিবর্ণ, ৪. সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা গোষ্ঠী। উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের এ চারটি প্রকারভেদই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের "?" স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রত্যয়টিই নির্দেশিত হয়েছে।
ঘ
“উক্ত সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয়টি ছাড়া পৃথিবীর কোনো সমাজকে কল্পনা করা যায় না।” তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? তোমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

মামুনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে যে বাহনটি ভূমিকা রেখেছে তা হলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে ধর্ম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জন্মের পর থেকেই একজন মানুষ নিজ ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়। শিশু পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই প্রথম নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাথে পরিচিত হয়। শিশু পিতামাতা ও দাদা-দাদিকে মসজিদ, মন্দির কিংবা প্যাগোডায় যেতে ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলো পালন করতে দেখে। এতে শিশু ধীরে ধীরে নিজ ধর্মীয় রীতিনীতিগুলো শিখে নেয়। আর ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সত্যবাদিতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকারিতা, মাদকমুক্ত জীবনযাপন ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলি অর্জিত হয়। আবার সমাজে ব্যক্তির নৈতিকতার মানদণ্ড কী হবে তা ধর্ম নির্দেশ করে। ধর্ম মানুষকে মন্দ পথ বা মন্দ অভ্যাস পরিহার করে সৎপথে চলার নির্দেশ দেয়। ধর্ম ব্যক্তিকে আচরণে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হতেও শিক্ষা দেয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার পিতা তাকে নিয়ে ইমাম সাহেবের শরণাপন্ন হন। ইমাম সাহেব মাদকাসক্তির পরিণাম, পরকালে এর শাস্তি এবং নৈতিকতার বিষয়ে শিক্ষা দেন এবং বেশকিছু দিন মামুনকে তার সাথে রাখেন। ফলশ্রুতিতে মামুন এখন মাদকাসক্ত থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। মূলত ইমাম সাহেব কর্তৃক ধর্মীয় উপদেশ ও দিকনির্দেশনা প্রদানই মামুনকে নেশাগ্রস্ত জীবন থেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছে। সুতরাং বলা যায় যে, মামুনের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বাহনটি ভূমিকা রেখেছে। আর সামাজিকীকরণে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dhaka · 2017

ক
"উঁচু-নিচু শ্রেণীর ক্রমানুসারে সংগঠিত জনসংখ্যার মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্নতাই সামাজিক স্তরবিন্যাস"- উক্তিটি কার?

উত্তর

"উঁচু-নিচু শ্রেণির ক্রমানুসারে সংগঠিত জনসংখ্যার মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্নতাই সামাজিক স্তরবিন্যাস" উক্তিটি- সমাজবিজ্ঞানী ট্যালকট পারসন্সের।
খ
দাসপ্রথা বলতে কী বোঝ?

উত্তর

দাসপ্রথা বলতে এমন এক অসমতার সমাজব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে কিছু লোক সম্পূর্ণ কিংবা আংশিকভাবে অধিকারবিহীন। দাসপ্রথা পৃথিবীর প্রাচীন শ্রেণিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। দাসপ্রথার একমাত্র পরিচয় হলো দাসরা তার প্রভু বা মনিবের সম্পত্তি। সামাজিক ক্ষেত্রে দাসরা ঘৃণার পাত্র। দাসপ্রথা একটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক নির্ভর সমাজব্যবস্থা। দাসপ্রথায় দাসদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো মূল্য ছিল না।
গ
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাসের যে ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় তার বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে চিহ্নিত '?' স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাসের যে প্রথার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে তা হলো জাতিবর্ণ প্রথা। কেননা ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শুদ্র এগুলো হচ্ছে জাতিবর্ণ প্রথার প্রকারভেদ। নিচে জাতিবর্ণ প্রথার বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলো- প্রত্যেকটি জাতি বা বর্ণ একটি সামাজিক সংহতিপূর্ণ সামাজিক দল। কেউ ইচ্ছে করলেই এর সদস্যপদ পরিত্যাগ করতে পারে না। ধর্মের দিক থেকে জাতিবর্ণ অনেকটা কঠোর। জাতিবর্ণের কোনো সদস্য ধর্ম বহির্ভূত কোনো কাজ করতে পারে না। করলে তাকে সমাজচ্যুত করা হয়। জাতিবর্ণের সদস্যদেরকে তাদের স্বজাতি বা গোষ্ঠীর মধ্যেই বিবাহ করতে হয়। জাতিবর্ণ হলো একটি অসাম্য ব্যবস্থা। ধর্মই মানুষের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে দেয়। ধর্মই নির্ধারণ করে দেয় কোন জাতিবর্ণের লোকেরা কী ধরনের কাজ করবে। জাতিবর্ণে নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে কোন শ্রেণির সাথে কোন শ্রেণির সম্পর্ক হবে। পেশা ও কর্ম অনুযায়ী সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা নির্ধারিত হয়ে থাকে। উল্লিখিত ছকে মূলত জাতিবর্ণ প্রথার প্রকারভেদকে তুলে ধরা হয়েছে। যা পূর্বোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো বহন করে।
ঘ
আধুনিক সমাজে ভিন্ন ধরনের সামাজিক স্তরবিন্যাস লক্ষণীয়- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

আধুনিক সমাজে ভিন্ন ধরনের সামাজিক স্তরবিন্যাস লক্ষণীয়- বক্তব্যটি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: আধুনিক সমাজে বর্ণপ্রথার ধারণা অনুপস্থিত। কেবল ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় হিন্দু সমাজে এ ব্যবস্থা বিদ্যমান। অন্যদিকে আধুনিক সমাজ মূলত শ্রেণিভিত্তিক সমাজ। আধুনিক প্রতিটি সমাজে কমবেশি সামাজিক শ্রেণির ধারণা বিদ্যমান। সামাজিক শ্রেণি বলতে এমন একটি দল বা গোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা মোটামুটি একই ধরনের জীবনযাপন করে, একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। অর্থাৎ, উৎপাদন কাজে যারা একই ধরনের ভূমিকা পালন করে ও যাদের আয় ও জীবনযাপন প্রণালির মধ্যে একটা সামঞ্জস্য আছে, তারাই একেকটা শ্রেণি। কার্ল মাকর্স আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে অর্থনৈতিক ভিত্তিতে দুটো শ্রেণির কথা বলা বলেন। মালিক শ্রেণি এবং শ্রমিক শ্রেণি। মূলত আধুনিক সমাজে স্তরবিন্যাসের চারটি ধরনের মধ্যে সামাজিক শ্রেণি বেশি মাত্রায় লক্ষণীয়। আধুনিক সমাজে সাধারণ তিনটি শ্রেণি দেখা যায়। যথা- উচ্চবিত্ত শ্রেণি: কলকারখানার মালিক, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, এমপি, মন্ত্রী, ধনী ব্যবসায়ী প্রভৃতি এ শ্রেণিভুক্ত। মধ্যবিত্ত শ্রেণি: শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ পেশাজীবী শ্রেণি মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে আবার উচ্চমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। নিম্নবিত্ত শ্রেণি: কৃষক, শ্রমিক, কর্মজীবী, দিনমজুর প্রভৃতি অবস্থানের মানুষ এ শ্রেণির অধিভুক্ত। উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, আধুনিক সমাজে বর্ণপ্রথা নয় বরং সামাজিক শ্রেণির ধারণাই বিদ্যমান উপরিউক্ত শ্রেণিগুলোর ভিত্তিতেই আধুনিক সমাজে স্তরায়ন করা হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dhaka · 2017

ক
"উঁচু-নিচু শ্রেণীর ক্রমানুসারে সংগঠিত জনসংখ্যার মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্নতাই সামাজিক স্তরবিন্যাস"- উক্তিটি কার?

উত্তর

"উঁচু-নিচু শ্রেণির ক্রমানুসারে সংগঠিত জনসংখ্যার মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্নতাই সামাজিক স্তরবিন্যাস" উক্তিটি- সমাজবিজ্ঞানী ট্যালকট পারসন্সের।
খ
দাসপ্রথা বলতে কী বোঝ?

উত্তর

দাসপ্রথা বলতে এমন এক অসমতার সমাজব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে কিছু লোক সম্পূর্ণ কিংবা আংশিকভাবে অধিকারবিহীন। দাসপ্রথা পৃথিবীর প্রাচীন শ্রেণিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। দাসপ্রথার একমাত্র পরিচয় হলো দাসরা তার প্রভু বা মনিবের সম্পত্তি। সামাজিক ক্ষেত্রে দাসরা ঘৃণার পাত্র। দাসপ্রথা একটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক নির্ভর সমাজব্যবস্থা। দাসপ্রথায় দাসদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো মূল্য ছিল না।
গ
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাসের যে ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় তার বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে চিহ্নিত '?' স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাসের যে প্রথার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে তা হলো জাতিবর্ণ প্রথা। কেননা ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শুদ্র এগুলো হচ্ছে জাতিবর্ণ প্রথার প্রকারভেদ। নিচে জাতিবর্ণ প্রথার বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলো- প্রত্যেকটি জাতি বা বর্ণ একটি সামাজিক সংহতিপূর্ণ সামাজিক দল। কেউ ইচ্ছে করলেই এর সদস্যপদ পরিত্যাগ করতে পারে না। ধর্মের দিক থেকে জাতিবর্ণ অনেকটা কঠোর। জাতিবর্ণের কোনো সদস্য ধর্ম বহির্ভূত কোনো কাজ করতে পারে না। করলে তাকে সমাজচ্যুত করা হয়। জাতিবর্ণের সদস্যদেরকে তাদের স্বজাতি বা গোষ্ঠীর মধ্যেই বিবাহ করতে হয়। জাতিবর্ণ হলো একটি অসাম্য ব্যবস্থা। ধর্মই মানুষের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে দেয়। ধর্মই নির্ধারণ করে দেয় কোন জাতিবর্ণের লোকেরা কী ধরনের কাজ করবে। জাতিবর্ণে নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে কোন শ্রেণির সাথে কোন শ্রেণির সম্পর্ক হবে। পেশা ও কর্ম অনুযায়ী সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা নির্ধারিত হয়ে থাকে। উল্লিখিত ছকে মূলত জাতিবর্ণ প্রথার প্রকারভেদকে তুলে ধরা হয়েছে। যা পূর্বোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো বহন করে।
ঘ
আধুনিক সমাজে ভিন্ন ধরনের সামাজিক স্তরবিন্যাস লক্ষণীয়- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

আধুনিক সমাজে ভিন্ন ধরনের সামাজিক স্তরবিন্যাস লক্ষণীয়- বক্তব্যটি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: আধুনিক সমাজে বর্ণপ্রথার ধারণা অনুপস্থিত। কেবল ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় হিন্দু সমাজে এ ব্যবস্থা বিদ্যমান। অন্যদিকে আধুনিক সমাজ মূলত শ্রেণিভিত্তিক সমাজ। আধুনিক প্রতিটি সমাজে কমবেশি সামাজিক শ্রেণির ধারণা বিদ্যমান। সামাজিক শ্রেণি বলতে এমন একটি দল বা গোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা মোটামুটি একই ধরনের জীবনযাপন করে, একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। অর্থাৎ, উৎপাদন কাজে যারা একই ধরনের ভূমিকা পালন করে ও যাদের আয় ও জীবনযাপন প্রণালির মধ্যে একটা সামঞ্জস্য আছে, তারাই একেকটা শ্রেণি। কার্ল মাকর্স আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে অর্থনৈতিক ভিত্তিতে দুটো শ্রেণির কথা বলা বলেন। মালিক শ্রেণি এবং শ্রমিক শ্রেণি। মূলত আধুনিক সমাজে স্তরবিন্যাসের চারটি ধরনের মধ্যে সামাজিক শ্রেণি বেশি মাত্রায় লক্ষণীয়। আধুনিক সমাজে সাধারণ তিনটি শ্রেণি দেখা যায়। যথা- উচ্চবিত্ত শ্রেণি: কলকারখানার মালিক, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, এমপি, মন্ত্রী, ধনী ব্যবসায়ী প্রভৃতি এ শ্রেণিভুক্ত। মধ্যবিত্ত শ্রেণি: শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ পেশাজীবী শ্রেণি মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে আবার উচ্চমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। নিম্নবিত্ত শ্রেণি: কৃষক, শ্রমিক, কর্মজীবী, দিনমজুর প্রভৃতি অবস্থানের মানুষ এ শ্রেণির অধিভুক্ত। উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, আধুনিক সমাজে বর্ণপ্রথা নয় বরং সামাজিক শ্রেণির ধারণাই বিদ্যমান উপরিউক্ত শ্রেণিগুলোর ভিত্তিতেই আধুনিক সমাজে স্তরায়ন করা হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ঘটনা-১: চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর কিবরিয়া সাহেব তাঁর স্ত্রীসহ ছেলেদের সংসারে অনেকটা অবহেলার পাত্র হিসেবেই বসবাস করছেন। ঘটনা-২: মবিন সাহেবের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের জন্য উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করলেও মেয়ের জন্য করেননি। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও এইচ.এস.সি. পাশের পর মেয়েটির পড়ালেখা বন্ধ করে বিয়ে দিয়ে দেন।

Rajshahi · 2018

ক
সামাজিক পরিবর্তনের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর

সামাজিক পরিবর্তন বলতে সামাজিক সংগঠনের মধ্যে সংঘটিত রূপান্তরকে বোঝায়।
খ
'সামাজিক স্তরবিন্যাস সর্বজনীন'- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর

সামাজিক স্তরবিন্যাস চিরন্তন ও সর্বজনীন। সমাজজীবনের সূচনা থেকেই সামাজিক স্তরবিন্যাস ছিল। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কোনো সমাজব্যবস্থার পরিচয় পাওয়া যায় না, যা পরিপূর্ণভাবে সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আদিম মানুষের জীবনেও দলপতির প্রভাব প্রতিপত্তি ছিল। তাই স্তরমুক্ত সমাজ কল্পনাতীত। কালের বিবর্তনে সামাজিক স্তরবিন্যাস ধারায় পরিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কখনোই এ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়নি। তাই বলা হয়, সামাজিক স্তরবিন্যাস সর্বজনীন।
গ
ঘটনা-১-এ কোন বিষয়টির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ বয়স বৈষম্যবাদের কথা বলা হয়েছে। বয়স বৈষম্যবাদ বলতে বয়সের কারণে কোনো বয়সগোষ্ঠী বা তার কোনো সদস্যের প্রতি নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা বা মনোভাব পোষণ ও তার সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করাকে বোঝায়। বয়স বিদ্বেষী ব্যক্তি বা সমাজ প্রবীণকে জৈবিক ও সামাজিকভাবে অযোগ্য বলে মনে করে। এ ধরনের মনোভাব থেকেই প্রবীণের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ জন্ম নেয়। পৃথিবীর অধিকাংশ সমাজেই প্রবীণরা কম-বেশি বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হন। যেমনটি উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ দেখতে পাই, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর কিবরিয়া সাহেব ও তার স্ত্রী ছেলেদের সংসারে অনেকটা অবহেলার পাত্র হিসেবে বসবাস করছেন। পূর্বোক্ত আলোচনা অনুযায়ী যা বয়স বৈষম্যবাদকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ বয়স বৈষম্যবাদের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ
"ঘটনা-২-এর ঘটনা সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে"- তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনা-২ অর্থাৎ লিঙ্গভিত্তিক অসমতা সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। এ বিষয়টির সাথে আমি একমত পোষণ করি। দৈহিক পার্থক্যের ওপরে ভিত্তি করে সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন রকম বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণে বিভিন্নভাবে নারীদের মেধা ও মননশীলতাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। ফলে সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীরা এখনও যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব রাখে। আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুন্নয়নের জন্য লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক বৈষম্য দায়ী। জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্যের কারণেই নারীদেরকে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নারীদের তেমন অংশগ্রহণ নেই বলে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক বৈষম্যের কারণে আমাদের দেশের নারীদের উচ্চশিক্ষায় নিরুৎসাহিত করা হয়। জেন্ডারের ভিত্তিতে সৃষ্ট সামাজিক বৈষম্যের কারণে পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রসহ সব ক্ষেত্রেই নারীরা লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হয়। ফলে আমাদের বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন দিক দিয়ে এখনও পিছিয়ে রয়েছে, যা সামাজিক অগ্রগতির অন্তরায় হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। উদ্দীপকের ঘটনা-২-এ আমরা দেখতে পাই, মবিন সাহেব ছেলের জন্য উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করলেও মেয়ের জন্য তা করেননি। যা সামাজিক স্তরবিন্যাসের লিঙ্গভিত্তিক অসমতাকে নির্দেশ করে। আর এ লিঙ্গভিত্তিক অসমতা সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে, যা উপরের আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCSociology 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ঘটনা-১: চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর কিবরিয়া সাহেব তাঁর স্ত্রীসহ ছেলেদের সংসারে অনেকটা অবহেলার পাত্র হিসেবেই বসবাস করছেন। ঘটনা-২: মবিন সাহেবের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের জন্য উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করলেও মেয়ের জন্য করেননি। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও এইচ.এস.সি. পাশের পর মেয়েটির পড়ালেখা বন্ধ করে বিয়ে দিয়ে দেন।

Rajshahi · 2018

ক
সামাজিক পরিবর্তনের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর

সামাজিক পরিবর্তন বলতে সামাজিক সংগঠনের মধ্যে সংঘটিত রূপান্তরকে বোঝায়।
খ
'সামাজিক স্তরবিন্যাস সর্বজনীন'- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর

সামাজিক স্তরবিন্যাস চিরন্তন ও সর্বজনীন। সমাজজীবনের সূচনা থেকেই সামাজিক স্তরবিন্যাস ছিল। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কোনো সমাজব্যবস্থার পরিচয় পাওয়া যায় না, যা পরিপূর্ণভাবে সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আদিম মানুষের জীবনেও দলপতির প্রভাব প্রতিপত্তি ছিল। তাই স্তরমুক্ত সমাজ কল্পনাতীত। কালের বিবর্তনে সামাজিক স্তরবিন্যাস ধারায় পরিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কখনোই এ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়নি। তাই বলা হয়, সামাজিক স্তরবিন্যাস সর্বজনীন।
গ
ঘটনা-১-এ কোন বিষয়টির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ বয়স বৈষম্যবাদের কথা বলা হয়েছে। বয়স বৈষম্যবাদ বলতে বয়সের কারণে কোনো বয়সগোষ্ঠী বা তার কোনো সদস্যের প্রতি নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা বা মনোভাব পোষণ ও তার সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করাকে বোঝায়। বয়স বিদ্বেষী ব্যক্তি বা সমাজ প্রবীণকে জৈবিক ও সামাজিকভাবে অযোগ্য বলে মনে করে। এ ধরনের মনোভাব থেকেই প্রবীণের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ জন্ম নেয়। পৃথিবীর অধিকাংশ সমাজেই প্রবীণরা কম-বেশি বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হন। যেমনটি উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ দেখতে পাই, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর কিবরিয়া সাহেব ও তার স্ত্রী ছেলেদের সংসারে অনেকটা অবহেলার পাত্র হিসেবে বসবাস করছেন। পূর্বোক্ত আলোচনা অনুযায়ী যা বয়স বৈষম্যবাদকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ বয়স বৈষম্যবাদের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ
"ঘটনা-২-এর ঘটনা সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে"- তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনা-২ অর্থাৎ লিঙ্গভিত্তিক অসমতা সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। এ বিষয়টির সাথে আমি একমত পোষণ করি। দৈহিক পার্থক্যের ওপরে ভিত্তি করে সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন রকম বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণে বিভিন্নভাবে নারীদের মেধা ও মননশীলতাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। ফলে সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীরা এখনও যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব রাখে। আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুন্নয়নের জন্য লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক বৈষম্য দায়ী। জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্যের কারণেই নারীদেরকে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নারীদের তেমন অংশগ্রহণ নেই বলে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক বৈষম্যের কারণে আমাদের দেশের নারীদের উচ্চশিক্ষায় নিরুৎসাহিত করা হয়। জেন্ডারের ভিত্তিতে সৃষ্ট সামাজিক বৈষম্যের কারণে পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রসহ সব ক্ষেত্রেই নারীরা লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হয়। ফলে আমাদের বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন দিক দিয়ে এখনও পিছিয়ে রয়েছে, যা সামাজিক অগ্রগতির অন্তরায় হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। উদ্দীপকের ঘটনা-২-এ আমরা দেখতে পাই, মবিন সাহেব ছেলের জন্য উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করলেও মেয়ের জন্য তা করেননি। যা সামাজিক স্তরবিন্যাসের লিঙ্গভিত্তিক অসমতাকে নির্দেশ করে। আর এ লিঙ্গভিত্তিক অসমতা সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে, যা উপরের আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো