HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক
রাজা ফার্ডিনান্ড এর ষড়যন্ত্রের ফলে গ্রানাডার সুলতান আবুল হাসান সিংহাসন ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর পুত্র আবু আব্দুল্লাহকে নামমাত্র সুলতান বানানো হয়। ফার্ডিনান্ড ও আবু আব্দুল্লাহর ষড়যন্ত্রের ফলে স্পেনে মুসলিম শাসনের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে।
Rajshahi · 2017
ক
কত সালে ভাস্কো-দা-গামা ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন?
উত্তর
১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা (Vasco-da-Gama) ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন।
খ
উপমহাদেশের ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর
উপমহাদেশে বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক পর্যায়ে সাম্রাজ্য বিস্তারের রূপ পরিগ্রহ করলে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে।
ইউরোপে সপ্তবর্ষব্যাপী ইঙ্গ-ফরাসি যুদ্ধকে (Seven War) কেন্দ্র করে ভারতেও উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দাক্ষিণাত্যের কর্নাটকে প্রাধান্য স্থাপনকে কেন্দ্রে করে ১৭৪৬ হতে ১৭৬৩ সাল পর্যন্ত ইংরেজ ও ফরাসিদের মাঝে তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে ফরাসিদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে ইংরেজদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
গ
উদ্দীপকের ষড়যন্ত্রের সাথে তোমার পঠিত কোন ষড়যন্ত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? উক্ত ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত যুদ্ধের কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের ষড়যন্ত্রের সাথে আমার পঠিত পলাশী যুদ্ধে মীরজাফরের ষড়যন্ত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত যুদ্ধ অর্থাৎ পলাশী যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কতিপয় বিষয় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল। প্রথমত, সিরাজ- উদ-দৌলা মসনদে বসার পর ইংরেজ বণিকগণ তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেনি। তারা নবাবের নির্দেশ অমান্য করে কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ অব্যাহত রাখে। ফলে নবাব ইংরেজদের প্রতি ক্ষুব্ধ হন। দ্বিতীয়ত, ইংরেজরা কোম্পানির নামে অনুমোদিত 'দস্তক' ব্যক্তিগত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যথেচ্ছ ব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি দিতে থাকে। তৃতীয়ত, বাংলার অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ইংরেজরা 'আলীনগরের সন্ধি'-র শর্তগুলো মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানায়। চতুর্থত, ইংরেজরা নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী ঘসেটি বেগম, শওকত জংকে সহায়তা দানে সম্মত হয়। পঞ্চমত, দেওয়ান রাজ বল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস প্রচুর সম্পদ নিয়ে কলকাতায় ইংরেজদের আশ্রয় নেয়। ইংরেজরা তাকে নবাবের নিকট প্রত্যর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এসব কারণে নবাবের সাথে ইংরেজদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এছাড়া অষ্টাদশ শতকে বাংলার কলুষিত রাজনীতি পলাশীর যুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ ও মীরজাফরের ক্ষমতা লাভের অভিপ্রায় ও ইংরেজদের সহায়তা কামনা পলাশী যুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল।
উদ্দীপকের বর্ণিত রাজা ফার্ডিনান্ড এর ষড়যন্ত্রের ফলে গ্রানাডার সুলতান সিংহাসনচ্যুত হন। এরপর আবু আব্দুল্লাহকে নামমাত্র সুলতান বানানো হয়, যা পলাশী যুদ্ধের ইঙ্গিতবহ ঘটনা।
ঘ
"উক্ত যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী" পাঠ্যবইয়ের নিরিখে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
"উক্ত যুদ্ধ অর্থাৎ পলাশীর যুদ্ধের (Battle of Plassey) ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী"- উক্তিটি যথার্থ।
পলাশী যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় ইংরেজরা বণিকের মানদণ্ড থেকে শাসকের রাজদণ্ডে অভিষিক্ত হয়। প্রথমত, পলাশীর যুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলার স্বাধীন নবাবি আমলের অবসান ঘটে। দ্বিতীয়ত, এ যুদ্ধের ফলে বাংলার রাষ্ট্রক্ষমতা বিভাজিত হয়ে দ্বৈতশাসনের উদ্ভব ঘটে। মীরজাফরকে মসনদে বসানো হলেও প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী ছিল ইংরেজরাই। তৃতীয়ত, পলাশী যুদ্ধের পর ইংরেজরা তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে অনুগ্রহ প্রার্থী হতে অনুগ্রহ বিতরণকারী শক্তিতে পরিণত হয়। চতুর্থত, এ যুদ্ধের ফলে সমৃদ্ধ বাংলার একচেটিয়া বাণিজ্য ইংরেজদের হস্তগত হয়। ফলে বাংলার সম্পদ ব্যাপকহারে ইংল্যান্ডে পাচার হতে থাকে। পঞ্চমত, ফরাসিরা এ সময় সমূলে উৎপাটিত হয়। ষষ্ঠত, এ সময় হতে নবাবের দরবারে ইংরেজ রেসিডেন্ট রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমনে ইংরেজ সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়া বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে বাংলার রাজনীতিতে ইংরেজদের স্থায়ী হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সপ্তমত, এ যুদ্ধের মধ্য দিয়েই ভারতে মধ্যযুগের অবসান ও আধুনিক যুগের সূচনা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, পলাশী যুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলার স্বাধীন নবাবি আমলের অবসান ঘটে ও ইংরেজ শাসনের ভিত্তি রচিত হয়। এর ফলে ভারতবর্ষ মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে প্রবেশ করে। সুতরাং, পলাশী যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো