Chapter 1: ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন: ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা History 1st Paper

HSC History 1st Paper এর Chapter 1: ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন: ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৪০৬

প্রশ্ন

History 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাজা ফার্ডিনান্ড এর ষড়যন্ত্রের ফলে গ্রানাডার সুলতান আবুল হাসান সিংহাসন ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর পুত্র আবু আব্দুল্লাহকে নামমাত্র সুলতান বানানো হয়। ফার্ডিনান্ড ও আবু আব্দুল্লাহর ষড়যন্ত্রের ফলে স্পেনে মুসলিম শাসনের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে।

Rajshahi · 2017

ক
কত সালে ভাস্কো-দা-গামা ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন?

উত্তর

১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা (Vasco-da-Gama) ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন।
খ
উপমহাদেশের ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর

উপমহাদেশে বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক পর্যায়ে সাম্রাজ্য বিস্তারের রূপ পরিগ্রহ করলে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে। ইউরোপে সপ্তবর্ষব্যাপী ইঙ্গ-ফরাসি যুদ্ধকে (Seven Years′Years^{\prime} War) কেন্দ্র করে ভারতেও উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দাক্ষিণাত্যের কর্নাটকে প্রাধান্য স্থাপনকে কেন্দ্রে করে ১৭৪৬ হতে ১৭৬৩ সাল পর্যন্ত ইংরেজ ও ফরাসিদের মাঝে তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে ফরাসিদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে ইংরেজদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
গ
উদ্দীপকের ষড়যন্ত্রের সাথে তোমার পঠিত কোন ষড়যন্ত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? উক্ত ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত যুদ্ধের কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ষড়যন্ত্রের সাথে আমার পঠিত পলাশী যুদ্ধে মীরজাফরের ষড়যন্ত্রের সাদৃশ্য রয়েছে। উক্ত ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত যুদ্ধ অর্থাৎ পলাশী যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কতিপয় বিষয় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল। প্রথমত, সিরাজ- উদ-দৌলা মসনদে বসার পর ইংরেজ বণিকগণ তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেনি। তারা নবাবের নির্দেশ অমান্য করে কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ অব্যাহত রাখে। ফলে নবাব ইংরেজদের প্রতি ক্ষুব্ধ হন। দ্বিতীয়ত, ইংরেজরা কোম্পানির নামে অনুমোদিত 'দস্তক' ব্যক্তিগত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যথেচ্ছ ব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি দিতে থাকে। তৃতীয়ত, বাংলার অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ইংরেজরা 'আলীনগরের সন্ধি'-র শর্তগুলো মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানায়। চতুর্থত, ইংরেজরা নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী ঘসেটি বেগম, শওকত জংকে সহায়তা দানে সম্মত হয়। পঞ্চমত, দেওয়ান রাজ বল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস প্রচুর সম্পদ নিয়ে কলকাতায় ইংরেজদের আশ্রয় নেয়। ইংরেজরা তাকে নবাবের নিকট প্রত্যর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এসব কারণে নবাবের সাথে ইংরেজদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এছাড়া অষ্টাদশ শতকে বাংলার কলুষিত রাজনীতি পলাশীর যুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ ও মীরজাফরের ক্ষমতা লাভের অভিপ্রায় ও ইংরেজদের সহায়তা কামনা পলাশী যুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল। উদ্দীপকের বর্ণিত রাজা ফার্ডিনান্ড এর ষড়যন্ত্রের ফলে গ্রানাডার সুলতান সিংহাসনচ্যুত হন। এরপর আবু আব্দুল্লাহকে নামমাত্র সুলতান বানানো হয়, যা পলাশী যুদ্ধের ইঙ্গিতবহ ঘটনা।
ঘ
"উক্ত যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী" পাঠ্যবইয়ের নিরিখে তা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

"উক্ত যুদ্ধ অর্থাৎ পলাশীর যুদ্ধের (Battle of Plassey) ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী"- উক্তিটি যথার্থ। পলাশী যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় ইংরেজরা বণিকের মানদণ্ড থেকে শাসকের রাজদণ্ডে অভিষিক্ত হয়। প্রথমত, পলাশীর যুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলার স্বাধীন নবাবি আমলের অবসান ঘটে। দ্বিতীয়ত, এ যুদ্ধের ফলে বাংলার রাষ্ট্রক্ষমতা বিভাজিত হয়ে দ্বৈতশাসনের উদ্ভব ঘটে। মীরজাফরকে মসনদে বসানো হলেও প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী ছিল ইংরেজরাই। তৃতীয়ত, পলাশী যুদ্ধের পর ইংরেজরা তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে অনুগ্রহ প্রার্থী হতে অনুগ্রহ বিতরণকারী শক্তিতে পরিণত হয়। চতুর্থত, এ যুদ্ধের ফলে সমৃদ্ধ বাংলার একচেটিয়া বাণিজ্য ইংরেজদের হস্তগত হয়। ফলে বাংলার সম্পদ ব্যাপকহারে ইংল্যান্ডে পাচার হতে থাকে। পঞ্চমত, ফরাসিরা এ সময় সমূলে উৎপাটিত হয়। ষষ্ঠত, এ সময় হতে নবাবের দরবারে ইংরেজ রেসিডেন্ট রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমনে ইংরেজ সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়া বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে বাংলার রাজনীতিতে ইংরেজদের স্থায়ী হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সপ্তমত, এ যুদ্ধের মধ্য দিয়েই ভারতে মধ্যযুগের অবসান ও আধুনিক যুগের সূচনা হয়। পরিশেষে বলা যায়, পলাশী যুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলার স্বাধীন নবাবি আমলের অবসান ঘটে ও ইংরেজ শাসনের ভিত্তি রচিত হয়। এর ফলে ভারতবর্ষ মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে প্রবেশ করে। সুতরাং, পলাশী যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাজা ফার্ডিনান্ড এর ষড়যন্ত্রের ফলে গ্রানাডার সুলতান আবুল হাসান সিংহাসন ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর পুত্র আবু আব্দুল্লাহকে নামমাত্র সুলতান বানানো হয়। ফার্ডিনান্ড ও আবু আব্দুল্লাহর ষড়যন্ত্রের ফলে স্পেনে মুসলিম শাসনের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে।

Rajshahi · 2017

ক
কত সালে ভাস্কো-দা-গামা ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন?

উত্তর

১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা (Vasco-da-Gama) ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন।
খ
উপমহাদেশের ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর

উপমহাদেশে বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক পর্যায়ে সাম্রাজ্য বিস্তারের রূপ পরিগ্রহ করলে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে। ইউরোপে সপ্তবর্ষব্যাপী ইঙ্গ-ফরাসি যুদ্ধকে (Seven Years′Years^{\prime} War) কেন্দ্র করে ভারতেও উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দাক্ষিণাত্যের কর্নাটকে প্রাধান্য স্থাপনকে কেন্দ্রে করে ১৭৪৬ হতে ১৭৬৩ সাল পর্যন্ত ইংরেজ ও ফরাসিদের মাঝে তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে ফরাসিদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে ইংরেজদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
গ
উদ্দীপকের ষড়যন্ত্রের সাথে তোমার পঠিত কোন ষড়যন্ত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? উক্ত ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত যুদ্ধের কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের ষড়যন্ত্রের সাথে আমার পঠিত পলাশী যুদ্ধে মীরজাফরের ষড়যন্ত্রের সাদৃশ্য রয়েছে। উক্ত ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত যুদ্ধ অর্থাৎ পলাশী যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কতিপয় বিষয় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল। প্রথমত, সিরাজ- উদ-দৌলা মসনদে বসার পর ইংরেজ বণিকগণ তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেনি। তারা নবাবের নির্দেশ অমান্য করে কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ অব্যাহত রাখে। ফলে নবাব ইংরেজদের প্রতি ক্ষুব্ধ হন। দ্বিতীয়ত, ইংরেজরা কোম্পানির নামে অনুমোদিত 'দস্তক' ব্যক্তিগত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যথেচ্ছ ব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি দিতে থাকে। তৃতীয়ত, বাংলার অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ইংরেজরা 'আলীনগরের সন্ধি'-র শর্তগুলো মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানায়। চতুর্থত, ইংরেজরা নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী ঘসেটি বেগম, শওকত জংকে সহায়তা দানে সম্মত হয়। পঞ্চমত, দেওয়ান রাজ বল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস প্রচুর সম্পদ নিয়ে কলকাতায় ইংরেজদের আশ্রয় নেয়। ইংরেজরা তাকে নবাবের নিকট প্রত্যর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এসব কারণে নবাবের সাথে ইংরেজদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এছাড়া অষ্টাদশ শতকে বাংলার কলুষিত রাজনীতি পলাশীর যুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ ও মীরজাফরের ক্ষমতা লাভের অভিপ্রায় ও ইংরেজদের সহায়তা কামনা পলাশী যুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল। উদ্দীপকের বর্ণিত রাজা ফার্ডিনান্ড এর ষড়যন্ত্রের ফলে গ্রানাডার সুলতান সিংহাসনচ্যুত হন। এরপর আবু আব্দুল্লাহকে নামমাত্র সুলতান বানানো হয়, যা পলাশী যুদ্ধের ইঙ্গিতবহ ঘটনা।
ঘ
"উক্ত যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী" পাঠ্যবইয়ের নিরিখে তা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

"উক্ত যুদ্ধ অর্থাৎ পলাশীর যুদ্ধের (Battle of Plassey) ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী"- উক্তিটি যথার্থ। পলাশী যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় ইংরেজরা বণিকের মানদণ্ড থেকে শাসকের রাজদণ্ডে অভিষিক্ত হয়। প্রথমত, পলাশীর যুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলার স্বাধীন নবাবি আমলের অবসান ঘটে। দ্বিতীয়ত, এ যুদ্ধের ফলে বাংলার রাষ্ট্রক্ষমতা বিভাজিত হয়ে দ্বৈতশাসনের উদ্ভব ঘটে। মীরজাফরকে মসনদে বসানো হলেও প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী ছিল ইংরেজরাই। তৃতীয়ত, পলাশী যুদ্ধের পর ইংরেজরা তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে অনুগ্রহ প্রার্থী হতে অনুগ্রহ বিতরণকারী শক্তিতে পরিণত হয়। চতুর্থত, এ যুদ্ধের ফলে সমৃদ্ধ বাংলার একচেটিয়া বাণিজ্য ইংরেজদের হস্তগত হয়। ফলে বাংলার সম্পদ ব্যাপকহারে ইংল্যান্ডে পাচার হতে থাকে। পঞ্চমত, ফরাসিরা এ সময় সমূলে উৎপাটিত হয়। ষষ্ঠত, এ সময় হতে নবাবের দরবারে ইংরেজ রেসিডেন্ট রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমনে ইংরেজ সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়া বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে বাংলার রাজনীতিতে ইংরেজদের স্থায়ী হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সপ্তমত, এ যুদ্ধের মধ্য দিয়েই ভারতে মধ্যযুগের অবসান ও আধুনিক যুগের সূচনা হয়। পরিশেষে বলা যায়, পলাশী যুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলার স্বাধীন নবাবি আমলের অবসান ঘটে ও ইংরেজ শাসনের ভিত্তি রচিত হয়। এর ফলে ভারতবর্ষ মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে প্রবেশ করে। সুতরাং, পলাশী যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ভিনদেশি বণিকরা যুদ্ধে জয়ী হয়ে ঔপনিবেশিক অঞ্চলে যে শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, তাতে অর্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও দেশরক্ষা ছাড়া তাদের অন্য কোনো দায়-দায়িত্ব ছিল না। এ অভিনব শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় শাসকদের ক্ষমতাহীন করা। দায়িত্বহীনতার জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং দেশময় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

Dhaka · 2017

ক
কোন পর্তুগিজ নাবিক প্রথম ভারতে আগমন করেন?

উত্তর

পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা প্রথম ভারতে আগমন করেন।
খ
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত দ্বৈতশাসন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলশ্রুতিতে ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (১৭৭০ সালে) বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা থাকে কোম্পানির নিজস্ব এখতিয়ারে। এ সময় কোম্পানির রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে, যা চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে। এছাড়া ১৭৭০ সালে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে দেশে প্রকট খাদ্যাভাব দেখা দেয়। ফলাফলস্বরূপ সমগ্র বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
গ
উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশের কোন বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশে লর্ড ক্লাইভ (Lord Clive) প্রবর্তিত দ্বৈতশাসনব্যস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ বাংলার দেওয়ানি লাভ করে এক অভিনব শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এ ব্যবস্থায় নিযামত বা বাংলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ফৌজদারি বিচার, শান্তিরক্ষা, দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল বাংলার নবাবের হাতে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায়, দেশরক্ষা, দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার প্রভৃতি দায়িত্ব অর্পিত হয় কোম্পানির ওপর। লর্ড ক্লাইভ প্রবর্তিত এ শাসনব্যবস্থাকেই দ্বৈতশাসন নামে অভিহিত করা হয়। এ শাসনব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানিকে শক্তিশালী করে নবাবকে ক্ষমতাসীন করে তোলা। দ্বৈতশাসনের ফলে নবাব পেল ক্ষমতাসীন দায়িত্ব আর কোম্পানি পেল দায়িত্বহীন ক্ষমতা। উদ্দীপকে ভিনদেশি বণিকরা যুদ্ধে জয়ী হয়ে ঔপনিবেশিক অঞ্চলে যে শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে সে ব্যবস্থায় অর্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও দেশরক্ষা ছাড়া তাদের অন্য কোনো দায়-দায়িত্ব ছিল না, যা দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার কথাই মনে করিয়ে দেয়।
ঘ
বাংলার জনজীবনে উক্ত ঘটনা যে বিপর্যয় বয়ে এনেছিল পঠিত বিষয়ের নিরিখে তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা বা দ্বৈতশাসনব্যবস্থা বাংলার জনজীবনে এক বিপর্যয় বয়ে এনেছিল, যা পরবর্তীকালে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সূচনা করে। লর্ড ক্লাইভ বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হয়ে এক অভূতপর্ব শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এটি ইতিহাসে দ্বৈতশাসনব্যবস্থা নামে পরিচিত। দ্বৈত শাসনব্যবস্থায় নবাবের হাতে কার্যত কোনো ক্ষমতা ছিল না। অন্যদিকে কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করলেও এর কোনো দায়িত্ব ছিল না। নবাবের পক্ষে নায়েব রেজা খান রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে তৎপরতা দেখালেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় চরম অবহেলা প্রদর্শন করেন। দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনে চরম অরাজকতা ও নিরাপত্তাহীনতা নেমে আসে। কোম্পানি কর্তৃক মাত্রাতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের ফলে বাংলায় অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসে। এক পর্যায়ে ১৭৭০ সালে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ। ভয়াবহ এ দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে রিচার্ড বেচার মন্তব্য করেছিলেন, "দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতি সত্য।" এতে মারাত্মক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল, লক্ষ লক্ষ লোক দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে মৃত্যুবরণ করেছিল। উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, লর্ড ক্লাইভ প্রবর্তিত দ্বৈতশাসন ইংরেজ স্বার্থের অনুকূলে হলেও ভারতবর্ষের জনগণের দুঃখ-দুর্দশা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল। উক্ত শাসন বাংলায় যে ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে এনেছিল তা পরবর্তীকালে দুর্ভিক্ষে রূপ নেয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ভিনদেশি বণিকরা যুদ্ধে জয়ী হয়ে ঔপনিবেশিক অঞ্চলে যে শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, তাতে অর্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও দেশরক্ষা ছাড়া তাদের অন্য কোনো দায়-দায়িত্ব ছিল না। এ অভিনব শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় শাসকদের ক্ষমতাহীন করা। দায়িত্বহীনতার জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং দেশময় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

Dhaka · 2017

ক
কোন পর্তুগিজ নাবিক প্রথম ভারতে আগমন করেন?

উত্তর

পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা প্রথম ভারতে আগমন করেন।
খ
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত দ্বৈতশাসন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলশ্রুতিতে ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (১৭৭০ সালে) বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা থাকে কোম্পানির নিজস্ব এখতিয়ারে। এ সময় কোম্পানির রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে, যা চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে। এছাড়া ১৭৭০ সালে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে দেশে প্রকট খাদ্যাভাব দেখা দেয়। ফলাফলস্বরূপ সমগ্র বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
গ
উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশের কোন বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশে লর্ড ক্লাইভ (Lord Clive) প্রবর্তিত দ্বৈতশাসনব্যস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ বাংলার দেওয়ানি লাভ করে এক অভিনব শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এ ব্যবস্থায় নিযামত বা বাংলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ফৌজদারি বিচার, শান্তিরক্ষা, দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল বাংলার নবাবের হাতে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায়, দেশরক্ষা, দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার প্রভৃতি দায়িত্ব অর্পিত হয় কোম্পানির ওপর। লর্ড ক্লাইভ প্রবর্তিত এ শাসনব্যবস্থাকেই দ্বৈতশাসন নামে অভিহিত করা হয়। এ শাসনব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানিকে শক্তিশালী করে নবাবকে ক্ষমতাসীন করে তোলা। দ্বৈতশাসনের ফলে নবাব পেল ক্ষমতাসীন দায়িত্ব আর কোম্পানি পেল দায়িত্বহীন ক্ষমতা। উদ্দীপকে ভিনদেশি বণিকরা যুদ্ধে জয়ী হয়ে ঔপনিবেশিক অঞ্চলে যে শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে সে ব্যবস্থায় অর্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও দেশরক্ষা ছাড়া তাদের অন্য কোনো দায়-দায়িত্ব ছিল না, যা দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার কথাই মনে করিয়ে দেয়।
ঘ
বাংলার জনজীবনে উক্ত ঘটনা যে বিপর্যয় বয়ে এনেছিল পঠিত বিষয়ের নিরিখে তোমার মতামত দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা বা দ্বৈতশাসনব্যবস্থা বাংলার জনজীবনে এক বিপর্যয় বয়ে এনেছিল, যা পরবর্তীকালে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সূচনা করে। লর্ড ক্লাইভ বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হয়ে এক অভূতপর্ব শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এটি ইতিহাসে দ্বৈতশাসনব্যবস্থা নামে পরিচিত। দ্বৈত শাসনব্যবস্থায় নবাবের হাতে কার্যত কোনো ক্ষমতা ছিল না। অন্যদিকে কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করলেও এর কোনো দায়িত্ব ছিল না। নবাবের পক্ষে নায়েব রেজা খান রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে তৎপরতা দেখালেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় চরম অবহেলা প্রদর্শন করেন। দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনে চরম অরাজকতা ও নিরাপত্তাহীনতা নেমে আসে। কোম্পানি কর্তৃক মাত্রাতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের ফলে বাংলায় অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসে। এক পর্যায়ে ১৭৭০ সালে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ। ভয়াবহ এ দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে রিচার্ড বেচার মন্তব্য করেছিলেন, "দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতি সত্য।" এতে মারাত্মক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল, লক্ষ লক্ষ লোক দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে মৃত্যুবরণ করেছিল। উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, লর্ড ক্লাইভ প্রবর্তিত দ্বৈতশাসন ইংরেজ স্বার্থের অনুকূলে হলেও ভারতবর্ষের জনগণের দুঃখ-দুর্দশা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল। উক্ত শাসন বাংলায় যে ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে এনেছিল তা পরবর্তীকালে দুর্ভিক্ষে রূপ নেয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আলেকজান্ডার ৩২৭ খ্রি. পূর্বাব্দে ভারতে অভিযান চালান। এ অভিযান অনেক সহজ হয়ে যায় যখন তক্ষশিলার রাজা অন্তি আলেকজান্ডারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। নিজ ক্ষমতা রক্ষার আশায় অন্তি ভারতবর্ষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন।

Dhaka · 2017

ক
পলাশী কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

উত্তর

পলাশী (Plassey) ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত।
খ
দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দ্বৈতশাসন বলতে ইংরেজ কোম্পানি ও দেশীয় নবাবের সমন্বয়ে বাংলায় রবার্ট ক্লাইভ (Robert Clive)-এর প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়। দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় নবাবের ছিল ক্ষমতাহীন দায়িত্ব এবং কোম্পানি পেয়েছিল দায়িত্বহীন ক্ষমতা। এ শাসনব্যবস্থায় দেশীয় নবাবের হাতে বিচার ও শাসন বিভাগের দায়িত্ব থাকে। অন্যদিকে, কোম্পানির ওপর রাজস্ব এবং দেশরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত হয়। ক্লাইভের এ শাসন নীতির উদ্দেশ্য ছিল মূলত এদেশের আর্থিক ক্ষমতা নিজেদের কজায় নেয়া ও দেশীয় শাসকবর্গের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে উত্তেজিত করে তোলা।
গ
উদ্দীপকে অম্ভির কর্মকাণ্ডের সাথে তুমি বাংলার নবাবি শাসনামলের কার কাজের মিল খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের তক্ষশিলার (Taxila) রাজা অম্ভির (Ambhi) কর্মকান্ডের সাথে আমি বাংলার নবাবি শাসনামলের বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর আলী খানের কাজের মিল খুঁজে পাই। পলাশীর যুদ্ধে মীরমদনের মৃত্যুতে হতভম্ব হয়ে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সিপাহসালার মীরজাফর আলী খানকে ডেকে আনেন। তাকে পবিত্র কুরআন স্পর্শের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার শপথ করান। মীরজাফর নবাবের প্রতি অতিমাত্রায় মৌখিক আনুগত্য প্রদর্শন করেন। কিন্তু বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর নবাবির বিনিময়ে ইংরেজদেরকে সহায়তা করার অঙ্গীকার করেন। এ জন্য ক্লাইভের সাথে তিনি গোপন চুক্তি স্বাক্ষর করেন। দেশপ্রেমিক সেনাপতি মোহনলাল ও ফরাসি সেনানায়ক সিনফ্রে প্রাণপণ যুদ্ধ করে যখন নবাবের বিজয়কে সুনিশ্চিত করেন, ঠিক সেই মুহূর্তে মীরজাফর নবাবকে যুদ্ধবিরতির পরামর্শ দেন। মীরজাফরের পরামর্শে যুদ্ধবিরতি দিয়ে নবাব তার অজান্তেই সর্বনাশ ডেকে আনেন। নবাবের সৈন্যগণ যখন যুদ্ধ স্থগিত করে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ক্লাইভ পাল্টা আক্রমণ করে নবাবের সৈন্যবাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পলাশীর প্রান্তরে নবাব পরাজিত হন এবং বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়। উদ্দীপকের অম্ভির কর্মকাণ্ডে মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিফলন ঘটেছে। রাজা অন্তি নিজ ক্ষমতা রক্ষার আশায় ভারতবর্ষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আলেকজান্ডারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সুতরাং তক্ষশিলার রাজা অম্ভির কর্মকান্ডের সাথে মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার মিল পাওয়া যায়।
ঘ
তুমি কি মনে কর, উল্লিখিত ব্যক্তির কর্মকাণ্ড বাংলার স্বাধীনতা হারানোর একমাত্র কারণ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

উত্তর

উল্লিখিত ব্যক্তির অর্থাৎ মীরজাফরের কর্মকান্ডকে বাংলার স্বাধীনতা হারানোর জন্য একমাত্র কারণ বলে আমি মনে করি না। পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা তার স্বাধীনতা হারায়। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের পেছনে বেশ কিছু কারণ নিহিত। প্রথমত, তরুণ নবাবের অদূরদর্শিতা এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাব। দ্বিতীয়ত, সিরাজের চরিত্রের দৃঢ়তা এবং কঠোরতার অভাব ছিল। তাই বারবার বিশ্বাসঘাতক এবং ষড়যন্ত্রকারীদের গোপন ষড়যন্ত্রের সংবাদ জানা সত্ত্বেও নবাব তাদেরকে শাস্তি দেননি। তৃতীয়ত, যুদ্ধক্ষেত্রে সুনিশ্চিত বিজয়কে উপেক্ষা করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা তার সমরনীতির অপরিপক্কতার পরিচয় বহন করে, যা তার অনিবার্য পতনকে ত্বরান্বিত করে। চতুর্থত, নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য নবাবের সাথে মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা। পঞ্চমত, সিরাজ তার প্রতিপক্ষ ক্লাইভ। অপেক্ষা রাজনৈতিক জ্ঞান, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা এবং সমরনীতিতে অদক্ষ ছিলেন। এসব কারণে ক্লাইভের নিকট তার পতন ঘটে। উদ্দীপকে দেখা যায়, বীর আলেকজান্ডার রাজ্য জয়ের নেশায় ভারতে আসেন। ভারতে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তিনি এখানে অভিযান চালান। নিজের ক্ষমতা রক্ষার জন্য তখন তক্ষশিলার রাজা অস্থি ভারতবর্ষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আলেকজান্ডারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এ ঘটনাটি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে একটি ধারণা প্রদান করে, যা নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পতনের অন্যতম একটি কারণ ছিল। কিন্তু বাংলার স্বাধীনতা হারানোর পেছনে এই একটি কারণই দায়ী ছিল না। সুতরাং বলা যায়, মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা বাংলার স্বাধীনতা হারানোর একমাত্র কারণ নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCHistory 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

আলেকজান্ডার ৩২৭ খ্রি. পূর্বাব্দে ভারতে অভিযান চালান। এ অভিযান অনেক সহজ হয়ে যায় যখন তক্ষশিলার রাজা অন্তি আলেকজান্ডারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। নিজ ক্ষমতা রক্ষার আশায় অন্তি ভারতবর্ষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন।

Dhaka · 2017

ক
পলাশী কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

উত্তর

পলাশী (Plassey) ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত।
খ
দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

দ্বৈতশাসন বলতে ইংরেজ কোম্পানি ও দেশীয় নবাবের সমন্বয়ে বাংলায় রবার্ট ক্লাইভ (Robert Clive)-এর প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়। দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় নবাবের ছিল ক্ষমতাহীন দায়িত্ব এবং কোম্পানি পেয়েছিল দায়িত্বহীন ক্ষমতা। এ শাসনব্যবস্থায় দেশীয় নবাবের হাতে বিচার ও শাসন বিভাগের দায়িত্ব থাকে। অন্যদিকে, কোম্পানির ওপর রাজস্ব এবং দেশরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত হয়। ক্লাইভের এ শাসন নীতির উদ্দেশ্য ছিল মূলত এদেশের আর্থিক ক্ষমতা নিজেদের কজায় নেয়া ও দেশীয় শাসকবর্গের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে উত্তেজিত করে তোলা।
গ
উদ্দীপকে অম্ভির কর্মকাণ্ডের সাথে তুমি বাংলার নবাবি শাসনামলের কার কাজের মিল খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের তক্ষশিলার (Taxila) রাজা অম্ভির (Ambhi) কর্মকান্ডের সাথে আমি বাংলার নবাবি শাসনামলের বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর আলী খানের কাজের মিল খুঁজে পাই। পলাশীর যুদ্ধে মীরমদনের মৃত্যুতে হতভম্ব হয়ে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সিপাহসালার মীরজাফর আলী খানকে ডেকে আনেন। তাকে পবিত্র কুরআন স্পর্শের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার শপথ করান। মীরজাফর নবাবের প্রতি অতিমাত্রায় মৌখিক আনুগত্য প্রদর্শন করেন। কিন্তু বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর নবাবির বিনিময়ে ইংরেজদেরকে সহায়তা করার অঙ্গীকার করেন। এ জন্য ক্লাইভের সাথে তিনি গোপন চুক্তি স্বাক্ষর করেন। দেশপ্রেমিক সেনাপতি মোহনলাল ও ফরাসি সেনানায়ক সিনফ্রে প্রাণপণ যুদ্ধ করে যখন নবাবের বিজয়কে সুনিশ্চিত করেন, ঠিক সেই মুহূর্তে মীরজাফর নবাবকে যুদ্ধবিরতির পরামর্শ দেন। মীরজাফরের পরামর্শে যুদ্ধবিরতি দিয়ে নবাব তার অজান্তেই সর্বনাশ ডেকে আনেন। নবাবের সৈন্যগণ যখন যুদ্ধ স্থগিত করে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ক্লাইভ পাল্টা আক্রমণ করে নবাবের সৈন্যবাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পলাশীর প্রান্তরে নবাব পরাজিত হন এবং বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়। উদ্দীপকের অম্ভির কর্মকাণ্ডে মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিফলন ঘটেছে। রাজা অন্তি নিজ ক্ষমতা রক্ষার আশায় ভারতবর্ষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আলেকজান্ডারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সুতরাং তক্ষশিলার রাজা অম্ভির কর্মকান্ডের সাথে মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার মিল পাওয়া যায়।
ঘ
তুমি কি মনে কর, উল্লিখিত ব্যক্তির কর্মকাণ্ড বাংলার স্বাধীনতা হারানোর একমাত্র কারণ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

উত্তর

উল্লিখিত ব্যক্তির অর্থাৎ মীরজাফরের কর্মকান্ডকে বাংলার স্বাধীনতা হারানোর জন্য একমাত্র কারণ বলে আমি মনে করি না। পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা তার স্বাধীনতা হারায়। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের পেছনে বেশ কিছু কারণ নিহিত। প্রথমত, তরুণ নবাবের অদূরদর্শিতা এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাব। দ্বিতীয়ত, সিরাজের চরিত্রের দৃঢ়তা এবং কঠোরতার অভাব ছিল। তাই বারবার বিশ্বাসঘাতক এবং ষড়যন্ত্রকারীদের গোপন ষড়যন্ত্রের সংবাদ জানা সত্ত্বেও নবাব তাদেরকে শাস্তি দেননি। তৃতীয়ত, যুদ্ধক্ষেত্রে সুনিশ্চিত বিজয়কে উপেক্ষা করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা তার সমরনীতির অপরিপক্কতার পরিচয় বহন করে, যা তার অনিবার্য পতনকে ত্বরান্বিত করে। চতুর্থত, নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য নবাবের সাথে মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা। পঞ্চমত, সিরাজ তার প্রতিপক্ষ ক্লাইভ। অপেক্ষা রাজনৈতিক জ্ঞান, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা এবং সমরনীতিতে অদক্ষ ছিলেন। এসব কারণে ক্লাইভের নিকট তার পতন ঘটে। উদ্দীপকে দেখা যায়, বীর আলেকজান্ডার রাজ্য জয়ের নেশায় ভারতে আসেন। ভারতে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তিনি এখানে অভিযান চালান। নিজের ক্ষমতা রক্ষার জন্য তখন তক্ষশিলার রাজা অস্থি ভারতবর্ষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আলেকজান্ডারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এ ঘটনাটি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে একটি ধারণা প্রদান করে, যা নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পতনের অন্যতম একটি কারণ ছিল। কিন্তু বাংলার স্বাধীনতা হারানোর পেছনে এই একটি কারণই দায়ী ছিল না। সুতরাং বলা যায়, মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা বাংলার স্বাধীনতা হারানোর একমাত্র কারণ নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো