Chapter 3: ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল History 1st Paper

HSC History 1st Paper এর Chapter 3: ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৬৬৮

প্রশ্ন

History 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাজধানী তাইপেতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আইন সম্মেলনে এক শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট মা-য়িং-জেওউ। দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত সমুদ্রসীমা নিয়ে উত্তেজনা নিরসনে এই প্রস্তাব কাজ করবে বলে দাবি করেন মা-য়িং।

Rajshahi · 2017

ক
কে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন?

উত্তর

সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর 'বাঁশের কেল্লা' নির্মাণ করেন।
খ
বক্সারের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ বর্ণনা কর।

উত্তর

বক্সারের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (East India Company) কর্তৃক 'দস্তক' অপব্যবহার। মোগল সম্রাট ফররুখশিয়ার ১৭১৭ সালে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার যে ফরমান প্রদান করেছিলেন কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ব্যক্তিগত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ দম্ভকের অপব্যবহার করা শুরু করে। এরফলে দেশীয় বণিকগণ প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছিল না। তাই মীর কাসিম দেশি-বিদেশি সকল বণিকের ওপর থেকে শুল্ক তুলে দেন, যা ইংরেজদের স্বার্থে আঘাত হনে। এ কারণেই বক্সারের (Buxer) যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রস্তাবের সাথে তোমার পঠিত কোন প্রস্তাবের মিল পাওয়া যায়? উক্ত প্রস্তাবের মূলনীতি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রস্তাবের সাথে আমার পঠিত লাহোর প্রস্তাবের সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের অধিবেশনে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যা 'লাহোর প্রস্তাব' নামে পরিচিত। লাহোর প্রস্তাবের মূলনীতিতে বলা হয়- ১. ভৌগোলিক দিক থেকে সংলগ্ন এলাকাগুলোকে প্রয়োজনীয় রদবদলের মাধ্যমে পৃথক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। ২. ভারতবর্ষের উত্তর- পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের যে সকল স্থানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেখানে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ (Independent states) প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ৩. এ সমস্ত স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের অঙ্গরাজ্য গুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত। ৪. ভারতের ও নবগঠিত মুসলিম রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাদের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য অধিকার সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। উদ্দীপকে তাইপেতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আইন সম্মেলনে এক শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট মা-য়িং-জেওউ, যা দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত সমুদ্রসীমা নিয়ে উত্তেজনা নিরসনে কাজ করবে বলে তিনি দাবি করেন। তার এ প্রস্তাবের সাথে আমার পঠিত লাহোর প্রস্তাবের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
"এই প্রস্তাবের আলোকে দু'টি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়"- পঠিত বিষয়ের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

"এই প্রস্তাব অর্থাৎ লাহোর প্রস্তাবের আলোকেই দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়"- উক্তিটি যথার্থ। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে মুসলমানদের পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি সম্বলিত লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। মূলত ভারতে হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অনুভূত হচ্ছিল। মুসলিম লীগ সভাপতি মুহম্মদ আলী জিন্নাহ তার দ্বিজাতি তত্ত্বে (Two Nations Theory) ঘোষণা করেন "আমাদের সামনে উন্মুক্ত একমাত্র পথ হল প্রধান জাতিগুলোর স্বতন্ত্র মাতৃভূমি গঠনে সহায়তা করে ভারতকে দুটি স্বশাসিত জাতীয় রাষ্ট্রে বিভক্ত করা।" তিনি বলেন ভারতে হিন্দু-মুসলমান দুটি আলাদা জাতি। ধর্মভিত্তিক জাতিতত্ত্ব প্রয়োগ করে তিনি মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র মাতৃভূমি ও রাষ্ট্র দাবি করেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রদত্ত দ্বিজাতি তত্ত্বকে ভিত্তি করেই লাহোর প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। প্রস্তাবে ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের যে সকল স্থানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেখানে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। কংগ্রেস ও কলকাতার হিন্দু পত্রিকাগুলো লাহোর প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে একে 'পাকিস্তান প্রস্তাব' নামে আখ্যায়িত করে। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবের আলোকেই দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র তথা ভারত-পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়- উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাজধানী তাইপেতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আইন সম্মেলনে এক শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট মা-য়িং-জেওউ। দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত সমুদ্রসীমা নিয়ে উত্তেজনা নিরসনে এই প্রস্তাব কাজ করবে বলে দাবি করেন মা-য়িং।

Rajshahi · 2017

ক
কে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন?

উত্তর

সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর 'বাঁশের কেল্লা' নির্মাণ করেন।
খ
বক্সারের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ বর্ণনা কর।

উত্তর

বক্সারের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (East India Company) কর্তৃক 'দস্তক' অপব্যবহার। মোগল সম্রাট ফররুখশিয়ার ১৭১৭ সালে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার যে ফরমান প্রদান করেছিলেন কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ব্যক্তিগত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ দম্ভকের অপব্যবহার করা শুরু করে। এরফলে দেশীয় বণিকগণ প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছিল না। তাই মীর কাসিম দেশি-বিদেশি সকল বণিকের ওপর থেকে শুল্ক তুলে দেন, যা ইংরেজদের স্বার্থে আঘাত হনে। এ কারণেই বক্সারের (Buxer) যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রস্তাবের সাথে তোমার পঠিত কোন প্রস্তাবের মিল পাওয়া যায়? উক্ত প্রস্তাবের মূলনীতি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রস্তাবের সাথে আমার পঠিত লাহোর প্রস্তাবের সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের অধিবেশনে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যা 'লাহোর প্রস্তাব' নামে পরিচিত। লাহোর প্রস্তাবের মূলনীতিতে বলা হয়- ১. ভৌগোলিক দিক থেকে সংলগ্ন এলাকাগুলোকে প্রয়োজনীয় রদবদলের মাধ্যমে পৃথক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। ২. ভারতবর্ষের উত্তর- পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের যে সকল স্থানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেখানে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ (Independent states) প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ৩. এ সমস্ত স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের অঙ্গরাজ্য গুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত। ৪. ভারতের ও নবগঠিত মুসলিম রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাদের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য অধিকার সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। উদ্দীপকে তাইপেতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আইন সম্মেলনে এক শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট মা-য়িং-জেওউ, যা দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত সমুদ্রসীমা নিয়ে উত্তেজনা নিরসনে কাজ করবে বলে তিনি দাবি করেন। তার এ প্রস্তাবের সাথে আমার পঠিত লাহোর প্রস্তাবের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
"এই প্রস্তাবের আলোকে দু'টি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়"- পঠিত বিষয়ের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

উত্তর

"এই প্রস্তাব অর্থাৎ লাহোর প্রস্তাবের আলোকেই দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়"- উক্তিটি যথার্থ। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে মুসলমানদের পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি সম্বলিত লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। মূলত ভারতে হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অনুভূত হচ্ছিল। মুসলিম লীগ সভাপতি মুহম্মদ আলী জিন্নাহ তার দ্বিজাতি তত্ত্বে (Two Nations Theory) ঘোষণা করেন "আমাদের সামনে উন্মুক্ত একমাত্র পথ হল প্রধান জাতিগুলোর স্বতন্ত্র মাতৃভূমি গঠনে সহায়তা করে ভারতকে দুটি স্বশাসিত জাতীয় রাষ্ট্রে বিভক্ত করা।" তিনি বলেন ভারতে হিন্দু-মুসলমান দুটি আলাদা জাতি। ধর্মভিত্তিক জাতিতত্ত্ব প্রয়োগ করে তিনি মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র মাতৃভূমি ও রাষ্ট্র দাবি করেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রদত্ত দ্বিজাতি তত্ত্বকে ভিত্তি করেই লাহোর প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। প্রস্তাবে ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের যে সকল স্থানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেখানে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। কংগ্রেস ও কলকাতার হিন্দু পত্রিকাগুলো লাহোর প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে একে 'পাকিস্তান প্রস্তাব' নামে আখ্যায়িত করে। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবের আলোকেই দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র তথা ভারত-পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়- উক্তিটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বহুজাতির দেশ অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মত মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করার ঘোষণা দিয়ে "অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম পার্টি" নামে একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়ায় অনেকগুলো রাজনৈতিক দল রয়েছে যারা মুসলিমদের বিরোধিতা করে।

Rajshahi · 2017

ক
কে 'Vernacular Press Act′Act^{\prime} রহিত করেন?

উত্তর

লর্ড রিপন 'Vernacular Press Act (সংবাদপত্র আইন) রহিত করেন।
খ
ইলবার্ট বিল বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ইলবার্ট বিল' (Elbert Bill) ছিল ভারতীয় ও ইউরোপীয়দের মধ্যে জাতিগত বৈষম্য নিরসন করার পদক্ষেপ। ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুসারে কোনো ভারতীয় ম্যাজিস্ট্রেট ইতোপূর্বে ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করতে পারতেন না। এটি ভারতের জুডিসিয়ারিতে কর্মরত ভারতীয় বিচারকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাই লর্ড রিপন (Lord Ripon) 'ইলবার্ট বিল' প্রণয়নের মাধ্যমে ভারতীয় বিচারকদেরকে ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করেন।
গ
উদ্দীপকের বর্ণনা পাঠ্যবইয়ের যে ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তার পটভূমি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের 'মুসলিম লীগ' নামক রাজনৈতিক দল গঠনের সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯০৬ সালে ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ একটি স্বাতন্ত্র্যবাদী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর হতেই স্যার সৈয়দ আহম্মদ খানসহ বিশিষ্ট মুসলিম নেতৃবৃন্দ মুসলমানদের দাবি দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে আসছিলেন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস অসাম্প্রদায়িক দল হলেও মূলত হিন্দুদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বেশি মনোযোগী ছিল। ফলে ১৯০৬ সালে ৩৫ সদস্যের মুসলিম প্রতিনিধি দল আগা খানের নেতৃত্বে সিমলায় ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর সাথে সাক্ষাৎ করে রাজনৈতিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন। একই বছর ঢাকার শাহবাগে অনুষ্ঠিত হয় 'মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স' (Mohammadan Educational Conference) এর বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনের শেষ দিনে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসলিম প্রতিনিধিগণ 'অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ' (All India Muslim League) নামে মুসলমানদের জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তবে ভারতীয় কংগ্রেসের সদস্যরা এর বিরোধিতা করে। উদ্দীপকে বহুজাতিক অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মত মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল 'অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম পার্টি' এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। অস্ট্রেলিয়ার অনেকগুলো রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করে, যা 'মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠার পটভূমির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
"মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল দলটির মুখ্য উদ্দেশ্য"- উত্তটি পাঠ্যবইয়ের নিরিখে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

"মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল দলটির অর্থাৎ মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠার মুখ্য উদ্দেশ্য"-উক্তিটি যথার্থ। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলমত নির্বিশেষে সকল জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হলেও ক্রমে দলটি তার বিভিন্ন কার্যক্রমে হিন্দুদের স্বার্থকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। অন্যদিকে পাশ্চাত্য ও ইংরেজি শিক্ষার প্রতি অনীহা, ব্রিটিশ সরকারের বিরূপ মনোভাব প্রভৃতি কারণে মুসলমানগণ হিন্দুদের তুলনায় রাজনৈতিক ভাবে ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়েছিল। উনিশ শতকে এ বিষয়টি স্যার সৈয়দ আহমদ খান, সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, নবাব সলিমুল্লাহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। এছাড়া কংগ্রেস এ সময় বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করায় মুসলমানদের মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। ফলে তারা নিজস্ব দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র দল গঠনের বিষয়টি ব্রিটিশ সরকারের কাছে তুলে ধরেন। ফলশ্রুতিতে "All India Muslim League" নামে একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। মুসলিম লীগ গঠনের প্রাথমিক উদ্দেশ্যের মধ্যে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ব্রিটিশ সরকারের নিকট তুলে ধরার বিষয়টি ছিল অন্যতম। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। সুতরাং, প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বহুজাতির দেশ অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মত মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করার ঘোষণা দিয়ে "অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম পার্টি" নামে একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়ায় অনেকগুলো রাজনৈতিক দল রয়েছে যারা মুসলিমদের বিরোধিতা করে।

Rajshahi · 2017

ক
কে 'Vernacular Press Act′Act^{\prime} রহিত করেন?

উত্তর

লর্ড রিপন 'Vernacular Press Act (সংবাদপত্র আইন) রহিত করেন।
খ
ইলবার্ট বিল বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ইলবার্ট বিল' (Elbert Bill) ছিল ভারতীয় ও ইউরোপীয়দের মধ্যে জাতিগত বৈষম্য নিরসন করার পদক্ষেপ। ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুসারে কোনো ভারতীয় ম্যাজিস্ট্রেট ইতোপূর্বে ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করতে পারতেন না। এটি ভারতের জুডিসিয়ারিতে কর্মরত ভারতীয় বিচারকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাই লর্ড রিপন (Lord Ripon) 'ইলবার্ট বিল' প্রণয়নের মাধ্যমে ভারতীয় বিচারকদেরকে ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করেন।
গ
উদ্দীপকের বর্ণনা পাঠ্যবইয়ের যে ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তার পটভূমি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের 'মুসলিম লীগ' নামক রাজনৈতিক দল গঠনের সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯০৬ সালে ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ একটি স্বাতন্ত্র্যবাদী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর হতেই স্যার সৈয়দ আহম্মদ খানসহ বিশিষ্ট মুসলিম নেতৃবৃন্দ মুসলমানদের দাবি দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে আসছিলেন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস অসাম্প্রদায়িক দল হলেও মূলত হিন্দুদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বেশি মনোযোগী ছিল। ফলে ১৯০৬ সালে ৩৫ সদস্যের মুসলিম প্রতিনিধি দল আগা খানের নেতৃত্বে সিমলায় ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর সাথে সাক্ষাৎ করে রাজনৈতিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন। একই বছর ঢাকার শাহবাগে অনুষ্ঠিত হয় 'মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স' (Mohammadan Educational Conference) এর বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনের শেষ দিনে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসলিম প্রতিনিধিগণ 'অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ' (All India Muslim League) নামে মুসলমানদের জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তবে ভারতীয় কংগ্রেসের সদস্যরা এর বিরোধিতা করে। উদ্দীপকে বহুজাতিক অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মত মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল 'অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম পার্টি' এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। অস্ট্রেলিয়ার অনেকগুলো রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করে, যা 'মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠার পটভূমির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
"মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল দলটির মুখ্য উদ্দেশ্য"- উত্তটি পাঠ্যবইয়ের নিরিখে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

"মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল দলটির অর্থাৎ মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠার মুখ্য উদ্দেশ্য"-উক্তিটি যথার্থ। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলমত নির্বিশেষে সকল জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হলেও ক্রমে দলটি তার বিভিন্ন কার্যক্রমে হিন্দুদের স্বার্থকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। অন্যদিকে পাশ্চাত্য ও ইংরেজি শিক্ষার প্রতি অনীহা, ব্রিটিশ সরকারের বিরূপ মনোভাব প্রভৃতি কারণে মুসলমানগণ হিন্দুদের তুলনায় রাজনৈতিক ভাবে ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়েছিল। উনিশ শতকে এ বিষয়টি স্যার সৈয়দ আহমদ খান, সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, নবাব সলিমুল্লাহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। এছাড়া কংগ্রেস এ সময় বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করায় মুসলমানদের মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। ফলে তারা নিজস্ব দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র দল গঠনের বিষয়টি ব্রিটিশ সরকারের কাছে তুলে ধরেন। ফলশ্রুতিতে "All India Muslim League" নামে একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। মুসলিম লীগ গঠনের প্রাথমিক উদ্দেশ্যের মধ্যে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ব্রিটিশ সরকারের নিকট তুলে ধরার বিষয়টি ছিল অন্যতম। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। সুতরাং, প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

১৯৩৯ সালে জার্মানি ও পোলান্ডের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, যা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মুসলিম প্রধান দেশ তুরস্ক জার্মানির পক্ষে যোগ দেয়। অপরদিকে ব্রিটেন জার্মানির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে মুসলমানরা এ যুদ্ধে ব্রিটিশদের পক্ষে অস্ত্রধারণ করতে অসম্মত হয়। ব্রিটিশরা মুসলমানদের এই বলে আশ্বস্ত করে যে, যুদ্ধে জয়ী হলে তারা তুরস্কের কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু ব্রিটিশরা মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে ভারতীয় মুসলিমরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।

Dhaka · 2017

ক
কোন গভর্নর জেনারেল বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব করেন?

উত্তর

গর্ভনর জেনারেল জর্জ ন্যাথানিয়েল কার্জন (George Nathaniel Carzon) বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব করেন।
খ
লক্ষ্ণৌ চুক্তি কী উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত হয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

১৯১৬ সালে 'লক্ষ্ণৌ চুক্তি' (Lucknow Pact) স্বাক্ষরিত হয়। কংগ্রেস (Congress) ও মুসলিম লীগ (Muslim League) ১৯১৬ সালে তাদের বার্ষিক সম্মেলনে ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কার নীতির প্রশ্নে একটি সমঝোতায় আসে, যা 'লক্ষ্ণৌ চুক্তি' নামে পরিচিত। এ চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ মিলিতভাবে দাবি পেশ করে। চুক্তিতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, সম্প্রদায়ভিত্তিক নির্বাচন প্রভৃতি বিষয়ের উপর জোর দেয়া হয়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা ভারতে ব্রিটিশ আমলের কোন আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা ভারতে ব্রিটিশ আমলের 'খিলাফত আন্দোলনের' কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রথম মহাযুদ্ধে মিত্র শক্তির নেতৃত্বে দেয় গ্রেট ব্রিটেন ও জার্মানি নেতৃত্ব দেয় অক্ষ শক্তির। তুরস্ক জার্মানির পক্ষাবলম্বন করায় ভারতীয় মুসলমানদের মনে দ্বৈত আনুগত্যের প্রশ্ন দেখা দেয়। ভারতের মুসলমানরা তুরস্ককে মুসলিম ঐক্যের প্রতীক ও তুরস্কের সুলতানকে খলিফা বলে মনে করত। এ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা দেয়, যুদ্ধ শেষে তুরস্কের কোনো ক্ষতি করা হবে না এবং এর অখন্ডতা রক্ষা করা হবে। অথচ যুদ্ধ শেষে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়। ফলে তুরস্কের খলিফাকে তার মৃত মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা এবং তুরস্ক সাম্রাজ্যের অখন্ডতা রক্ষার লক্ষ্যে ১৯১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের মুসলমানগণ 'খিলাফত আন্দোলন' শুরু করে। ১৯২০ সালে অবমাননাকর 'সেভার্সের চুক্তি' (Treaty of Sevtes) হলে 'খিলাফত আন্দোলন' তীব্র আকার ধারণ করে। উদ্দীপকে ১৯৩৯ সালের যুদ্ধে তুরস্ক জার্মানির পক্ষাবলম্বন করে এবং ব্রিটেন জার্মানির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ব্রিটিশরা মুসলমানদের সমর্থন লাভের উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তা রক্ষা করেনি। যা ব্রিটিশ আমলের 'খিলাফত আন্দোলনের' কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ঘ
উক্ত আন্দোলনের ফলাফল কী হয়েছিল বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ 'খিলাফত আন্দোলন' শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দুই প্রতিপক্ষ জার্মানি ও ব্রিটেন এর মধ্যকার দ্বন্দ্বে তুরস্ক অক্ষ শক্তি জার্মানিকে সমর্থন করে। ভারতের মুসলমানরা এ সময় ব্রিটেনের পক্ষে অস্ত্র ধারণ করতে অসম্মতি জানায় কারণ তারা ধর্মীয় দিক থেকে তুরস্কের খলিফার অনুগত। এমতাবস্থায় ব্রিটেন তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও যুদ্ধ সমাপ্তির পর তুরস্কের প্রতি অবমাননাকর 'সেভার্সের সন্ধি' (Treaty of Sevres) চাপিয়ে দেয়। ফলে ভারতের মুসলমানরা 'খিলাফত আন্দোলন' শুরু করে। খিলাফত আন্দোলনের একপর্যায়ে মুসলমানরা সরকারের সঙ্গে অসহযোগ নীতি অনুসরণ এবং প্রয়োজনে ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কংগ্রেস নেতা মহাত্মা গান্ধীও এ আন্দোলনকে সমর্থন করেন এবং তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন একসাথে পরিচালনার কথা বলেন। একপর্যায়ে খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন চরমপন্থি রূপ ধারণ করে। ফলে মহাত্মা গান্ধী হঠাৎ এ আন্দোলন হতে সরে আসেন। ১৯২৩ সালে মোস্তফা কামাল পাশার নেতৃত্বে তুরস্কে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা ও ১৯২৪ সালে খলিফার পদ তুলে দেবার পর এ আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি ঘটে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, খিলাফত আন্দোলন ব্যর্থ হলেও স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এ আন্দোলন অবিস্মরণীয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

১৯৩৯ সালে জার্মানি ও পোলান্ডের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, যা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মুসলিম প্রধান দেশ তুরস্ক জার্মানির পক্ষে যোগ দেয়। অপরদিকে ব্রিটেন জার্মানির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে মুসলমানরা এ যুদ্ধে ব্রিটিশদের পক্ষে অস্ত্রধারণ করতে অসম্মত হয়। ব্রিটিশরা মুসলমানদের এই বলে আশ্বস্ত করে যে, যুদ্ধে জয়ী হলে তারা তুরস্কের কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু ব্রিটিশরা মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে ভারতীয় মুসলিমরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।

Dhaka · 2017

ক
কোন গভর্নর জেনারেল বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব করেন?

উত্তর

গর্ভনর জেনারেল জর্জ ন্যাথানিয়েল কার্জন (George Nathaniel Carzon) বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব করেন।
খ
লক্ষ্ণৌ চুক্তি কী উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত হয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

১৯১৬ সালে 'লক্ষ্ণৌ চুক্তি' (Lucknow Pact) স্বাক্ষরিত হয়। কংগ্রেস (Congress) ও মুসলিম লীগ (Muslim League) ১৯১৬ সালে তাদের বার্ষিক সম্মেলনে ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কার নীতির প্রশ্নে একটি সমঝোতায় আসে, যা 'লক্ষ্ণৌ চুক্তি' নামে পরিচিত। এ চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ মিলিতভাবে দাবি পেশ করে। চুক্তিতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, সম্প্রদায়ভিত্তিক নির্বাচন প্রভৃতি বিষয়ের উপর জোর দেয়া হয়।
গ
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা ভারতে ব্রিটিশ আমলের কোন আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা ভারতে ব্রিটিশ আমলের 'খিলাফত আন্দোলনের' কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রথম মহাযুদ্ধে মিত্র শক্তির নেতৃত্বে দেয় গ্রেট ব্রিটেন ও জার্মানি নেতৃত্ব দেয় অক্ষ শক্তির। তুরস্ক জার্মানির পক্ষাবলম্বন করায় ভারতীয় মুসলমানদের মনে দ্বৈত আনুগত্যের প্রশ্ন দেখা দেয়। ভারতের মুসলমানরা তুরস্ককে মুসলিম ঐক্যের প্রতীক ও তুরস্কের সুলতানকে খলিফা বলে মনে করত। এ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা দেয়, যুদ্ধ শেষে তুরস্কের কোনো ক্ষতি করা হবে না এবং এর অখন্ডতা রক্ষা করা হবে। অথচ যুদ্ধ শেষে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়। ফলে তুরস্কের খলিফাকে তার মৃত মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা এবং তুরস্ক সাম্রাজ্যের অখন্ডতা রক্ষার লক্ষ্যে ১৯১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের মুসলমানগণ 'খিলাফত আন্দোলন' শুরু করে। ১৯২০ সালে অবমাননাকর 'সেভার্সের চুক্তি' (Treaty of Sevtes) হলে 'খিলাফত আন্দোলন' তীব্র আকার ধারণ করে। উদ্দীপকে ১৯৩৯ সালের যুদ্ধে তুরস্ক জার্মানির পক্ষাবলম্বন করে এবং ব্রিটেন জার্মানির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ব্রিটিশরা মুসলমানদের সমর্থন লাভের উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তা রক্ষা করেনি। যা ব্রিটিশ আমলের 'খিলাফত আন্দোলনের' কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ঘ
উক্ত আন্দোলনের ফলাফল কী হয়েছিল বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ 'খিলাফত আন্দোলন' শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দুই প্রতিপক্ষ জার্মানি ও ব্রিটেন এর মধ্যকার দ্বন্দ্বে তুরস্ক অক্ষ শক্তি জার্মানিকে সমর্থন করে। ভারতের মুসলমানরা এ সময় ব্রিটেনের পক্ষে অস্ত্র ধারণ করতে অসম্মতি জানায় কারণ তারা ধর্মীয় দিক থেকে তুরস্কের খলিফার অনুগত। এমতাবস্থায় ব্রিটেন তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও যুদ্ধ সমাপ্তির পর তুরস্কের প্রতি অবমাননাকর 'সেভার্সের সন্ধি' (Treaty of Sevres) চাপিয়ে দেয়। ফলে ভারতের মুসলমানরা 'খিলাফত আন্দোলন' শুরু করে। খিলাফত আন্দোলনের একপর্যায়ে মুসলমানরা সরকারের সঙ্গে অসহযোগ নীতি অনুসরণ এবং প্রয়োজনে ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কংগ্রেস নেতা মহাত্মা গান্ধীও এ আন্দোলনকে সমর্থন করেন এবং তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন একসাথে পরিচালনার কথা বলেন। একপর্যায়ে খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন চরমপন্থি রূপ ধারণ করে। ফলে মহাত্মা গান্ধী হঠাৎ এ আন্দোলন হতে সরে আসেন। ১৯২৩ সালে মোস্তফা কামাল পাশার নেতৃত্বে তুরস্কে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা ও ১৯২৪ সালে খলিফার পদ তুলে দেবার পর এ আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি ঘটে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, খিলাফত আন্দোলন ব্যর্থ হলেও স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এ আন্দোলন অবিস্মরণীয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো