উক্ত ঘটনার নেতিবাচক ফলাফল বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: দেওয়ানি লাভ করার পর লর্ড ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে এদেশে এক অভিনব শাসনব্যবস্থা চালু করেন যার নাম দ্বৈতশাসন। বাংলার আর্থসামাজিক বিবেচনায় উক্ত ঘটনার অর্থাৎ দ্বৈতশাসন পদ্ধতির সবগুলো প্রভাবই ছিল মূলত নেতিবাচক। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- প্রথমত, এ ব্যবস্থায় নবাবের হাতে ক্ষমতাহীন দায়িত্ব ও কোম্পানির হাতে দায়িত্বহীন ক্ষমতা থাকায় প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এক চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করে। এ ব্যবস্থায় একদিকে ইংরেজরা রাজস্ব লুট করছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলার অনুপস্থিতিতে ডাকাতরা গ্রামবাংলা লুটতরাজ করতে থাকে। ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বিরাজ করায় এ লুটপাট অধিক পরিমাণে বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, এ ব্যবস্থার ফলে বাংলায়- 'আমিলদারি' প্রথার উদ্ভব হয়। জমিদারগণ আমিলদারদের নিকট রাজস্ব জমা দিতেন। এ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও শোষণের ফলে বাংলার মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে। তৃতীয়ত, বাণিজ্যক্ষেত্রে ইংরেজদের একচেটিয়া প্রাধান্য দেশি ও অন্য বিদেশি ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যে লোকসানের সম্মুখীন হয়ে তাদের বাণিজ্যযাত্রা ভঙ্গ করে। চতুর্থত, কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ব্যবসায় ও শোষণের ফলে দেশের সম্পদ কমতে থাকে এবং পর্যায়ক্রমে তা ইংল্যান্ডে পাচার হতে থাকে। এক হিসাবে শুধুমাত্র ১৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দেই বাংলা থেকে ৫.৭মিলিয়ন পাউন্ড ইংল্যান্ডে চলে যায়। সর্বোপরি, এ দ্বৈত শাসনব্যবস্থার শোষণের ফলে জনগণের অর্থনৈতিক দুর্দশা চরমে পৌঁছে। সেই সাথে পর পর দুই বছরের অনাবৃষ্টি যোগ হয়ে বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নেমে আসে এবং সে সময়ে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়।
HSC History 1st Paper Chapter 1: ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন: ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · History 1st Paper · Chapter 1: ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন: ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা · সৃজনশীল
উক্ত ঘটনার নেতিবাচক ফলাফল বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক
Rajshahi · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর