উক্ত আন্দোলনের ফলাফল তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: খিলাফত আন্দোলন তার মূল লক্ষ্যে (খিলাফত রক্ষা) সফল হতে না পারলেও ভারতবর্ষের রাজনীতিতে এর ফলাফল ও প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এর ফলাফল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও ঐক্য: খিলাফত আন্দোলনের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক ফলাফল ছিল হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে অভূতপূর্ব ঐক্য প্রতিষ্ঠা। মহাত্মা গান্ধী খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থন করেন এবং একে জাতীয় কংগ্রেসের 'অসহযোগ আন্দোলন'-এর সাথে একীভূত করেন। ফলে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে উভয় সম্প্রদায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করে। ২. মুসলমানদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি হয়। স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নীতির কারণে যে মুসলমানরা এতদিন ব্রিটিশবিরোধী রাজনীতি ও আন্দোলন থেকে দূরে ছিল, তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই প্রথম কোনো গণআন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৩. ব্রিটিশদের ভিত কম্পন: হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলিত এই গণআন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকারের ভিত কেঁপে ওঠে। তারা তীব্রভাবে উপলব্ধি করতে পারে যে, ভারতীয়দের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে অবদমিত করে রাখা দীর্ঘকাল সম্ভব নয়। ৪. চরম হতাশা ও আন্দোলনের সমাপ্তি: ১৯২২ সালে তুরস্কের আধুনিকায়নের রূপকার মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের ক্ষমতা গ্রহণ করে সুলতান প্রথা বাতিল করেন এবং ১৯২৪ সালে খিলাফত প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। ৫. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত: খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন হঠাৎ করে ব্যর্থ হওয়ার পর হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে ফাটল ধরে। রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হলে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে ভারতের রাজনীতিতে তিক্ততার সৃষ্টি করেছিল। পরিশেষে বলা যায়, খিলাফত আন্দোলন চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হলেও এটি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি ভারতীয়দের মনে যে ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী চেতনার সঞ্চার করেছিল, তা পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনগুলোকে দারুণভাবে ত্বরান্বিত করে।
HSC History 1st Paper Chapter 3: ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · History 1st Paper · Chapter 3: ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল · সৃজনশীল
উক্ত আন্দোলনের ফলাফল তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক
Combined · 2026
উত্তর
উত্তর